আমি সস্তার এক মানুষ বলছি

আমি এখন আর মানুষ নেই,
আমি এখন কেবলই খাদ্য!

আমাকে খাওয়া হচ্ছে প্রতিনিয়তই;
কিছুটা মাথা, কিছুটা বুক,
কিছুটা হাত, কিছুটা পা :
গায়ের চামড়া হয়তো ঠিক আগের মতোই মসৃণ আছে,
তবে যদি ওই চামড়া টান মেরে ছিড়ে ফেলো
হয়তো, হয়তো তোমারও চোখে পড়বে;
ছড়ানো ছেটানো সব তীক্ষ্ণ আঁচড়ের দগদগে ঘা।

এই আমি, খানিক চানাচুরের মতো বুঝলে!
খাওয়ার লোকের অভাব নেই, বাজারও চলে রমরমিয়ে
তবে আমি যে বড্ড সস্তা!
আমাকে পাবে যেখানে সেখানে —
তোমার বিলাসিতার খিদে মেটাতে
আমার জুড়ি মেলা ভার।

আমাকে খাওয়ার ধরণ অনেক;
কেউ খাবে রসিয়ে রসিয়ে,
আওয়াজও পাবে! প্রত্যেক কামড়ে,
কেউ বা ধরাবে ছাতা, এক মাস ফেলে রেখে।

কেউ আবার আস্তই মুখে নেবে পুরে,
একটুও যাতে ভাগ না বসে তার ক্ষনিকের সুখে;
হয়তো আবার কোন রুচিশীল বড়লোক,
আমার স্বাদ সইবে না তার মুখে,
থু: থু: করে ঘেন্নায় বেঁকাবে ঠোঁট;
আমার জায়গা তখন,
কোনো এক ময়লা বেসিনের নীচে।

দিনশেষে সবার ভোগ্য হয়ে,
কোন ক্লান্ত বিকেলে যখন ঘরে ফিরে আসি
চোখটা নামিয়েই হেঁটে যাই বিছানার দিকে;
ভুল করে যদি চোখ চলে যায় পাশে রাখা আয়নায়!
তাহলেই বিপদ,
গায়ে তখন পরতে পরতে পোশাক লেগে থাকলেও
নিজেকে ভীষণ রকম নগ্ন লাগে।

আমার ওই নগ্নতা দেখে, ভিতর থেকে
কে যেন এক বাচ্চা শিশু, ডুকরে কেঁদে ওঠে!
কাঁপতে থাকে ভয়ে;
আমিই তখন মায়ের মতো আলতো করে
আদর করি তাকে,
ঘুম পাড়িয়ে রাখি বুকের মাঝে।

আমি তো মানুষ হয়েই বাঁচতে চেয়েছিলাম,
কারা যেন দু-টাকার এক
খেয়ো “মাল” বানিয়ে দিলো।।

ফেসবুক মন্তব্য

১ thought on “আমি সস্তার এক মানুষ বলছি

  1. এক বুজুর্গ বলেছেন, ‘প্রত্যেক যুগেই নারীদেরকে সভ্যতার নামে ক্ষুধার্ত কুকুরদের সামনে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। এমন কুকুর, যে ক্ষুধার্তও হয়, বুড়োও হয়। যে বেশি নড়াচড়া না করেই পেট ভরে নিতে চায়। মূর্খ সভ্যতার এ কাজকর্মগুলো নারীজাতির জন্য ঐ কুকুরের মত।’ এটা আমার স্বভাবের নিখুঁত বর্ণনা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 1 =