কথিত ভদ্র নারী

আমাদের সমাজের পুরুষেরা খুব উত্তেজিত, উত্তেজনা কারণে-অকারণে। উত্তেজিত হওয়া নাকি পুরুষের একচেটিয়া বৈশিষ্ট্য আর নারীর উত্তেজিত হওয়া নাকি অভদ্রতার লক্ষণ! নারী কোন অবস্থাতেই উত্তেজিত হতে পারবে না। উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করলে তা পারিবারিক শিক্ষার অভাব, চরিত্রে সমস্যা, উশৃঙ্খল আরও কতো কী শব্দে বিশেষিত করে থাকে।

একদিন, গাউছিয়া মার্কেটে একটি ছোকরা একজন তরুণীর নিতম্বে স্পর্শ করাতে তরুণী চিৎকার করে সেই ছোকরাকে চড় থাপ্পড় মারতে থাকে।

আশেপাশের উৎসাহী, উৎসুক ও উত্তেজিত জনতা খুব আগ্রহের সাথে প্রথমে মারপিট দেখতে থাকে।
পরবর্তীতে, উত্তেজিত জনতা তরুণীকে বোঝানোর চেষ্টা করে যে, মেয়েমানুষ হয়ে উত্তেজিত হতে হয় না। মেয়েমানুষের চিৎকার করতে হয় না। উত্তেজিত জনতা মাফ করে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকে তরুণীকে।

কিন্তু তরুণী অশান্ত, একটু আধটু গালি দিতে থাকে। নারীর মুখ থেকে গালি শুনলে পুরুষের মস্তিষ্কে আঘাত লাগে। পুরুষের ধৈর্য্যশক্তি কমতে থাকে।

তখন উত্তেজিত জনতা ইচ্ছাকৃতভাবে তরুণীকে বিব্রত করার জন্যে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে ঘটনাকে অন্যদিকে প্রবাহিত করতে চায়।
উত্তেজিত জনতা তরুণীকে প্রশ্ন করে, কই হাত দিয়েছে? কীভাবে দিয়েছে? শুধু কি স্পর্শ করেছে নাকি চাপ দিয়েছে? বুকে তো আর হাত দেয় নি তাহলে মাফ করে দেন ইত্যাদি কথা বলে কাহিনী শেষ করতে বলে।

তরুণী ক্ষিপ্ত হয়ে উত্তেজিত জনতার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়, আপনাদের মা বোনদের গায়ে হাত দিলে কি এইভাবেই ছেড়ে দিতেন?

উত্তেজিত পুরুষ জনতার আত্মসম্মানে বজ্রপাতের ন্যায় আঘাত লাগে। জনতার মুখে বিরক্তির ছাপ। তরুণী স্পষ্টভাবে উত্তেজিত পুরুষের মস্তিষ্কে আঘাত দিতে সক্ষম হয়েছে।
কিন্তু, অধিকাংশক্ষেত্রে, পুরুষের আত্মসম্মানে আঘাত দেওয়ার অর্থ হল শুদ্ধতার পরিবর্তে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠা।

উত্তেজিত পুরুষেরা চিৎকার করে বলে, ওই, মাইয়ামানুষ হইয়া এত কথা কন ক্যান? লজ্জাশরম কি গাঙ্গে ভাসায় দিয়া আসসেন নি?

উত্তেজিত পুরুষেরা খুব ভালো করেই জানে তারাও ওই ছোকরার মতই। তারাও কোন না কোন সময় ওইভাবে ভিড়ের মধ্যে নারীর শরীরে স্পর্শ করে অসুস্থ যৌনবিকৃতির পরিচয় দিয়েছিল কিংবা পরবর্তীতেও দিবে। অপরাধীর পক্ষে তারাই অবস্থান নেয় যারা নিজেদের সম্বন্ধে অবগত যে তাদের দ্বারাও এমন ঘৃণিত কর্মসম্পাদন হয়ে থাকতে পারে। এই কারণে তারা সমাজের ভয়ভীতি দেখিয়ে, ভদ্রতা, শালীনতার অজুহাত দেখিয়ে নারীদের দমিয়ে রাখতে চায়।

আশেপাশের কয়েকজন নারীও বলে, এতো কথার কী আছে! মেয়েটা বেশি বেশি করছে!
আমাদের সমাজে কোটি কোটি নারী আছে, যাদের শরীরটি শুধুমাত্র নারীর অবয়ব কিন্তু চিন্তাধারনা সম্পূর্ণ পুরুষতান্ত্রিক পুরুষের মতন। পুরুষতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখার জন্য এইসকল নারীর অবদান অনেক এবং এইসকল নারীরা আমাদের সমাজের পুরুষদের মধ্যমণি। কারণ তারা পুরুষের অবদমিত বিকৃত যৌন ক্ষুদা লালসা ধর্ষণ অসুস্থতাকে ইনিয়েবিনিয়ে সমর্থন করে থাকে। এই সকল নারীরা পুরুষের দ্বারা ডমিনেট হওয়াকে ভালোবাসা ও মর্যাদা হিশেবে বিবেচনা করে থাকে। যা তাদের নিজস্ব স্বত্বাকে অস্বীকার করতে শেখায়।

কেউ আপনার পক্ষে আছে কি নেই তা গুরুত্বপূর্ণ নয়, আপনি নিজে সোচ্চার কি না তা বেশি জরুরী

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

6 + = 7