কুরবানীর ইতিহাস-বিবেকের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ ঈশ্বর,পথপ্রদর্শক এবং ধর্ম

কুরবানী কাকে বলে?  কুরবানীর অর্থ আত্মত্যাগ (স্যাক্রিফাইস) করা।  অন্য একটি প্রানীকে উৎসব করে জবাই করা কিভাবে আত্মত্যাগ হয়? আপনি কি আদৌ আপনার “প্রিয় বস্তু” ত্যাগ  করছেন না আত্মত্যাগের নামে প্রাণীহত্যার উৎসব পালন করছেন? এখন দেখা যাক এভাবে উৎসব করে প্রানীহত্যার নেতিবাচক দিক কি?

যদি কোনো ব্যক্তি ছোটবেলা থেকে এভাবে প্রানীহত্যা ধর্মের অংশ হিসেবে বিশ্বাস করে এবং প্রানী জবাই করা, তাদের রক্ত ইত্যাদি দেখে দেখে বড় হয় তাহলে তার মনে এর স্থায়ী প্রভাব পড়ে। রক্ত এবং জবাই করা দেখা যাদের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে তাদের প্রানীর প্রতি দয়ামায়া কমে যায়। এমনকি ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা প্রানীর হত্যা সহ্য করার  মত মানসিকতা তৈরি হয়। যার ফলে নিকট ভবিষ্যতে  তার  কাউকে জবাই করে মেরে ফেলার  মত ও হত্যাদৃশ্য সহ্য করার মত মানসিকতা  থাকে।

এমনটা অনেক ধর্মেই দেখা যায় যে “সৃষ্টিকর্তা” কোনো প্রানী তার উদ্দেশ্য হত্যা করতে বলেন এমনকি মানুষ ও। এটা আমাদের কাছে  প্রানীহত্যা, বলী, জঙ্গীবাদ  ইত্যাদি বিভিন্ন  নামে পরিচিত। অর্থাৎ  “সৃষ্টিকর্তা”ই  এই প্রানীহত্যা উৎসব সমূহের সূচনা করেছেন  এবং তাতে তিনি  অতিশয় আনন্দও লাভ করেন। অতঃপর  সেই প্রানীহত্যায় অংশ নেওয়া সবাইকে  যারপর নাই পুন্য দান করেন।

ইসলাম ধর্মে  “মহান” আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, সর্বাপেক্ষা প্রিয়তম বস্তু তার উদ্দেশ্যে কুরবানি করতে।
কিন্তু বিধর্মীদের দেশ থেকে চোরাচালান কৃত এবং বিধর্মীদের দ্বারা লালন পালন করা হাট থেকে কিনে আনা একটি পশু কেমন করে কারো প্রিয়তম বস্তু হতে পারে? তবে কি
বাংলাদেশে প্রচলিত কুরবানী সহি ইসলাম অনুসারে হচ্ছেনা?
এমন কি হতে পারে যে  এটা ধর্মের সাথেও যেমন প্রতারণা, আবার নিজের সাথেও?  আমরা  দেখেছি অনেকেই ধুমধাম করে পশু জবাই করে  নারকীয় উল্লাস করে। হত্যাকান্ডে শরীক হয়ে  আনন্দে মেতে ওঠে। কেউ বলী কেউবা কুরবানীর নামে।

একহাতে তাদের শানিত ছুরি অন্য হাতে মানবতার বুলি

এখন কয়েকটি সিরিয়াস প্রশ্নে আসা যাক।
আপনি কি মনে করেন যা কিছু “অন্যায়” তা যদি আপনার সৃষ্টিকর্তা করতে বলেন তাহলে সেটা “ন্যায়” হয়ে যায়? যা কিছু মানবতার ও বিবেকের চোখে অন্যায় তা যদি আপনার
সৃষ্টিকর্তা করতে বলেন তাহলে আপনি এই ভেবে করবেন যে তিনিই তো মালিক! তিনি যা বলবেন সেটাই আইন? তার উপরে কথা কিসের? আপনি কি মানবতা ও বিবেক থেকেও
আপনার সৃষ্টিকর্তাকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন? তাহলে অভিনন্দন!

কারন আপনি বিশ্বাস করেন যে আপনার সৃষ্টিকর্তা এমন কথা বলতে পারেন বা বলেছেন যা মানবতা এবং
বিবেকের বিরুদ্ধে যায়। অথচ আপনি আবার এটাও বিশ্বাস করেন যে আপনার “মহান” সৃষ্টিকর্তা কোনো অন্যায় কথা বলতেই পারেন না।

আপনি নিজেও কি এরকম ভাবে ভেবে দেখেছেন কিন্ত ভাবনা- চিন্তা আর এগোতে পারেননি এই ভেবে যে আপনার “মহান” সৃষ্টিকর্তা আপনাকে “পাপ” দেবেন? আপনি কি জেনেশুনে ভয়ে সত্য গোপন রাখছেন?

নিচের  অংশ ভালমত ভেবে তারপর যাচাই করুন এই যে

কুরবানীর এই  ঐতিহ্য যে ঘটনার জন্য বছরের পর বছর ধরে পালন করা হচ্ছে সেই ঘটনাটি বিবেকের ও মানবতার
কাছে প্রশ্নবিদ্ধ কিনা

আপনার সৃষ্টিকর্তা যদি আপনার সন্তানকে জবাই করতে বলে আপনি করবেন? আমি করব না। তার কারন এটা কোনো “মহান” সৃষ্টিকর্তার আদেশ হতে পারেনা। এটি একটি জঘন্য
আদেশ, এটুকু বোঝার জন্য বেশি বেগ পেতে হবেনা যদি আপনি  বুদ্ধিমান হন ও যুক্তি বোঝেন

প্রেক্ষাপট:
ইব্রাহিম “স্বপ্নে?” দেখলেন, কে যেন বলছে যে তার “সৃষ্টিকর্তা” তাকে কুরবানী করতে বলছেন।
নবীর প্রতি স্বপ্ন আদেশ ওহির সমতুল্য। তাই হযরত ইব্রাহিম (আঃ) স্বপ্নে কোরবানীর আদেশ পেয়ে অস্থির হয়ে উঠলেন। অনেক চিন্তা-ভাবনা করে তিনি দুম্বা উট কোরবানী করে
দিলেন। দ্বিতীয় রাত্রে তিনি আবার স্বপ্ন দেখলেন, কেউ একজন তাঁকে বলছেন, ‘হে নবী আপনি আল্লাহর রাস্তায় কোরবানি করুন।

এবারেও নবী দুই‘শ উট কোরবানী করলেন। অত:পর তৃতীয় রাতেও তিনি একই স্বপ্ন দেখলেন। তৃতীয় বারেও তিনি দুই‘শ উট কোরবানী করলেন। চতুর্থ রাতে তিনি স্বপ্ন দেখলেন,
‘কে যেন তাকে বলছেন, ‘হে আল্লাহর দোস্ত! আপনি আল্লাহর রাস্তায় আপনার “প্রিয় বস্তু বা সন্তানকে কোরবানী করুন” এবারের স্বপ্ন দেখে তিনি বুঝতে পারলেন “প্রিয় বস্তু?” তার
সন্তান হযরত ইসমাইল (আঃ)। সে সন্তান তার নির্বাসিত মাতার নিকট থাকে। নবী তাদের সঙ্গে তেমন সম্পর্ক পযর্ন্ত রাখেন না। এমতাবস্থায় এহেন এক চরম প্রত্যাদেশ কীভাবে তিনি
কার্যকর করবেন, এ কথা ভেবে স্থির করলেন। ভোরবেলায় নবী তাঁর আর এক স্ত্রী সায়েরার নিকট তাঁর স্বপ্নের কথা আলোচনা করলেন। সায়েরা নবীকে অতি সত্ত্বর স্বপ্নের আদেশ
কার্যকর করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করলেন।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) “অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন?” নিয়ে মক্কার পথে রওয়ানা হলেন। সঙ্গে তিনি একখানা ছুরি ও কিছু রশি নিলেন। তিনি মক্কা পৌঁছে হাজেরা যেখানে অবস্থান করতেন,
সেখানে গিয়ে বসলেন। সেখানে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে হাজেরাকে বললেন, তুমি ইসমাইলকে ভালো পোশাক পরিয়ে, আতর গোলাপ লাগিয়ে উত্তমরূপে সাজিয়ে দাও। ইসমাইলকে
নিয়ে আমি “দাওয়াতে?” যাব। অনেকদিন যোগাযোগ না থাকার পর পিতা পুত্রের নতুন করে “গভীর সম্পর্ক” হতে যাচ্ছে দেখে হাজেরা খুব খুশি হলেন এবং পুত্র ইসমাইলকে উত্তমরূপে
সাজিয়ে দিলেন।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) পুত্রকে নিয়ে রওয়ানা হলেন। ইতোমধ্যে শয়তান এসে বিবি হাজেরাকে বলল, তোমার পুত্র ইসমাইল কোথায়? হাজেরা বললেন, তার পিতার সঙ্গে এক জায়গায়
গিয়েছে। শয়তান বলল, মিথ্যা কথা, তোমার স্বামী পুত্রকে কোরবানী করার জন্য আল্লাহতায়লার আদেশ পেয়েছেন। সে মর্মে ইসমাইলকে কোরবানী করার জন্য এক নির্জন স্থানে নিয়ে
যাচ্ছেন। বিবি হাজেরা মানুষ সুরতধারী শয়তানকে বললেন, “যদি আল্লাহতায়লা কোরবানীর মাধ্যমে ইসমাইলকে কবুল করেন, তবে আলহাম্দুলিল্লাহ! এতে আমার উদ্বিগ্ন হবার কোন
কারণ নেই!!!!” শয়তান তখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ)-এর নিকট গিয়ে পিছন থেকে ইসমাইল (আঃ)-কে বলল, ইসমাইল! তুমি কোথায় যাচ্ছ? ইসমাঈল (আঃ) বললেন, আমি
পিতার সঙ্গে এক জায়গায় “দাওয়াতে” যাচ্ছি। শয়তান তখন “সত্য কথাটাই” বলল, “আল্লাহতায়ালার নির্দেশে তোমাকে কোরবানী করার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। একটু পরে তোমার গলায়
ছুরি চালিয়ে আল্লাহর নামে কোরবানী করা হবে” হযরত ইসমাইল (আঃ) তখন বললেন, হে পিতা! পিছন থেকে কে যেন বলছে, আপনি আমাকে কোরবানী করার জন্য নির্জন স্থানে
নিয়ে যাচ্ছেন। তখন হযরত ইব্রাহিম (আঃ) বললেন, “শয়তান তোমাকে প্রতারণা করছে” (ডাহা মিথ্যা কথা)। তুমি ওর প্রতি সাত টুকরো পাথর নিক্ষেপ কর। (সত্য বলে সাবধান
করার অপরাধে?) হযরত ইসমাইম (আঃ) পিতার আদেশ পেয়ে সাত টুকরো পাথর নিক্ষেপ করলেন।

এরপর তারা এক নির্জন প্রান্তে পৌঁছলেন।
শেষকালে ঈশ্বরপ্রেমের কাছে হেরে গেল বিবেক, তিনি (ইব্রাহিম) ছুরি চালালেন তার পুত্রকে “জবাই করে হত্যা করে তার” “মহান” সৃষ্টিকর্তা কে “খুশি?” করার জন্য।

  • তবে, এই বিশাল ষড়যন্ত্র, মিথ্যাবাদীতা ও “মহান” সৃষ্টিকর্তার জঘন্য আদেশ যাতে হুট করে কোনো “ধর্মপ্রান মুসলিমের” মনে সন্দেহ না তৈরি করে তাই সুকৌশলে একটি হ্যাপি এন্ডিং সিন দিয়ে কাহিনী শেষ করা হয়েছে। সেটা হচ্ছে যখনি ইব্রাহীম তার পুত্রের গলায় ছুরি চালাতে গেলেন তখন আল্লাহ “খুশি” হয়ে তার পুত্রের বদলে একটি দুম্বা রেখে দেন.
    ফলে তার পুত্রের বদলে দুম্বাটি জবাই হয়ে যায়। কিন্ত, লক্ষণীয় কয়েকটি ব্যপার হচ্ছে
    -কাউকে ভালোবেসে জবাই করা যায়?
    -একজন বাবা তার পুত্রকে ভালোবেসে জবাই করতে নিয়ে যেতে পারেন দাওয়াতের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে?
    -শয়তান সত্যি বলার কারনে তাকে পাথর মারা হয় যা ইসলামী ঐতিহ্য হিসাবে হজ্জে পালন করা হয়
    -সৃষ্টিকর্তা মানুষকে চাপে ফেলে পরীক্ষা করেন, যদিও ভাগ্য তার নিয়ন্ত্রনে

এখানে উল্লেখযোগ্যঃ ইব্রাহীম মিথ্যা বলেছেন, শয়তান সত্য বলেছে, একদিকে ইব্রাহীমের উদ্দেশ্য ছিল যেভাবে হোক তার পুত্রকে হত্যা করে “আল্লাহর সন্তুষ্টি” অর্জন করা। আর
অন্যদিকে শয়তান তার পুত্রকে সাবধান করছিল।

এবার ইসলামী দৃষ্টিতে ইব্রাহীম কে বিচার করা যাকঃ
ইসলামি শরিয়তে মিথ্যা বলা সম্পূর্ণ নিষেধ। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যা পরিহার করা ও সত্য বলার বিষয়ে অনেক বেশি সতর্ক করেছেন। একটি হাদিসে
তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা সত্যকে অবলম্বন করো। কারণ সত্যবাদিতা ভালো কাজে উপনীত করে। আর ভালো কাজ উপনীত করে জান্নাতে। মানুষ সত্য বলে ও সত্যবাদিতার
অন্বেষায় থাকে। একপর্যায়ে সে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হিসেবে লিখিত হয়ে যায়। আর মিথ্যা থেকে দূরে থাকে। কারণ “মিথ্যা উপনীত করে পাপাচারে” আর “পাপাচার উপনীত করে
জাহান্নামে”। যে ব্যক্তি মিথ্যা বলে ও মিথ্যার অন্বেষায় থাকে, এভাবে একসময় আল্লাহর কাছে সে চরম মিথ্যুক হিসেবে লিখিত হয়ে যায়’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৬০৭)।

মিথ্যা একটি ব্যাধি। এর পরিণাম খুবই ভয়াবহ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মিথ্যার পরিণাম সম্পর্কেও অনেক হাদিস বলেছেন। একটি হাদিসে তিনি ইরশাদ করেছেন,
‘তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাকো, কারণ মিথ্যা “ইমানের পরিপন্থী”’ (আলমুসান্নাফ, ইবনে আবি শায়বা, হাদিস ২৬১১৫)

আরো একটি হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘মুমিনের মধ্যে স্বভাবগত বিভিন্ন দোষত্রুটি থাকতে পারে। তবে সে মিথ্যুক ও প্রতারক হতে পারে না।
(আলমুসান্নাফ, ইবনে আবি শায়বা, হাদিস : ৩০৯৭৫)।

মিথ্যা ইসলামের দৃষ্টিতে অতি গর্হিত, অবশ্য-বর্জনীয়। মিথ্যাবাদিতা মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ মিথ্যাবাদীর “শাস্তির কথা?” উল্লেখ করে ইরশাদ করেছেন, ‘তাদের হৃদয়ে আছে একটি রোগ,”আল্লাহ সে রোগ আরও বেশি বাড়িয়ে দিয়েছেন?” , আর যে মিথ্যা তারা বলে তার বিনিময়ে তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ ওদের যখন বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে অনাচার করো না, তারা বলে, আমরা তো শান্তি স্থাপনকারী। জেনে রাখো, ওরাই অনাচার বিস্তারকারী, কিন্তু ওদের চেতনা নেই’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১০-
১২)।

তাহলে দেখলাম ইব্রাহীম মুমিন নয়। সে মিথ্যাবাদী,মুনাফেক এবং পাপী। এটা একটা রোগ এবং আল্লাহই তাকে এ রোগ দিয়েছেন। শুধু দেন নি, বাড়িয়ে দিয়েছেন। আবার তিনিই শাস্তি দিবেন এর জন্য।

 

এহেন গোঁজামিলসমৃদ্ধ কাহিনী অনুসরন করে যদি এরকম উৎসব করে প্রানীহত্যা করা এবং সত্য বলার জন্য পাথর মেরে তাড়িয়ে দেওয়ার ঐতিহ্য ধরে রাখতে বছরের পর বছর ইবাদতের নামে সেই ঘটনাস্থলে শয়তানকে  কল্পনা করে পাথর মারা  ধর্মের অংশ হয়   তাহলে সে ধর্ম মানবতার জন্য ক্ষতিকর বইকি।

সর্বশেষ আমি একটি কথাই বলতে চাই, কেউ যদি সৃষ্টিকর্তা বা অন্য কোনো সত্বার কাছ থেকে এমন কোনো জঘন্য নির্দেশ পায় যা মানবতা ও বিবেকের বিরুদ্ধে যায় তাহলে সে
সত্বা মহান নয় বরং এর উল্টো. সে সত্বা অশুভ বদরাগী এবং মানসিকভাবে অসুস্থ। এবং কেউ যদি স্বপ্নে বা অন্য কোনোভাবে এরকম অপরাধ করার নির্দেশ পান ও তিনি সেটা করে
ফেলেন তাহলে তিনিও মানসিকভাবে অসুস্থ। কারন মানসিকভাবে সুস্থ ব্যক্তি সজ্ঞানে এরকম কাজ করতে পারেন না। যদি সৃষ্টিকর্তাকে ন্যায়-অন্যায়, বিবেক-মানবতা সকল কিছুর
উর্ধে ভাবা হয় তাহলে সেই সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে অনেক বড় অন্যায় ঘটে যাবার সম্ভাবনা থাকে। কেউ যদি স্বপ্নে এরকম কিছু দেখে থাকেন অতিদ্রুত সাইকিয়াট্রিস্ট এর শরণাপন্ন হোন।
যদি না হন তাহলে আপনি সৃষ্টিকর্তার আদেশ ভেবে সাম্প্রয়ীকতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ, জঙ্গিবাদ সহ অনেক জঘন্য অপরাধ করে ফেলতে পারেন। প্রশ্ন করতে শিখুন, সন্দেহ করতে শিখুন, সবকিছু যুক্তি দিয়ে বিবেচনা করুন। মনে রাখবেন, বিবেক ও মানবতার চোখে সবাই সমান। যা অন্যায় বা অপরাধ তা অন্যায়ই। যদি আপনি আপনার থেকে বেশি শক্তি বা ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তি বা সত্বার অন্যায় আদেশ বা আচরণের প্রতিবাদ না করেন তাহলে মানুষ হিসেবে আপনি ব্যর্থ । মানবতার বুলি আপনার মুখে মানায় না।

লেখকঃ এল অম্নি 

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 4 = 1