কুরআন আল্লাহর বাণী নয়, কোরআন মুহাম্মদের বাণী।

কুরআন আল্লাহর বাণী নয়, কুরআন মুহাম্মদের বাণী ।

পৃথিবীর আর দশটা ধর্মের মতই মুসলমানরা দাবী করে তাদের ধর্মগ্রন্থ কুরআন একটি সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত বা রচিত গ্রন্থ। মুসলমানরা দাবী করে তাদের আরবীয় সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ কুরআন রচনা করে সেই রচনাগুলোকে পর্যায়ক্রমে মুসলমানদের নবী মুহাম্মদের কাছে ফেরেশতা মারফত পাঠিয়েছে। পৃথিবীর আর দশটা ধর্মের মতই মুসলমানরা প্রমাণ দিতে পারে না যে কুরআন আসলেই কোন সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত গ্রন্থ কিনা। যেমন মুসলমানরা প্রমাণ দিতে পারে না কুরআন আসলেই কোন দৈব শক্তিতে মুহাম্মদের কাছে এসেছে কিনা। বরং ইতিহাস সাক্ষি দেয় মুহাম্মদ যা কিছুই সৃষ্টিকর্তার নামে নিজের মুখে বলতো সাহাবাগণ তাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করে সেগুলোকে সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে মেনে নিত।

কিন্তু মুহাম্মদ বাদে একজনও ছিল না যে মুহাম্মদের দাবীকৃত ফেরেশতা জিব্রাইলকে দেখেছে। কেউ জিব্রাইলকে দেখেনি, কেউ জিব্রাইল নামের অদৃশ্য কারো কথা শুনেনি এমন কি মুহাম্মদ বাদে অন্য কেউ জিব্রাইলের অস্তিত্বের কোন প্রমাণই প্রত্যক্ষ করেনি। শুধু মুহাম্মদ দাবী করেছে তার কাছে এক অদৃশ্য ফেরেশতা আসে এবং কোন শব্দ না করে তার কানে কানে কিছু বানী দিয়ে যায়। সেই বাণীগুলোই মুহাম্মদ তার সাহাবাদের বলে দেয়। সম্পূর্ণ কুরআনই প্রমাণহীন কোন কিছুর নাম করে মুহাম্মদ ব্যক্ত করেছে, আল্লাহর বাণী বলে প্রচার করেছে। অর্থাৎ কুরআন যে কোন সৃষ্টিকর্তার বাণী এটার প্রমাণ হলো একমাত্র প্রমাণহীন অন্ধবিশ্বাস। মুহাম্মদের প্রতি তার অন্ধ অনুসারীদের অন্ধবিশ্বাস এবং সেসব অনুসারীদের প্রতি পরবর্তী প্রজন্মের মানুষের অন্ধবিশ্বাস। অর্থাৎ কুরআন আল্লাহর বাণী এটার একমাত্র প্রমাণ হলো যুগ যুগ ধরে চলে আসা কিছু মানুষের অন্ধবিশ্বাস। পুরো প্রক্রিয়াটিই দাড়িয়ে আছে প্রমাণহীন অন্ধবিশ্বাসের উপর।

কুরআন কোন সৃষ্টিকর্তার বাণী কিনা তার প্রমান যেমন মুহাম্মদ দিতে পারেনি মোটেও ঠিক একই ভাবে মুসলমানরাও আজ পর্যন্ত একটা প্রমাণও হাজির করতে পারেনি কুরআন ঐশী বাণী তার পক্ষে। কোন প্রকারের প্রমাণ না দিতে পেরে মুসলমানরা কিছু অপকৌশল অবলম্বন করে কুরআনকে আল্লাহ নামের আরবীয় সৃষ্টিকর্তার বাণী বলে দাবী করে। তারা কুরআনের নানা রকমের ভূল ভ্রান্তিপূর্ণ আয়াতগুলোকে বিজ্ঞানময় বলে দাবী করে। এভাবে প্রাচীন আরবের এক সাধারণ মানুষের লেখা গ্রন্থকে বিজ্ঞানময় কিতাব বানাতে মুসলমানরা এমন কোন অপকৌশল নেই যা তারা করে না। তবুও তারা তাদের ভূলে ভরা মুহাম্মদের অজ্ঞতা সম্পন্ন গ্রন্থকে বিজ্ঞানময় বানাতে পারেনি। বরং কুরআনের নানা রকমের ভূল ভ্রান্তি মানুষের সম্মুখে আরো বেশি করে উন্মুক্ত হয়েছে। মুসলমানরা যত কুরআনের অর্থকেই বদলে দিয়ে কুরআনকে বিজ্ঞানময় বানাক না কেন, আজ পৃথিবীর প্রায় সব মানুষই জেনে গেছে কুরআনের নানা প্রকারের ভূল ভ্রান্তি সম্পর্কে। এজন্য মুসলমানরা বিজ্ঞানকে ভূল ভাবে উপস্থাপন করে, কুরআনে ব্যবহৃত শব্দগুলোর অর্থ বদলে বিজ্ঞানের অনুকুলে কুরআনের নতুন এবং ভিন্ন অর্থ এনে কুরআনকে বিজ্ঞানময় বানিয়ে প্রচার করে কুরআন বিজ্ঞানময় গ্রন্থ। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো ভূলে ভরা কুরআনের অর্থকে বদলে দিয়ে কুরআনের ভূলকে সংশোধনের মাধ্যমে যে বিজ্ঞানময় কিতাব বানানো হয় সেটি মুহাম্মদ রচিত কুরআন থাকে না।

সেটি হয়ে যায় আধুনিক বিজ্ঞান জানা মুসলমানদের দ্বারা সংশোধিত কুরআন। কুরআনের ভূলকে সংশোধন করে এর অর্থকে বদলে দিয়ে একে বিজ্ঞানময় বানানোর কারণেই বরং প্রমাণ হয় যে কুরআন আসলে এক প্রাচীণ আরবের ভ্রান্ত ধারণাগ্রস্থ মানুষের লেখা বই। এজন্যই এর ভূলকে সংশোধন করতে ভিন্ন অর্থ আনতে হয় এবং নতুন নতুন ব্যাখ্যার আমদানী করতে হয়। যদি কুরআন সত্যিই কোন সৃষ্টিকর্তার গ্রন্থ হতো তবে কুরআনের অর্থের পরিবর্তন করতে হতো না। তাও এমন ভাবে অর্থের পরিবর্তন করে যেন সেই নতুন অর্থটি বিজ্ঞানের সাথে হুবহু মিলে যায়। বিজ্ঞানের সাথে মিলিয়ে কুরআনের নতুন অর্থ করায় এটাই প্রমানিত হয় কুরআন আসলে মুহাম্মদের লেখা একটি প্রাচীণ ভ্রান্তির গ্রন্থ। কারণ সৃষ্টিকর্তার গ্রন্থকে অর্থের পরিবর্তনের মাধ্যমে সংশোধন করে বিজ্ঞানময় গ্রন্থ বানানোর প্রয়োজন পরে না; যা মুসলমানরা করে কুরআনকে বিজ্ঞানময় বানায়।

কুরআন কোন অতিজ্ঞানী সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত গ্রন্থ নয়। বরং কুরআন এক প্রাচীণ আরবের বুকে দাড়িয়ে থাকা অজ্ঞ মানুষের লেখা বই সেটা পৃথিবীর বহু বিখ্যাত জ্ঞানী মানুষেরা প্রমান করে দিয়েছে। আমিও গত সবকটি পর্বে নিশ্চিত ভাবে প্রমাণ করে দিয়েছি যে কুরআন কোন অতিক্ষমতাবান সৃষ্টিকর্তার রচিত গ্রন্থ নয়। বরং কুরআন মুহাম্মদের মতো এক অজ্ঞ আরবের লেখা বই। কুরআন মুসলমানদের কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত কোন ঐশী গ্রন্থ নয় সেটার আরো একটি প্রমাণ এই পর্বে উপস্থাপন করবো।

প্রাচীন কাল থেকেই মানুষ রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে বিমোহিত হয়ে যেতো। রাতের কালো আকাশের বুকে ভেসে থাকা মিটি মিটি তারাগুলো আকাশের সুন্দর্য্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে হাজার গুন। ঝিকিমিকি তাঁরাগুলো যেন একেকটি মুক্তা। আর আকাশের বুকে ফুটে উঠা তাঁরাগুলো যেন টিপের মতো সাজ্বিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বযত্নে। আকাশের সুন্দর্য যেমন প্রাচীণকালের মানুষদেরকে মুগ্ধ করতো ঠিক সেভাবে আকাশের ঝিকিমিকি তাঁরাগুলোর রহস্য তাদের কাছে ছিল অজানা। তারা চিন্তা করে পেতো না আকাশের বুকে এতো সুন্দর মুক্তগুলো কিভাবে সাজানো হযেছে? তারা এসবের উত্তর জানতো না। তাদের জানার সাধ্যও ছিল না। কিন্তু তাদের অনুসন্ধিগ্ন মন তাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর নিজে নিজে কল্পনা করে নিতো। তারা ভাবতো আকাশের তাঁরাগুলোকে কেউ একজন অতি যত্নে টিপের মতো করে লাগিয়ে দিয়েছে। আর ছোট ছোট তাঁরকাগুলো লাগানো হয়েছে ছাদের মতো আকাশের গায়ে। আকাশকে যেমন ছাদ বা তাবুর মতো মনে হয় ঠিক একই ভাবে তারকাগুলোকেও মুক্তার মতো মনে হয়। প্রাচীণ কালের মানুষ কল্পনা করে নিয়েছিলো তারকাগুলো এক একটি মুক্তার মতো। তারকাগুলো ছাদ বা তাবুর মতো আকাশের গায়ে লাগিয়ে আকাশের সুন্দর্য বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এমনটাই বিশ্বাস করতো প্রাচীণকালের মানুষগুলো।

প্রাচীণ আরবের মানুষগুলোও আকাশ এবং তারকাগুলো সম্পর্কে এমনটাই বিশ্বাস করতো। কুরআনের প্রবর্তক (বা রচয়িতা) মুহাম্মদের আকাশ ও তারকাগুলো সম্পর্কে ধারণাগুলোও প্রাচীণ মানুষের মতই ছিল। মুহাম্মদও মনে করতো আকাশ হলো ছাদের মতো বা তাবুর মতো কোন কিছু। আসলে আকাশকে খালি চোখে দেখলে সবার কাছেই ছাদ বা তাবুর মতই দেখায়। আর মুহাম্মদও প্রাচীণ মানুষদের মতই বিশ্বাস করতো তারকাগুলো এক একটি ঝিকিমিকি মুক্তার মতো কিছু একটা। মুহাম্মদ তারকাগুলো সম্পর্কে তার ধারণাগুলোকে কুরআনে বর্ণনা করেছে নানা ভাবে। কুরআনে আকাশ ও তারকা সম্পর্কিত আয়াতগুলো দেখলে বুঝা যায় আকাশ বা তারকাগুলো সম্পর্কে মুহাম্মদ কেমন ধারণা রাখতো। কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে মুহাম্মদের চিন্তা ধারা বর্ণিত হয়েছে স্পষ্ট করে। কুরআনে বর্ণিত মুহাম্মদের তারকা সম্পর্কিত ধারণাগুলো বিশ্লেষণ করে দেখবো মুহাম্মদের বর্ণিত ধারণাগুলো কি সত্যি নাকি মুহাম্মদ তার প্রাচীণ অজ্ঞতাগুলোকেই কুরআনে লিপিবদ্ধ করে রেখেছে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

91 − = 85