এত উগ্র পুরুষতান্ত্রিকতা এবং নারী বিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে এই ধর্মান্ধরা বাঁচে কি করে?

(Feminism is cancer) ফেমিনিজম ইজ ক্যান্সার। এটা ফেসবুকের ছোট্ট একটা গ্রুপ, সদস্য সংখ্যা মাত্র ৩ হাজার ৮০০ জন। তাদের মধ্যে হাতেগোনা কিছু ফেমিনিস্ট এবং মুক্তমনা নাস্তিক আছে। বাকিরা সবাই বাংলার ধর্মান্ধ যুবসমাজ, এদের মধ্যে কিছু মডারেট ধার্মিক, এবং কিছু মাদ্রাসায় পড়ুয়া হুজুরদের চোদাখাওয়া ছাত্র। আবার কিছু আছে ছেলে হয়ে মেয়েদের আইডি চালায়।

গ্রুপটাকে প্রমোট করা আমার উদ্দেশ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে আমি এই গ্রুপটার সাথে যুক্ত আছি। এবং খুব সূক্ষ্মভাবে তাদের পোস্টগুলো লক্ষ করতেছি। পুরুষরা যে নারীর যৌনাঙ্গ দিয়ে দুনিয়াতে এসে নারীদেরকে এত ঘৃণা করতে পারে এই গ্রুপটাতে জয়েন্ট না করলে তা বুঝতে পারতাম না।

গ্রুপটার পোস্টগুলো দেখলে আমার হাসি পায়, আবার মাঝে মাঝে তাদের জন্য করুণা হয়, আবার মাঝে মাঝে মনে হয় তারা নিশ্চয়ই কোন পুরুষের পিছন দিয়ে দুনিয়াতে এসেছে। তাদের ভয়ংকর নারী বিদ্বেষী কর্মকান্ড দেখে আমার এটাই মনে হয়েছিলো। যদিও তারা পুরুষের পিছন দিয়ে দুনিয়াতে আসেনি, তবে পুরুষের লিঙ্গের ক্ষমতা প্রদর্শনে তারা খুবই দক্ষ।

নিশ্চই রাস্তায় কোনো নারী দেখলেই তাদের লিঙ্গ দাড়িয়ে যায়। নিশ্চয় আইনের ভয়ে, তানা হলে তারা প্রতিনিয়ত ধর্ষণ করত। কারণ তারা নারীদের ভোগ্যপণ্য মনে করে, শুধু নারীরা না তাদের মত ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষা নেওয়া পুরুষরা ছেলেদের কেউ বলাৎকার করে।

এরা সবাই একই ফ্যাক্টরি প্রোডাক্ট। ৫/৬ জন এডমিন এই গ্রুপটা নিয়ন্ত্রণ করে। তারা সবাই লিঙ্গওয়ালা পুরুষ। রাস্তায় নারী দেখলে তাদের লিঙ্গ দাড়িয়ে যায়। পর্দা ছাড়া নারী দেখলেই তাদের চুলকানি বেড়ে যায়। কোন নারীকে স্বাবলম্বী হতে দেখলেই তাদের লিঙ্গ দাড়িয়ে যায়। এমনকি ৪০ লক্ষ গার্মেন্টস শ্রমিক নিরলস পরিশ্রম করে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা টিকিয়ে রেখেছেন এটাও তাদের সহ্য হয় না। ক্ষমতা থাকলে এদেরকেও তারা ধর্ষণ করত।

এদের নষ্ট হওয়ার পিছনে আসল কারণ কি? বাংলাদেশের রাজনীতি, সামাজিক অবস্থান, শিক্ষা নাকি অন্য কিছু। নাকি চৌদ্দশ বছর আগের আরবের বাতাস তাদের নষ্ট হওয়ার আসল কারণ?

আরবের বাতাস নষ্ট করেছে পুরো পৃথিবীটাকে, নারীদের বন্দি করেছে বস্তার মধ্যে। নারীরা মুক্ত আকাশে প্রাণভরে নিঃশ্বাস নেক সেটা তারা কখনো চায়নি। কারণ তারা মোহাম্মদের প্রকৃত উম্মত। সেই মোহাম্মদ যে কিনা ১২ খানা বিয়ে করেছেন। ৬ বছরের বাচ্চা মেয়ে আয়েশাকে বিয়ে করেছেন। এমনকি ৫০ বছরের খাদিজাকেও বিয়ে করেছেন, তখন তার বয়স ছিলো মাত্র ২৫ বছর। সেই মুহাম্মদ যার অসংখ্য যুদ্ধবন্দীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক ছিলো, এমনকি অসংখ্য দাসীর সাথেও যৌন সঙ্গম করেছেন। এই ঘটনা গুলো আমি সাহাবউদ্দিন মাহমুদের কাছে শুনে হয়তো আপনাদের খারাপ লাগতে পারে, কিন্তু এগুলো কোরআন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত, অবশ্য ধর্মান্ধ মুমিনরা এই ঘটনাগুলো ওয়াজ মাহফিলে মোল্লাদের মুখ থেকে শুনে আমিন আমিন বলে চিৎকার করে ওঠে। অবিশ্বাসীরা বললেই যত দোষ।

যাই হোক যেখানে মূল ফ্যাক্টরিতেই সমস্যা, প্রোডাক্ট তো নষ্ট হবেই। এদের নষ্ট হওয়ার পিছনে মুহাম্মদ এর জীবনী এবং কোরআনের কিছু আয়াত এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

– কোরানের কিছু আয়াত।

তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র, সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যে প্রকারে ইচ্ছা অবতীর্ন হও। সূরা-২: বাক্কারাহ, আয়াত:২২৩

– এই আয়াতে সরাসরি নারীদেরকে যৌনবস্তু হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, নারীদের কাজেই হচ্ছে স্বামীকে শান্তি তৃপ্তি দেওয়া।

পুরুষগণ নারীদিগের উপর কর্তৃত্বশীল, এই কারনে যে, আল্লাহ উহাদের কাহাকেও কাহারও উপর মর্যাদা প্রদান করিয়াছেন, এবং পুরুষেরা স্বীয় মাল হইতে তাহাদের অর্থ ব্যয় করিয়াছে, ফলে পূন্যবান রমনীগন অনুগত থাকে, অজ্ঞাতেও তত্ত্বাবধান করে, আল্লাহর তত্ত্বাবধানের মধ্যে এবং যাহাদের অবাধ্যতার সম্ভাবনা দেখিতে পাও, তাহাদিগকে উপদেশ দাও, এবং তাহাদের সহিত শয্যা বন্ধ কর এবং তাহাদিগকে সংযতভাবে প্রহার কর, তারপর যদি তোমাদের নির্দেশ অনুযায়ী চলিতে থাকে, তাহা হইলে তাহাদের উপর নির্যাতনের পন্থা অবলম্বন করিও না, নিশ্চয়ই আল্লাহ সুউচ্চ মর্যাদাশীল মহান। সূরা-৪:নিসা, আয়াত:৩৪

– এখানে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে পুরুষদেরকে আল্লাহ নিজেই ক্ষমতা দিয়েছে নারীর উপর কৃতিত্ব স্থাপন করার জন্য। দরকার প্রয়োজনে পুরুষ নারীকে আঘাত করতে পারবে। এমনকি পুরুষ নিজের খেয়াল খুশি মত নারীকে ব্যবহার করতে পারবে।

নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী দুই-দুই, তিন-তিন ও চার-চার রমনীকে বিবাহ কর, কিন্তু তোমরা যদি আশংকা কর যে, সমতা রা করতে পারিবে না, তদবস্থায় একই স্ত্রী কিংবা তোমাদের অধীনস্ত দাসী; ইহা অবিচার না হওয়ারই অতি নিকটতর। সূরা-৪: নিসা, আয়াত:৩

– এই আয়াতে বলা হয়েছে পুরুষ নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী, দুই তিন অথবা চারটা বিয়ে করতে পারবে। এবং নিজের ইচ্ছামত যুদ্ধবন্দী দাসীদের সাথে যৌন সঙ্গম করতে পারবে।

নিশ্চয় নারীদের চক্রান্ত অত্যন্ত জটিল
সুরা ইউসুফঃ২৮

– ইসলাম ধর্ম এখানে নারীকে চক্রান্তকারী বলে অবহিত করেছে।

তোমরা স্বগৃহে অবস্থান কর, প্রাচীন জাহেলী যুগের নারীদের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করো না’ সুরা আহযাব, ৩৩

– এই আয়াতের নারীদেরকে সরাসরি ঘরের মধ্যে থাকতে বলা হয়েছে, নারী কোনভাবেই ঘর থেকে যেন বের না হয়।

কোরান এবং হাদীসে আরো বলা হয়েছে। নিশ্চয়ই নারী সয়তানে জাত, নারী সয়তানের বেশ ধরে আসে, সয়তানের বেশ ধরে যায়। তোমরা নারীকে ভায় কর, বনি ইসরাইল ধংস হয়ে গিয়েছে নারীদের কারনে।

এরা ডাক্তার জাকির নায়েক, মুফতি কাজী ইব্রাহীম, মুফতি আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ, এই সকল ধর্মীয় উম্মাদের ওয়াজ শুনে শুনে বড় হওয়া যুবসমাজ। এদের নষ্ট হওয়ার জন্য কোরআনের আয়াত, মোহাম্মদের হাদিস, এবং এই সকল বিকৃত মস্তিষ্কের কাঠমোল্লাদের ওয়াজ মাহফিলই যথেষ্ট ছিলো।

এরা নারীদেরকে মা বোন বলে সম্বোধন করে। আর এরা মনে করে মায়ের কাজ হচ্ছে ঘরের মধ্যে থাকা। বোনের কাজ হচ্ছে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে রান্নাবান্না করা, বাচ্চাকাচ্চা জন্ম দেওয়া। এরা ধরেই নিয়েছে নারীরা হচ্ছে পুরুষের নিয়ন্ত্রিত একটা মেশিন মাত্র, নারীর আলাদা কোন জগত নেই, নারীকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবে পুরুষ।

এদের কাছে নারী কেবলমাত্র যৌন বস্তু। ইসলাম ধর্ম সুকৌশলে এদের মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছে নারীকে বন্দী করার সকল পন্থা। এরা বেহেশতে ৭২টা হুর চায়। এদের কাছে একটা পুরুষের চারটা বিয়ে করা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, কিন্তু প্রকাশ্যে প্রেমিক-প্রেমিকার চুমু খাওয়া খুবই অস্বাভাবিক।

এদের কাছে একটা নারীর সাত – আটটা সন্তান থাকা খুবই স্বাভাবিক ঘটনা, কিন্তু একটা নারী বিয়ে সংসার ছাড়া স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করা এদের কাছে খুবই অস্বাভাবিক।

এদের কাছে একটা নারী প্রতিনিয়ত স্বামীর হাতে নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা খুবই স্বাভাবিক, কিন্তু একটা নারী প্রতিবাদী হয়ে, প্রতিনিয়ত স্বামীর অত্যাচার সহ্য না করে, স্বামীকে তালাক দেওয়া খুবই অস্বাভাবিক।

এদের কাছে মুক্ত আকাশে প্রানপনে নিঃশ্বাস নেওয়া নারীর জীবন অস্বাভাবিক মনে হয়, কিন্তু দিনের পর দিন একটা ঘরের মধ্যে বন্দী থাকা নারীর জীবন স্বাভাবিক মনে হয়।

কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে হেয় প্রতিপন্ন করা আমার উদ্দেশ্য নয়। আমি জানি তারাও আমার মত কোন এক মায়ের যৌনাঙ্গ দিয়ে দুনিয়াতে এসেছে। তারাও আমার মত কোনো এক নারীর স্তন চুষে চুষে বড় হয়েছে। পার্থক্যটা একটাই, তারা সেই মা এবং নারী জাতিকে যৌনবস্তু মনে করে, আর আমি মনে করি, তারাও আমাদের মত মানুষ। তাদেরও আমাদের মত স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার আছে। নারী আর পুরুষ আলাদা কিছু নয়, সবার একটাই পরিচয়, আর তা হলো আমরা সবাই মানুষ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 54 = 57