শোভন-রাব্বানী কান্ড ও আমাদের মিডিয়া

গত কয়েকদিনের হট-টপিক শোভন ও রাব্বানী। অবশেষে বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে থাকা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী পদত্যাগ পত্র প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ  সভাপতি শেখ হাসিনার কাছে জমা দিয়েছেন। সংগঠনের  সহসভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে যথাক্রমে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে । আওয়ামীলীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এই সিদ্ধান্ত প্রদান করেন।

এই বছর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন শেষে ১৩ মে  ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়।  তারও এক বছর আগে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক হিসাবে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে এবং গোলাম রব্বানীর  ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত ৮ সেপ্টেম্বর গণভবনে  আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার ও সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের যৌথসভায় শেখ হাসিনা ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বলে মিডিয়ায় খবর আসে। তাদের বিষয়ে আওয়ামীলীগ  সভাপতি নিজে সিধান্ত দিবেন বলে ওবায়দুল কাদের জানান। তখন থেকেই ছাত্রলীগ এর শীর্ষ দুই পদে রদবদল ঘটছে বলে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়।

৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকেই মিডিয়ায় শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে বিভিন্ন ধরণের খবর আসতে শুরু করে। চাদাবাজি মাদিক ব্যবসা, স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা ও অদূরদর্শিতা, নেতাকর্মীদের প্রত্যাশিত মূল্যায়ন না করা অন্যতম। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপেক্ষা, ফোন রিসিভ না করা, কর্মসূচিতে বিলম্বে যাওয়া, প্রধান অতিথিদের বসিয়ে রাখা, জেলা সম্মেলন করতে না পারা, বিতর্কিতদের দিয়ে কমিটি গঠন করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ছেড়ে বিলাস বহুল বাসায় থাকা।  শোভন-রাব্বানীর গণভবনে ঢোকার স্থায়ী পাস বাতিল হয়ে যাওয়া। এ খবরও আসে যে,  ভুল সংশোধনের সুযোগ চেয়ে ও ক্ষমাপ্রার্থনা করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি লিখেছিলেন গোলাম রাব্বানী। চিঠ গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় খবর প্রকাশিত হয় যে,  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ থেকে  ভিসির কাছে চাঁদা দাবি করেন এই দুই জন। যুগান্তরের অনলাইন সংস্ক্ররণ দাবি করছে, “শুক্রবার ‘ভিসির কাছে চাঁদা দাবি’- শিরোনামে যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হলে আলোচনা নতুন মোড় নেয়।”

শোভন-রাব্বানীকে নিয়ে খবর এখানেই শেষ না। গণমাধ্যম তাদের  বাইরে রাতজাগা ও দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার মতো পারসনাল বিষয়ও প্রকাশ করছে।

প্রশ্নটা হলো, এই গণমাধ্যম যারা দুই ঘন্টা পর পর নতুন নতুন খবর দিচ্ছে, শোভন-রাব্বানীর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাক্ষাৎকার  নিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও উন্নয়ন প্রকল্পের ঠিকাদারের সাক্ষাৎকার প্রকাশ করছে। তারা এত দিন কোথায় ছিল। ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসাবে  রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ,গোলাম রাব্বানী  প্রায় দেড় বছর ধরে রয়েছেন। এতো দিনের মধ্যে মিডিয়া তাদের চাদাবাজি, দূর্নীতি নিয়ে কোনো খবর প্রকাশ করে নাই।  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের অসংলগ্নতা ও দূর্নীতে নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীরা অনেক দিন থেকেই আন্দোলন করছেন । কিন্তু তা নিয়ে মিডিয়ায় খুব বেশী কাভারেজ নাই। ছাত্রলীগের এই দুই নেতার বিরুদ্ধে  প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের পর তাদের পদমর্যাদা বহাল না থাকা যখন একপ্রকার নিশ্চিত, তারপর থেকে মিডিয়া যেন পাখনা মেলতে পারলো। একের পর এক নতুন নতুন তত্ত্ব  দিতে থকল শোভন-রাব্বানীর ব্যাপারে।

একটা ছাত্রসংঠনের দুই নেতার অপকর্মের খবর প্রকাশ করার সাহস রাখে না আমাদের মিডিয়া!  এটা খুব সহজেই অনুমান করা যায় আমাদের মিডিয়ার মেরুদন্ড অনেক আগেই ভেঙ্গে গেছে। কিন্তু এখন বোঝা যায় মিডিয়ার মেরুদন্ড শুধু ভেঙ্গে যায় নাই, মেরুদন্ড বিলীন হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী নয়, কোনো মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী নয়, ক্ষমতাসীন দলের বড় কোনো নেতা নয়, সরকারের আশ্রয়ে বেড়ে উঠা কোনো ব্যবসায়ি নয়, সাধারণ দুই জন ছাত্রনেতার খবর তারা প্রকাশ করতে পারে!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 43 = 50