চেতনা ব্যবসায়ি বর্তমান আওয়ামিলীগ তৎকালিন পাকিস্তানিদের চেয়ে ভয়ংকর ৷

১৷ ব্লগার সামাদ হত্যার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলো ধর্ম নিয়ে লিখেছে কিনা খতিয়ে দেখা হবে ৷ ব্লগার সামাদেরও কিন্তু একই অপরাধ ছিলো, আর তা হলো প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখা ৷ অথচ সামাদ হলো সেই ছেলেটা যে প্রধানমন্ত্রীর বাপ হত্যার বিচার চেয়ে তার নগ্ন গায়ে রাজাকারের ফাঁসি চাই বলে রাস্তায় নেমেছিলো ৷ সেই ছেলেটা যদি ধর্ম নিয়ে লিখে তাহলে তাকে হত্যা করা জায়েজ করে দিয়েছিলেন লীগের সরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান ৷

২৷ লেখালেখির জন্য কেউ খুন হলে তার দায় সরকার নেবেনা বলেছিলো দেশ প্রধান ৷ যার বাপের জন্য মানুষ রাস্তায় নেমেছে, লেখালেখি করেছে ৷ যাকে সমর্থন করে এসেছে বারবার ৷ সেই দেশ প্রধান লেখালেখির জন্য হত্যা দায় এড়িয়ে হত্যা জায়েজ করেছিলো ৷

৩৷ সাগর রুনি বা তনুর কথা আর না বলি ৷ বিশ্বজিৎ হত্যা মামলায় সব খুনিদের জেল হতে বের করেছে সরকার , এমন কি ফাঁসির আসামি পর্যন্ত ৷ কারণ তারা সবাই লীগের সন্ত্রাসি ৷ সেদিন হতে লীগেরা খুন করলে খুনির মুক্তি জায়েজ হয়ে গেছিলো ৷ ব্লগার রাজীবের হত্যাকারীদের হাতে নাতে ধরিয়ে দিয়েছিলো হিজরারা, ধরে ছেড়ে দিয়েছিলো ঠিক এই কারণে ৷

৪৷ ধর্ষণে সেঞ্চুরী করার পরও ছাত্রলীগ সোনার ছেলে ৷ যার পুরস্কার বড় বড় পদ ৷ খাদিজাদের যে জন্য কুপিয়ে তেঁতলে দেয় ৷ ধর্ষণের পর ধর্ষণ করেও ভয় পেতে হয়না ৷ বিচার চাইতে গেলে মা মেয়ের মাথা মুড়িয়ে দেয়া হয় ৷ কওমি মাদ্রাসাগুলোতে চলে ধর্ষণ উৎসব ৷ নুসরাতদের লাশ বিচার পায়না, বিচারের নামে প্রহশন আর ধরা ছাড়া ৷ সুবর্ণচরে ভোট না দেয়ার কারণে গণধর্ষণ এবং পরে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তুতি ৷ বিচার না পেয়ে বাপ বেটির আত্মহত্যা ৷ সব লীগের অবদান ৷ এখনতো ছাত্রলীগের কেউ খুন করলে সে শিবির হয়ে যায়, লীগ খুন করলে বলে জামাত হতে ঢুকেছে ৷ আবার জামাত লীগে নেয়ার সময় পদন্নতি হয়ে হয় মুক্তিযোদ্ধা ৷ ঠিক তাদের চরিত্রের ভেতর এত এত মিল মহব্বত যে, কে লীগ কে জামাত বুঝার উপায় নেই ৷ তবে এটা বুঝতে কষ্ট হবার কথা নয় যে বর্তমানে বেশি হিংস্র বর্বর মানেই আওয়ামিলীগ ৷

৫৷ বিএনপির কে যেনো একবার জয়কে মারার প্লান করছে এমন খবরে আটক করা হয় ঐ নেতাকে ৷ ভাবছে এতেই আটক, অথচ সাধারণকে হত্যা করলেও কোন বিচার নেই ৷ বিচার হবে তবে আওয়ামিলীগের নেতা হওয়া চাই ৷

৬৷ স্বৈরাচারী সরকার নামে পরিচিত এরশাদ একটা সময় ছাত্র রাজনীতি বন্ধ করতে চেয়েছিলো ৷ তারপর তার পতন ৷ ছাত্র রাজনীতির সুফল আজ ভোগ করছে দেশ ৷ দেশের স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এক একটা রাজনৈতিক অফিস ৷ অভিভাবকদের গলায় পা দিয়ে ডাকাতি করছে ক্ষমতার বলে, সবগুলোর পেছনে রাজনীতি ৷ আর গুম খুন মারামারিতো আছেই ৷ কলম খাতার চেয়ে লাঠি দা অস্ত্র বেশি ৷

৭৷ বাক্ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে আসছিলো ব্লগাররা ৷ সেই ব্লগাররা যখন খুন হতো সবাই বলতো এক উইকেটের পতন, কেউ উল্লাস করে বলতো কুকুর মরেছে ৷ আজ তারা হায় হায় করছে ৷ অথচ আওয়ামিলীগ তাদের উস্কিয়েছে ব্লগার হত্যায়, নিরব সমর্থন দিয়েছে তাদের আর তারা আওয়ামিলীগকে ৷ আজ তারা বিচার চাই বলছে ৷

৮৷ আওয়ামিলীগের শুধু ছাত্রলীগ নয়, তার চেয়ে ভয়ংকর হলো আওয়ামিলীগে থাকা ব্লগার গুলো ৷ এরা যে কোন সময় ব্লগারদের খাবার করে দিতে দু’মিনিট ভাববেনা ৷ দলান্ধতা কাকে বলে হাড়ে হাড়ে টের পাই যখন হুমকির সমুখীন হই ৷ আর এদের কারণেই গণ জাগরন মঞ্চ ভেঙে টুকরো টুকরো ৷ কিছু নাস্তিক নামধারী যেমন সারা বছর নাস্তিকতা দেখিয়ে পূজা ঈদে পাক্কা ধার্মিক তেমনি লীগাররাও কিছু হলে প্রতিবাদ দেখিয়ে দিনশেষে লীগ ৷ নইলে একটা ব্লগারের যে বিচার হয়নি তারা কি দেখেনি, নাকি ৫৭ ধারা দেখেনি বেঈমানের দল ৷ শুনেছি মাহফিয়াদের দলে থাকলে বেরুতে দেয়না ৷ বেরুলেই শেষ ৷ সামাদের অবস্থা তেমনই ৷

৯৷ নিজের ঘর দিয়ে বলি ৷ আমার বাপ একবার লীগকে ভোট না দেবার কারণে গালাগালি করেছিলো ৷ আমি যদি এখনো বুঝাই একই কাজ করবে ৷ আওয়ামিলীগ যা করে তাতেই সমর্থন দেবে ৷ আর বেশি প্যাঁচ হলে বলবে আমরা এই আওয়ামিলীগ করিনা, আমরা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামিলীগ করি ৷ আমার বাপ চাচা চৌদ্দ গোষ্ঠিই কিন্তু লীগার ৷ অবহেলিত হয় তবুও লীগ করে ৷ একটা সময় আমিও ছত্রাক লীগ করতাম ৷ এখন করিনা কারণ লীগ পাকিস্তানির চেয়ে খারাপ ৷

১০৷ লীগেরা সংখ্যালঘু নির্যাতন যেমন করে আসছে, করছে ৷ টাকা দিয়ে আবার মানিয়ে দিচ্ছে ৷ কুত্তা যেমন হাড্ডি পেলে চুপ ৷ আওয়ামিলীগ রামু হতে রাঙ্গামাটি, রাঙ্গামাটি হতে নাসিরনগর, নাসিরনগর হতে সাওতাল পল্লী কম করেনি ৷ তবুও একদল তারা নিজেরা বাঁচতে করবেই ৷ এতে তার পক্ষে যে একদিন কথা বলার কেউ থাকবেনা, সে খেয়াল নেই ৷

১১৷ সবশেষ ভোট ৷ অভিজিৎ রায়ের মা বিচার চেয়ে চেয়ে মরে গেলো ৷ আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল একদিন ভাইয়ের বিচার না পেয়ে খুব আক্ষেপ করেছিলো ৷ তবুও মরতে মরতে বলেছে ভোটটা স্বাধীনতার পক্ষেই দিস ৷ কারণ কী ? কারণ চিকিৎসার টাকা ৷ নইলে ইমতিয়াজ বাবু জানেন যে এ দেশে ভোট নামমাত্র ৷ তখনকার স্বাধীনতার পক্ষ আর এখন এক নয় ৷ আমার এলাকায়তো লীগের বিরুদ্ধে যে দাড়িয়েছে তাকে হাত পা ভেঙে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ৷ অবশেষে বিনা প্রতিদন্ধীতায় ভোটহীন জয় লীগের ৷ এরা বলতেই বলে শেখ হাসিনার বাংলাদেশ সুতরাং সে যা ইচ্ছা তাতো করবেই ৷ আমার আপনার কিছুই নেই ৷ থাকছি, খাজনা দিচ্ছি, খাচ্ছি পড়ছি চলছি, শুল্ক দিচ্ছি আর তারা লুট করছে ৷

 

১২৷ লীগের সমালোচনা

করা যাবেনা ৷ অপরাধ করলে বলা যাবেনা, খুন করলে চুপ থাকতে হবে ৷ জনগন প্রধানমন্ত্রী নিয়ে কিছু বলতে পারবে না ৷ মোটামুটি দম বন্ধ অবস্থা ৷ আগামি আরো অন্ধকার কারণ প্রাইমারীর শিশুগুলোকে পর্যন্ত সন্ত্রাসি বানাচ্ছে শিশু লীগের নামে ৷ অ আ ক খ না শেখার আগেই শিখছে লীগানুধিকার, সন্ত্রাসিপনা ৷ চেতনার ব্যবসা করা লীগ জামাত বিএনপির চেয়ে খারাপতো বটেই, পাকিস্তানির চেয়ে বর্বর ৷ নিশ্চয়তা নেই কাকে কোথায় ফেলে দেবে, ঘরে ফিরতে পারব কিনা !?

যেদিন জয় বাংলা মিছিল নিয়ে একটি মেয়ের বুকে হাত দিয়েছিলো, সেদিনই জানা উচিত ছিলো ওরা প্রত্যেকটা মায়ের বুকে হাত দেবে ৷ বিশ্বজিতদের হত্যা করে দেবে পিতার কাঁধে লাশ ৷৷

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of