‘ইসলাম বিদ্ধেষ’ থেকে ‘মুসলিম বিদ্ধেষ’ আলাদা করে দেখতে চাই।

প্রথম কথা-

আমি ‘ইসলাম বিদ্ধেষ’ থেকে ‘মুসলিম বিদ্ধেষ’ আলাদা করে দেখতে চাই। ইসলামী মতাদর্শের সমালোচনা করা বা তীব্র ভাষায় আঘাত করা মানে ‘মুসলিম বিদ্ধেষ’ নয় আমার কাছে। অনলাইনে বরাবরই চরম ইসলাম বিদ্ধেষী কথা বলে এসেছি। যার জন্য একাডেমিক লাইফের তিনটা বছর নষ্ট হলো। কিছুদিন আগে ভারতে আমার এক ক্লাসমেট এসেছে এমবিএ করতে। কথাটা শুনে আমার যেনো মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। আমরা একই সাথে ঢাকা কমার্স কলেজে পড়েছি। এছাড়া আরো অনেককিছুই হারিয়েছি এক্টিভিজমের জন্য। তবুও আজপর্যন্ত কোনো মানুষকে শুধুমাত্র মুসলিম হওয়ার জন্য ঘৃণা করিনি। বরং ধর্মবিশ্বাসী না হওয়ার কারণে প্রতিমুহূর্তে কিছুসংখ্যক মুসলিম দ্বারা বৈষম্যের শিকার হয়েছি। এই তো কিছুদিন আগেও ভারতের মত তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের এক মুসলিম বড় ভাই আমাকে জিজ্ঞাস করেছিলেন, আমার ধর্ম কী? বরাবরের মতই কিছুটা বিরক্ত হয়ে আমি তাকে উত্তর দিয়েছিলাম- “আমি মানুষ। মানবতা ব্যতীত আমার কোনো ধর্ম নেই।” এটা শুনে উনি আমাকে পারেন নাই শুধু গিলে খেতে। কেনো কাগজপত্রে মুসলিম হলেও আমি এই আইডেন্টিটি ইগনোর করলাম তা নিয়ে সে চরম ক্ষেপেছে। যে বিল্ডিং এ থাকি সেখানকার সবার কাছে আমার বিরুদ্ধে যা পেরেছে বলেছে এবং আমার বিরুদ্ধে সবাইকে ক্ষেপিয়ে দেয়ার চেষ্টায় উনি এখনও ব্যস্ত। অথচ আমি এই বিল্ডিংয়ে নতুন উঠেছি। আমার সম্পর্কে তার জানাশুনা মাত্র একদিনের।

এসব কথা অনলাইনে প্রকাশ করে সবাইকে বুঝানো, ”দেখো দেখো তোমরা, আমি নাস্তিক বলে কত কত নির্যাতনের শিকার” এই টাইপের মানুষ আমি না। একথা গুলো শেয়ার করেছি শুধুমাত্র এজন্য যে, নাস্তিক হওয়ার কারণে প্রতিমুহূর্তে বিদ্ধেষের শিকার হলেও সর্বদা মুসলিম জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে সচেতন ছিলাম। একেরপর এক নাস্তিক হত্যা দেখেও কখনও বলিনি মুসলিমদের এদেশ থেকে বের করে দাও, আমরা শুধু লিখেছিলাম, আমাদের লেখার কোথাও ছিলোনা মুসলিম বিদ্ধেষ। এক একটা লাশ দেখে কেঁদেছিলাম আর ভেবেছিলাম এত অমানবিক, এত হিংস্র মানুষ হতে পারে? রোহিঙ্গারা মুসলিম বলে তাদের সাথে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুহূর্তে চুপ করে থাকি নাই। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের পক্ষে এবং তাদেরকে যাতে আমাদের সরকার এবং জনগন আমাদের দেশে জায়গা দেয় তার জন্য জনমত তৈরির একজন কর্মি ছিলাম। ভারতের ডানপন্থী সরকার দ্বারা কাশ্মীরীদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে দেখে তা সমর্থন করিনি। ‘মুসলিমরা উগ্র, মুসলিমরা জঙ্গি’ এসব অযুহাত দেখিয়ে চুপ করে থাকিনি। যখনই দেখেছি কোনো মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে তখনই তার পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করেছি আমরা, যাদেরকে আপনারা সকাল-বিকাল উগ্র-নাস্তিক বলে শান্তি পান। আমাদের উগ্র-নাস্তিক বা ইসলাম-বিদ্ধেষী যাই বলেন কিন্তু এই মহাবিশ্বের কাউকেই আমরা ধর্মের কারণে ঘৃণা করি না। তাই ‘ইসলাম বিদ্ধেষ’ আর ‘মুসলিম বিদ্ধেষ’ এক করে দেখবেন না।

দ্বিতীয় কথা-

তবে ইসলাম বিদ্ধেষ বা কোনো মতাদর্শের সমালোচনা থেকে সেই মতাদর্শে বিশ্বাসীদের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হতে পারে। (যেমন অধিকাংশ মুসলিমই আমাদের সমালোচনা করতে গিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্ধেষ চর্চা করেন। চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা, দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করা বাদেও অারো অনেককিছুই তারা করেন) আমাদের এসকল বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে যাতে তাদের মত আমরাও বিদ্ধেষী হয়ে না যাই।

আর যদি মানবতাবাদী হিসেবে দাবী করি তবে ইসলামের সমালোচনা করার পাশাপাশি অন্যবিষয় গুলো নিয়েও লেখালেখি করা জরুরী। ধর্ম অবশ্যই আমাদের অঞ্চলের প্রধান সমস্যা। তবে মনে রাখতে হবে কেবল ইসলামই একমাত্র সমস্যা না! আরো অনেককিছুই আছে সেই বিষয়েও সচেতন হওয়া এবং সচেতন করা জরুরী।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of