এক্স মুসলিমরা কেন ধর্মকে আঘাত করে ?

প্রশ্নটা ধর্মীয় চেতনাকারি সকলের কাছে একটি স্বাভাবিক প্রশ্ন । এ ধরনের প্রশ্ন করার পিছনে যথেষ্ট যুক্তি আছে । আমাদের দেশে অধিকাংশ ধার্মিকরা কার্যত বিশ্বাসের ধারায় অন্ধভাবে ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে ।কোরান হাদিসে কি বিধান রাখা হয়েছে তা সম্বন্ধে ওয়াকিবহল নয় মোটেও । সামাজিক রীতিটা এমনই হয়েছে । দৃশ্যত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করলে তালিকাটা অনেক দীর্ঘ হবে ।ও দিকে আমরা না হয় না ই যাই । কিছু মৌলিক বিষয় আলোচনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে । বেশিরভাগ জনগোষ্ঠী নিজেদেরকে ধর্মীয় মানুষ হিসাবে চিহ্নিত করার সত্ত্বেও, প্রতিদিন দুনিয়ায় অন্যায় কাজ ও অবিচারের ঘটনা ঘটে এবং বিদ্বেষপূর্ণভাবে এটির অধিকাংশই ধর্মের নামে পরিচালিত হয়। সমকামীদের থেকে নিপীড়িতদের হত্যা করা হচ্ছে, নারীদের থেকে শোষিত হওয়া বাচ্চাদের শোষণ করা হচ্ছে, তালিকাটি অবিরামভাবে চলছে। যাইহোক, বেশ কয়েকটি কারণের জন্য, কিছু যা সুস্পষ্ট এবং কিছু নয়, এই দুঃখজনক গল্পগুলি তারা যে মিডিয়া কভারেজ পাওয়ার যোগ্য তা গ্রহণ করে না।

আমাদের দেশে মানুষের ধর্মীয় অজ্ঞতার সূযোগে রাজনীতিবিদরা আর ব্যবসায়ীরা ধর্মকে ব্যবহার করছে। আর সেলিব্রটিরা শেষ জীবনে ধর্মীয় অজ্ঞতার কারনে ধর্মের প্রতি ঝুকে পরে । প্রবাসীরা সামাজিক অস্হান উন্নত করার জন্য ধর্মীয় পৃষ্টপোষকতা করে।আর সেই সূযোগকে সৎ ব্যবহার করে ধর্মীয় আলেমরা । একটু খেয়াল তরে দেখবেন সারা বাংলাদেশে ব্যাঙের ছাতার মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে।আর এসব প্রতিষ্ঠনে বিজ্ঞান ,সংস্কৃতি ও নৈতিকতার জ্ঞাণের তোয়াক্কা করা হয় না । সংখ্যার দিক দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বৃদ্ধির মাধ্যমে ধর্মীয় আলেমরা অর্থ লিপ্সায় জড়িত হচ্ছে ।কেউ হচ্ছে মডারেট, তালেবানি,ওহাবী , হানাফি ,মাজার কেন্দ্রিক ইত্যাদি ইত্যাদি দলে বিভক্ত হয়ে সমাজে বিশৃংখলার মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে । সাধারন মানুষ এতো মত বিরুদ্ধের কারনে সচেতন হচ্ছে । আশংকা করছে এখনি লাগাম না ধরলে দেশটা পাকিস্তান হয়ে যাবে একদিন ।সাধারনরা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে বিশ্রংখলারা কারন হলো কোরান হদিস অবশ্যই সম্পূর্ন ভাবে জীবন বিধান হতে পারে না । এটি মুহম্মদের লেখা এবং মানুষকে যথেষ্ট বিভ্রান্তি করতে সক্ষম হয়েছে। আর রাজনীতিবাদ ,ব্যবসায়ী , সেলিব্রেটি, প্রবাসী ও আলেমরা নিজ স্বার্থ উদ্ধারের জন্য মানুষের চোখে ধোঁকাবাজি করে বাঁচিয়ে রেখেছে। এই যুক্তিটা আপনার কাছে গ্রহনীয় নাও হতে পারে কিন্তু খটকাটা তখনই বাস্তব সম্মত হিসাবে ভাবায় যখন দেখা যায় নাস্তিকদের যুক্তি তর্কের বিরুদ্ধে প্রখ্যাত আলেম গনরা কখনো আলোচনায় আসে না এবং নাস্তিকদের যুক্তি তর্কে দলিল ও প্রমানভিত্তিক হয়ে থাকে । এবং এর উত্তর অবশ্যই প্রখ্যাতদের বিব্রত করে । তবে কিছু অল্প শিক্ষিত মোমিনরা অযৌক্তিক আলোচনার মাধ্যমে ধর্মের সত্যতা প্রমানে প্রাণপন চেষ্টা করে হাস্যকর পাত্র হচ্ছে । এখন অসংখ্য সাধারনেরা ধর্মকে ছুঁড়ে ফেলে মানবিকতাকে ধর্ম হিসেবে গ্রহন করছে আর ধর্মকে আঘাত করছে । এরাই এখন নাস্তিক কিংবা সংশয়বাদি।

এখন আসা যাক ইসলামকে আঘাত করার কারন হিসেবে মানবিক মানুষদের আঘাত করার কারন হিসেবে কি চিন্হিত করা হয়েছে:
১.ইসলাম গণতন্ত্র চর্চায় বিশ্বাসী না।

২.দেশের জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে এরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে জড়িত।

৩. জঙ্গি অর্থায়নসহ নানাভাবে জঙ্গি সংগঠনগুলোর সুদৃঢ় হচ্ছে।

৪.রাজনৈতিক সংঘটনের পৃষ্টপোষকতায় বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠনগুলো মদদ পাচ্ছে এবং জঙ্গি কার্যক্রমে উৎসাহিত হচ্ছে।

৫. আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে স্হানীয় ধর্মীয় সংগঠনগুলো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা হচ্ছে।

নাস্তিদের জাগরনে ধার্মীকদের দেউলিয়া হওয়ার সম্ভবনা স্পষ্ট । তাই সরকারকে ধর্মীয় লেবাসে এরা সব সময় কোনঠাসা করে রাখার জন্য সচেষ্ট ।দৃশ্যত সরকার বর্তমানে এদের উগ্রতা সম্বন্ধে জিরো টলারেন্সে আছে। কেন যেন মনে হচ্ছে নির্বাচন পরবর্তি সরকার এদের কঠিন হস্তে দমন করবে এবং দেশকে পাকিস্তান হওয়া থেকে রক্ষা করবে। কেননা নাস্তিকরা ধর্মকে আঘাত করে চলছে এবং আসল সত্যতা সকলের নিকট দিনের আলোর মতো পরিষ্কার করেছে যে , দেশের ভিতর স্যাকুলারেজম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে প্রগতিশীল করা এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব।

জ্যাক পিটার(এক্স মুসলিম)।

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

7 + 2 =