আবরারকে হত্যা আর আমার ভাবনা !!!

আবরার হত্যা নিয়ে লিখতে চাচ্ছিলাম না । হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করা এখন কেমন যেন লাগে । বুকের ভিতর চিন চিন করছিল বেশ কদিন ধরে । আর মস্তিষ্ক কাজ করছিল । গালাগালি অথবা পক্ষপাত দুষ্টতা করে কারো বিরোধিতা করা আমার সাথে মানায় না । আমি বাংলাদেশের জন্ম ইতিহাস থেকে চিন্তা কারা শুরু করি । বুঝতে বাকি নেই সমাজ এখন দু’ধরনের প্যারাসাইটে আক্রান্ত । জীব বিজ্ঞানে ল্যাংসেট ফ্লুক, নেমাটোমর্ফ হেয়ার ওয়ার্ম, ইউনিউমেন নামের প্যারসাইট সংক্রামণগুলো কিভাবে প্রাণীর দেহ ধংশ করে, তা আমরা নিশ্চয়ই জানি । আমাদের দেশের মানুষদের প্যারাসাইট সংক্রমণ হয়েছে । মানুষের মধ্যে ভালবাসা কিংবা দেশপ্রেম কিছুই কাজ করে না এখন । এখন মানুষের মৃত্যু যেন ডাল ভাত।এখন মস্তিষ্কের প্যারাসাইট মানুষকে দুইভাবে আক্রান্ত করে ।এক হল ধর্মান্ধতা ও আর একটি হল ভারত বিদ্বেষী । কিন্তু আমার প্রশ্ন হল আমাদের দেশপ্রেম আগে কাজ করার কথা । কিন্তু কি যেন একটা অজানা ভাইরাস আমাদের মস্তিষ্কে প্যারাসাইট হিসেবে সংক্রমণ করেছে । খুন করতে এখন আর হাত কাঁপে না । পুরো জাতি এখন কি যেন একটা ভাইরাসে আক্রান্ত । প্রতিদিন যখন পাবলিক বাসে উঠি ঠিক তখনই বুঝতে পারি আমরা সবাই অনেক রাগ লালন করছি । ড্রাইভার , হেলপার ও যাত্রী সবার আচরণ অত্যন্ত রুট। কেমন যেন মস্তিষ্ক বিক্রিয়া হয়ে যাচ্ছে । সমালোচনাকে আমি সব সময় স্বাগত জানাই। কিন্তু সমালোচনা হতে হবে গঠনমূলক যুক্তি তথ্য ভিত্তিক। বিদ্বেষমূলক সমালোচনা কখনই সমর্থনযোগ্য নয় । ধরেন ক্রিকেট খেলায় হারলে আমারা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখি সমালোচনা মূলক কমেন্ট না করে গালাগালি করে । নিজের মন মতো কিছু না হলেই আমরা এখন গালাগালি করে বিদ্বেষ প্রকাশ করি । এতক্ষণ যা আলোচনা করলাম এতে আমি আপনাকে একটি নতুন বিষয় নিয়ে চিন্তা করার খোরাক দিলাম । আবরার জামাত করুক শিবির করুক আর বিএনপি করুক সেটি মূল বিষয় হবার কথা নয় । হত্যাকারীরা আবরারের সমালোচনা যুক্তিভিত্তিক ভাবে মোকাবেলা করা উচিত ছিল । এই দাদা গিরি করে আবরারদের থামানো যায় না । ধরে নিলাম আবরার ভুল করেছে দাদা গিরি করে আবরারের হত্যা করে আপনি করলেন আর একটা ভুল । মনে রাখবেন ভুলকে ভুল ভাবে মোকাবেলা করলে আর একটা ভুল হয় ।

আবরার যদি জামাত কিংবা শিবির বিশ্বাস করত সে বিশ্বাসের অধিকার তার আছে। প্রতিটি মানুষের নিজের মতামত প্রকাশ করার অধিকার তার আছে। স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন আবরার তাদেরই একজন। মনে রাখবেন যেকোনো মানুষ অন্যায়ভাবে খুন হওয়ার পর যদি আপনি নিহত ব্যক্তির বিচার চাইতে গিয়ে তাঁর মতাদর্শ গ্রহণ করেন তাহলে আপনাকে হতে হবে নাস্তিক,আস্তিক, মুসলিম,হিন্দু , খৃষ্টান ও বৌদ্ধ হতে হবে। আমাদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে রাজনৈতিক দলের কর্মীরা নাস্তিক, আস্তিক, বৌদ্ধ, হিন্দু, খ্রিষ্টান, আদিবাসী, শিবির কর্মী, ছাত্রদলকর্মী, ছাত্রলীগ কর্মী, বাম পন্থী,খেলোয়াড়,সাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী, মানবাধিকার কর্মী কাউকেই ছাড়ে না। স্বার্থের জন্য খুন করা হয়, নয়তো গ্রেপ্তার করে। পাঠক বায়তুল মোকাররমে হরে কৃষ্ণ, মন্দিরে আযানের ধ্বনি,শহীদ মিনারে নারায়েতাকবীর ধ্বনি শুনতে চাই না, কিন্তু একজন নাস্তিক হত্যার যেমন বিচার চাই ঠিক সেরকম আবরার হত্যারও বিচার চাই।আবরারকে হত্যা করা ততটাই অপরাধ যতটা অপরাধ একজন নাস্তিক ব্লগারকে হত্যা করা অপরাধ ছিল।

আমি হতাশ কেন প্রতিটা হত্যাকাণ্ডের বিচার চাইতে হয়? বাংলাদেশে কি আইন নেই? কেন পান থেকে চুন খসাতে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি লাগে? বাংলাদেশে কি প্রশাসন ও বিচার বিভাগ নেই? কেন প্রধানমন্ত্রী হুকুম করলে আসামি গ্রেপ্তার হয়, আর হুকুম না করলে কিছুই হয়না? বাংলাদেশ কি দিনে দিনে মধ্যযুগে ফিরে যাচ্ছে? আমরা গণতন্ত্রের সঠিক অর্থ জানি না । আমরা গণতন্ত্র চর্চার নামে সংবিধানকে ধর্ষণ করে যাচ্ছি নিজের প্রয়োজনুযায়ী। আসলে প্রত্যেকটি মানুষ হয়তবা সস্তা জনপ্রিয়তার পিছনে দৌড়চ্ছে । আর এর ধারাবাহিকতায় সকলে নাগরিক অধিকারের তোয়াক্কা না করে খুব সহজে শর্টকাট পন্থায় রাজনৈতিক অথবা ধর্মীয় লেবাস নিয়ে নিজের অবস্থান তৈরিতে ব্যস্ত । মানবিক আচরণকে কোন স্থান দেয়া হয় না । দেশের গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন । এ ক্ষেত্র সামাজিক ব্যবস্থা , শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন ।

আবরার হত্যার দ্রুত বিচার কামনা করি । এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই।

সবাই ভাল থাকবেন ।

জ্যাক পিটার ।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of