সহী প্রগতিশীল নাস্তিক কিভাবে বুঝবেন আপনি।

সহী প্রগতিশীল নাস্তিক, কিভাবে বুঝবেন আপনি ?

মানুষ সামাজিক জীব হবার কারণে তারা সেই সভ্যতার শুরু থেকেই সমাজের উন্নয়নে নানান ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে আসছেন। তবে যুগ যুগ ধরেই সেই একই সমাজে প্রতিক্রিয়াশীল এবং প্রগতিশীল এই দুই ধরনের মানুষ ছিলো এবং আছে। প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার মানুষেরা আমাদের সমাজে ছিলো বলেই আজ আমরা আরো আধুনিক হতে পেরেছি মানব সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে আসতে পেরেছি এবং বর্তমানে আমরা পৃথিবীর সীমানা পেরিয়ে মহাকাশে পর্যন্ত পৌছে গিয়েছি, তার একমাত্র কারণ আমরা প্রগতিশীল।

আমি এখানে প্রগতিশীলদের সম্পর্কে কিছুই বলতে চাই না, আমি মূলত প্রতিক্রিয়াশীল ধর্মান্ধদের কথা বলার জন্য এই লেখাটি লিখছি। আমার কথা হচ্ছে প্রতিটি বিষয়েরই বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকবেই। এটা নিয়ে আমাদের চিন্তা না করলেও চলবে। হাজার হাজার বছরের ঘুনে ধরা ভঙ্গুর সামাজিক নানা প্রথা ভেঙ্গে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মতো নতুন চিন্তা ভাবনা, নতুন ধ্যান ধারণা প্রতিষ্ঠিত করা খুব যে সহজ কথা তা কিন্তু নয়। একশ্রেনীর মানুষ এই প্রচলিত প্রথা এবং সমাজ ব্যবস্থাকে পূজি করে তাদের ব্যাবসা খুলে বসেছে, তারাতো আর সহজে প্রগতিশীল ধ্যান ধারনার মানুষদের কথা মেনে নিবেনা।

অতিতের রক্তাক্ত ইতিহাস কিন্তু আমাদের সেই বিষয়ে নানা শিক্ষা দেয়। আরেকটি জিনিষ মনে রাখতে হবে, প্রতিক্রিয়াকে প্রগতির পক্ষে আনাই হলো প্রগতিশীলদের কাজ। অর্থাৎ আপনি আগে খুজতে শুরু করুন আপনি যে প্রগতির কথা বলছেন মুক্তভাবে চিন্তা করতে চাইছেন এবং সেটার প্রচার এবং প্রসার করার সময় কারা বা কোন শ্রেনীর মানুষ আপনার জন্য বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে। এটা নিশ্চয় না বোঝার কথা নয় কারা আসলে প্রগতির বিপক্ষে কথা বলে। হাইকোর্টের সামনের ভাস্কর্য নিয়ে কাদের মাথা ব্যাথা শুরু হয় ? কারা নারীদেরকে বাল্যকালেই বিবাহ করার অনুমতি চাই তাদের নবীর সুন্নত বলে, কারা নারীদেরকে বোরকা নামক বস্তায় ঢোকাতে চায়, কারা অন্য ধর্মের মানুষকে কাফের মনে করে তাদের সাথে বন্ধুত্ব পর্যন্ত করতে রাজি হয়না ? সেটা নিশ্চয় কারো অজানা থাকার কথা নয়।

বিজ্ঞান যাদের কাছে ঈশ্বর বিরোধী তারা কিভাবে বিজ্ঞান মনষ্ক হতে পারে ? এখন কথা হচ্ছে যারা এই জাতীয় আচরন করে তারাই হচ্ছে প্রতিক্রিয়াশীল তারাই সমাজের উন্নয়নে প্রথম বাধা তাই আপনাকে তাদের সাথে মানিয়ে নিয়ে চলা শিখতে হবে আগে, যদি আপনি নিজেকে প্রগতিশীল একজন মুক্তমনা মানুষ মনে করে থাকেন।এখন অনেকেই আপনাকে প্রশ্ন করতে পারে ভাই প্রগতি বলতে আপনি কি বোঝেন ? এই কথাটির উত্তর কিন্তু এক লাইনে বা দুই লাইনের ছোট্ট একটি মন্তব্যে দেওয়া সম্ভব নয়, এক কথায় প্রশ্নটির উত্তর দেয়া কিছুটা কঠিন, কারণ দেশের অনেক পণ্ডিত শ্রেণির প্রগতিশীলরাও এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবেন না। আমি এরকম অনেককেই দেখছি যারা নিজেদের প্রগতিশীল দাবী করেন কিন্তু প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার মানুষ বলতে কাদের এবং কি বোঝানো হচ্ছে তারা সঠিক বলতে পারেনা।

এখন পিনাকির মতো মানুষকে যদি আপনি প্রগতিশীল একজন মানুষ বলেন তাহলে কিন্তু আপনি ভুল করছেন এবং আপনিও এখনও প্রগতিশীল মানুষ কাকে বলে সেটা জানেন না। আবার যদি কেউ বলেন ইমরান এইচ সরকার একসময় সাম্যের কথা বলেছেন অসাম্রদায়িক সকল আন্দোলনে তিনি সবার আগে এসে থেকে কথা বলেছেন তাহলে কি আমরা তাকে প্রগতিশীল বলতে পারিনা ? এখানে আবার আরেকটু ব্যাখ্যা না করলে এই বিষয়টি বুঝতে পারবেন না। ইমরান এইচ সরকার আসলে একটা সময় প্রগতির পক্ষে ছিলো, এখন আর নেই বলা যায়, বাংলাদেশের সিস্টেমটাই আসলে এরকম। এখানে ফাঁদ পাতা হয় প্রগতিশীলদের দমিয়ে রাখার জন্য।

নাস্তিকতাকে একটা সময় আমরা এক ভাবে চিনলেও পরে আমরা এদের দুইটা বা তিনটা ভাগে বিভক্ত হয়ে যেতে দেখেছি। যেমন একদল বলেন সহী নাস্তিক, আরেকদল বলেন নাস্তিক, আরেকদল বলেন আওয়ামী নাস্তিক, আরেকদল বলেন বাম নাস্তিক, এরকম নানা নাস্তিক হয়েছেন এখন একেকজন। আমার কাছে নাস্তিকতার এতো আলাদা আলাদা ভাগ নেই। আমার কথা হচ্ছে যে নাস্তিক সে নাস্তিক আর যে অজ্ঞেয়বাদী সে অজ্ঞেয়বাদী আর যে আল্লাহ বা ভগবানে বিশ্বাসী বা প্রতিক্রিয়াশীল তার কথা না হয় বাদই দিলাম।

এই ইমরান এইচ সরকার হচ্ছে এখন আওয়ামী নাস্তিক টাইপের প্রগতিশীল। সে এখন কিছু বলার আগে দশবার চিন্তা করেন যে আমি যদি এই কথাটি বলি তাহলে আওয়ামী লিগবে সবাই নাস্তিক বলতে পারে তাই ৯৫% মুসলমানের দেশে আমাকে সব সময় আল্লাহ আর নবীর পক্ষে কথা বলে যেতে হবে। অর্থ্যৎ একে বলা চলে সহী নাস্তিক। কখনও দলের স্বার্থে বা লোক দেখানোর জন্য হলেও হয়তো ইফতার পার্টি বা নামাজের মতো কোন অপ্রয়োজনীয় কাজেও এরা মাঝে মধ্যে যোগদান করে থাকে। তাই এদেরকে কিন্তু আপনি কখনই প্রগতিশীলদের তালিকায় রাখতে পারবেন না। পারেন সেটা হবে প্রগতিশীল এবং সহী প্রগতিশীল টাইপের কিছু।

এখন অনেকেই হয়তো বলতে চাইবেন, বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিশ্বাস করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থেকে সংস্কৃতিবান হওয়াটাই প্রগতিশীলতার লক্ষণ। কিন্তু আমরা যে সমাজে আছি সেখানে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ আর ‘সংস্কৃতিবান’ শব্দযুগলের অর্থ বিনির্মিত হয়ে নতুন দ্যোতনাসহ উপস্থিত হয়েছে। এখানে এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে থাকার অর্থ হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে কিছু না জানা, মানে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি মুসলমান হানাদার বাহীনি মাদ্রাসা আর মসজিদের ঈমামরা যা করেছে গনিমতের মাল মনে করে বাঙালিদের সাথে সেটা প্রকাশ করা যাবেনা।

আর সংস্কৃতিবান হওয়ার পূর্বশর্ত হলো সত্য লুকিয়ে রেখে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যোগ দেয়া। নাচগান পছন্দ করবেন কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যাতে ইসলাম বহিঃভুত না হয় তাহলেই আপনি সহী প্রগতিশীল। শিল্পকর্মের মূল্যায়ন করা, পহেলা বৈশাখে কাঁচামরিচ দিয়ে পান্তাভাত খাওয়া এসব আপনি করতে পারবেন না করলে আপনি সহী প্রগতিশীল নন আপনি হয়ে যাবেন একজন নাস্তিক তাই আপনাকে পদে পদে এসব জানতে হবে প্রগতিশীল চিন্তা ভাবনা ধ্যান ধারনা আসলেই কাকে বলে এবং কিভাবে সেটা বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

লিখেছেনঃ

জার্মান প্রবাসী ব্লগার

রবিউল আলম

০৫/১০/২০১৯

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of