বিশ্ববিদ্যালয়ের এক পাকিস্তানি শিক্ষার্থী

আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাকিস্তানি শিক্ষার্থী জাফর আমাকে জিজ্ঞেস করেন, আমি কি উর্দু বলতে পারি কী না?
আমি উত্তর দেই, কিছু শব্দ জানি ও বুঝি কিন্তু কথা বলতে পারি না।
জাফর আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি উর্দু ভাষা ঘৃণা করো?
আমি তাকে বলি, আমি পৃথিবীর কোন ভাষাকেই ঘৃণা করি না। আমরা শুধু চাই নি উর্দু আমাদের রাষ্ট্র ভাষা হোক, এবং এর পেছনে যথেষ্ট কারণ ছিল। কিন্তু উর্দু ভাষাকে অস্বীকার করার পেছনে আমাদের বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছিল না।

জাফর আমাকে বলেন, তুমি মিথ্যে বলছ।
আমি বিস্ময়ের সাথেই জাফরকে প্রশ্ন করি, সন্দেহ করার কারণটি কী?
জাফর বলেন, আমি স্কুলে থাকা অবস্থায় পঞ্চম ও অষ্টমতে পড়েছি যে- তোমরা উর্দুকে মাত্রাতিরিক্ত ঘৃণা করার কারণেই অস্বীকার করেছ।

ইতিহাস কাদের দ্বারা লেখা হয় আপনি কি জানেন না?- আমি জিজ্ঞেস করি।
জাফর কোন উত্তর দেন না। চুপ থাকেন। আমি খুব ভাল করেই বুঝতে পারি যে, জাফর প্রায় সবই (ইতিহাস) কমবেশি জানে ও বুঝে। কিন্তু কোন এক অদৃষ্ট শক্তি তার চিন্তাজগতকে পরাধীন করে রাখতে চায়।

আমি জাফরকে বলি, জীবনে প্রথম যে-দিন লাল পানীয় পান করেছিলাম, সে-দিন পামেলা অ্যান্ডারসনকে চোখের সামনে দেখতে পেয়েছিলাম। আর পামেলাকে নিজের করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। যা সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং হাস্যকরও বটে।

জাফর হাসতে শুরু করেন। উচ্চমাত্রায়, ডেথ মেটাল সঙ্গীতের মতো ভেঙ্গে চুরে হাসতে হাসতে বলেন, সো ফানি, এই কথা বলার কারণটা কী এখন?

আমি বলি, সেই ১৯৪৭ থেকেই তোমাদের অনেক প্রবীণ সেনাপতি ও পরবর্তীতে ইয়াহিয়া খান ও জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং জেনারেল টিক্কা খানও লাল-নীল পানীয় পান করে মাতাল হয়ে আকাশকুসুম চিন্তাধারা করা শুরু করেছিল। তা না হলে ভৌগলিকসাংস্কৃতিক দিক দিয়ে যোজন যোজন ব্যবধানে অবস্থিত দুটি প্রান্তকে জোড়াতালি দিয়ে লাগানোর কল্পনা করা সম্ভব হতো না।

জাফরের ডেথ মেটাল হাসি সিগারেটের ধুয়োর মতই বাতাসে উড়ে গিয়েছিল। সম্ভবত জাফর আশা করি নি এমন কোন কথা তাকে শুনতে হবে!

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

77 − = 74