ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্ট এবং মুক্ত চিন্তা।

ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্ট, মুক্ত চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বড় বাধা। এ আইনটিকে একটি কৌশলী আইন বলাযায়। যে আইনের মাধ্যমে কৌশলে মুক্তচিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হত্যা করা হয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতি রক্ষার নামে ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টে অনুচ্ছেদ ২৮ সংযোজন করা হয়েছে। এ (২৮) অনুচ্ছেদে পরিষ্কার করে বলা হয়নি কি অনলাইনে প্রকাশ করলে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হলে গণ্য হবে। এ অসম্পূন্ন অনুচ্ছেদকে আইনের শুন্যতা বলাযায়। আইনের কোনো অনুচ্ছেদে যদি শুন্যতা থাকে তাহলে রাজনৈতিক কিংবা প্রশাসনিক অপব্যবহারের সুজুগ বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে ধর্মান্ধ, ধর্ম ব্যাবসায়ীরা ও চতুর রাজনৈতিকরা প্রতিপক্ষকে গায়েল করার জন্য এ অনুচ্ছেদের অপব্যবহারের সুজুগ নেয়। উদাহরণস্বরূপ বলাযায় পাকিস্তানে ব্ল্যাসফেমি আইনের অপব্যাবহার। বাংলাদেশে ব্লগার ও মুক্তমনাদের ব্যাপকহারে হত্যা করা হয়েছে। ব্লগার, ধর্মনিরেপক্ষ  ও মুক্তমনারা সবচেয়ে অনিরাপদ বাংলাদেশে। ব্লগার ও মুক্তমনা ও ধর্মনিরেপক্ষরা ধর্মীয় কুসংস্কার ও ধর্মন্ধতা এবং ধর্মীয় হিংসার নেতিবাচক দিকটা তুলেধরেন। সামাজিক ও ধর্মীয় পূনর্ঘটন নিয়ে ভাবেন। ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্ট সামাজিক ও ধর্মীয় সংস্কারে বড় বাধা।

28) Publication, Broadcast, etc. of such information in any website or in any electronic format that hampers the religious sentiment or values: –

(1) If any person or group intentionally or knowingly with the aim of hurting religious sentiments or values or with the intention to provoke publish or broadcast anything by means of any website or any electronic format which hurts religious sentiment or values then such activity of that person will be considered an offence

(2) If any person commits an offence under subsection (1), the person will be sentenced to a term of imprisonment not exceeding 7 (seven) years or fine not exceeding 10 (ten) lac or both.

(3) If any person commits the offence mentioned in sub-section (1) second time or repeatedly, he will be punished with imprisonment not exceeding 10 (ten) years or fine not exceeding 20 (twenty) lac taka or both

যেমন, কেউ যদি বাংলাদেশে নারীর সম্পত্তির সমান অধিকারের কথা বলে (কারণ ইসলাম ধর্ম নারীকে সম্পত্তিতে  সমান অধিকার দেয়নি)।   তাকে এ আইনের আওতায় ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলা করা যাবে। অথবা কেউ যদি ফতোয়া, তিন-তালাক, ধর্মের বারাবারি নিয়ে সমালোচনা করে তাকে সহজেই এ আইনের আওতায় অনা যাবে। এ আইন যদি অতীতে থাকতো তাহলে সতীদাহ, বিধবা বিবাহ সহ অন্যান্য ধর্মীয় সংস্কার কখনোই সম্ভব হতো না। ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টের অনুচ্ছেদ ২৮ বিলুপ্তি অথবা সংস্কার মানবিক কারণে প্রয়োজন। এ অনুচ্ছেদ সামাজিক, মানবিক ও ধর্মীয় সংস্কারের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়ালো। এ অনুচ্ছেদ মানুষের কল্যাণ বয়ে আনবেনা। একবিংশ শতাব্দীতে এ অনুচ্ছেদ অপ্রয়োজনীয়।

2
Leave a Reply

avatar
2 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
2 Comment authors
Sumit Acharjeeজ্যাক পিটার Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
জ্যাক পিটার
পথচারী

সব সময় শঙ্কিত থাকি ,তবুও আমরা লিখি কারণ জাতি আজ মেধাশুন্য। যদি আমার লেখা পড়ে কারো একটু বোধ উদয় হয়।

Sumit Acharjee
পথচারী
Sumit Acharjee

আতঙ্ক লিখা চালিয়ে যাওয়া মানবতার সাথে সাংঘর্ষিক, কিন্তু যেখানে মানবতাই নেই – সেখানে মানবতা চাওয়া বালুচরে জল দেয়ার শামিল।