কুরবানী ও মানবতা

পৃথিবীর ইতিহাসে যত নিষ্ঠুর ও বর্বর প্রথা প্রচলিত রয়েছে তাঁর মধ্যে কুরবানী অন্যতম। কুরবানীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় বিভিন্ন ধর্ম বা জাতির মধ্যে এই কুরবানী প্রথা প্রচলিত ছিল কিন্তু বর্তমান দিনে বিশ্বব্যাপী কুরবানীর প্রসার মুসলমানদের মধ্যেই দেখা যায়। প্রচলিত ধর্মীয় মতানুসারে কথিত রয়েছে- পরমকরুণাময় আল্লাহ তাঁর নবী হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে স্বপ্নে বলেন তোমার সবচেয়ে প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর নামে কুরবানী কর। ইব্রাহীম (আঃ) স্বপ্নে এ আদেশ পেয়ে 10 টি উট কুরবানী করলেন। পুনরায় তিনি একই স্বপ্ন দেখলেন। ইব্রাহীম আবার 100 টি উট কুরবানী করেন। এরপরে ও তিনি একই স্বপ্ন দেখে ভাবলেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কি? তিনি বুঝতে পারলেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু হল তাঁর পুত্র ইসমাইল (আঃ) তাই তিনি তাঁর পুত্রকে আল্লাহর রাহে কুরবানী করার জন্য মনস্থির করলেন। (এখানে উল্লেখ্য আল্লাহ কিন্তু সরাসরি তাঁর পুত্রকে কুরবানী করার কথা বলেন নি, তিনি তা নিজের মন থেকেই করেছিলেন।)

এরপর তিনি তাঁর স্ত্রী বিবি হাজেরাকে বললেন ছেলেকে সুন্দর করে তৈরী করে দাও ওকে দাওয়াতে নিয়ে যাব, বিবি হাজেরা খুশি হয়ে পুত্রকে তৈরী করে দিলেন। যখন ইব্রাহিম তাঁর পুত্রকে নিয়ে বের হবে তখন শয়তান বিবি হাজেরার কানে কানে সত্য ঘটনাটি বলে দিল। তা শুনে বিবি হাজেরা বললেন- এতে যদি আল্লাহ খুশি হন তাহলে ঠিক আছে। একটা মানুষ কতটা ধর্মান্ধ হতে পারে তা এথেকেই বোঝা যায়? কোন মা কি তাঁর পুত্রের এরূপ পরিণতি মেনে নিতে পারে? ইব্রাহিম যখন পুত্রকে কুরবানী করার উদ্দেশ্যে আরাফাতের ময়দানের দিকে নিয়ে গেলেন তখন শয়তান তাঁর পুত্রকে কানে কানে সত্য কথাটি বলে দিল। তখন ইসমাইল তাঁর পিতাকে সত্য জিজ্ঞাসা করলেন, পিতা বলল শয়তান ধোঁকা দিচ্ছে (প্রকৃত পক্ষে শয়তান সত্য কথা বলছিল)। পিতার নির্দেশে ইব্রাহিম শয়তানের উদ্দেশ্যে সাত টুকরো পাথর নিক্ষেপ করলেন। এগুলি আজও হজ যাত্রীরা মেনে চলেন। যাক নবী ইব্রাহিম আরাফাতের ময়দানে এসে পুত্র ইসমাইলকে নিজের স্বপ্নের কথা বললেন এবং পুত্র ইসমাইল সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর রাহে কুরবানী হতে রাজি হয়ে গেলেন। এখানে অদ্ভুত কিছু ঘটনা ঘটল। প্রশ্ন হল সেই অদ্ভুত ঘটনা গুলি কি?

কথিত রয়েছে নবী ইব্রাহিম, ইসমাইলের গলায় ছুরি চালালো কিন্তু গলা কাটল না। ইব্রাহিম রাগে ছুরি ফেলে দিলেন, সেই ছুরির আঘাতে পাথর কেটে গেল কিন্তু গলা কাটল না। ছুরি বলল- খোদা আপনাকে কুরবানীর আদেশ করেছে আর আমাকে তাঁর গলা কাটতে সত্তরবার নিষেধ করেছে। এরপর নবী চোখে কাপড় বেঁধে ছেলের গলায় ছুরি চালাল, আর আল্লাহর নির্দেশে জিব্রাইল ফেরেস্তা ইসমাইলের পরিবর্তে এক দুম্বাকে সেখানে রেখে দেয় এবং ওই দুম্বাটি কুরবানী হয়। এরপর এই ঘটনাটিকে মনে রেখে মুসলমানরা বিশ্বব্যাপী ‘কুরবানী’ প্রথাকে পালন করে। এখানে বেশ কিছু প্রশ্ন দেখা যায় একটি 11-12 বছরের ছেলে কি স্বেচ্ছায় কুরবানী হতে রাজি হবে? সে কোথাও চলে যেতে চাইল না? ছুরি কথা বলে উঠল তাহলে বর্তমানে ছুরি কথা বলে না কেন? তাহলে আল্লার এরূপ লীলা খেলা বর্তমান যুগে দেখা যায় না কেন? আল্লার কি বর্তমান যুগে চমৎকার করার ক্ষমতা শেষ?

তবে এই ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন কিতাবে বিতর্ক রয়েছে অনেকে দাবি করেন কুরবানী করতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হযরত ইসাহককে (আঃ) আর প্রচলিত মতানুসারে হযরত ইসমাইল (আঃ) কে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তাই কুরবানী আদেও হয়েছিল কিনা তা নিয়ে ও প্রশ্নচিহ্ন দেখা যায়? তবে এই বিতর্ক সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী মুসলমানরা কুরবানী প্রথা পালন করে! এই কুরবানী প্রথার কুফল হিসাবে আমরা দেখতে পাই মুসলমানরা নিষ্ঠুর ভাবে এই প্রথা পালন করে, তাঁদের মধ্যে মায়া মমতা কমে যায়। পশুদের ও ব্যাথা হতে পারে এই বোধ তাদের মধ্যে বিশেষ দেখা যায় না। ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি এই পরিবেশ কোন সুস্থ সমাজ গঠনের পক্ষে স্বাস্থ্যকর নয়। শিশু বয়সে কুরবানীর দিন খুব রোমাঞ্চ হত, দেখতাম সকলে মিলে একটা পশুকে বেঁধে ‘আল্লাহুয়াকবর’ বলে গলায় ছুরি চালিয়ে দিত আর সঙ্গে সঙ্গে ফিনকি দিয়ে রক্ত গড়িয়ে যেত। পশুটি কিছুক্ষণ ছটফট করার পর ধীরে ধীরে মৃত্যু মুখে পতিত হত। আর একটু বড় হওয়ার পর কুরবানীর দিন যেন যুদ্ধ জয়ের উন্মাদনা পেয়ে বসত! তখন আর সকলের সঙ্গে নিজে গিয়ে ও সেই পশুটির পা বা লেজ শক্ত করে ধরতাম; পশুটি মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে ছটফট করে উঠে পড়তে চাইলে রাগ হত। সকলে মিলে আবার জোর করে ধরে থাকতাম আর ‘আল্লাহুয়াকবর’ বলে গলায় ছুরি চালিয়ে দিত! দেখতাম ‘ফিনকি’ দিয়ে গরম রক্ত চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ছে আর সকলের মনে এক ক্রুর হাসি দেখা যেত, যেন কোন বিরাট পৌরুষত্বের কাজ করে ফেলেছে!

এরপর থেকে যে প্রশ্নগুলি আমার মনে নাড়া দিত তা হল- আল্লার সন্তুষ্টির জন্য এই নিরীহ পশু গুলিকে কেন হত্যা করতে হবে? আল্লাহ কি এই নিরীহ পশু হত্যাতে খুশি হয়? আল্লাহ তো অন্তরের কথা জানেন, তাহলে কেন পরীক্ষা নিতে ইব্রাহিম নবীকে তাঁর পুত্রকে হত্যা করতে বলেছিলেন? আল্লাহর এত কঠিন পরীক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন কি ছিল? এত বড় বিশ্ব জাহানের মালিক আল্লা কেন আমাদের মত তুচ্ছ মানবদের পরীক্ষা করতে চাইবে? আল্লাহর কি নিজের প্রতি বিশ্বাস নেই? আল্লা এত নিষ্ঠুর কেন? আল্লা নিজের তৈরী অপর সৃষ্টি (বিভিন্ন পশু) হত্যা করলে কেন খুশি হয়? আচ্ছা আল্লা যদি ইসমাইলের কুরবানীতে খুশি হতেন তাহলে কি আমরা নিজের সন্তানদের কুরবানী দিতাম? যে ঈশ্বর, আল্লা বা ভগবান এরূপ নির্দেশ দেয় তেমন আল্লা, ঈশ্বর বা ভগবানকে কি মান্য করা উচিত? এখন এই মহাবিশ্বে যদি মানুষের চেয়ে কোন উন্নত প্রাণীর আবির্ভাব হয় এবং তাঁরা আল্লাহ, ঈশ্বর বা ভগবানের মতো কোন সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে যদি ‘মানুষ কুরবানীর’ প্রচলন শুরু করে তবে তেমন সৃষ্টিকর্তাকে কি আপনি বলবেন পরমকরূণাময়, দয়ালু, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান?

ধীরে ধীরে আমার মনের মধ্যে এরূপ নানা প্রশ্নের উদ্ভব হতে লাগল ও এগুলির উত্তর খোঁজার চেষ্টা করতে লাগলাম। আশেপাশে কেউ ছিল না যার কাছ থেকে এই প্রশ্নগুলির উত্তর পেতে পারি, কাউকে প্রশ্ন করলে নিন্দামন্দ ও কটূক্তি শুনতে হত। উত্তরের আশায় বিভিন্ন বই পড়তে লাগলাম এবং জ্ঞানের বিকাশ ঘটতে লাগল। বিজ্ঞানের বই পড়ে চিন্তা করতে লাগলাম কারা সত্য কথা বলছে। বিজ্ঞান না ধর্ম? বেশ কিছু বিষয় গভীর ভাবে চিন্তা করতে বাধ্য হতাম যেমন- ধর্ম বলে পৃথিবীর সমতল অন্যদিকে বিজ্ঞান বলে পৃথিবী গোল। ধর্ম বলে পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি, অন্যদিকে বিজ্ঞান বলে পৃথিবী সূর্যের অংশ থেকে বের হয়ে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে মানুষের বসবাসের উপযোগী হয়। ধর্ম বলে ‘আদম ও হাওয়া’ থেকেই মানব সভ্যতার সৃষ্টি কিন্তু বিজ্ঞান বলে পৃথিবীতে প্রথমে এককোষী প্রাণী ও বহু কোষী প্রাণীর মধ্যে থেকেই ধীরে ধীরে আধুনিক প্রাণিজগতের সৃষ্টি হয়। বিজ্ঞান বই থেকে জানতে পারি একসময় পৃথিবীতে ডাইনোসরের মত বৃহৎ প্রাণী বাস করত। এর সপক্ষে বিজ্ঞানীরা প্রমাণ দেন, যাদুঘরে ডাইনোসরের জীবাশ্ম রাখা আছে। অন্যদিকে ধর্মগ্রন্থে এরকম কোন প্রাণীর উল্লেখ নেই কেন? আল্লাহ তো সব জানেন তাহলে এগুলি কেন জানেন না? ধর্ম বলে বিশ্বাস কর আর বিজ্ঞান বলে যুক্তি দিয়ে গ্রহণ কর তাহলে কে ঠিক? এরূপ বহুচিন্তা মাথার মধ্যে আসত ও ধীরে ধীরে কোনটা সত্য ও কোনটা মিথ্যা তা বুঝতে চেষ্টা করতাম ও ধর্মের ‘অন্ধত্ব’ প্রকাশ পেতে থাকল! নিজের বিবেকের সঙ্গে লড়াই লড়তে থাকি তখন ধীরে ধীরে এই চেতনা মনের মধ্যে বিকশিত হতে লাগল- ‘কোন সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার জন্য কোন নিরীহ প্রাণীকে হত্যা করা অন্যায়’, এমন সৃষ্টিকর্তাকে ধিক্কার জানাই!

আজ এতগুলি বছর পরে বুঝতে পারি এই ‘কুরবানী’ বা মা কালীকে সন্তুষ্ট করার জন্য ‘পাঁঠাবলি’ কতটা নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ! এটি শিশুর মনে কতটা গভীর প্রভাব ফেলে তা একটা উদাহরণ দিলেই বোঝা যায়। আমি কিছু ছোট বাচ্ছাদের পড়াতাম আমার এক ছাত্র বলল- ‘দাদা কুরবানীকে খুব ভয় করে’, তখন আমি বললাম তোমার ভয় করে না? তখন সেই দশ বারো বছরের শিশুটি বলল আমার ভয় করে না, আমাকে ছুরি দিলে আমিই কুরবানী করে দেব! তাহলে বুঝুন এই ঘটনায় একটি শিশুর মন কতটা বিষাক্ত হয়ে ওঠে? পশুদের ও প্রাণ আছে তাঁদের কষ্ট হয়, ব্যাথা লাগে এরূপ অনুভূতি তাঁদের মধ্যে হারিয়ে যায়! আসলে এরূপ মানসিকতা নিয়ে যে শিশু গুলি বড় হয় তাদের মধ্যে হিংস্র মনোভাব বৃদ্ধি পায় এবং মনের কোমল অনুভূতি গুলি নষ্ট হয়ে যায়!

এখন অনেকেই বলবেন তাহলে যে আপনারা পশুর মাংস খান সেবিষয়ে কিছু বলুন? তাঁদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি নিরামিষী আহার সবচেয়ে ভালো। যেহেতু ছোটবেলা থেকেই আমরা আমিষ জাতীয় খাদ্যে অভ্যস্ত তাই আমরা আমিষাশী। খাদ্যাভ্যাসের জন্য পশু হত্যা করতে হয় তার জন্য আমাদের অন্তরে অনুশোচনা বোধ থাকা উচিত এবং এই হত্যাগুলি চোখের আড়ালে করতে হবে, যাতে কোন মানুষের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া না পড়ে! কিন্তু কোন ধর্মের সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার জন্য, জান্নাত বা স্বর্গ লাভের উদ্দেশ্যে এইরূপ গণহারে পশুহত্যার বিরোধী। তবে এক্ষেত্রে একটি কথা উল্লেখ্য গরুকে আবার ‘মা’ মনে করাও চুড়ান্ত অজ্ঞানতা ও ধর্মান্ধতার পরিচয়!

অনেক বছর পর এবছর আমাদের বাড়িতে কুরবানীর উদ্দেশ্যে পশু কিনেছে। বাবাকে বোঝায় এগুলি করার কোন যুক্তি নেই, বাবা বলেন এগুলি করতে হয় এগুলি করলে আমাদের পরিবারে সমৃদ্ধি আসবে ও আমাদের পরিবারে যে এত সমস্যা তা দূর হবে। আমাদের বাড়িতে যে পশুটি এসেছে সত্যি বলতে কি একটা ছোট্ট শিশুর মতো! দূর থেকে দেখতে পেলে কাছে চলে আসে, গায়ে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে হয়, সেই আদর নিতে নিতে চোখ বন্ধ করে। কোথাও বেঁধে দিলে নিজে থেকেই বাড়ি চলে আসে। বাবা, মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দেখলেই গলা বাড়িয়ে দেয় মানে আদর করতে হবে! কাছে গিয়ে চুপটি করে দাঁড়িয়ে থাকে যেন কিছু বলতে চাই। সত্যি বলতে কি কোন প্রাণীকে ভালোবাসা দিলে তাঁরা ও যে কতটা ভালোবাস দিতে পারে এটি তাঁর নিদর্শন। কোথাও গেলে ‘হাম্বা হাম্বা’ বলে সম্বোধন করে মনে হয় যেন আমি ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁর কালো কালো চোখ দুটি যেন কথা বলে, চাই যেন কাছে গিয়ে দাঁড়ায় ও আদর করি। বিশ্বাস করুন এই প্রাণীগুলি কোন শিশুর থেকে কম কিছু নয়। শুধুমাত্র কুরবানী হবে এই কষ্টে আমি তাঁর কাছে যায় নি, কারণ আর মায়া বাড়াতে চাই না! মা, বোন, বাবা, ভাই পরিবারের সকলেই ফিস ফিস করে বলে কি করে এই পশুকে কুরবানী করব?

আমি বুঝি আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ও একে কুরবানী দিতে বিশেষ রাজি নয়, কিন্তু বাবার কথা ধর্মের রীতি মানতে হবে বাবা! আমি ও আমার পরিবারকে বলেছি এবার আমি কিছু বলছি না কিন্তু এজিনিস যেন আর না হয়। কুরবানী কথার অর্থ হল আল্লার রাস্তায় কিছু ত্যাগ করা, তা পশু কেন হত্যা করতে হবে? সমাজে এত দারিদ্র, এত বেকারত্ব ওই সমপরিমাণ টাকা মানুষের কাজে লাগালে কি আল্লা বেশি খুশি হবে না? বর্তমানে আমি আর্থিক দিক থেকে প্রতিষ্ঠিত নয় তাই আমার কথার জোর কম, মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছি এ বর্বর প্রথার চর্চা আর নয়। আমি আমার পরিবারে এ প্রথা বন্ধ করে ছাড়ব। আপনাদের প্রতি অনুরোধ ভেবে দেখুন পশুহত্যার চেয়ে কোন গরীব দুঃখী, বেকার, অসহায় মানুষকে সমপরিমাণ অর্থ দান করলে কি আল্লা বেশি খুশি হত না? এগুলি করলে কি বেশি মানবিক কাজ হতো না?

আমাদের পশুর কথা বলি এখন ও আমার দিকে গভীর নয়নে চেয়ে আছে যেন বলছে এস আমাকে একটু আদর কর, জীব দিয়ে চেটে চেটে ও গা ঘষে তোমাদের ও ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়! আমার নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হয় কারণ ও নির্বোধ বোঝেনা আগামী দিন ওর এই কাছের বিশ্বস্ত মানুষরাই ওকে বেঁধে ওর গলায় ছুরি চালাবে, কোন এক কল্পিত সৃষ্টিকর্তাকে খুশি করার জন্য! ও যন্ত্রণায় ছটফট করবে ও মনে মনে ভাববে এত ভালোবাসা দিয়ে পারলে আমাকে এত নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করতে? আমি শুধু বোবা হয়ে ওর মৃত্যু যন্ত্রণাকে দেখতে থাকব আর ওর কালো কালো চোখগুলি যেন আমায় প্রশ্ন করে বলবে- কোন এক কল্পিত সত্ত্বাকে খুশি করার জন্য পারলে আমাকে এত নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করতে? এবার থেকে কোন প্রাণী কি কোন মানুষ কে বিশ্বাস করতে পারবে? সৃষ্টিকর্তা আমরা কি দোষ করলাম যে এভাবে আমাদের প্রাণ দিতে হল? মানুষ কোথায় তোমাদের মানবিকতা?

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

27 − = 17