তসলিমা নাসরিন পূজার লোভেই বিসর্জন দিচ্ছেন নিজেকে ৷

১৷ আমি চারদিকে ধুমপান বিরোধী প্রচার চালাই ৷ আমি প্রচার করি কিভাবে ধুমপান মানুষকে দিনের পর দিন চুষে ফেলে ৷ নানা ভিডিও দেখাই, দেখাই ভেতরে কতটা জঘন্য কালো হয়ে যায় ৷

২৷ আবার আমাকে দেখা গেলো বন্ধুদের আড্ডায় যেখানে সবাই ধুমপান করছে ৷ বন্ধুদের মন রাখতে সেখানে বসলাম ৷ আমি জানি পাশে বসলে সমান ক্ষতি করে ৷ একটা সময় আমাকে দেখা গেলো আমিও একটা সিগারেট নিয়ে টানছি ৷

৩৷ একটা সিগারেট নিয়ে টেনেছি মানে এটা প্রমাণ হয়না যে আমি চেইন স্মোকার বা আমি সিগারেট খাই ৷ কিন্তু এটাতো প্রমাণ হয় যে আমি ঠান্ডা মাথার উচ্চ মানের একজন ভন্ড ৷ কারণ যে আমি ধুমপান বিরোধী বড় বড় লেকচার দেই, সেই আমি বন্ধু বান্ধবের আড্ডায়ও একই আদর্শে থাকতাম যদি ভন্ডামি না করতাম ৷ তাদের বুঝাতে চেষ্টা করতাম ৷ দরকারে সেখান থেকে উঠে চলে আসতাম তবু একপক্ষের সামনে চিল্লাচিল্লি করে অন্য পক্ষের সাথে মিলে যেতাম না ৷

মূল প্রসঙ্গ-

আমাদের অনেক নাস্তিকের যুক্তিটা এমন যে আমি ধুমপান বিরোধী প্রচারণা করি ৷ আবার ধুমপানের আড্ডায় বসে ধুমপান করেছি বলে এই নয় আমি ধুমপায়ী ৷ মানে আমি ধর্মহীন ৷ ধর্ম বিরোধী প্রচারণা করি ৷ কিন্তু ধার্মীক কারো সাথে ধর্ম ঘরে গেলাম, প্রার্থনা ও করলাম, তাদের সাথে মিশলাম হৈ হুল্লোর করলাম, তাদের মন রাখলাম তার মানে এই নয় আমি ধার্মিক ৷ অবশ্যই আপনি ধার্মিক নন ৷ কিন্তু আপনি যে বিশাল ভন্ড সেটাতো প্রমাণিত ৷ ধার্মীকদের হাওয়া দিয়ে আসবেন আবার নাস্তিকদের সাথে গলা মিলিয়ে ধর্মের চৌদ্দ গুষ্ঠি উদ্ধার করবেন এটাকে কি বলে ? ধার্মীকদেরও একটা আদর্শ থাকে আপনারতো সেটাও নাই ৷

আসুন এবার দিদির সমালোচনায় ৷

আমরা যখন দিদির কথা তুলি আপনাদের বেশ লাগে ৷ স্বাভাবিক, দুর্গার বিরুদ্ধে বললে পূজারীর ও তাই লাগে ৷ আমরা সাধারণরা যখন রাজনীতি, বাদ বিবাদ নিয়ে লাগি তখন প্রায়ই একটা কথা বলি “লেঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট” ৷ টুইটার দিদির একটা বিশাল জগৎ যেখানে ইংরেজীতে দিদি বলেন ৷ দিদি ধর্মহীন ৷ শিবলিঙ্গ হাতে নিলে বা মশকরা করে শিবলিঙ্গে জল ঢাললো মানে এই নয় দিদি হিন্দুত্ববাদী বা দিদি হিন্দুদের পক্ষে দালালি করেন কিংবা দিদি যদি ভন্ড হন তাহলে নির্বাসিতা হবার প্রশ্নই আসেনা ৷ আচ্ছা মেনে নিলাম সব ৷ দিদি তার আদর্শে অটল ৷

ইদানিং দিদি নিজেকে প্রমাণ করার জন্য বেশ উঠে পড়ে লেগেছেন ৷ বার বার পোস্ট করছেন, দুদিন আগের লেখা আবার শেয়ার দিচ্ছেন নয়তো লেখার মাঝে লিংক দিয়ে দিচ্ছেন ৷ দিদি অতি সস্তা সাধারণের মতো ওনার সমালোচনা যারা করেছেন তাদের আনফ্রেন্ড করার প্রসঙ্গও তুলেছেন ৷ এতসবের কি আসলেই প্রয়োজন ছিলো ? উনি সমালোচনা করতে পারেন, ওনার সমালোচনা নিতে পারেন না ? নাকি কোরানের মত একমাত্র সত্য ধরে নিতে হবে উনি যা বলেন তাই ঠিক মেনে নিতে হবে ? বাক স্বাধীনতা ওনার আছে আর কারো থাকতে নেই যে আনফ্রেন্ডের মত বা ওনার মন মতো না হবার ভয়ে ওনার সম্পর্কে বলা যাবেনা ?

তিনি বারংবার সাপোর্ট দিয়ে আসছিলেন ভারতকে ৷ সে ইলিশ প্রসঙ্গে হোক আর যাই হোক ৷ পারছিলেন না ভারতের জেলে পদ্মায় নামিয়ে দিতে শুধু ৷ ভারত সুবিধা কম নিচ্ছে না, চুক্তিও কম আটকে রাখেনি, ফেনী নদীর পানিতো চুরি করছিলোই ৷ আবার মারধর করছে প্রচুর যখন সীমান্তে কাউকে পাচ্ছে অথচ বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতীয় জেলেকে বাঁচানোর অবদান বাংলাদেশের আছে, ফেলানির মতো লটকে দেয়নি ৷ পনের জন জেলেকে ধরেও নির্যাতন করেনি ৷

আসা যাক মমতা নুসরাত প্রসঙ্গে-

ভারতের অহরহ সেলিব্রেটি আগেও ছিলো যারা মুসলমান হয়ে হিন্দু সাজে হিন্দুদের সাথে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন ৷ যখন মমতা ইসলামের সাথে মাথায় কাপড় দিয়ে মোনাজাত ধরলেন তখন মমতা নিয়ে খুব সমালোচনা হয়েছিলো, তখন দিদি চুপ ছিলেন ৷ কারো সাথে তুলনা করেননি ৷ কিন্তু যখন নুসরাতের ব্যপারটা এলো তুলনা করতেই হলো দিদির ৷ তবুও খারাপতো নয়, যাতে সহিংসতা না হয় যুক্তিটা যায় ৷ মোড় ঘুরে গেলো আবরারের সময় ৷ যখন নামাজের সাথে তিনি জামাতের সম্পর্ক পান আর কারো পান না ৷ তার চেয়ে নিব্রাস্র মতো একটা জঙ্গির মতোই যখন আবরারকে দেখেন ঠিক আবরার হত্যার এমন একটা সময়ে ৷ দিদি শিবলিঙ্গে জল ঢেলে হিন্দুদের সাথে একাকার হলে দোষ নেই, কোন ধার্মীক পরিবারের ছেলে নামাজ পড়লে দোষ, সে মূর্খ, সে নিব্রাসের মতই ৷ নিব্রাসের মতো মানে আবরার ও জঙ্গি, তবেতো দিদিও শিবসেনা তাই নয় কী ? পর পর দুটো পোস্ট করে দিদি ভারতীয় পূজারীদের মন রক্ষা করতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন ৷ কারণ আবরারের মৃত্যু ছিলো ভারত বাংলাদেশ চুক্তি নিয়ে ৷ যেখানে সাধারণদের প্রতি বিমুখ অনেক ভারতীয় বন্ধুরাই, সেখানে দিদির পিরতিতো হবেই, সেই ব্যাপারটা সমতা দিতে গিয়ে দিদি ফেঁসেছেন ৷

সব বাদ দিলেও দিদির আরেকটা লেখা বলে দেয় দিদি কি জিনিস ৷ দিদির ২২ মার্চ ২০১৮ তে একটি লেখা ছিলো ৷ লিখাটি হলো-
“Hinduism began more than 5000 years ago. It has survived many invasions. I believe all other religions will die out but Hinduism will remain forever. Because almost all Hindus sincerely worship gods & they wholeheartedly practice all their religious rituals.”

এখানে উপরের সব কথা ছাপিয়ে যায় ৷ দিদি যখন অতীত ভবিষ্যত বিশ্বাস করেই ফেললেন তবে শিবলিঙ্গে জল ঢালতেই পারেন ৷ দিদি শিবলিঙ্গে জল ঢেলে পরীক্ষা করছিলেন বর পান কিনা ? বলি PK মুভির মত দিদির সব ধর্ম পরীক্ষা করা উচিৎ ৷ একটি ধর্ম নিয়ে এতো পক্ষপাতিত্ব কেনো দিদির ? তাহলে কি ঐ লেঞ্জা ইজ ভেরী ডিফিকাল্ট ? কেউ একজন বললেন বাংলাদেশ ছেড়েছেন, তাই হয়তো ভারতের পক্ষে আর হিন্দুত্ববাদের পক্ষ নিতে তৈল দিচ্ছেন যাতে ভারত ছাড়তে না হয় ৷ তাহলে আদর্শটা কি রইলো ? নির্বাসিততো শুধু দিদি না অনেকেই হয়েছেন হচ্ছেন ৷ দাউদ হায়দার দিদিরও আগের ৷ দিদির কথাই যদি একমাত্র সত্য হয়, সমালোচনা করা না যায় তবেতো আওয়ামি লীগ সেটাই করেছেন ৷ ইসলামও সেটাই করছে যেখানে সবকিছুতে জ্বী হুজুর জ্বী হুজুর করতে হবে ৷ দিদি নিজেকে শুদ্ধ করতে গিয়ে আওয়ামি লীগের মত পুরোন চেতনা টানেন কবে কি হয়েছিলো তা নিয়ে যেনো বর্তমান জায়েজ করতে হবে ৷ লীগ যেমন ২০০১ টেনে এ হত্যাও জায়েজ করতে চায় ৷ অবশ্য দিদির ভারতীয় পূজারী বেশি এ কথা অস্বীকার করার কারণ নেই ৷ তবে দিদি মাথায় রাখতে হবে দেবী বিসর্জন কিন্তু পূজারীর হাতে হয় ৷ সহমত ভাইদের কারণে মগজ বিসর্জন পূজা পেতে আত্মহত্যা ৷

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 20 = 28