১৮৮: মক্কা বিজয়-২: আবু সুফিয়ানের সমঝোতার প্রচেষ্টা!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের বর্ণনায় যা আমরা নিশ্চিতরূপে জানি, তা হলো, যে সহিংস ঘটনাটিকে অজুহাত হিসাবে ব্যাবহার করে স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কা আক্রমণ ও বিজয় সম্পন্ন করেছিলেন, তার কারণ হলো মুহাম্মদের বিরুদ্ধে ‘আনাস বিন যুনায়েম আল-দিলি’ নামের বানু বকর গোত্রের [কুরাইশদের মিত্র] এক অপমানজনক উক্তি। অতঃপর তার ওপর বানু খোজা গোত্রের [মুহাম্মদের মিত্র] এক তরুণের শারীরিক আক্রমণ; অতঃপর প্রতিশোধ স্পৃহায় বানু খোজার বিরুদ্ধে বানু বকর গোত্রের নেতা ‘নওফল বিন মুয়াবিয়া আল দিলির’ নেতৃত্বে বানু বকর গোত্রের কিছু লোকের অতর্কিত আক্রমণ, তাদের বেশ কিছু লোককে খুন ও সেই আক্রমণে কুরাইশদের কিছু লোকের সক্রিয় সহযোগিতা (পর্ব: ১২৯)। আদি উৎসের বর্ণনায় আমরা আরও জানতে পারি, এই ঘটনাটির পর মুহাম্মদের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত কুরাইশরা তাঁদের নেতা আবু সুফিয়ান-কে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে মদিনায় মুহাম্মদের কাছে প্রেরণ করেন। কী ঘটেছিল সেখানে? মুহাম্মদের কটূক্তি-কারী আনাস বিন যুনায়েম আল-দিলি ও মুখ্য আক্রমণকারী নওফল বিন মুয়াবিয়া আল দিলির পরিণতি কী হয়েছিল?

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (ও আল-তাবারী) বর্ণনার পুনরারম্ভ – কবিতা পঙক্তি পরিহার:
(আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, ইবনে ইশাকের ও আল-তাবারী বর্ণনারই অনুরূপ) [1] [2] [3]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১২৯) পর:

‘কুরাইশ ও বানু বকর গোত্রের লোকেরা যখন বানু খোজার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের কিছু লোক-কে হত্যা করে, যার ফলে তারা আল্লাহর নবীর সাথে কৃত চুক্তি-ভঙ্গ করে এই কারণে যে বানু খোজার লোকেরা তাঁর সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ছিল, তখন বানু কাব গোত্রের আমর বিন সালিম আল-খুযায়ি মদিনায় আল্লাহর নবীর কাছে গমন করে। (যা মক্কা বিজয়ের কারণ হয়।) আল্লাহর নবী মসজিদে অন্যান্য লোকদের সাথে বসে থাকা অবস্থায় সে সেখানে তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায় ও ঘটনাটি বলে [কবিতা: কবিতার মাধ্যমে সে ঘটনাটি তাঁদের জানায় ও মুহাম্মদের সাহায্য কামনা করে]। [4]

আল্লাহর নবী বলেন, “হে আমর বিন সালিম, তোমাদের-কে সাহায্য করা হবে।” অতঃপর যখন আকাশে মেঘের উপস্থিতি ঘটে, তিনি বলেন, “এই মেঘ বানু কাব গোত্র-কে সহায়তা করবে (আল তাবারী: ‘এই মেঘ বানু কাবের জন্য সাহায্য সূচনার ইঙ্গিত দেয়’।)”

অতঃপর, বানু খোজা গোত্রের কিছু লোককে সঙ্গে করে বুদায়েল বিন ওয়ারাকা মদিনায় আল্লাহর নবীর কাছে আসে ও তাঁকে তাদের দুরবস্থার কথা ও তাদের বিরুদ্ধে কুরাইশরা কীভাবে বানু বকর গোত্রের লোকদের সাহায্য করেছিল, তা অবহিত করায়। এই কাজটি সম্পন্ন করার পর তারা মক্কায় প্রত্যাবর্তন করে। আল্লাহর নবী বলেন, “আমার মনে হয়, সন্ধি-চুক্তিটি জোরদার করা ও আরও সময় চাওয়ার নিমিত্তে তোমারা আবু সুফিয়ান-কে এখানে আসতে দেখবে।

বুদায়েল ও তার সঙ্গীরা যখন ‘উসফান’ নামক স্থানে এসে পৌঁছে, তারা আবু সুফিয়ানের সাক্ষাত পায়। কুরাইশরা তাকে আল্লাহর নবীর কাছে তাদের সন্ধি-চুক্তি জোরদার ও আরও সময় চাওয়ার নিমিত্তে প্রেরণ করেছিল, এই কারণে যে, তারা যা করেছে তার জন্য তারা ছিল ভীত-সন্ত্রস্ত। আবু সুফিয়ান বুদায়েল-কে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায় যে কোথা থেকে সে আসছে। কারণ, তার সন্দেহ ছিল এই যে সে আল্লাহর নবীর সাথে সাক্ষাত করতে গিয়েছিল। জবাবে সে বলে যে, সে খোজাদের সাথে এই উপকূল ও উপত্যকার তলদেশে বরাবর এসেছে; মুহাম্মদের সাথে দেখা করার বিষয়টি সে অস্বীকার করে। [5]

অতঃপর মক্কার পথে বুদায়েলের রওনা হওয়ার পর আবু সুফিয়ান বলে, “যদি বুদায়েল মদিনায় গিয়ে থাকে, তবে সেখানে সে তার উটগুলোকে খেজুর খেতে দিয়ে থাকবে।” তাই সে তাদের উটগুলো যেখানে বিশ্রাম নিয়েছিল সেখানে যায় ও গোবরগুলো ঘেঁটে খেজুরের বিচি দেখতে পায়; ও বলে, “আল্লাহর কসম, আমি হলফ করে বলতে পারি, বুদায়েল মুহাম্মদের কাছ থেকেই এসেছে।”

মদিনায় পৌঁছার পর সে [আবু সুফিয়ান] তার নিজ কন্যা উম্মে হাবিবার কাছে যায়। অতঃপর যখন সে আল্লাহর নবীর বিছানার বসতে উদ্যত হয়, উম্মে হাবিবা তা এমন ভাবে গুটিয়ে ফেলে যে তাতে যেন সে বসতে না পারে। সে বলে, “হে আমার স্নেহের কন্যা, আমি জানি না, তুই কী এটা মনে করিস যে বিছানাটিই আমার জন্য বেশী ভাল, না কি আমিই বিছানাটির জন্য বেশী ভাল!”

উম্মে হাবিবা জবাবে বলে, “এটি আল্লাহর নবীর বিছানা, আর তুমি হলে এক ‘অপবিত্র মুশরিক’। আমি চাই না যে তুমি আল্লাহর নবীর বিছানায় বসো।”

সে বলে, “আল্লাহর কসম, আমাকে ছেড়ে আসার পর তুই মন্দের বশবর্তী হয়েছিস (আল তাবারী: ‘মন্দ তোকে পেয়ে বসেছে;’ আল ওয়াকিদি: ‘নিশ্চিত রূপেই মন্দ তোকে ও তোর বোধশক্তি-কে পরাস্ত করেছে)!”

(–‘since you left me you have gone to the bad’; Al Tabari: ‘Evil came over you after you left me’; Al Waqidi: ‘Surely evil has overtaken you and your understanding.’)

অতঃপর সে [আবু সুফিয়ান] আল্লাহর নবীর কাছে যায়, কিন্তু তিনি তার কথার কোন জবাব দেন না। অতঃপর সে আবু বকরের কাছে যায় ও তাকে অনুরোধ করে যে সে যেন তার পক্ষে আল্লাহর নবীর সাথে কথা বলে; আবু বকর তা করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করে। অতঃপর সে উমরের কাছে যায়, উমর তাকে বলে, “আল্লাহর নবীর কাছে কি আমার তোমার জন্য সুপারিশ করা উচিত! যদি আমরা সাথে একটি মাত্র পিপীলিকাও থাকতো, তবে তার সাথে আমি তোমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতাম।”

(আল-ওয়াকিদির অতিরিক্ত বর্ণনা: ‘অতঃপর সে উসমান বিন আফফানের কাছে যায় ও বলে, “প্রকৃতপক্ষেই এই সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন কেউ নেই যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে তোমার চেয়ে আমার নিকট অধিক প্রিয়; সুতরাং শান্তি প্রতিষ্ঠা ও চুক্তিটি জোরদার করো। নিশ্চয়ই তোমার বন্ধু কখনোই এ ব্যাপারে তোমাকে নিরাশ করবে না, কখনোই না। আল্লাহর কসম, আমি এমন কাউকে দেখি নাই যে তার সঙ্গীদের ব্যাপারে মুহাম্মদের চেয়ে বেশি উদার।” উসমান বলে, “আল্লাহর নবীর সুরক্ষার সিদ্ধান্তই হলো আমার সিদ্ধান্ত।”

Then he went to ‛Uthmān b. ‛Affān and said, “Indeed there is not one among the community who is dearer to me in relationship than you, so increase the peace and strengthen the pact. Indeed your friend will never reject it from you, ever. By God, I have never seen a man who is more generous to his companion than Muḥammad is to his companions.” ‛Uthmān said: My protection is in the protection of the Messenger of God.”)

অতঃপর সে আলীর সঙ্গে দেখা করার জন্য যায়, যার সঙ্গে ছিল আল্লাহর নবীর কন্যা ফাতিমা ও ফাতিমার সম্মুখে ছিল হামাগুড়ি দিয়ে চলা আলীর ছোট্ট ছেলে হাসান। আলীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সূত্রে সে আলীর কাছে এই আবেদন করে যে সে যেন তার পক্ষে আল্লাহর নবীর সাথে মধ্যস্থতা করে, যেন তাকে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে না হয়। কিন্তু সে তাকে এই জবাব দেয় যে, যদি আল্লাহর নবী কোন কাজের সিদ্ধান্ত নেয় তবে সেই কাজের জন্য তাঁর সাথে কারও কথা বলা অনর্থক।

অতঃপর সে ফাতিমার দিকে মুখ ফিরিয়ে বলে, “হে মুহাম্মদ কন্যা, এই অবস্থায় তুমি কী তোমার ছোট্ট ছেলেটিকে লোকদের রক্ষাকারী হিসাবে ব্যবহার করবে, যাতে সে চিরকালের জন্য আরবদের প্রভু হতে পারে?” জবাবে সে বলে, তার ছোট্ট ছেলেটি এত বড় হয় নাই যে সে এই ধরণের কাজের (আল তাবারী: ‘লোকদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার’) দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে। আর তা ছাড়া, এমন কোন ব্যক্তি নাই যে আল্লাহর নবীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে কখনো কোন সুরক্ষা দিতে পারে।

এই অত্যন্ত হতাশাজনক পরিস্থিতিতে সে আলীর কাছে পরামর্শ চায়। সে [আলী] বলে, “আমি এমন কিছুই দেখি না, যা তোমাকে সত্যিই সহায়তা করতে পারে। কিন্তু তুমি হলে বানু কিনানা গোত্রের গোত্র-প্রধান; সুতরাং লোকদের কাছে যাও ও তাদের কাছে শান্তির প্রস্তাব করো। অতঃপর বাড়ি ফিরে যাও।” যখন সে [আবু সুফিয়ান] তাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায় যে এতে কী কোন ফল হবে, জবাবে সে বলে যে সে তা মনে করে না; কিন্তু এ ছাড়া অন্য কোন সমাধানের পথ সে দেখতে পাচ্ছে না। অতঃপর আবু সুফিয়ান উঠে দাঁড়ায় ও মসজিদে গমন করে ও বলে,

“হে লোক সকল, আমি জনগণের মধ্যে শান্তির প্রস্তাবে সম্মত।”

অতঃপর সে তার উটের ওপর চড়ে বসে ও কুরাইশের কাছে ফিরে আসে। তারা তার কাছে সংবাদ জানতে চায়। সে তাদের জানায় যে: মুহাম্মদ তার কথার কোন জবাব দেয় নাই, আবু কুহাফার পুত্রের কাছ থেকে সে কোন সাহায্যই পায় নাই, আর উমর-কে সে দেখেছে এক নির্মম শত্রু (ইবনে হিশাম: ‘সবচেয়ে খারাপ শত্রু’) হিসাবে। [6]

আর আলীকে সে পেয়েছে সবচেয়ে সাহায্যকারী ব্যক্তি হিসাবে ও সে তাকে যে পরামর্শ দিয়েছে সে তাই করেছে। কিন্তু সে জানে না যে তার পরামর্শে কোন কাজ হবে কিনা। সে সেখানে কী কাজ করেছে তা তাদের অবহিত করায়। যখন তারা জানতে চায় যে মুহাম্মদ তার [আলীর] কথায় সমর্থন করেছেন কি না, আবু সুফিয়ান স্বীকার করে যে তিনি তা করেন নাই। তারা অভিযোগ করে বলে যে, আলী তাকে বোকা বানিয়েছে ও তার অভিমতগুলো ছিল মূল্যহীন। অতঃপর আবু সুফিয়ান বলে যে এ ছাড়া করার বা বলার কোন কিছুই সে খুঁজে পায় নাই।

আল-ওয়াকিদির অতিরিক্ত প্রাসঙ্গিক বর্ণনা: [3]

‘হিযাম বিন হিশাম বিন খালিদ আল-কাবি <তার পিতা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: আমর বিন সালিম আল-খুযায়ি খোজা গোত্রের চল্লিশ জন অশ্বারোহী সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর নবীর সঙ্গে সাক্ষাত, তাঁকে ঘটনাটি জানানো ও কীভাবে কুরাইশরা বানু খোজা গোত্রের বিরুদ্ধে বানু কাব গোত্রকে সাহায্য করেছিল তা জানিয়ে তাঁর সাহায্য প্রাপ্তির জন্য মদিনায় গমন করে। সেখানে সে কবিতার মাধ্যমে ঘটনাটি জানানোর পর, বলে,

“হে আল্লাহর নবী, নিশ্চিতই আনাস বিন যুনায়েম আল-দিলি আপনার বিরুদ্ধে অপমানজনক উক্তি করেছে।”

আল্লাহর নবী তাকে হত্যার অনুমতি দান করেন। এই সংবাদটি আনাস বিন যুনায়েম আল-দিলির নিকট পৌঁছে ও সে আল্লাহর নবীর কাছে আগমন করে ও কবিতার মাধ্যমে এই ঘটনার কৈফিয়ত, দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করে। বানু কাব গোত্রের নেতা নওফল বিন মুয়াবিয়া আল দিলি মুহাম্মদের সাথে দেখা করে ও বলে,

“হে আল্লাহর নবী, আপনি হলেন উত্তম ক্ষমাশীল। আমাদের মধ্যে এমন কী কেউ আছে যে আপনার বিরুদ্ধে অবমাননাকর উক্তি ও আপনাকে মর্মাহত করে নাই? আমরা ছিলাম জাহেলিয়াত যুগে, আমরা জানতাম না কী আমাদের গ্রহণ করা উচিত ও কী আমাদের পরিত্যাগ করা উচিত, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের আপনার মাধ্যমে পথ প্রদর্শন ও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। এই অশ্বারোহীরা তার ওপর মিথ্যা আরোপ করেছে ও তারা আপনার ক্রমবর্ধমান অনুসারী।”

জবাবে তিনি বলেন, “অশ্বারোহীদের কথা ছাড়। সত্যিই তিহামায় আমারা এমন কাউকে পাই নাই – কাছের কিংবা দূরের – যারা বানু খোজা গোত্রের লোকদের চেয়ে আমাদের কাছে বশী অন্তরঙ্গ।”

নওফল বিন মুয়াবিয়া চুপ করে থাকে ও তার চুপ করে থাকা অবস্থায় আল্লাহর নবী বলেন, “আমি তাকে (অর্থাৎ, আনাস বিন যুনায়েম) ক্ষমা করে দিয়েছি।” —-

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

>>> ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের বিশিষ্ট মুসলিম ঐতিহাসিকদের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, মুহাম্মদের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত কুরাইশরা তাঁদের নেতা আবু সুফিয়ান বিন হারব-কে “শান্তি রক্ষার” প্রচেষ্টায় মদিনায় মুহাম্মদের কাছে প্রেরণ করেছিলেন। মদিনায় আসার পর এই কুরাইশ নেতা সর্বপ্রথম তাঁর নিজ কন্যা নবী পত্নী ‘উম্মে হাবিবার’ কাছে গমন করেছিলেন। মুহাম্মদের আদর্শে অনুপ্রাণিত এই কন্যাটি তাঁর জন্মদাতা পিতাকে ‘অপবিত্র মুশরিক’ বলে চরম অপমান করেছিলেন। আল্লাহর নামে এটি মুহাম্মদের শিক্ষা, মুহাম্মদের ভাষায়:

৯:২৮: “হে ঈমানদারগণ! মুশরিকরা তো অপবিত্র। সুতরাং এ বছরের পর তারা যেন মসজিদুল-হারামের নিকট না আসে।—“

অতঃপর, আবু সুফিয়ান নবী মুহাম্মদের সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। মুহাম্মদ তাঁর কথার কোন জবাবই দেন নাই। অতঃপর একে একে তিনি মুহাম্মদের বিশিষ্ট অনুসারী ও নবী কন্যা ফাতিমার সঙ্গে দেখা করে সমঝোতার প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়েও বিফল হয়েছিলেন। এমন কী পরিশেষে তিনি মসজিদে গিয়ে উপস্থিত সকল মুসলমানদের কাছে “শান্তির প্রস্তাব” করেছিলেন। তাঁর এই শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সমঝোতার প্রচেষ্টায় মুহাম্মদ ও তাঁর অনুসারীরা এবং সর্বোপরি তাঁর নিজ ঔরসজাত কন্যা তাঁর প্রতি কী রূপ আচরণ করেছিলেন, তা ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট।

অন্যদিকে, আল ওয়াকিদির ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় আমরা জানতে পারি, বানু বকর ও বানু খোজা গোত্রের এই সর্বশেষ ঘটনায় মুখ্য চরিত্র মুহাম্মদের কটুক্তিকারী আনাস বিন যুনায়েম আল-দিলি ও মুখ্য আক্রমণকারী বানু বকর গোত্রের নেতা নওফল বিন মুয়াবিয়া আল দিলি-কে মুহাম্মদ ক্ষমা করে দিয়েছিলেন!

কেন?
কারণ, তাঁরা মুহাম্মদের বশ্যতা স্বীকার করে তাঁকে নবী হিসাবে স্বীকার করে নিয়েছিলেন। মুহাম্মদের সাফল্যের এক বিশেষ চাবিকাঠি হলো: অনুসারীদের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম সহমর্মিতা। মুহাম্মদের চরিত্রের এক অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি তাঁর চরম শত্রুকেও সহাস্যে ক্ষমা করতে পারতেন “যদি সে” তাঁর বশ্যতা স্বীকার করে তাঁকে নবী হিসাবে গ্রহণ করে ‘ইসলামে’ দীক্ষিত হয়। এটি ছিল মুহাম্মদের চরিত্রের এক বিশেষ গুন! এ বিষয়ের আলোচনা “খালিদ বিন আল-ওয়ালিদের ইসলাম গ্রহণ (পর্ব: ১৭৮)” পর্বে করা হয়েছে।

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনার অতিরিক্ত বিশেষ অংশটির মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি।

The Narratives of Muhammad Ibn Ishaq:

‘When Quraysh and B. Bakr had combined against Khuza’a and killed some of them, there by breaking their covenanted word with the apostle in violating Khuza’a who were in treaty with him, ‘Amr b. Salim al-Khuza’i of the clan of B. Ka’b went to the apostle in Medina. (This led to the conquest of Mecca.) He stood by him as he was sitting among the men in the mosque and said: (poetry)

The apostle said, ‘May you be helped O ‘Amr b. Salim!’ Then as a cloud appeared in the sky he said, ‘This cloud will provide help for the B. Ka’b’.’

Then Budayl b. Warqa came with a number of Khuza’a to the apostle in Medina and told him of their misfortune and how Quraysh had helped B. Bakr against them. Having done so they returned to Mecca. The apostle said, ‘I think you will see Abu Sufyan coming to strengthen the agreement and to ask for more time.’

When Budayl and his companions had got as far as ‘Usfan they met Abu Sufyan who had been sent by Quraysh to strengthen the agreement with the apostle and to ask for an extension, for they were afraid of the consequences of what they had done. Abu Sufyan asked Budayl whence he had come because he suspected him of having visited the apostle. He replied that he had come along the shore and the bottom of this valley with the Khuza’a, and denied that he had been to Muhammad. When Budayl had gone off to Mecca Abu Safyan said,’If Budayl came to Medina he will have given his camels dates to eat there,’ so he went to where the camels had knelt and split up their dung and looked at the stones. ‘By God , I swear Budayl has come from Muhammad,’ he said.

Having arrived at Medina he went in to his daughter Umma Habiba, and as he went to sit on the apostle’s carpet she folded it up so that he could not sit on it. ‘My dear daughter,’ he said, ‘I hardly know if you think that the carpet is too good for me or that I am too good for the carpet!’ She replied: ‘It is apostle’s carpet and you are an unclean polytheist. I do not want you to sit on the apostle’s carpet.’ ‘By God,’ he said, ‘since you left me you have gone to the bad.’

Then he went to the apostle, who would not speak to him; he then went to Abu Bakr and asked him to speak to the apostle for him; he refused to do so. Then he went to ‘Umar who said, ‘Should I intercede for you with the apostle! If I had only an ant I would fight you with it.’ Then he went in to see ‘Ali with whom was Fatima the apostle’s daughter who had with her ‘Ali’s little son Hasan crawling in front of her. He appealed to ‘Ali on the ground of their close relationship to intercede with the apostle so that he would not have to return disappointed; but he answered that if the apostle had determined on a thing it was useless for anyone to talk to him about it; so he turned to Fatima and said, ‘O daughter of Muhammad, will you let your little son here act as a protector between men so that he may become lord of the Arabs for ever?’ She replied that her little boy was not old enough to undertake such a task and in any case none could give protection against God’s apostle. He then asked for ‘Ali’s advice in the desperate situation. He said, ‘I do not see anything that can really help you, but you are the chief of B. Kinana, so get up and grant protection between men and then go back home.’ When he asked if he thought that that would do any good he replied that he did not, but that he could see nothing else. Thereupon Abu Sufyan got up in the mosque and said, ‘O men, I grant protection between men.’ He then mounted his camel and rode off to Quraysh who asked for his news. He said that Muhammad would not speak to him, that he got no good from Abu Quhafa’s son, and that he found ‘Umar an implacable enemy. He had found ‘Ali the most helpful and he had done what he recommended, though he did not know whether it would do any good. He told them what he had done and when they asked whether Muhammad had endorsed his words, he had to admit that he had not. They complained that ‘Ali had made a fool of him and that his pronouncement was valueless, and he said that he could find nothing else to do or say.

Al-Waqidi added:

‘Ḥizam b. Hishām b. Khālid al-Ka‛bī related to me from his father, who said: ‛Amr [b. Sālim al-Khuzā‛a went out with forty riders from the Khuzā‛a to seek the help of the Messenger of God and inform him about what happened to them and how the Quraysh helped the Banū Bakr against the Khuzā‛a, —-

When the riders concluded, they said, “O Messenger of God, indeed Anas b. Zunaym al-Dīlī insulted you.” The Messenger of God permitted his blood to be taken. It reached Anas b. Zunaym and he arrived before the Messenger of God apologizing because of what had reached him. He said: (poetry)

Ḥizām related this to me. His poem and his apology reached the Messenger of God. Nawfal b. Mu‛āwiya al-Dīlī spoke to him and said, “O Messenger of God, you are the first of men in forgiveness. [Page 791] Who among us has not hurt and insulted you? We were in jāhiliyya and we did not know what we should take and what we should leave, until God guided us through you from destruction. The riders lied about him and they increased with you. He said, “Leave the riders. Indeed, we have not found in Tihāma one who possesses a relationship—near or distant—who has better fulfilled with us than the Khuzā‛a.” Nawfal b. Mu‛āwiya was silent, and when he was silent the Messenger of God said, “I have forgiven him [i.e. Anas b. Zunaym].” —‘

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল): পৃষ্ঠা ৫৪২-৫৪৪
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] আল-তাবারী (৮৩৯-৯২৩ সাল): ভলুউম ৮; পৃষ্ঠা ১৬২-১৬৫
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21292&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[3] আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ সাল): পৃষ্ঠা ৭৮৮-৭৯৫; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৩৮৮-৩৯২
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-

[4] Ibid আল তাবারী; নোট নম্বর ৬৮৬: “বানু কাব বিন আমর ছিল বানু খোজা গোত্রের এক উপগোত্র।”
[5] ‘উসফান স্থানটির অবস্থান ছিল মক্কা থেকে মদিনা যাওয়ার পথে দুই দিনের দূরত্বে।’
[6] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক: ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৭৯৫; পৃষ্ঠা ৭৭৩

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

51 − 48 =