বিয়ের জন্য ধার্মিক পর্দাশীল মেয়েই আমার বন্ধুর প্রথম পছন্দ।

হঠাৎ করেই অনেক আগের এক ফ্রেন্ড মেসেজ দিয়েছে, আমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছে, আমিও আগ্রহ করে কল দিয়ে কথা বললাম। দীর্ঘদিন ধরেই কানাডায় থাকে। শুনছি ভালো চাকরি করে, অনেক টাকা বেতন পায়, লাখের উপরে।

আমাকে ফোন দেয়ার উদ্দেশ্য দেশে যাবে বিয়ে করবে, আমি কখন দেশে যাব সেটা জানার জন্যে। আমি বলছি যাবো, তবে কখন যাবো সেটা বলতে পারতেছি না।

আমি আগ্রহ করেই বিয়ের পাত্রীর খবর জানতে চাইলাম, সে আমাকে হতাশা গলায় বলল বিয়ে করার জন্য বাংলাদেশে আর ভালো মেয়ে নাই, সব মেয়ে খারাপ হয়ে গেছে। আমি বললাম, খারাপ হয়ে গেছে মানে, ঠিক বুঝালাম না? মেয়েরা এখন যারতার সাথে প্রেম করে, যেখানে সেখানে ঘুরতে যায়, পর্দা করে না, নামাজ পড়ে না, মা বাবার কথা শুনে না, এইসব আরকি।

আমি জিজ্ঞেস করলাম তুই কেমন মেয়ে পছন্দ করিস? সে আমাকে বললো, নম্র, ভদ্র, শান্ত, সুন্দর, অল্প শিক্ষিত হলেও চলবে। তবে পর্দা করতে হবে, নামাজ পড়তে হবে, সবসময় আমার আব্বু-আম্মুর সেবা-যত্ন করতে হবে, ঘরের সব কাজ করতে হবে। আর সবচেয়ে বড় বিষয়, আমার কথা মত চলতে হবে।

আমি খুব সহজ সাবলীল ভাষায় বললাম এগুলোর জন্য বিয়ে কেন করতে হবে? দুই একটা কাজের বুয়া রেখে দিলেই তো হয়ে যায়। সে আমার কথা শুনে হেঁসে বললো ধুর কাজের বুয়ে আর বউ কি এক নাকি? আমি বললাম তুই যেগুলো চাচ্ছিস যেগুলো তো কাজের বুয়ারাই করে থাকে, অবশ্যই বিয়ে করলে আলাদা কিছু সুবিধা পাওয়া যায়, সেটা হচ্ছে সেক্স করা, আর বাচ্চা জন্ম দেওয়া।

তারপর সে বললো দোস্ত মেয়েদের টাইট দিয়ে রাখতে হয়, নাহলে সারাজীবন কষ্ট পেতে হবে। আর আমি যেহেতু দেশের বাইরে তাই এইরকম মেয়ে ছাড়া বিয়ে করা উচিত হবে না। আমি বললাম টাইট মানে? সে বললো এইসব কাজের মধ্যে থাকলেই নাকি সংসার সুখের হবে, এটার বাইরে চলে গেলে নাকি সংসারে শুধু অশান্তি আর অশান্তি।

আমি বললাম, এতোই যখন সমস্যা, তাহলে বাংলাদেশে এসে বিয়ে করার দরকার কি, কানাডায় কাউকে বিয়ে করে নিজের সাথেই রেখে দে, সবসময় তোর নজরে নজরে থাকবে, সে বললো তুই কি পাগল, এখানে মেয়েরা স্বামীর কথা একদম শুনেনা, সবাই স্বাধীন, এখানে পুরুষের চেয়েও নারীর ক্ষমতা অনেক বেশি।

কৌতুহলবশত জিজ্ঞেস করলাম, তুই কি সেখানে সেক্সটেক্স করিস, প্রেম-টেম করিস? সে বলল সে নাকি প্রেম টেম করে না, তবে সেক্স করে প্রায় সময়। তারপর বললাম এতদিন কানাডায় থেকেও তোর মানসিকতা চেঞ্জ হয় নাই? নারীদের বন্দী করার এইসব উদ্ভট চিন্তা কিভাবে মাথায় আসে?

সে বলল কানাডার মানুষরা খুবই খারাপ, সেখানের মেয়েরা লেংটা চলাফেরা করে, তাদের কোন ধর্ম নেই, বেশিরভাগই নাকি নাস্তিক, আমি মুসলমান তাই আমাদের মুসলিম রীতিতেই চলতে হবে। এইসব বিধর্মীদের সাথে নিজেদের মিলালে চলবেনা। সে একপ্রকার রেগেই আমাকে কথাগুলো বলতেছে।

আমিও তাকে বললাম, দোস্ত মন খারাপ করিস না, সব ঠিক হয়ে যাবে। সবচেয়ে ভালো হয় তুই বাংলাদেশে চলে আয়, বাংলাদেশে কিছুদিন থেকে তারপর সৌদি আরব যাওয়ার চেষ্টাকর। মুসলিম দেশ, নবীর দেশ, সবাই সেখানে বোরকা পরে থাকে। তোর অনেক নেকি হবে কোন প্রকার গুনাহ হবে না। ওইসব নাস্তিকদের দেশে থাকলে তুই হয়তো জাহান্নামে চলে যেতে পারিস।

এই বলে আমি কল কেটে দিলাম, পরে সে অনেকবার কল করছে আমি আর কল রিসিভ করি নাই।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 + = 24