রোহিঙ্গাপ্রিয় মানবতাবাদীরা ঠ্যালা সামলা

রোহিঙ্গারা আসার শুরুর দিকে পক্ষে-বিপক্ষে তমূল মত পার্থক্য দেখা দিয়েছিলো। ধরেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অবস্থান করতে দেয়া বা না দেয়া। অবস্থান করতে দেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের কোন এ্যাঙ্গেলের ব্যাবস্থাপনায় রাখা যায়। আবার কেউ কেউ বলেছেন রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া অনুচিত। তারা যে কোন সময় বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে দাড়াবে——-।

আসলে পক্ষে যারা ছিলেন তারা বিপক্ষের লোকদের উদ্দেশ্য করে খুব গলা ফাটিয়েছিলেন। বিপক্ষের লোকেরা নাকি চরম সাম্প্রদায়িকমনা, কট্টর মানবতাহীন, ইসলাম বিদ্ধেষী — আরো কতকিছু। পক্ষের লোকেরা রোহিঙ্গাদের জন্য সেসময়ে দারুণ মায়াকান্না করেছিলো। মানবতার গাজী ট্যাংক উল্টে দিয়েছিলো। ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গী থেকে চরম পক্ষপাতীত্বের জন্ম দিয়েছিলো। রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আমরাও আমাদের মত করে যৌক্তিক মন্তব্য করার চেষ্টা করেছিলাম। তবে দেশের রোহিঙ্গাপ্রিয় উদার মানবতাবাদীরা আমাদের কোন মন্তব্যকে যৌক্তিক বলে মনে করেনি। তারা আমাদের মন্তব্যকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করেছে। যার ফলে আমাদেরকে কখনো মিশিয়ে দেয়া হয়েছে ইসলাম বিদ্ধেষের স্রোতে! আবার কখনো রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও সাম্প্রদায়িকতার স্রোতে…!!! আমরা বা রোহিঙ্গা ইস্যুর বিপক্ষে যারা ছিলেন তারা নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের বিপক্ষে ছিলেন না মোটেও। কিন্তু তারা ভেবেছিলো রোহিঙ্গাদের দেশে আশ্রয় দেওয়া হলে দেশের চলমান বা ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপট কোথায় গিয়ে দাড়াবে??? রোহিঙ্গারা সংখ্যায় খুব একটা ছোট নয়, যেকারণে আশংকা করা হয়েছিলো হয়তো কোন একটি সময়ে রেহিঙ্গারা বাংলাদেশ সরকারের কাছে স্বায়ত্ব শাসনের দাবি করে বসে থাকবে। পাশাপাশি দেশে জঙ্গি কার্যক্রমের অগ্রগতি হবে, সন্ত্রাস বেড়ে গিয়ে তিন চার গুন হবে, সবমিলিয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের এক বিরাট হুমকি হয়ে দাড়াবে!!! প্রকৃতপক্ষে যা আন্দাজ করা হয়েছিলো সেটাই হচ্ছে। যদিওবা রোহিঙ্গারা এখনো স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলে ধরেনি, এই একটা সাবজেক্ট ছারা আমাদের আন্দাজের সাথে বর্তমানে রোহিঙ্গাদের সব কৃতকর্মই সামঞ্জস্য। রোহিঙ্গা শিবিরে এত ভারি ভারি অবৈধ অস্ত্র এলো কোথায় থেকে? রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ কোন শক্তির উর্বরতায় সংগঠন তৈরি করার সাহস পায়? মহিবুল্লাহ কিভাবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট, ভিসা নিয়ে আমেরিকায় গিয়ে ট্রাম্পের সাথে দেখা করে? এর পিছনে কে বা কারা রয়েছেন? সরকার কী কখনো এসব বিষয় খটিয়ে দেখার আগ্রহ দেখিয়েছে!!! রোহিঙ্গাদের মানবতা দেখাতে গিয়ে সর্বশেষ “মানবতার মা” হিসেবে আখ্যায়িত হলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবতার মা শেখ হাসিনার মানবতার বিন্দুমাত্র ঘাটতি ছিলোনা। অথচ রোহিঙ্গারা আসার পূর্বে রাঙ্গামাটি জেলার লংগুদুতে সেটেলার বাঙালীরা মোটর বাইক ড্রাইভার মোঃ নুরুল ইসলাম নয়নের হত্যার জের ধরে বিচার বিশ্লেষণহীনভাবে সেনাবাহিনী ও পুলিশের প্রত্যক্ষ পরোক্ষ সহযোগীতায় ৩/৪ টি গ্রামের মোট ২৫০+ আদিবাসীদের ঘরবাড়ী নিষ্ঠুরভাবে জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। মর্মান্তিকভাবে পুড়িয়ে হত্যা করেছিলো ৭০/৮০ বছরের বৃদ্ধ গুণমালা চাকমাকে!!! লুঠপাত করা হয়েছিলো আদিবাসীদের সমস্ত কিছু। হাজার হাজার আদিবাসী গৃহহীন হয়ে বনে জঙ্গলে খোলা আকাশের নিচে বনের লতাপাতা খেয়ে এক কাপড়ে মানবেতর জীবন যাপন করেছিলো। অনেক মেধাবি ছাত্র/ছাত্রীর জীবন নষ্ট করে দেয়া হয়েছিলো! কই আদিবাসীদের এমন দুর্বিষহ দিনে তো প্রধানমন্ত্রী তথা দেশের কথিত উদার মানবতাবাদীদের মানবতা দৃশ্যমান রূপ ধারন করেনি! রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের মানবতাবাদী মা শেখ হাসিনা সে সময়ে ভূলেই গিয়েছিলো যে তার সোনার ছেলেদের হাতে লংগুদুর আদিবাসীদেরকে পোড়ানো হয়েছিলো! জ্বালানো হয়েছিলো! লুঠপাতের শিকার হতে হয়েছিলো!!! রোহিঙ্গাপ্রিয় মানবতাবাদী মা বড়ই উদার মনের। নিজের তথা নিজের দেশের জনগনের কথা কখনোই চিন্তা করেনি। দেশের অভ্যন্তরে কি হচ্ছে বা না হচ্ছে এসব দেখার তার সময় নাই। মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দুঃখ কষ্ট দেখেই তখন আমাদের মানবতার মা কেঁদে কেঁদে বেহুশ হয়ে পড়েছিলেন। মায়ের হৃদয়ে তখন একটাই গান বেজেছিলো- “এত কষ্ট মেনে নেয়া যায়না, মেনে নেয়া যায়না”।

-রোহিঙ্গা শিবেরে রোহিঙ্গা কতৃক হত্যা করা হচ্ছে আ:লীগ নেতাকে।
-রোহিঙ্গা কতৃক ডাক্তার খুন।
-রোহিঙ্গা কতৃক এনজিও কর্মী হত্যা।
-রেহিঙ্গা কতৃক জার্মান সাংবাদিক খুন।
-এত পিচ ইয়াবা সহ রোহিঙ্গা নারী আটক।
-রোহিঙ্গাদের কারনে স্থানীয়রা সংখ্যালুঘু।
-রোহিঙ্গা শিবির থেকে ভারি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার।
-রোহিঙ্গা শিবিরে জঙ্গি প্রশিক্ষন।
-ইত্যাদি, ইত্যাদি, ইত্যাদি।
সবই মায়ের মানবতার সাফল্য। আজ যদি মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং দেশের তথাকথিত মানবতাবাদী ভাই-ব্রাদারেরা রোহিঙ্গাদের জন্য মানবতার গাজী ট্যাংক উল্টিয়ে না দিতেন তাহলে দেশের স্বার্থে রোহিঙ্গা কতৃক এত বড় বড় ভয়ংকর উন্নয়ন করা বাংলার মাটিতে সম্ভব হতো না। ধন্যবাদ মা, আপনি এবং আপনার মানবদরদী ভাই-ব্রাদারেরা আসলেই মহান। মানবতার ঠ্যালায় আপনারা এখন দেশে সন্ত্রাস ছিটানোর শীর্ষ অবস্থানে!!! পরিশেষে একটা অনুরোধ যদি সম্ভব হয় কাশ্মিরীদেরও বাংলাদেশে নিয়ে আসার ব্যাবস্থা করেন। আশা করি কাশ্মিরীরাও রোহিঙ্গাদের থেকে দ্ধিগুন হারে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে উন্নয়নের শীর্ষে।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

44 − = 38