বাইবেলে দাস প্রথা সমর্থন করে কি?

সব সময় ইসলামের অমানবিক বিষয়গুলো আমি তুলে ধরি । এমনটি করার কারন আছে । আমি মূলত ইসলাম ধর্মের পরিবার থেকে বড় হয়ে উঠেছি । এছাড়া ইসলাম ধর্ম বিষয়ক পড়াশুনা আমি স্কুলে পড়ার সময় থেকে করছি । আমি নিজে মনে করি আমার অবিশ্বাসী হিসেবে ইসলাম নিয়ে কথা বলার কারন ঐ একটাই , আমার ইসলামিক পরিবার থেকে আসা । সব ধর্মের অমানবিক বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করার ইচ্ছা আমার সব সময়ই আছে এবং করছিও , তবে তার ব্যাপকতা সীমিত।

আমরা যখনি ইসলামের দাস প্রথা নিয়ে কথা বলি তখন আমরা দেখি মোমিনরা ত্যানা প্যাঁচান । যা হোক সম্প্রতি ইসলামে দাসী সমর্থন করে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে । বিষয়টি তথ্য প্রমাণ এবং যুক্তির মাধ্যমে প্রমানিত হয়েছে । এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রখ্যাত অনলাইন ইসলামিক এ্যাকটিভিষ্ট তা স্বীকার করে নিয়েছেন । এ সম্পর্কে যথেষ্ট প্রমাণ এখন অন লাইনে সহজলভ্য। বেশ কিছু দিন ধরে নিজের উৎসাহ থেকে পড়াশুনা করতে থাকি ,বাইবেলে কি দাস-দাসী সম্পর্কে সমর্থন করে?

দেখা যাক আমরা কি পাই ।

বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্টে আছে, “যদি তোমরা হিব্রু দাস ক্রয় করো, তাহলে ছয় বছর সে তোমাদের সেবা করবে। কিন্তু সপ্তম বছরে সে বিনামূল্যে মুক্ত হয়ে যাবে। সে একা আসলে একা মুক্ত হবে। কিন্তু আসার সময় সস্ত্রীক থাকলে সস্ত্রীক মুক্ত হবে। মনিব যদি তাকে স্ত্রী দিয়ে থাকে আর তার গর্ভে দাসের সন্তান হয়, তাহলে স্ত্রী ও সন্তান মনিবের থাকবে, শুধু দাস মুক্ত হবে। কিন্তু দাস যদি ঘোষণা দেয়, ‘আমি আমার মনিব ও স্ত্রী সন্তানদের ভালোবাসি এবং মুক্ত হতে চাই না,’ তাহলে মনিব তাকে বিচারকদের কাছে নিয়ে যাবে সে তাকে দরজায় নিয়ে সুঁই দিয়ে তার কান ফোড়াবে। তারপর সে চিরতরে তার দাস হয়ে থাকবে।“ (এক্সোডাস ২১:২-৬)।

অ-ইসরাইলীদের জোর করে দাস বানানো যাবে কারণ ইহুদীদের বিশ্বাস অনুযায়ী অ-ইসরাইলীরা নীচু জাত। বিকৃত তাওরাতে তারা এ নিয়ে একটি কাহিনীও লিখেছে যে নূহ (আলাইহিসসালাম) একদিন মাতাল হয়ে উলঙ্গ ছিলেন, এমন সময় তাঁর ছেলে হাম তাঁকে দেখে ফেলে। ফলে নূহ অভিশাপ দেন যে হামের বংশধরেরা তার ভাই শামের বংশধরদের দাস হয়ে থাকবে। এছাড়াও আছে, “তোমরা যখন আক্রমণের উদ্দেশ্যে কোনো শহরের দিকে অগ্রসর হও, তখন তাদেরকে শান্তি প্রস্তাব দাও। তারা যদি তা গ্রহণ করে ফটক খুলে দেয়, তাহলে তাদের সকলে তোমাদের জন্য বাধ্যতামূলক দাসত্ব করবে। তারা যদি শান্তিপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তাহলে সে শহরে অবরোধ আরোপ করো। সদাপ্রভু যখন তা তোমাদের হস্তগত করেন, তখন সেখানকার সকল পুরুষকে হত্যা করো। সেখানকার নারী, শিশু, পশুসম্পত্তি ও অন্য সবকিছু নিজেদের জন্য লুট হিসেবে গ্রহণ করতে পারো।’’ (ডিউটেরোনোমি ২০:১০-১৪)

“যদি দাসটি বিবাহিত না হয় তাহলে তার মনিব তাকে বিয়ে দিতে পারে। সে যদি পুত্র অথবা কন্যা ধারণ করে তাহলে সে এবং তার ছেলেমেয়েরা মনিবের অধিকারভুক্ত হবে এবং সে নিজে ঐ মনিবের কাছে থাকবে এবং দাসের নিজের কর্মকাল শেষ হবার পর সে একা মুক্তি পাবে।’’(এক্সোডাস ২১:৪)।

অনেকে হয়তোবা মানবিক বলবেন যে দাসদের বিবাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে । কিন্তু ভেবে দেখুন এখানে দাস থেকে জন্ম নেয়া শিশুটি কিন্তু দাসের সমপর্যায়ের এবং মালিকের অধিকারভুক্ত থাকবে ।

“কখনও কখনও মনিব তার পুরুষ বা স্ত্রী দাসদের প্রহার করে থাকে, যদি এই প্রহারে দাসটি মারা যায় তবে তার ঘাতক শাস্তি পাবে।’’(এক্সোডাস ২১:২০)।

“কিন্তু যদি দাসটি মারা না গিয়ে কয়েকদিন বাদে সেরে ওঠে তবে তার মনিবকে কিছু বলা হবে না কারণ সে তার দাসের জন্য অর্থ ব্যয় করে থাকে এবং সে দাসটি তার সম্পত্তি।’’(এক্সোডাস ২১:২১)।

আহারে কি মানবিক।মনিবের প্রহার কিন্তু বৈধ যত সময় পর্যন্ত দাস মৃত্যু বরণ না করে ।মনিবের দাসের পিছনে অর্থ খরচ করা কি বদান্যতা নাকি মানবিকতা? মানবিক হলে দাস প্রথাকে বাতিল করা হয়নি কেন? আমি মোটেও বোধগম্য হচ্ছি না ।

“ক্রীতদাসরা, তোমাদের মনিবদের সব বিষয়ে মান্য করবে৷ তাঁরা দেখুন বা না দেখুন তোমরা সব সময় তাঁদের বাধ্য থেকো এতে তোমরা মানুষকে খুশী করতে নয় কিন্তু প্রভুকেই খুশী করতে চেষ্টা করছ, সুতরাং সততার সঙ্গে মনিবদের মান্য করো, কারণ তোমরা প্রভুকে সম্মান করো৷’’ (কলসীয়নস ৩:২২)।

“দাসেরা, তোমরা অবশ্যই তোমাদের মনিবদের সম্মান করবে এবং তাদের অনুগত থাকবে৷ কেবল দয়ালু ও ভাল মনিবদের নয়, নিষ্ঠুর প্রকৃতির মনিবদেরও বাধ্য হও৷’’ (পিতরের ১ম পত্র ২:১৮)।

মনিবের প্রতি কেমন আচরন করতে হবে সে বিষয়ে দাসদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে । মনিব হলো প্রভু অর্থাৎ ইশ্বর সমতুল্য। মনিবের সন্তষ্টি যেন ইশ্বরের সন্তষ্টি ।নিষ্ঠুর ও বর্বর মনিবের প্রতি আনুগত্য থাকতে হবে ।

“তোমরা এমনকি তোমাদের মৃত্যুর আগে এই সমস্ত বিদেশী দাসদের তোমাদের ছেলেমেয়েদের হেফাজতে দিয়ে যেতে পারো, ইস্রায়েলেতে তারা তোমাদের ছেলেমেয়েদের অধিকারে থাকে। তারা চিরকালের জন্য তোমাদের দাস হবে। তোমরা এইসব বিদেশীদের দাস বানাতে পারো; কিন্তু তোমরা অবশ্যই তোমাদের নিজেদের ভাইদের, ইস্রায়েলের লোকদের নির্দয় মনিব হবে না।’’ (লেবীয়পুস্তক ২৫:৪৬)।

দাসদের হস্তান্তর বংশাক্রমে বৈধ ।আহারে কি যে মানবিক নীতি । অবাক হবার মতো ব্যাপার । মানুষ মানুষকে দাস হিসাবে পরিচালিত করার অসংখ্য রীতিনীতি বর্ণনা করা হয়েছে।

খ্রিষ্টান ধর্মে ওল্ড টেস্টামেন্টের দাসপ্রথার কোনো কিছুই বাতিল করেনি। নিউ টেস্টামেন্টে আছে, “দাসেরা, তোমরা তোমাদের পার্থিব মনিবদের সম্মান ও ভয় করো ।ঠিক যে ভাবে খ্রিষ্টকে করে থাকো। শুধু তারা যখন দেখছে, তখন তাদের মন পাওয়ার জন্যই আনুগত্য কোরো না। বরং খ্রিষ্টের দাসের মতো মন থেকে আনুগত্য করো। পূর্ণ মন দিয়ে দাসত্ব করো যেন তোমরা ঈশ্বরের দাসত্ব করছো, মানুষের নয়। কারণ তোমরা জানো ঈশ্বর সবাইকে তার ভালো কাজের প্রতিদান দেবেন, হোক সে দাস বা মুক্ত।’’(ইফিজায়া ৬:৫-৯)

অনেকে বলেন যে বাইবেলে দাস প্রথাতে সমর্থন করে । অসংখ্যবার দাস দাসী দের কথা বলা হয়েছে । তবে সংস্কার আনা হয়েছে অনেক ভাবে । যা অবশ্য ইসলাম ধর্মেও করা হয়েছে । আসলে ধর্মগুলো তার অনুসারীদের কিন্তু দাস দাসীদের মতো ধর্মীয় রীতিনীতি আবদ্ধ করে করে রেখেছে তাই সকল ধর্মই আমি মনে করি দাসপ্রথাকে সমর্থন করে। বাইবেল কেবল মাত্র দাস প্রথাকে সমর্থন করে না বরং দাসেদের সঙ্গে অমানবিক বর্বরতা পূর্ণ ব্যবহারের অনুমতিও দেয়।

এখন বিবেচনা করার দায়িত্ব পাঠকের । দাস প্রথা বাইবেল সমর্থন করে কিনা ?

জ্যাক পিটার ।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

24 − = 22