আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এর ‘শাড়ি’ সেক্সিস্ট না তবে বিভ্রান্তিকর

আবু সায়ীদ  মূলত বাঙালি নারীদের একটি বিশেষ গ্রুপকে নিয়ে লিখেছেন, যারা প্রিভিলেজড অর্থাৎ অগ্রাধিকারি। শাড়ি যাদের কাছে স্বপ্নখোচিত গয়না’, আলৌকিক বিদ্যুৎ হিল্লোল’, গভীর সচেতন’ এবং শিল্পবোধ’ তাদের জন্য।

শাড়ি কে ঘিরে বাঙালি নারীর সৌন্দর্যকে বর্ণনা করতে গিয়ে যেসকল উপমা ব্যবহার করেছেন তা অনেকেই ‘সেক্সিস্ট’ (লিঙ্গ দ্বারা বৈষম্য) বলে আখ্যায়িত করেছেন। আমার মতে তার ঐসকল উপমা সেক্সিস্ট না, সে বিভিন্ন উপমায় নারী শরীর বর্ণনা করতেই পারে। নারী শরীর কোন ট্যাবু না।

‘শাড়ি’র সারাংশ:
কেনো বাঙালি নারীর জন্য সবথেকে সুন্দর এবং উপযুক্ত পোশাক শাড়ি সেটা বোঝাতে গিয়ে শাড়িকে বাঙালি নারীর “ত্রুটি” ঢাকবার ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন। এবং শেষে অন্যান্য পোশাককে সমালোচনা করে, আক্ষেপ এবং হতাশা প্রকাশ করে নারীরা ‘শাড়িকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছে’ এই অভিযোগ তুলে লেখাটি শেষ করেছেন।

এই লেখাটিকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেছি:

লেখাটির ভূমিকা ছোট করে লিখেছেন সম্ভবত সম্পাদক। সেখানেই লেখাটির মূল বিষয় উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে। এটার পেছনের ঘটনা হয়তো এরকম, সম্পাদক লেখকের কাছে ঠিক এই কনটেন্ট এ একটি লেখা চেয়েছেন কিংবা আবু সায়ীদ এর লেখাটি পড়ে সম্পাদক এটা লিখেছেনঃ

‘বাঙালি নারীর কাছে শাড়ি তার সারা শরীর জড়িয়ে রাখা এক কাপড়ের একটা দীর্ঘ স্বপ্নখচিত জড়োয়া গয়না। যুগে যুগে এই পোশাককে বিচিত্র শব্দে–বর্ণে মহিমান্বিত করেছেন লেখক–সাহিত্যিকেরা। তবে বর্তমানে নারীদের মধ্যে কমে গেছে শাড়ি পরার চল। শাড়ি নিয়ে বিশেষ এ আয়োজনে লিখেছেন আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।’

‘শাড়ী একটি ঐতিহাসিক শৈল্পিক পোশাক এবং বর্তমানে পরার চল কমে যাচ্ছে’’ এখানে সম্পাদক একটি সমস্যাকে চিহ্নিত করেছেন এবং তারই উত্তর বা বিশ্লেষণ মিলবে লেখক এর লেখায়।

সেই উত্তর খুঁজতে যখন তার লেখার প্রথম লাইনটিতে চোখ যায়ঃ

‘শাড়ি পৃথিবীর সবচেয়ে যৌনবেদনপূর্ণ অথচ শালীন পোশাক।’

এখানে ‘যৌনবেদনপূর্ণ’ শব্দটিতে আমার সমস্যা নেই। আবু সায়ীদের দৃষ্টিতে শাড়িতে যদি যৌনবেদন প্রকাশ পায় এতে আমার নারীবাদীতার সাথে কোন সমস্যা করে না। সমস্যা হচ্ছে সে যখন ‘অথচ’ শব্দটির ব্যবহার করেছেন।তার মানে এমনটা দাঁড়ায়, কোন পোশাক যদি যৌনবেদনপূর্ন হয় তাহলে সেটা সাধারণত অশালীন? কিন্তু এই শাড়ির ক্ষেত্রে সেটা অশালীন না যদিও এটা যৌনবেদনপূর্ন? এই ‘অথচ’ দিয়ে তিনি যা বোঝাতে চেয়েছেন তা আপত্তিকর। শুধু বাংলাদেশে না সমগ্র বিশ্বেই নারীকে শুধু পুরুষরা ঢাকতেই চেয়েছে। তাই এখনো প্রতিদিন বিভিন্ন দেশে শুধু মাত্র “অশালীন” পোশাক পরার কারণে, রাষ্ট্র বা পরিবার দ্বারা নির্ধারিত পোশাক না পরার কারণে শাস্তি দিচ্ছে, গ্রেফতার করছে এবং অনার কিলিং এর নামে খুন করছে।
আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর পোশাকের শালীনতা খোঁজে কি করে? প্রিয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, শালীনতা কি মানুষের ব্যাক্তিত্বে, আচার-আচরণে থাকার কথা না? পোশাকে কি করে?

তারপরে তিনি কিছু ‘তুলনা’ করলেন আফ্রিকান, জার্মান এবং ইংরেজ নারীদের উদাহরণ দিয়ে। ‘বিশালদেহী’ আফ্রিকান নারীরা এবং ‘উদ্ধত’ জার্মানরা, ইংরেজরা কাউকে শাড়ীতে ভালো লাগবে না। আফ্রিকানদের তার শুধু ‘বিশালদেহি’ ই লাগলো এবং ইংরেজদের ‘উদ্ধত’!

‘শাড়িতে প্রতিটা নারীকেই ভালো লাগে এবং অন্য কোন পোশাকে নারীদের মানায় না, শাড়ি বাঙালি নারীর প্রকৃতিগত পোশাক’– ঠিক এই লাইনটাকেই লেখক বিশ্লেষণ করবেন সেটা ঘোষণা দিয়ে ‘কেন , তা নিয়ে একটু ভেবে দেখা যায়’ বলে তার লেখায় প্রবেশ করলেন। যেকোন লেখাই এগিয়ে যায় একটি প্রধান প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে। তিনিও সেই প্রশ্ন নিয়ে লেখার মূলধাপে এগিয়ে গেলেন।

বাঙালি সৌন্দর্যের বড় সমস্যা হিসিবে তিনি উল্লেখ করেছেন ‘উচ্চতা’। তার মতে অধিকাংশ বাঙালি নারীর ‘উচ্চতা নেই এবং এটাই তাদের বড় দুর্বলতা’।

তিনি লিখেছেন, সবচেয়ে কম যে উচ্চতা থাকলে মানুষকে সহজে সুন্দর মনে হয়—যেমন পুরুষের ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি ও মেয়েদের ৫ ফুট ৫ বা ৬ ইঞ্চি—আমাদের গড় উচ্চতা তার চেয়ে অন্তত ২–৩ ইঞ্চি কম। দৈহিক সৌন্দর্য ছেলেদের বড় ব্যাপার নয় বলে এ নিয়েও তারা কোনোমতে পার পেয়ে যায়। কিন্তু আটকে যায় মেয়েরা। আমার ধারণা, একটা মেয়ের উচ্চতা অন্তত ৫ ফুট ৪–এর কম হলে তার শরীরে নারীজনিত গীতিময় ভঙ্গি পুরোপুরি ফুটে ওঠে না। এরপর তাদের দৈর্ঘ্য ৫ ফুট ৫, ৬ বা কিছু পরিমাণে ৭ ইঞ্চি পর্যন্ত উঠলে তা ক্রমাগত অলীকতর হয়ে উঠতে থাকে।বাঙালি মেয়েরা বিপদে পড়ে এখানটাতেই। এদের গড় উচ্চতা ৫ ফুট ২ থেকে ৩ ইঞ্চির সামান্য এদিক–ওদিকে (অবশ্য ১০ শতাংশ মেয়েকে বাদ দিয়ে ধরলে)। এই উচ্চতা নিয়ে ললিত–মধুর ও দীর্ঘাঙ্গী নারীর কমনীয় শরীর নিয়ে ফুটে ওঠা কঠিন, যা দেখা যায় এই উপমহাদেশের উত্তর দিকের নারীর উন্নত দেহসৌষ্ঠবে।

এখানে তিনটি বিষয় খেয়াল করতে হবে।

১। একজন লেখকের ব্যক্তিগত পছন্দ থাকতেই পারে এবং সেই ভালোলাগা বা পছন্দের কথা তিনি লিখতেই পারেন। আবু সায়ীদ এর মতে ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি মেয়েরা পারফেক্ট। হতেই পারে।

২। তিনি তো একজন শিক্ষাবিদ, তিনি সমাজ পরিবর্তনের কথা বলেন এবং তার অসংখ্য পাঠক। তিনি কিছু বললে এবং লিখলে সেটার প্রভাব আছে। প্রতিদিন কোটি কোটি মেয়েরা সমাজের মানদণ্ডে সুন্দরি হতে না পেরে হতাশায় ভোগে, আত্মহত্যাও করে। এই মানদণ্ড কারা নির্ধারণ করে? পুরুষতান্ত্রিক সমাজ করে, আবু সায়ীদরা করে। আবু সায়ীদ সেটা ভালো করেই জানে। নারী শরীর এবং পোশাক এই দুটিই পুরুষতন্ত্রের হাতিয়ার।

৩। এটাকে ‘বডি শেমিং’ মানে ‘শরীর নিয়ে অপমানজনক কথা’ বলা যেতে পারে। এইসকল টার্ম আগে ব্যবহার হতো না, এখন ‘পলিটিক্যাল কারেক্টনেস’এর যুগ। আবু সায়ীদ এর জেনারশনে এতো ‘কারেক্টনেস’ ছিল না, তাই তিনি হয়তো জানেন না। কিন্তু তিনি তো একজন শিক্ষাবিদ, তার দুয়ারে এই ‘বডি শেমিং’ টার্ম না এসে পৌঁছালেও তার তো খুঁজে নেবার কথা। তা না হলে তিনি মানুষকে আলোকিত করতে চান কিভাবে?

এরপরে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন ‘মানসম্মত দেহসৌষ্ঠব’ এর মত বর্ণবাদি শব্দটির। কে বা কারা মান নির্ধারণ করে? বাঙালি মেয়েদের উচ্চতা যদি ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি হয় তাহলে সেটা কি এই ‘মানসম্মত দেহসৌষ্ঠব’ এর ছকে পরবে? আগেই বলেছি তার ব্যক্তিগত পছন্দ অপছন্দের কথা তিনি লিখতেই পারেন কিন্তু যেহেতু তিনি ‘মানসম্মত দেহসৌষ্ঠব’ এর মতও পুরুষতান্ত্রিক কাঠামো ব্যবহার করেছেন যার হাতে কিনা বাংলাদেশের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পদক ‘একুশে পদক’ রয়েছে, তার হাত দিয়েই এইধরনের দেহসৌষ্ঠবের মান নির্ধারণ করার বর্ণবাদি থিওরি অগ্রহণযোগ্য, অপ্রত্যাশিত!

হতাশার এখানেই শেষ নয়। তার হাইহুতোশ পুরো লেখা জুড়েই। এরপরেই তিনি লিখেছেন,

‘আজকাল শাড়ি ছাড়া অনেক রকম কাপড় পরছে তারা—সালোয়ার–কামিজ তো আছেই, পাশ্চাত্য ফ্যাশনের কাপড়ও কম পরছে না—এবং পরার পর ইউরোপ বা ভারতের ওই সব পোশাক পরা সুন্দরীদের সমকক্ষ ভেবে হয়তো কিছুটা হাস্যকর আত্মতৃপ্তিও পাচ্ছে।’

খেয়াল করুন, ‘সমকক্ষ ভেবে হয়তো কিছুটা হাস্যকর পাচ্ছে’
এখানে আসলে পরিষ্কার হলো ইউরোপের মেয়েরা তার ‘মানসম্মত দেহসৌষ্ঠবে’ এর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। তার ধারণা, পাশ্চাত্য ফ্যাশনের কাপড় বাঙালি মেয়েরা পরে ইউরোপের মেয়েদের সমকক্ষ হবার জন্যে? এবং আবু সায়ীদ বাঙালি নারীদের মনস্বত্বে আরও গভীর ভাবে ঢুকে এর পরেই লিখেছেন, তারা নাকি এতে ‘হাস্যকর আত্মতৃপ্তিও’ পায়!

এখানে আমার মনে হয়েছে আবু সায়ীদ ‘বাঙালি মেয়েরা শাড়িকে ঝেটিয়ে বিদায় করছে’ এই আফসোস এবং হতাশা আক্রমণে গিয়ে ঠেকেছে।

‘উচ্চতা’ কে ইতিমধ্যেই সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এবার সমাধানও তিনি দিয়েছেন,

‘আমরা যেন না ভুলি যে এসব পোশাক বাঙালি মেয়েদের দেহ গঠনের একেবারেই অনুকূল নয়। দেহভঙ্গিমারও না। বাঙালি মেয়েদের উচ্চতার অভাবকে আড়াল করে তাদের প্রীতিময় ও কিছুটা তন্বী করে তুলতে পারে একমাত্র শাড়ি। মেয়েরা শাড়ি পরে মাথা বা কাঁধ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত। এভাবে শাড়িতে শরীর জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকা যেকোনো মেয়ের রূপে কমবেশি দীর্ঘাঙ্গি বিভ্রম দেখা দেবেই, ঠিক যে কারণে দীর্ঘ পাঞ্জাবি বা শেরওয়ানি পুরুষদের শরীরে দীর্ঘদেহিতার বিভ্রম জাগায়। এতে সঠিক উচ্চতার তুলনায় তাদের কিছুটা বেশি দীর্ঘ লাগে।’

আবু সায়ীদ এর সাহিত্য মগজ জীর্ন, পুরানো। এদের কমন একটা সমস্যা হচ্ছে নতুনত্বকে গ্রহণ করতে না পারা। সবথেকে বেসিক যে প্রশ্নটা লেখককে করতে হবে সেটা হচ্ছে সে আসলে পোশাক বলতে কি বোঝে?

আমার কাছে পোশাক শব্দের মানেই ‘আরামদায়ক’। যে পোশাকে আমি কমফোর্ট, সেই পোশাকই আমার পছন্দ। মাঝে মধ্যে অনেক পোশাক দেখতে ভালো লাগে কিন্তু যখন তা পরি সেটা আরামদায়ক লাগে না।এই আরামদায়ক মানে শুধু মাত্র কাপড়ের মান, আবহাওয়া, তাপমাত্রা কি রকম ইত্যাদি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না। আরামদায়ক মানে যে পোশাকে নিজেকে খুঁজে পাওয়া যায়, যেমন আমি যদি খুব ঢোলা জাতীয় পোশাক পরনে তাতে আমি নিজেকে খুঁজে পাইনা, তাই সেটা আরামদায়ক না। নিজেকে মনে হয় একটি বইয়ের অনুপযুক্ত অপ্রাসঙ্গিক মলাটের মতো।
আর আমার মনে হয় প্রতিটা ব্যক্তিই যখন তার নিজের কমফোরট অনুযায়ী পোশাক পরে সেই পোশাকই তার ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরে।
তো তিনি কোন বিশ্লেষণে বলেন যে, এইসকল পোশাক বাঙালি মেয়েদের দেহ গঠনের অনুকূল নয়?

পরবর্তী প্যারাতে রয়েছে আরও পরস্পরবিরোধী যুক্তি:

‘বাকি পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই পোশাক হয় শরীরটাকে রমণীয় গুদামঘর বানিয়ে রাখে, নয়তো প্রায় বিবসনা করে রগরগে যৌনতার মৌতাত উদ্ যাপন করে।’

তিনি নিজেই না বললেন শাড়ি যৌনবেদনময়, কমনীয়, নারীর উঁচু নিচু ঢেউগুলো অনব্দ্যভাবে ফুটে ওঠে? তিনিই আবার পৃথিবীর অধিকাংশ পোশাককে ‘রমণীয় গুদামঘর’ এবং রগরগে যৌনতা বলছেন?
সে শাড়ি পরিহিত নারীর শরীর নিয়ে বর্ণনা করলে হয়ে যাবে সাহিত্য, নান্দনিক, শিল্প এবং স্কার্ট পরা নারীর খোলা পা নিয়ে সাহিত্য হলে সেটা হয় রগরগে যৌনতা?

আগেই উল্লেখ করেছি তার এইসকল উপমা এবং বিশেষণ আমার কাছে মন্দ লাগেনি, সেক্সিস্ট লাগে নি, মনে হয়েছে একজন লেখকের পছন্দ অপছন্দ প্রকাশ করতেই পারে। এমনকি নারীবাদীরা তার এইসকল উপমাকে সেক্সিস্ট বলে অনলাইনে যে সমালোচনা করছে তার দ্বিমত পোষণ করেছি। কিন্তু ঠিক এই পয়েন্টে মানে পৃথিবীর অন্যান্য পোশাক কে রমণীয় গুদামঘর বললে তখন পাল্টা প্রশ্ন থেকেই যায় তাহলে তার নারী শরীরের বর্ণনা রগরগে কিনা?

শেষে তিনি আবারো ক্ষোভ ঝেড়েই বিদায় নিয়েছেন,

‘এ যুগ সৌন্দর্যের পরিশীলনকে জানে না। সে বোঝে শুধু একটা জিনিস; লেস ইজ মোর। এই লেসের আক্রমণে মানুষের পোশাকরুচি তার শরীরের সমস্তরে নেমে গেছে।আমার মনে হয়, এ রকম একটা অপরূপ পোশাককে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে বাঙালি মেয়েরা সুবুদ্ধির পরিচয় দেয়নি।’

এখন প্রধান যে প্রশ্নটা, ঠিক কোন সোর্স বা গবেষণা মতে তিনি বলতে চাইছেন যে মেয়েরা আর শাড়ি পরছে না?

শাড়িই একমাত্র পোশাক যা কিনা শ্রেনিবৈষম্যের আঁচরে পরেনি। শাড়ি পরে নারীরা সংসদে যায় এমনকি সেনাবাহিনীর নারীরাও শাড়ি পরে অফিসিয়াল কাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েরা প্রতিদিনকার জীবনে শাড়ি পরে না কিন্তু শাড়ি তাদের কাছে বিশেষ কিছু, বিভিন্ন উপলক্ষে শাড়ি এদের চাইই চাই। গ্রামের নারীরা কি সাবলীলভাবে শাড়ি পরে প্রতিদিনকার কাজ করে যাচ্ছে। তাহলে তিনি কার কাছ থেকে এই তথ্য পেয়েছেন? তার এই লেখা পড়লে মনে হয় ‘শাড়ি’ একটি বিলুপ্ত পোশাক এবং একজন সাহিত্যিক সেই জন্যে হায়হায় করছেন!

সম্পাদক বললেন ‘শাড়ীর চল চলে যাচ্ছে’ সেটা নিয়ে লিখেছেন আবু সায়ীদ। আবু সায়ীদ ভূমিকার পরে বললেন ‘প্রকৃতিগত পোশাক- তাদের সহজাত রূপের অংশ’ কেন? সেটা নিয়ে উনি ‘ভাবনার’ কথা বিশ্লেষণ করবেন বলে বডি শেমিং করলেন এবং পরস্পরবিরোধী যুক্তি দিলেন, খুবই বিভ্রান্তিকর লেখা।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

১ thought on “আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এর ‘শাড়ি’ সেক্সিস্ট না তবে বিভ্রান্তিকর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 5 =