ধার্মীক রোগীরা সাবধান।

প্রাচীন কাল মানুষের ধারনা ছিল দেবতার অভিশাপের কারণেই মানুষ অসুখ বিসুখে আক্রান্ত হতো। আর এই উন্মাদ চিন্তা ভাবনার কারনে সেকালের মানুষ অসুস্হ হলে ছুটে যেতো উপাসানালয়ে । সেখানে পুজা করে ক্ষুব্ধ দেবতাদের তুষ্ট করে আরোগ্য লাভের চেষ্টা করতো । কিন্তু এতে মানুষ আরোগ্য লাভ না করে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু বরণ করতে হতো রোগীদের ।এই সামান্য ধারনাতে আমরা বোধগম্য হই মানুষের রোগ ব্যাধি সম্পর্কে কতো ভ্রান্ত ধারনা ছিল।মানব কূল বিশ্বাস করতো অলৌকিকভাবে কেউ সুস্হ না হলে আরগ্য লাভ করা দূরহ ছিল । আর এই অলৌকিকতা প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে মানুষ ছুটে যেতো পুরোহিত কিংবা ধর্ম যাজকদের কাছে। বিনিময়ে বিরাট অংকের টাকা পয়সা ধর্মের নামে হাতিয়ে নেয়া হতো সাধরনের কাছ থেকে। ধর্ম যাজকদের বিপুল পরিমানের অর্থ উপার্জনের ব্যবসায়িক রীতি তখন থেকে প্রযোজ্য ছিল ।

যদিও কোরান নাজিল হবার সময় এ বিষয়ে আল্লাহ জ্ঞাণ অতি সীমিত ছিল । কেননা আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞাণের জনক হিপোক্রেটিস প্রাচীন এ বিশ্বাসকে কুঠারাঘাত করেছিল। তিনি মানুষকে খৃষ্টপূর্ব ৪০০ বছর পূর্বে বুঝিয়ে ছিলেন যে,রোগ ব্যধির জন্য মানুষের পাপ বা দেবতার অভিশাপ দায়ী নয়। কারো অসন্তুষ্টুির জন্য মানুষের রোগ ব্যধি হয় না । বরং তা হয় শারীরিক দূর্বলতা ও প্রাকৃতিক কারনে। অলৌকিকতার কোন স্হান নেই সেখানে।তখনই এথেন্স, থ্রেস, থেসালি ও মেসিডোনায় রোগীদের দেব দেবীর উপর ভরসা করে কাটতে দেন নি। পুরোহিতদের ব্যবসায় ভাটা পরলো। মক্কায় এর প্রভাব পরতে বেশ সময় লেগেছিল বলে ধারনা করা হয়।

আসলে চিকিৎসা বিজ্ঞাণের আর এক জনক ছিলেন ক্লডিয়াস গ্যালেন ।১৫০ সালে তিনি শরীর বিদ্যার জনক হিসেবে রোম সাম্রাজ্যে চিকিৎসা শাস্রে এক বিপ্লব নিয়ে আসেন ।হিপোক্রেটিসের পরে তিনিও মানুষের সেই ভুল ধারনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দেবতাদের কারনে নয়, রোগ ব্যাধি হয় শরীরের ক্ষমতা কমে আসে বলে এবং দূষিত পরিবেশের জন্য।তখন চিকিৎসক গন খুব দক্ষতার সাথে রোগীদের পর্যবেক্ষন করতো এবং রোগীদের ওষুধ ব্যবহারের পরামর্শ দিতো এবং রোগীরা দ্রুত সুস্হ হয়ে উঠতো।সেই সময় মানুষের শারীরিক গঠনের ব্যাপারে চিকিৎসকদের ধারনা কম ছিল । অনেকটা অনুমান নির্ভর চিকিৎসা দেয়া হতো। কলডিয়াস গ্যালেনের শরীর বিদ্যা চিকিৎসায় এক বিপ্লব নিয়ে এলো । আর ধর্ম যাজকদের ব্যাবসা বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম।

প্রাগ ঐতিহাসিক সময়ে তদানীন্তন আরব সমাজের মিশরের আলেকজান্ডারিয়া নগরে জ্ঞাণ বিজ্ঞাণের জন্য বিখ্যাত ছিল। সারা পৃথিবী থেকে জ্ঞান পিপাসু বিদ্যার্থীরা সেখানে জড়ো হতো। এই জ্ঞানের কিছু কিছু তথ্য ব্যাবসায়ীদের মাধ্যমে মক্কা ও মদিনায় প্রভাব ছিল । তখনো পৌওলিকদের অসুখ বিসুখে দেবতার পূজা করে আরগ্য লাভের প্রথা প্রচলিত ছিল। নবী কিংবা আল্লাহর পরিপূর্ণ চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে জ্ঞান ছিল না । যা এখন কোরান ও হাদিস পর্যালোচনায় ষ্পষ্ট হয় ।

কি আবাক ব্যাপার এক বিংশ শতাব্দীতে মুসলমানরা এখনো মেনে নেয় যে, অসুখ বিসুখ হলো আল্লাহর নিয়ামত, রোগ হলে নিরাময় না করে ধৈর্য ধরা উচিত,রোগের মধ্যে কোন সংক্রামক নেই, রোগের আরোগ্য হলো থুতু মিশানো মাটি খাওয়ানো, মধু পান করা ও ব্যবহার করা, শিঙ্গা লাগান এবং তপ্ত লৌহ দিয়ে দাগ লাগান।খেজুর খেলে বিষক্রিয়া হয় না । ছত্রাকের উপর শিশির চোখের রোগ আরোগ্যকারী।কালিজিরা মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ওষুধ ।উটের মুত্র পানে রোগীর আরোগ্য হয় । মাছির ডানায় প্রতিশোধক।নজর লাগা কিংবা সাপে কাড়ালে ঝাড় ফুঁক করতে হবে ।জ্বর হলো জাহান্নামের উত্তাপ।কুষ্ঠ আর ধবল রোগ বুধবার রাতে হয় ।আমাদের দেশে এখনো ধার্মিক , শিক্ষিত কিংবা চিকিৎসকরা এখনো এমন কুসংষ্কার মেনে চলে । তাদের এ ক্ষেত্রে প্রধান যুক্তি যে এসব কোরান আর হাদিসে রয়েছে । সব থেকে অবাক ব্যাপার এসব অবৈজ্ঞানিক জ্ঞান আমাদের মস্তিষ্কে যে সব মোল্লারা দিচ্ছে তারা কিন্তু ঠিকই নিজের আরোগ্য লাভের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানের শরণাপন্ন হচ্ছে।আমাদের বিশ্বাসের পুঁজি তো ওনাদের ব্যবসার ভিত্তি প্রস্তর ।

আপনার আল্লাহ সব জানেন । এখন সিদ্ধান্ত আপনার।আপনি কি করবেন?

ধর্মীয় চিকিৎসা নাকি বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা ?

জ্যাক পিটার।(এক্স মুসলিম )

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 19 = 26