দি গ্রেট হ্যাক

The great hack নামে একটা ডকুমেন্টারি বের হইছে। সেখানে বেসিকালি থলের বেড়াল বের করে দিছে ফেসবুক আর ক্যাম্ব্রিজ এনালিটিকা নামে একটা ডাটা কোম্পানির।

ক্যামব্রিজ এনালিটিকা এবং এসসিএল নামে আরেকটা এক জোট হয়ে সারা পৃথিবীর মানুষের ডাটা সংগ্রহ করত। ফেসবুকের বিভিন্ন কুইজ, বিভিন্ন ছোট ছোট এপ্স এইসব ব্যবহার করে। পরবর্তীতে সেই ডাটা গুলো ব্যবহার করে টার্গেটেড মার্কেটিং করতো। যেমন ধরেন আপনি নামাজ পড়েন ৫ ওয়াক্ত। জুমাহর নামাজে গিয়ে মসজিদের সামনে রেগুলার সেলফি দেন।কুরানের আয়াত পোস্ট করেন। সেইসাথে আবার অন্যান্য দিনে বংগবন্ধুর ছবি টবিও শেয়ার করেন। উনার ভাষন গুলো মাঝে মাঝে শেয়ার করেন। সবি করেন খুব বেশি গভীরভাবে চিন্তা না করে। আপনি হয়তোবা জানেনও না বংগবন্ধু শেষের দিকে স্বৈরাচারি টাইপ হয়ে গেছিলেন এবং হয়তো জানেন না আপনার মসজিদের অনেকেই আইসিসের হয়ে নিরপরাধ মানুষদের মারতেছে। আপনি হইলেন তাইলে মধ্যবর্তী বলদ।

এখন ক্যামব্রিজ এনালিটিকা কে ধরেন জামাত ইসলামী ভাড়া করলো। টাকা দিলো অনেক। ক্যামব্রিজ এনালিটিকা তখন আপনাকে টার্গেট করে এড বানাবে।আপনার মত হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষরে টার্গেট করবে।তারপর এড বানাবে সেখানে বংগবন্ধুর নামে যতরকমের খারাপ তথ্য আছে সেগুলা দিয়ে, তারপর শেখ হাসিনা গনতন্ত্র চুরি করছে এই টাইপের এড বানাবে এবং আপনাকে টার্গেট করবে যা কিনা ফেসবুকের এড টুল দিয়ে করা একদমই সহজ।এরপর ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দাড়িপাল্লাতে আল্লাহু আকবর বলে ভোট দিয়ে আসলেন।

এই ধরনের কাজ ক্যামব্রিজ এনালাটিকা আর এস সি এল অনেক দিন ধরেই করে আসতেছে। শেষ ধাক্কা ছিল ২০১৬ এর আমেরিকান ইলেকশন এবং ব্রেক্সিট। সেইখানেই বেশি বেশি করতে গিয়ে ধরা খায়। এক প্রফেসর দাবি করেন উনাকে উনার ডাটা দেওয়ার জন্য। ক্যাম্ব্রিজ এনালিটিকা ফেসবুক ব্যবহার করে প্রতি ইউজারের উপর প্রায় ৫০০০ ডাটা পয়েন্ট সংগ্রহ করে। বুঝতেছেন? ৫০০০?? তার মানে কোন হাতে ভাত খায় সেই ডাটাও ক্যাম্ব্রিজ এনালিটিকার কাছে আছে।উনি উনার ডাটা আর পান নাই। পাবেন বলে মনে হয় না। এখন উনি ডাটার অধিকার মানব অধিকার এর অংশ এই ক্যাম্পেইন করেন।

দি গার্ডিয়ানের এক সাংবাদিক ও এইটা নিয়ে বেশ সোচ্চার এবং কাজ করে যাচ্ছেন। তবে আমার মতামতে আসলে এটা হিউম্যানিটি কে বিজ্ঞান ও ব্যবসা বাণিজ্য শিক্ষা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ফলাফল রূপে এটা আমরা দেখছি।

 

ব্রিটানি কাইজার এবং ক্রিস্টোফার ওয়াইলি নামে দুইজন এই ক্যাম্ব্রিজ এনালিটিকা ও এসসিএল এর গোমড় ফাস করে দেন। দুইজনে ছিলেন এই কোম্পানি উর্ধ্বতন কর্মকর্তা। ব্রিটানি কাইজার এর ব্যাপারটা খুব মজার। উনি ওবামার ইলেকশন ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ছিলেন। এরপর হিউম্যান রাইটস নিয়ে অনেকদিন কাজ করে ক্যামব্রিজ এনালিটিকা তে ঢুকেন। তো সাক্ষাতকারের এক পর্যায়ে তিনি বলেন আল্টীমেটলি আমার টাকা দরকার তাই আমি ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন এর কন্ট্রাক্টটা আমার কোম্পানিকে এনে দেই। আগের কাজে শান্তি ছিল কিন্তু টাকা ছিল না। এমন কাজ দরকার যা আমাকে টাকা দিবে, তাই না? আমার বাবার ব্রেইন ক্যান্সার, আমাদের বাড়ি হারিয়েছি আমরা টাকার অভাবে। তো টাকা পয়সা তো আসলে দরকার।

 

সমাজ এমন অবস্থায় দাড়িয়েছে মানুষ হয়ে গেছে সংখ্যা আর পরিসংখ্যান অবশ্য ভুল বললাম ক্যাম্ব্রিজ এনালিটিকার যুগে মানুষ হয়ে গিয়েছে ডাটা পয়েন্ট যাকে পরিমাপ করা যায় বাইট আর কিলোবাইটে। এটা সম্ভব হয়েছে কারন হিউম্যানিটিজকে দূরে ঠেলে দিছি কাছে টেনে নিয়েছি সংখ্যাকে। দর্শন আর এথিক্স এর প্রয়োজনীয়তা আমরা সব গুলে খেয়ে ফেলেছি। আমরা হয়তোবা এখন দূরে বসে হাসতে পারি কারেন্ট ই থাকেনা আবার ইন্টারনেটে ডাটা চুরি। meme বানাতে পারি আমার ডাটা আর কি চুরি হবে? হইলেই বা কি?আমাদের দেশে তো ভোটই হয় না।

শুধু ভোট না আরো অনেক কিছুই হতে পারে। পকেটের টাকা মেরে দিয়ে যাবে যখন তখন দেখা যাবে। আর আনএথিকাল বিজ্ঞানীরা কি করতে পারে সেটা আমরা নাজি জার্মানীর দিকে তাকালেই দেখতে পারি। আমাদের দেশে উচ্চ সমাজের এথিকাল কম্পাস এর অবস্থা আরো খারাপ বলে আমার মতামত। আমাদের দেশে অর্থনৈতিক ভাবে নিচু শ্রেণির মানুষ কে মানুষ বলে গন্য করে না উচ্চ শ্রেণির মানুষ। শোষনের সম্পর্ক টাই আসল। মাইনোরিটী দের অধিকার নিয়ে চিন্তা আমাদের নাই বললেই চলে। দেশে যা যা আনএথিকাল তা বাইরে এসে সবার আগে শুরু করাতে আমরা ওস্তাদ।আমাদের দেশ ডাটা চুরির সবচে কুতসিত সিনারিও।কারন আমাদের দেশের মানুষ সবচে শ্যালো এবং সবচে কম পড়াশোনার ধার ধারে। নাহয় বছরের পর বছর প্রতিবাদ ছাড়া এই অগনতান্ত্রিক নির্বাচন গিলে খেত না।

 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + = 16