মুমূর্ষু যন্ত্রণায় ভাঙনের কাঁচদেয়াল

প্রতিটি মানুষের মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।স্বৈরাচারী শাসন, অগণতান্ত্রিক চর্চা মানুষের চিন্তাভাবনাকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও মানুষ কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। কারো কণ্ঠনালী কেটে দেওয়ার অধিকার কোন রাষ্ট্রের নেই, কোন প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের নেই। যেই রাষ্ট্র মানুষের মত প্রকাশকে রুদ্ধ করতে চায়, সেই রাষ্ট্র মানুষের ন্যায্য অধিকারের বিপক্ষে অবস্থান নেয়। আর সেই রাষ্ট্রব্যবস্থা স্বৈরাচারী মনোভাব পোষণ করে এবং নিজেদের ব্যক্তিগত লাভজনক পলিসিকে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে সাধারণের মাঝে ছড়িয়ে নিজেদের অবস্থানকে আরও পাকাপোক্ত করে।

পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ স্বতন্ত্র, এবং জীবন দর্শন ভিন্ন। প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে যে কোন প্রসঙ্গ উপস্থাপনের এবং সেইসাথে যে-কোন বিষয়াদির সমালোচনার। প্রতিটি মানুষ স্বাধীন ও সমান এবং অধিকারসম্পন্ন। কারো বক্তব্যের কারণে কোন রাষ্ট্রের, কোন ব্যক্তিবিশেষের অধিকার নেই তাকে নির্যাতন, নিপীড়ন ও হত্যা করার। এমনকি আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীরও অধিকার নেই কারো বক্তব্য, মন্তব্য, সমালোচনার কারণে গ্রেপ্তার করার। এটি মানুষের মানবাধিকার লঙ্ঘনে পড়বে।

 

হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে স্বৈরাচার বলা গেলে শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার বলা যাবে না কেনো? শেখ হাসিনা স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে সক্ষম হয়েছেন, অগণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে দুবার জোরপূর্বক ক্ষমতায় থেকে বিরোধীদল, বিরোধী মতবাদকে দমিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তার সম্বন্ধে কিছু বলা যাবে না। বললেই গ্রেপ্তার কিংবা খুন। এতেই বোঝা যায়, এক ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে তিনি সক্ষম হয়েছেন। যেভাবে এরশাদও করেছিলেন। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের থেকেও ভয়ংকর হয়ে উঠেছেন শেখ হাসিনা।

অগণিত লাশের উপর দাঁড়িয়ে স্বৈরাচারী কর্মকান্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে পারছেন কারণ স্বৈরাচারী এরশাদের আমলের মতই এখনকার লেখক-কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক-রাজনীতিক-শিল্পী-ব্লগার সমর্থন জানিয়ে আসছেন। এই দুই ব্যক্তির মধ্যে নীতিগত কোন পার্থক্য এখন আর নেই। শেখ মুজিব বাকশালের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্ন শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। পিতার থেকেও বিধ্বংসী কন্যা। তারচেয়েও শক্তিশালী তার পোষা প্রাণীগুলি।

মানুষ রাজনৈতিক, এবং প্রতিটি মানুষের অধিকার আছে রাজনীতি ও রাজনীতিকদের সমালোচনার। লাশের উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করা যায় ঠিকই, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে লাশে পচন ধরে, এবং একসময় কংকালে পরিণত হয়, ঠিক তেমনই ব্যক্তি রাজনীতিরও সমাপ্তি ঘটবে, একসময় ভেঙ্গেচুরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যারা মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা রুদ্ধ করতে চায়, তারা প্রগতিবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী। যারা মানুষকে চেতনাবিরোধী বা ধর্মবিরোধী বা নাস্তিক কাফের মুরতাদ ইহুদী বলে হত্যা করে তারা সকলেই প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ছায়াতলে মানবতাবিরোধী

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of