হেফাজতে ইসলামের ইতিহাসটা জানা দরকার।

হেফাজতে ইসলামের ইতিহাসটা জানা দরকার। ১৩ দফা দাবি নিয়ে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক কয়েকটি সংগঠন ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি হেফাজতে ইসলাম গঠন করে। হাটহাজারীর কওমি মাদ্রাসার প্রধান আল্লামা শাহ আহমদ শফীকে এর সভাপতি করা হয়। একই বছর আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় শিক্ষানীতি ঘোষণা করলে হেফাজত তার বিরোধিতা করে। এরপর ২০১১ সালে সরকার নারী উন্নয়ন নীতি ঘোষণা করলে একে ইসলামবিরোধী আখ্যা দিয়ে মাঠে নামে হেফাজতে ইসলাম। আন্দোলনের নামে ২০১৩ সালের ৫ মে তারা ঢাকা শহরে কী ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল, তা-ও নিশ্চয়ই অজানা নয়।

হেফাজতের সুপারিশে পাঠ্যবই থেকে যেসব কবিতা বাদ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে আছে হুমায়ুন আজাদের ‘বই’, গোলাম মোস্তফার ‘প্রার্থনা’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বাংলাদেশের হৃদয়’, সানাউল হকের ‘সভা’, জসীমউদ্‌দীনের ‘দেশ’, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের ‘আমার সন্তান’, জ্ঞানদাসের ‘সুখের লাগিয়া’, বাউল লালন সাঁইয়ের ‘সময় গেলে সাধন হবে না’, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সাঁকোটা দুলছে’ এবং রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর ‘খতিয়ান’। গদ্যরচনার মধ্যে আছে সত্যেন সেনের ‘লাল গরুটা’, এস ওয়াজেদ আলীর ‘রাঁচি ভ্রমণ’, রণেশ দাশগুপ্তের ‘মাল্যদান’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘বাঙালির বাংলা’ ও সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পালামৌ ভ্রমণ কাহিনী’।

আমরা ওই বাদ দেওয়া লেখাগুলো পড়ে দেখেছি, এর একটিতেও ইসলাম ধর্মবিরোধী কিছু নেই। তারপরও সেগুলো বাদ দেওয়ার পক্ষে হেফাজতের যুক্তি হলো, এর লেখকদের বেশির ভাগ হিন্দুধর্মাবলম্বী। আর তাঁদের মধ্যে যাঁরা মুসলমান লেখক আছেন, তাদের কাছে তাঁরাও অগ্রহণযোগ্য। যাঁরা পাঠ্যবই থেকে হিন্দু লেখকদের রচনা বাদ দেওয়ার দাবি আদায় করেছেন, তাঁদের জানার কথা যে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল–কোরআন বাংলা ভাষায় প্রথম অনুবাদ করেছিলেন ভাই গিরীশচন্দ্র সেন। তিনি মুসলমান নন, একজন হিন্দু। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের নরসিংদীর পাঁচদোনায়।কোনো গণতান্ত্রিক দেশে কি এভাবে পাঠ্যবই অদলবদল হতে পারে?

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

88 + = 98