ব্যবসায়ীদের রাজনীতিতে, রাজনীতিই ব্যবসা

নেতাদের পরিচয় এখন আর কেউ তাদের কার্ম দিয়ে দে না।উনার একটা মার্কেট আছে, সিলেট-ঢাকায় দুইটা বাসা আছে।গরুর হাট, হাওরের বিল, বাশ বাগানের ইজারাদার তিনি। পরিবহন সংস্থার মালিক, দুইটা ট্রাক আছে, বড় ফার্ম আছে। এইগুলোই এখনকার নেতাদের পরিচয়। ব্যাবসায়ীদের রাজনীতিতে, রাজনীতিই ব্যবসা। যেখানে ব্যবসা সেখানে প্রচলিত ধারা অনুযায়ী চুরি বাটপারি তো আছেই। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়ের সকল নেতাদের কাছে দূর্নীতি একটি ব্যবসায়িক টুল।
সুখের খবর এই সকল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু চিতার বিষয় হচ্ছে, দুই একটা পরিচিত মুখের বিরুদ্ধে অভিযানের পর সব থেমে যাবে। তারপর এই নাম বেচা হবে। বাকি রাগব বোয়াল থেকে শুরু করে পাতি নেতা সবাই রয়ে যাবে আড়ালে। ব্যবসায়িক টুল দূর্নীতি আপন গতিতে ব্যবহৃত হতে থকবে।
খবরে দেখলাম, একটা বাচ্ছা হনুমানের উপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিচার দাবিতে বাকি হনুমানেরা থানা ঘেরাও করেছে। আমরা কবে প্রতিবাদ করতে শুরু করবো কে জানে? যারা প্রতিবাদ করছে তাদেরকে কেউ গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে না। গাছ কাঠা নিয়ে প্রতিবাদ করে বলে হাসাহাসি করে। সামাজের সর্ব স্তর থেকে সম্মিলিত প্রতিবাদ ছাড়া দূর্নীতি থেকে মুক্তির আশা করা নিরর্থক।
কিন্তু সামজের বড় অংশ মধ্যবিত্ত। যে দুই নায়ের যাত্রি। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি, সর্বক্ষেত্রে ঘুষনীতি, দূর্নীতি, পরিবেশ বিপর্যয় সব কিছুর সে ভুক্তভোগী। সমস্যাগুলো থাকে জ্বালায়-পুড়ায়, চায়ের দোকানে মুখ খোলায়, খিস্তি আওড়ায়। মুক্তি সে চায়। কিন্তু প্রতিবাদ করে নেতার রোষানলে পড়ার ভয়ে চুপ থাকে। মধ্যবিত্তদের এই দ্বিচারিতা আর কত দিন চলবে? অনুমান করে বলা মুশকিল।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

22 − = 13