যা হবে সবই বিয়ের পর

আমার এক ফ্রেন্ডী অর্থাৎ স্ত্রীলিঙ্গ, যার মুদ্রাদোষ ছিল কথায় কথায় ‘বিয়ের পর’ বলা। আমি ফ্রেন্ডীকে যা-ই জিজ্ঞেস করতাম সে উত্তর দিতো বিয়ের পর হবে। আমার ফ্রেন্ডীর মস্তিষ্কে এই ‘বিয়ের পর’ শব্দদ্বয় তার পুরুষতান্ত্রিক মাতা গেঁথে দিয়েছিল।

যে দিন আমি প্রথম কিংবা দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় ইনা, মীনা ও টিনার সাথে কথা বলে বুঝতে পেরেছিলাম বাঙালিরা ফ্রেন্ড শব্দটি শুনলে ভ্রু কুঁচকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে পুনরায় জিজ্ঞেসাবাদ করে ‘মেয়ে ফ্রেন্ড নাকি ছেলে ফ্রেন্ড’, সেই থেকেই আমি ফ্রেন্ডী শব্দটির জন্মদাতা।

একদিন ফ্রেন্ডীকে জিজ্ঞেস করলাম, আমরা অনেকেই কক্সবাজার যাচ্ছি- ইমা, মীনা ও টিনাও যাচ্ছে। যাবি নাকি?
ফ্রেন্ডী উত্তর দিলো, বিয়ের পর।
আমরা সকলেই থতমত খেয়ে গেলাম। আমরা বুঝতে পারলাম ফ্রেন্ডী হ্যাঁ কিংবা না বাচক শব্দে বিশ্বাসী নয়।

ক্লাস শেষ করে বেনসন ধরানোর সাথে সাথে ফ্রেন্ডী খুব বিরক্তির সাথে বলে, এই বালটা খাস ক্যান?
আমি বললাম, আসল পুরুষের প্রথম পছন্দ বেনসন। তুই এক টান দিবি না?
ফ্রেন্ডী উত্তর দিল, বিয়ের পর টানব।

একদিন ফ্রেন্ডী তার মাকে খুব আহ্লাদের সাথে বলল, মা আমাদের ক্লাসের সবাই কক্সবাজার যাচ্ছে, আমিও যাই না!
মা কমলিকার মতন দৃষ্টি দিয়ে বলল, বিয়ের পর।
ফ্রেন্ডী আমার অনেক ধৈর্য্যশীল। সে আবারও বলল, মা, আমার না অনেক অনেক ফ্রেন্ডীরাও যাচ্ছে, আমিও যাই না!
মা গাব্বার সিঙ্গের মতন তাকিয়ে বলল, বিয়ের পর যাইস, আমি বাঁধা দেবো না।
ফ্রেন্ডী এবার একটু বিরক্ত হয়ে মনে মনে মা’কে কমলিকা বলে গালি দিল।

আরেকদিন ফ্রেন্ডী তার মাকে খুব আগ্রহের সাথে জানালো, তার অনেক অনেক ফ্রেন্ডীরা পাশের বিল্ডিং-এ একসাথে রাত্রিযাপন করবে।
মা গোস্বা করে বললেন, রাত্রিযাপন? ছিঃ ছিঃ। বয়স মাত্র ২১, আর এখনই রাত্রিযাপন! বিয়ের পর করিস।
ফ্রেন্ডী শান্তশিষ্ট ভদ্র বিড়ালের মতন হয়ে বলল, মা তুমি ভুল বুঝছ।
মা চিৎকার করে বললেন, আমাকে শিখাচ্ছিস রাত্রিযাপন মানে কী!
ফ্রেন্ডী বলল, মা আমরা নাইট স্টে করবো।
মা হৈহৈ করে বললেন, মেয়ে আমার নষ্ট হয়ে গেছে রে। মায়ের মুখের উপরেই অশ্লীল কথা বলতে শিখে গেছে রে!
ফ্রেন্ডী হতাশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে ফ্রেন্ডীর বিয়ে হয় কলিমুল্লাহর সাথে।
বাসররাতে কলিমুল্লাহ একটু দুষ্টু হতে চায়। কলিমুল্লাহ ফ্রেন্ডীকে বলে, কাছে আসো না, একটু আসো না!

ফ্রেন্ডীর মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। ফ্রেন্ডী মনে মনে ভাবে, কোন এক বোকাচোদার সাথেই না বিয়ে হল! প্রথম রাতেই কোপাকুপির চিন্তা করে!
ফ্রেন্ডী খুব বিরক্তির সাথে বলে, এইসব আমার একদম ভাল লাগে না। যা হবে সবই বিয়ের পর।
কলিমুল্লাহ ঘোড়ার মতন শব্দ করে। আর বলে, বিয়ে তো আমাদের হয়েই গেছে। কাছে আসো না, একটু আসো না!
ফ্রেন্ডী অবাক হয়। আর মনে মনে ভাবে, তাই তো! বিয়ে তো হয়ে গেছে! কিন্তু কোন স্বপ্ন পূরণ হয় নি।

বিয়ের দু’বছর পূর্তিতে সমুদ্রসৈকতে পাশাপাশি বসে থাকে দুজন। কলিমুল্লাহর ঘাড়ে মাথা রেখে ফ্রেন্ডী শান্তির নিঃশ্বাস নিয়ে বলে, কবে আমরা তিনজন হবো?
কলিমুল্লাহ জব্বর এক হাসি দিয়ে বলে, বিয়ের পর!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

4 + 1 =