বস্তু এবং মন

কিন্তু মন বলতে কী বোঝায়, বস্তুই বা কী জিনিস? মন কী বস্তুগত কোন বিষয়? কেউ কেউ ধরে নেন মন হলো অকল্পনীয় বিষয় অথবা শরীর কি শুধুই একটা ধারণা যেহেতু মানুষ তাদের চোখের সামনে সেটাকে দেখতে পায়? এটা কি মানসিক চিন্তা প্রক্রিয়ার কারণ নাকি মস্তিষ্কের আবেগের ফলাফল? নাকি ফ্রান্সের দার্শনিক নিকোলাস মেলব্রাঞ্চ যেমনটা বলেছিলেন, মনটা হলো পারস্পারিক সম্পর্কহীন এবং স্বাধীন আর সেই সাথে বিচক্ষণ দূরদর্শী সত্ত্বা?

স্পিনোজা উত্তর দিয়েছেন, মন কোন বস্তুগত বিষয় নয় আর বস্তুও মানসিক নয়। মস্তিষ্ক মনের কার্যকারণকে প্রক্রিয়াজাত করে না, মন কোন চিন্তার ফলাফলও নয়, এমনকি চিন্তার কার্যকারণ আর তাদের ফলাফলও স্বাধীন এবং সমান্তরাল নয়। কারণ মনের কার্যকারণ আর তাদের ফলাফল দুইটা কোন মানসিক প্রক্রিয়া নয় এবং এই আলোচ্য বিষয় দুইটা কোন স্বত্ত্বা নয়। বরং দুইটা মিলে একই প্রক্রিয়া যা মিলেমিশে অভ্যন্তরে চিন্তার জগৎ সৃষ্টি হয় আর বহিঃরঙ্গে দেখা দেয় তার প্রভাব। সুতরাং সবমিলিয়ে একটাই অস্তিত্ব। অন্যভাবে দেখতে পারি অন্তরঙ্গে যেটা মন বহিঃরঙ্গে সেটাই বস্তু। কিন্তু বাস্তবে বস্তু আর মন হলো দুইয়ের মোক্ষম যৌথ মিশ্রণ। মন এবং শরীর আলাদাভাবে কাজ করে না কারণ তারা অভিন্ন কিছু নয় বরং তারা মিলিত শক্তির বহিঃপ্রকাশ। শরীর কখনো মনের চিন্তাকে নির্ধারণ করে দিতে পারে না আবার মন শরীরকে গতিশীল বা শান্ত করতে বা অন্য কোন পরিস্থিতির দিকে ধাবিত করতে পারে না। অথবা অন্যভাবে বলা যেতে পারে, সাধারণ কারণ হলো এই যে, “মনের সিদ্ধান্ত এবং চাহিদার নিরূপণ হলো এক এবং অভিন্ন।” এবং এভাবেই আমাদের সমস্ত জগৎসংসার যৌথভাবে দ্বৈতস্বত্ত্বার কাজ করে। যেখানেই বহিঃরঙ্গে বস্তুগত প্রক্রিয়া বর্তমান সেখানেই একপাক্ষিক বা বাস্তবিক প্রক্রিয়ার ক্ষেত্র বিদ্যমান এবং সেখানে দেখা যাবে পুরো কার্যকারণের চিত্র এবং অন্তরঙ্গে তারা পারস্পারিক সম্পর্কযুক্ত। আমাদের অভ্যন্তরে মনোজগতে যাকিছুই ঘটুক না কেন সেটা আমরা দেখতে পাই। আমাদের অন্তরঙ্গের মানসিক প্রক্রিয়া প্রতিটি ক্ষেত্রে বহিঃরঙ্গের বস্তগুত প্রক্রিয়ার কার্যকারণে সাড়া দেয়। মন এবং বস্তগত শৃঙ্খলা এবং ধারণার সাথে যাবতীয় বস্তুগত সম্পর্ক একই জিনিস এবং একই সূত্রে বাঁধা। বস্তুগত বিষয় নিয়ে চিন্তা করা আর অতিরিক্ত বস্তুগত বিষয়ের চিন্তা মূলত এক এবং অভিন্ন জিনিস। এই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা বুঝতে পারি চিন্তার গতি প্রকৃতি বৈশিষ্ট্য এবং চিন্তার দৃষ্টিভঙ্গি। কিছু ইহুদি তো নিশ্চয়ই বস্তু এবং মনের পার্থক্য বুঝে গেছেন। যদিও কিছুটা দ্বিধান্বিতভাবে মানুষ ঈশ্বর এবং তার অপরিসীম জ্ঞানের গুণগান গাইলেও ঈশ্বরের প্রকৃত অবস্থা এবং সত্যাসত্য শুধু তার বুদ্ধি দ্বারাই বুঝতে পারে এবং যুক্তিদ্বারা বোধগম্য। সুতরাং মানুষ জ্ঞান আহরণ করতে পারে কোন বস্তুর সাধারণ বৈশিষ্ট্য থেকে এবং বস্তুর গুনাগুণ থেকে। এই আলোচনা থেকে কয়েকজন ইহুদি হয়ত কিছু তার পেল আভা কিছু বা কিছু পেল অনুমানে, মাঝেমাঝে ঈশ্বরের বারতা এবং তার ঈশ্বরের জ্ঞানের গভীরতা। বস্তু এবং মন থেকে যে জ্ঞানই আহরণ করলাম সেটা একই জিনিস।

যদি মানুষের ‘মন’ এর জটিলতা আর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশাকে পাশ কাটিয়ে বৃহৎ অর্থে স্নায়ুতন্ত্রের সাথে তুলনা করি তখন শরীরের প্রতিটি পরিবর্তন মনকে সঙ্গ দেবে। হয়ত সামগ্রিকভাবে নির্ধারণ করবে মনের পারস্পারিক এবং আন্তঃসম্পর্কিত পরিবর্তন। যেমন মানুষের চিন্তা এবং চিন্তা করার প্রক্রিয়ার মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং উভয় কাজই সম্পাদিত হয় মনের কোনে, সুতরাং শরীরের মধ্যে মনের পরিবর্তন এবং বস্তুর পরিবর্তন মানুষের শরীরকে প্রভাবিত করে, শরীরে সুখের দোলা দিয়ে যায়। শরীরও সুখের আয়োজন করে মনের চাহিদা অনুযায়ী। মন যদি ইন্দ্রিয় দ্বারা সচেতন বা অসচেতনভাবে কোন অনুভূতি বুঝতে না পারে তবে শরীরের কিছুই ঘটবে না। যেমন আমরা পরিপূর্ণ আবগের হয়ত অংশবিশেষ বুঝতে পারি যা নির্ভর করে শরীরের রক্ত পরিবহনতন্ত্র, শ্বাসযন্ত্র বা পরিপাকক্রিয়ার উপর। সুতরাং দেখা যাচ্ছে আবেগের ধারণা হচ্ছে সামগ্রিক শরীরের পরিবর্তনের খেলা, জীবন্ত জটিল প্রক্রিয়া। এমনকি অতিক্ষুদ্র, তুচ্ছাতিতুচ্ছ গাণিতিক পরিবর্তনও শরীরের অভ্যন্তরে প্রভাব ফেলে যায়। (আচরণবাদী মনোবিজ্ঞানীরা কি মানুষের স্বয়ংক্রিয়ভাবে হাতপা নাড়ানো, গলার স্বরের ওঠানামা, কম্পন দেখে নির্ধারণ করে দিচ্ছে না মানুষ কী ধরণের চিন্তা করছে? তারা কি মানুষের চিন্তা বুঝতে পারছে না?)

আপাতত মানুষের শরীর ও মনকে পুড়িয়ে গলিয়ে পার্থক্য নির্ধারণ দূরে সরিয়ে রাখি। স্পিনোজা সামান্য কিছু প্রশ্ন করে বিশাল প্রশ্নের বোঝা কমিয়ে আনতে চান এবং সে উপলক্ষ্যে জানতে চান বুদ্ধিমত্তা আর ইচ্ছাশক্তির মধ্যে পার্থক্য কী? মানুষের মনে বুদ্ধিমত্তা আর ইচ্ছাশক্তি বলে আলাদা কোন বিভাজন নেই, কল্পনা এবং স্মৃতির কোন কম বেশি নেই, মন কোন আধার নয় যা মানুষের চিন্তা ভাবনা ধরে রাখে বা চিন্তা জগত নিয়ে কাজ করে, কিন্তু মনের মধ্যেই মানুষের সব চিন্তা, জল্পনা কল্পনার প্রক্রিয়া জালের মত বিস্তৃত। বুদ্ধিমত্তা হলো কিচ্ছু ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিমূর্ত চিন্তা, ধারণা দিয়ে গাঁথা মালা এবং ইচ্ছাশক্তি হলো বিমূর্ত অবস্থা যা দ্বারা মানুষের কাজ করার তাড়না বোঝায়। বুদ্ধিমত্তা আর ইচ্ছাশক্তি পরস্পর কোন না কোন ভাবে সম্পর্কযুক্ত যেমন পাথুরে পরিবেশের সাথে পাথরের সম্পর্ক। শেষ পর্যন্ত বলা যেতে পারে, ইচ্ছা এবং বুদ্ধিমত্তা একই জিনিস। কাজ করার ইচ্ছাশক্তি শুধুই একটা ধারণা যার মাধ্যমে ইচ্ছাশক্তি জড়ো হয়ে (অথবা হতে পারে প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ কোন ধারণার অভাবে) যথেষ্ট পরিমাণ চেতনা তৈরি করে ফলে মানুষ কর্মে লিপ্ত হয়। মাঝপথে অন্য কোন চিন্তা বিপথগামী না হলে প্রতিটি চিন্তাই একটা সময়ে কাজে পরিণত হতে পারে। চিন্তা হলো মানুষের অভ্যন্তরীণ ঐক্যবদ্ধ জৈবিক প্রক্রিয়ার প্রাথমিক স্তর, আর চিন্তা যখন বাস্তবে দেখা দেয় তখন সেটা কাজে পরিণত হয়।

যাকে আমরা প্রায়ই ইচ্ছাশক্তি বলি যার নাম হতে পারে আবেগের তাড়না, যেটা নির্ধারণ করে দেয় মানুষের সচেতন অন্তরে কতক্ষণ একটা চিন্তার স্থায়ীত্ব হবে। তখন ইচ্ছাশক্তির সাথে কামনা যুক্ত হয় এবং সেটাই মানুষের মৌলিকত্ব। কামনা হলো চেতনার সহজাত প্রবৃত্তি যা আমাদের জীবনকে উপভোগ করতে শেখায়। কিন্তু সহজাত প্রবৃত্তি সব সময় কামনা তাড়িত নাও হতে পারে। সহজাত প্রবৃত্তির পিছনে রয়েছে আত্মরক্ষার তাগিদে কিছু অস্পষ্ট এবং বিবিধ কর্মতৎপরতা (conatus sese preservandi); স্পিনোজা এই একই প্রক্রিয়া দেখছেন সব মানুষের মাঝে এমনকি মানুষের থেকেও নিচু শ্রেণির প্রাণীর কাজকর্মের মধ্যে। একইভাবে আর্থার শোপেন এবং ফ্রেডরিখ নিটশে ইচ্ছাকে দেখেছেন জীবনী শক্তি হিসেবে অথবা সবখানে ক্ষমতায় রূপান্তরের ইচ্ছা হিসেবে। দুইজন দার্শনিককে কোন বিষয়ে সাধারণত একমত হতে দেখা না গেলেও এই প্রশ্নে তারা খুব সামান্যই দ্বিমত ছিলেন।

সবকিছুই, বস্তুর মধ্যে যা আছে সেটা নিয়েই সেই বস্তুটা। বস্তু যেমন তেমন ভাবেই টিকে থাকার চেষ্টা করে। বস্তু টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যায় নিজের মত নিজে তার স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে, ঠিক বস্তুটির বৈশিষ্ট্য যেমন ছিল। ক্ষমতাও অনেকটা সেরকম, তার মূল বৈশিষ্ট্য মনে প্রাণে ধরে রাখার চেষ্টা করে। প্রতিটি সহজাত প্রবৃত্তিই গড়ে উঠেছে প্রাকৃতিক কাঠামোর সান্নিধ্যে যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি বা বস্তু তার নিজস্বতা বজায় রেখে (কিন্তু আমাদের নিঃসঙ্গ শেরপা প্রতিটি সমগোত্রীয় প্রাণীর বৈশিষ্ট্য এখানে সন্নিবেশ করতে ভুলে গেছেন)। আনন্দ এবং বেদনা প্রতিটি প্রাণীর সহজাত প্রবৃত্তির তৃপ্তি এবং বিকাশের অন্তরায়। আনন্দ বেদনা আমাদের কামনার কামনার কারণে হয় না বরং আনন্দ বেদনা হলো কামনার ফলাফল। আমরা বস্তুকে প্রত্যাশা করি এই কারণে নয় যে সেটা আমাদেরকে তৃপ্তি দেয়, বলা ভালো যে বস্তু আমাদেরকে তৃপ্তি দেয় কারণ আমরা বস্তুকে প্রত্যাশা করি এবং অবধারিতভাবেই বস্তুর সান্নিধ্য প্রত্যাশা করি।

প্রসঙ্গের পরম্পরায় বলা যেতে পারে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন ইচ্ছা বলে কিছু নেই। টিকে থাকার প্রবল তাড়নায় প্রকৃতির প্রবৃত্তি নির্ধারণ করে দেয়, প্রবৃত্তি বলে দেয় কী আমাদের প্রত্যাশা এবং প্রত্যাশা নির্ধারণ চিন্তা ও কার্যকারণ। মনের সিদ্ধান্ত আমাদের প্রত্যাশাকে রক্ষা করতে পারে না, প্রত্যাশাকে সুরক্ষা দেয় ব্যক্তি মানুষের অন্তর্নিহিত গুণাবলী এবং চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মনেরও কোন পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নাই। কিন্তু মনের ইচ্ছাশক্তি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে কোন এক বা একাধিক কারণে, বা অন্য কোন কারণে, বা অন্য অন্য কারণে এবং এই কারণের কোন আদি অন্ত নাই। মানুষ ভাবে যে সে স্বাধীন স্বত্তা কারণ তার নিজস্ব চেতনা আছে, চেতনাকে জাগিয়ে তোলার শক্তি আছে, কামনার দিকে ধাবিত হওয়ার প্রবণতা আছে কিন্তু ইচ্ছা বা কামনাকে বাস্তবায়িত করার প্রচেষ্টায় অনেক সময় ভাটা পড়ে। স্পিনোজা মানের স্বাধীন ইচ্ছাকে তুলনা করছেন একটা পাথরের চিন্তা করার সামর্থ্যের সাথে। পাথর যেমন ভেসে বেড়ায় মহাকাশের অনন্ত সীমারেখায় এবং এভাবেই ভ্রমণ করে তার নিজস্ব গমনপথ এবং একসময়ে নির্ধারণ করে তার পতনের স্থান এবং কাল।

যখন থেকে মানুষের কার্যক্রম জ্যামিতি, মনোবিজ্ঞানের বিভিন্ন নিয়মের সূত্রানুসারে পরিচালিত হচ্ছে তখন থেকেই মানুষের কাজের উদ্দেশ্য বিধেয় জ্যামিতিক ছকে এবং গাণিতিক নিয়মে পাঠ করা উচিৎ। আমি মনুষ্য প্রজাতি সম্পর্কে লিখে যাবো এমনভাবে যেন আমি জ্যামিতির রেখা, সমতল ভূমি এবং কঠিন পদার্থ সম্পর্কে সচেতন ছিলাম। আমি সতর্কভাবে পরিশ্রম করেছি মানুষকে নিয়ে মজা করতে নয়, মানুষের শোকের জন্যও নয়, মানুষের বিরক্তি প্রকাশের জন্যও নয়, আমি বুঝতে চেয়েছিলাম মানুষের কার্যকারণ এবং মানুষকে নিয়ে পড়তে গিয়ে গভীর আবেগ নিয়ে মানুষকে দেখেছি। সেখানে আমি মানুষের অপরাধ প্রবণ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে চিন্তা করিনি, আমি দেখতে চেয়েছি তাপ, ঠাণ্ডা, ঝড়, বজ্রপাতের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশে মানুষের কীরকম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়। কোনোরকম বিভেদ চিন্তা না করে মানুষের কাছে আসার কারণেই স্পিনোজার মানুষ সম্পর্কিত পাঠকে এমন উচ্চতর স্থানে নিয়ে গেছে যার সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে সিগমুন্ড ফ্রয়েড বলেছেন, “মানুষ সম্পর্কিত এত পরিপূর্ণ আলোচলা ইতিপূর্বে স্পিনোজা ছাড়া অন্য কেউ করতে পারে নি।” ফ্রান্সের শিল্প সমালোচক এবং ইতিহাসবিদ হিপোলাইট টাইনে স্পিনোজার প্রশংসা করতে গিয়ে স্পিনোজাকে ফ্রান্সের আরেক খ্যাতিমান সাহিত্যিক মারি হেনরি বেইলির সাথে তুলনা করেন। উল্লেখ্য বেইলি ছিলেন প্রথমদিকের বস্তুবাদী দার্শনিক এবং তার লেখার প্রতিটি চরিত্রের চুলচেরা মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করেছিলেন যে বৈশিষ্ট্য তাকে অনন্য পরিচয় দিয়েছে। প্রাণীবিজ্ঞানী প্রাণীর প্রবৃত্তি এবং আবেগ সম্পর্কে জোহানেস পিটার মুলার বলেন, “মনস্তাত্ত্বিক অবস্থার কথা বাদ দিয়ে যদি কোন প্রাণীর অদম্য আবেগ নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা করি তবে স্পিনোজার থেকে ভালো মতামত দেয়া সম্ভব নয়, কারণ স্পিনোজার দেয়া ব্যাখ্যার শ্রেষ্ঠত্ব এখন পর্যন্ত কেউ অতিক্রম করতে পারেন নি।” জোহানেস পিটার মুলার নিজেও একজন বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ছিলেন, বিনয়ের সাথে তিনি স্বীকার করেন যা আসলে একজন মানুষের সত্যিকার মহত্ত্ব প্রকাশ পায়।  স্পিনোজার তৃতীয় বই এথিকস নিয়ে আলোচনার সময় মুলার উপরের উদ্ধৃতি করেন। ‘বস্তু এবং মন’ নিয়ে মুলার মনে করেন, কোন বিশেষ স্থান, কাল, পাত্র বিবেচনায় মানুষের ব্যবহারের যে বিশ্লেষণ স্পিনোজা করেছেন সেটা অসামান্য শিল্পকর্ম সমতুল্য।

[ উইল ডুরান্টের ‘স্টোরি অফ ফিলোসফি’ বইয়ের স্পিনোজা অধ্যায়ের ধারাবাহিক অনুবাদ। আজ প্রকাশিত হলো ‘বস্তু এবং মন’ অংশটি ]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 7 = 16