ছোট্ট জীবন

আমার ফ্রেন্ডলিস্টের একটি মেয়ে আমাকে লিখেছে, সে আর বেঁচে থাকতে চায় না।
পূর্বে আমাদের কখনও কথা হয় নি। মেয়েটির প্রথম বার্তাই ‘আমি আর বেঁচে থাকতে চাই না।’

আমি বলি, তাহলে মারা যান।
মেয়েটি বলে, মারা যেতেই ইচ্ছে করে।
আমি আবারও বলি, তাহলে মারা যান।
মেয়েটি বলে, রাতে ঘুমোতে পারি না। খুব কষ্ট হয়, অনেক ছটফট করি।
আমি জিজ্ঞেস করি, বয়স কতো?
মেয়েটি বলে, ১৯ বছর।
আমি বলি, তাহলে এখন মরতে হবে না। অন্তত ২৫ বছর পর্যন্ত বাঁচেন, তারপর না হয় মরার সিদ্ধান্ত নিবেন।
মেয়েটি বলে, কেনো ২৫ পর্যন্ত বাঁচতে হবে? এই জীবন নিয়ে আমি অতিষ্ঠ।
আমি বলি, জীবনে মাত্র একবার বেদনার অনুভূতি পেয়েছেন। ২৫ পর্যন্ত অন্তত তিনবার এবং সেইসাথে বোনাস হিশেবে পরিবার, বন্ধুমহল এবং আশেপাশের কুটনা-কুটনিদের দ্বারা অজস্রবার পীড়ন আপনাকে অনেক সুমধুর অভিজ্ঞতা এবং নতুন কোন উপহার নিয়ে আসবে।

মেয়েটি বলে, আপনি একটা মাল।
আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকি। কী উত্তর দিবো ভাবতে থাকি।
তখনই মেয়েটি লিখে, সরি, আসলে আমরা তো এভাবেই ফ্রেন্ডদের সাথে কথা বলি। আপনাকে আমার ভালই মনে হয়।

এভাবে আমাদের দুইদিন, চারদিন, ছয়দিন, আটদিন- কথা হতে থাকে।
একদিন মেয়েটি জিজ্ঞেস করে, এতদিন ধরে আমি ঘ্যানঘ্যান করেই চলেছি অথচ আপনি একবারও জিজ্ঞেস করলেন না যে আমি কেনো মারা যেতে চাই! আমি খুব অবাক হয়েছি।

আমি জিজ্ঞেস করি, এখনও কি মারা যেতে ইচ্ছে করে?
মেয়েটি বলে, আমার কিচ্ছু ভাল লাগে না। এই জীবন নিয়ে আমি বিরক্ত। আর কতো বাঁচবো! মনে হয়, বুকের ভিতর কেউ হাতুড়ি দিয়ে পিটাচ্ছে।
আমি বলি, প্রতিটি মানুষের জীবনে দুইবার সাংঘাতিক রকমের ব্রেকআপ জরুরী। ব্রেক আপ নতুনের সূচনা করে।
মেয়েটি বলে, আপনার কখনও ব্রেক আপ হয়েছে?
আমি বলি, আমার আসল নাম হওয়া উচিত ছিল ব্রেকআপ আজাদ।
মেয়েটি হাসে। অনেকক্ষণ যাবত হাসে। অদ্ভুত সকল ইমোজি পাঠায়। আর বলে, কমেডি করেন!

দিন যেতে থাকে। তার বেদনার স্মৃতিগুলি যথাক্রমে যন্ত্রণা, ক্ষোভ, বিরক্তি থেকে হাসিঠাট্টায় রূপ নিতে থাকে। আমার মনে হয়, ধীরে ধীরে মেয়েটি মৃত্যুকে বিদায় জানাচ্ছে।

দেড় মাস পর মেয়েটি স্বাভাবিক হতে থাকে। একদিন আমাকে ফোন করে খুব উচ্চস্বরে জিজ্ঞেস করে, আপনি কেনো আমাকে মেসেজ দেয় না?
আমি হাসি। আমি বলি, এখনও কি মরতে চান?
মেয়েটি বলে, মরবো কেনো? গাধা নাকি আমি?
আমি খুশি হই। তখন আমি বলি, যেহেতু মরবেন না সেহেতু যোগাযোগ রেখে কী হবে?

মেয়েটি হেসে উঠে।
এই হাসি মূল্য কোটি কোটি টাকা দিয়েও কেনা সম্ভব নয়। জীবন একটাই, যদিও জীবন নিরর্থক, তাৎপর্যহীন তবুও জীবনের ছোট ছোট্ট কষ্ট থেকেই নতুন করে সুখের অঙ্কুরোদগম হয়।
আজ মেয়েটি লিখেছে, আপনি তো আর পাত্তা দিলেন না তাই আরেকটা ছেলের উপর ক্রাশ খেলাম।
আমি লিখলাম, ব্রেকআপ হতে আর কতো দেরি ম্যাডাম?
অসহ্য।– মেয়েটি লিখল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 − 12 =