বিশ্বাসের মাঝে ধার্মিকের নৈতিকতা ও মস্তিষ্কের পরিপক্বতা !!!

বিশ্বাসের মাঝে ধার্মিকের নৈতিকতা ও মস্তিষ্কের পরিপক্বতা !!!

অনেকে মনে করেন, বিশ্বাস না থাকলে জীবনের কোন অর্থ থাকে না।শিক্ষা, যুক্তি, জ্ঞান, বিজ্ঞান প্রভৃতির যেমন দরকার হয় জীবনে, বিশ্বাসেরও দরকার আছে। না হলে জীবন নাকি পরিপূর্ণ হয়না।এটা সত্য না। বিশ্বাস দাড়িয়ে আছে একটি অবিশ্বাসমূলক প্রক্রিয়ার উপর। যে বিষয়ের অস্তিত্বের প্রমাণ নেই , সে বিষয় মানুষ বিশ্বাস করে। মানুষ ভূত, জ্বীন, পরী ও ঈশ্বরে বিশ্বাস করে।কিন্তু এসবের প্রমাণ দিতে পারে না। কারণ আসলে এ সবের কোন বাস্তব রূপ নেই। মানুষ বলেনা আমি আগুন, পানি, সূর্য কিংবা চন্দ্রে বিশ্বাস করি। যেগুলো নেই সেইগুলোই মানুষ বিশ্বাস করে। যা মিথ্যা তাকে মানুষের বিশ্বাস করতে হয়। সত্যকে কখনো বিশ্বাস করতে হয় না।

এখন আসা যাক বিশ্বাস ও নৈতিকতা কিভাবে শৈশব থেকে মস্তিষ্কের মধ্যে কি ভাবে জায়গা দখল করে ।

একটি মানব শিশু যখন মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ হয়ে পৃথিবীর আলো দেখে, তখন থেকে বিশ্বাস তার পরিবার মস্তিষ্কে বপন করা শুরু করে ।শিশুদের মস্তিষ্ক পরিপূর্ণ যাচাই বাছাই করতে কিংবা সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। পরিবার থেকে লালন করে এই মস্তিষ্ককে পরিপক্ব করতে হয়।কোন কাজটি ভাল আর কোন কাজটি মন্দ, একটা শিশুকে এমনটা শেখানো খুব কঠিন কাজ না ।আর মন্দ কাজটি কেন মন্দ না তা বুঝিয়ে বললে একটা শিশুর মন খুব সহজে তা গ্রহণ করতে পারে ।তার মানে হল শিশুর মনের পরিপক্বতা তার শৈশব শিক্ষার উপর নির্ভর করে । অন্যের কোন জিনিস তার অজান্তে নিয়ে আসা বা চুরি করা কেন খারাপ কাজ এবং এমনটা করা কেন উচিত না তা খুব সহজেই একটি শিশুকে বুঝিয়ে বলা যায়। কিন্তু যদি শিশুকে এমন বলে হয় ‘খবরদার’ চুরি করবি না।তাইলে সৃষ্টিকর্তা গুনাহ দিবে,দোজখের আগুনে তোকে পুড়ানো হবে, সৃষ্টিকর্তার ভয় দেখানো মাধ্যমে হবে,এমন হলে শিশুর মানসিক অবস্থাটা কেমন হবে । এখানে শিক্ষার মধ্যে পার্থক্য আছে। একটা মানবিকতা আর অন্যটা সৃষ্টিকর্তার ভয়কে ব্যবহার করা হয়েছে । চুরি না করার শিক্ষাটি একটি মানবিকতা আর একটি সৃষ্টিকর্তার ভয়কে দিয়ে বুঝানো হয়েছে। দুই শিক্ষার মাঝে তফাৎ রয়েছে ।নৈতিকতা শিক্ষায় একটা মানবিক বানায় আর একটি ভয়কে ব্যবহার করে ধার্মিক বানায় । দোজখ কিংবা বেহেস্তের শিক্ষা একটি শিশুকে কেনইবা দিতে হবে। এখানে একটি বাস্তবমুখী শিক্ষা আর একটি বিশ্বাস ভিত্তিক শিক্ষা । শিশুটি ভয়ের মাঝে বড় হতে থাকে। যা তাকে স্বার্থপর হতে শিখায়।এভাবেই শিশুর মস্তিষ্ক দোজখের ভয় কিংবা বেহেস্তের লোভ নিয়ে পরিপক্ব হয়।

একটি শিশুর শিক্ষার মাঝে যখন ধর্মীয় লেবাসে হয় ,তখনই ঐ শিশুটি বিকৃত ভাবে বড় হয়। কেননা ধর্মে আছে অনাচার ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা ,আর এটা নিয়ে কেউ কথা বলে না। যেহেতু শিশুর নৈতিকতা শিক্ষা ধর্মীয় ভাবে হয়েছে , তাই শিশু ধর্মীয় অনাচার ও বিশৃঙ্খলাকে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করে । যখন মুরতাদকে হত্যা করা হয়, তখন ধার্মিক মানুষের মস্তিষ্কের পরিপক্বতা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয় যে , ধর্মীয়ভাবে এটা কোন অপরাধ না । কেননা কোরানে এটাকে সমর্থন করে ।

ধার্মিকরা হয়তো বলবেন তুমি মিথ্যাচার করেছো । তোমার নৈতিকতা উপলব্ধি করার মতো জ্ঞান নেই । মেনে নিলাম আমার জ্ঞান নেই কেননা আপনার মস্তিষ্কের পরিপক্বতা শৈশব থেকে ধর্মীয় ভাবে পরিপক্ব হয়েছে । এ জন্য কোরানের সবকিছু আপনার নৈতিকতার মান দণ্ডে উত্তীর্ণ । অমানবিক বিষয়ও আপনার কাছে মানবিক । মুশরিকদের হত্যাকে তাই ধার্মিকদের কাছে নৈতিকতা সমর্থিত।

বস্তুত হযরত মুহাম্মদের শেষ ইচ্ছা ছিল আরব ভূমিকে বিধর্মী প্যাগান মুক্ত করতে হবে এবং পৃথিবীতে ততদিন জেহাদ চলবে যতদিন না একজন মানুষ ও অবশিষ্ট থাকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে।
তাই বিশ্বকে বিধর্মী মুক্ত করতে সেই থেকে যে জেহাদ বা বিধর্মী নিধন শুরু হয়েছিল তা আজও ধর্মীয় নৈতিকতার মাধ্যমে অব্যাহত আছে ।এখন কোরানে মুশরিকদের বিষয়ে ধর্মীয় নৈতিকতা কি সমর্থন করে তা দেখে আসি ?
———————————————————
সুরা তওবা-৯:৫: অতঃপর নিষিদ্ধ মাস অতিবাহিত হলে মুশরিকদের হত্যা কর যেখানে তাদের পাও, তাদের বন্দী কর এবং অবরোধ কর। আর প্রত্যেক ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওঁত পেতে বসে থাক। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামায কায়েম করে,
যাকাত আদায় করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয় আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
———————————————————
সুরা তওবা- ৯: ২৯: তোমরা যুদ্ধ কর আহলে-কিতাবের ঐ লোকদের সাথে, যারা আল্লাহ ও রোজ হাশরে ঈমান রাখে না, আল্লাহ ও তাঁর রসূল যা হারাম করে দিয়েছেন তা হারাম করে না এবং গ্রহণ করে না সত্য ধর্ম,
যতক্ষণ না করজোড়ে তারা জিজিয়া প্রদান করে।
———————————————————
সুরা তওবা-৯:৭৩: হে নবী, কাফের ও মুনাফিকদের ওপর কঠোর আঘাত করুন ও দৃঢ় থাকুন, তাদের ঠিকানা হল দোযখ এবং তাহলো নিকৃষ্ট ঠিকানা।
———————————————————
সুরা তওবা-৯: ১২৩: হে ঈমান দারগণ, তোমাদের নিকটবর্তী কাফেরদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাও এবং তারা তোমাদের মধ্যে কঠোরতা অনুভব করুক আর জেনে রাখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।
———————————————————
জিহাদ অধ্যায় ::সহিহ বুখারী :: খন্ড ৪ :: অধ্যায় ৫২ :: হাদিস ৭৩
আব্দুল্লাহ ইব্ন মুহাম্মদ (র)…………উমর ইব্ন উবায়দুল্লাহ (র)-এরাযাদকৃত গোলাম ও তার কাতিব আবূন নাযর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্ন আবূ আওফা (রা) তাঁকে লিখেছিলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা জেনে রাখ,
তরবারির ছায়ার নীচেই জান্নাত।
———————————————————

অবশ্য এখন ধর্মীকরা কখনো লজ্জিত হবে না । বরং শুরু করবেন ত্যাঁনাবাজি । তারা বলবেন আপনি জানেন না । তাফসির কিংবা প্রেক্ষাপট জানতে হবে ।বেশী আলোচনা করলে আপনার ঈমান চলে যাবে। আরও ব্লা ব্লা । ইসলাম শান্তির ধর্ম ইত্যাদি ইত্যাদি।
দেখেন কোরানে কি বলে :

———————————————————
“যে ব্যক্তি অন্যদেরকে কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে, সে ‘আমলকারীর সমপরিমাণ সওয়াব পাবে।” [সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৯৩]
———————————————————
“দ্বীনের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেনি এবং তোমাদেরকে স্বদেশ হতে বহিষ্কার করেনি, তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার ও ন্যায় বিচার করতে আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। আল্লাহ্‌ তো ন্যায়-পরায়ণদেরকে ভালোবাসেন।” [সূরা মুমতাহিনাহ্‌, আয়াত-৮]
———————————————————
আর মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে। এটি এজন্যে যে এরা জ্ঞান রাখে না।[ সূরা তওবা, আয়াত -৬]
———————————————————

আমি কি উওর দিবো ? অনেকের মনে এই প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক।আমার উওর তরল পানির মতো সোজা।আমি মানলাম ধার্মিকদের রেফারেন্স ঠিক এবং আমার রেফারেন্সও ঠিক । কারণ উভয়ই ধর্মীয় গ্রন্থ কোরান ও হাদিস থেকে দিয়েছে।এখন আমার রেফারেন্স যদি এখনকার প্রেক্ষাপটের না হয় ,তাহলে বাদ দিন না কেন কোরান থেকে এসব অমানবিক আয়াত সমূহ।আর পাঠককে আমি তফসিরের রেফারেন্সও দিবো না । আমার কাছে প্রশ্ন ইসলামিক বোদ্ধারা এসব অস্বীকার করে পবলিকলি কিংবা প্রকাশ্যে কেন বলে না যে , এসব ইসলাম সমর্থন করে না । তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমরা পৃথিবী জুড়ে বড় বড় আলেমরা কিন্তু এসব অকপটে সমর্থন করে এসব কোরান হাদিসের বানী। তাই ওয়াজে এসব প্রকাশ্যে সমর্থন করে বয়ান দেয় ।

এখন কি করা যায়।

আমি আপনাকে ধর্ম ছাড়তে কখনো বলবো না । যার যার ধর্ম পালন তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।আর আমার শরীরে রয়েছে সেলফিশ জীন । কাউকে দলে টানার মাধ্যমে আমি আমার অস্তিত্ব সংকটে ফেলতে চাই না । আমি চাই পৃথিবী মানবিক হউক । মারামারি কাটা কাটি বন্ধ হউক । সবাই যেন নিরাপদে থাকে । এর জন্য আমার লেখা চলবে । আর আপনি একটু তথ্য যাচাই বাচাই করুন। সিদ্ধান্তে নিবেন আপনার জ্ঞান কিংবা যাচাই বাছাইয়ের উপর । আমি নিশ্চিত ,অবশ্যই আপনার ধর্মীয় নৈতিকতায় পরিপক্ব মস্তিষ্ক আপনি একটু ধোয়া মোছা করে আপনিও মানবিক মানুষ হতে পারবেন। মানুষের জন্য কাজ করতে পরবেন।

ভাল থাকবেন।

জ্যাক পিটার ।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of