বিভ্রান্তি – কোরআন নবী, না আল্লাহর বাণী, নাকি অন্য কারোর ?

বিভ্রান্তি – কোরআন নবী,না আল্লাহর বাণী,নাকি অন্য কারোর ?    

কোরআন হল মুসলমানদের জন্য সর্বকালের জন্য জীবন পরিচালনার জন্য একটি আদর্শ কিতাব । এই কিতাবের অর্থ বুঝতে হলে তাফসীর পড়তে হয় । কিন্তু আল্লাহ এমনটা কোথাও কোরআনে বলে নাই যে তাফসীর অনুসারে কোরান বুঝতে হবে । আর হাদিস সমূহ মুসলমানদের অনুসরণ করতে হবে । নবী যা করেছে তা মোমিনদের করতে হবে । কোরআন হাদিস অস্বীকার করা কিংবা এড়িয়ে চলতে মোমিনের পক্ষে কখনো সম্ভব নয় । ১৪০০ বছর পূর্বের কিতাব এখন আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে সংঘর্ষিক ও অমানবিক । কোরআন অর্থ সহ পড়াটা পূর্বে দূরহ ছিল । তথ্য প্রযুক্তির যুগে কোরান এখন পড়া অনেক সহজ ।এখন বিখ্যাত আলেমদের বাংলায় কোরআন অনুবাদ বাজারে কিংবা অনলাইনে সহজ লভ্য । এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কোরআনের বাংলা অনুবাদও সহজ লভ্য । এখন কোরআন পড়ে বুঝতে আর আরবি ভাষার প্রয়োজন হয় না ।আমিও এখন সহজে কোরআন বাংলায় পড়ি ।বাংলায় অনুবাদকদের অনেক ধন্যবাদ।

এখন কোরআন পড়তে গিয়ে আমি মাঝে মাঝে হিমসিম খাই , কেননা কোরআনের আমি ,আমরা, যিনি, তিনি ইত্যাদি শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে । এগুলো বিশ্লেষণ করলে কখনো কোরআন মুহম্মদের বাণী, কখনো আল্লাহর বাণী, কখনো জিবরাইলের বাণী আবার কখনো লেখকের বাণী। মনে রাখবেন কোরআন সংকলন কিংবা অনুবাদের সময় ইসলামী স্কলাররা সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছে , যাতে একে সর্বশ্রেষ্ঠ কিতাব হিসাবে ফুটিয়ে তোলা যায়।এরপরও যারা এ কোরান বুঝে পড়ে তারা বিভ্রান্তির মধ্যে থাকে। আমি এখন কয়েকটি কোরআনের আয়াত আলোচনা করবো এবং আপনারা সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন যে আমার বিভ্রান্তি যুক্তিসঙ্গত কি না?

সূরা নিসা আয়াত ৫৬ ।
”এতে সন্দেহ নেই যে, আমার নিদর্শন সমূহের প্রতি যেসব লোক অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করবে, আমি তাদেরকে আগুনে নিক্ষেপ করব। তাদের চামড়াগুলো যখন জ্বলে-পুড়ে যাবে, তখন আবার আমি তা পালটে দেব অন্য চামড়া দিয়ে, যাতে তারা আযাব আস্বাদন করতে থাকে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, হেকমতের অধিকারী।”

আয়াতটি মন দিয়ে পড়ুন। এখানে আল্লাহ প্রথমে দোযখের কিছু আযাবের কথা বলেছেন। যা আমরা আল্লাহর নিজস্ব বক্তব্য বলে ধরে নিতে পারি এবং শেষ লাইনে বলা হয়েছে” নিশ্চয়ই আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী এবং হেকমতের অধিকারী”। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই লাইনটি কার বক্তব্য ?আল্লাহর? না কি নবী মহম্মদের?যদি আল্লাহর হতো, তাহলে উনি বলতেন “নিশ্চিত থাকো আমি মহা পরাক্রমশালী ও হেকমতের অধিকারী”।আয়াতের মধ্যে দুজন বক্তার অস্তিত্ব আসে। এতে প্রমাণিত হয় যে কোরআন পুরোপুরি আল্লাহর বাণী নয়। এতে নবী মহম্মদের গোঁজামিল পরিলক্ষিত হয়।

সূরা আনআম, আয়াত-০১।
”সর্ববিধ প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি নভোমন্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলোর উদ্ভব করেছেন। তথাপি কাফেররা স্বীয় পালনকর্তার সাথে অন্যান্যকে সমতুল্য স্থির করে।”

এখানে আল্লাহ নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করেছে এবং আলো ও অন্ধকার সৃষ্টি করেছে । এটা বলেছে নবী অথবা জিবরাইল । আল্লাহর বাণী হলে নিশ্চয়ই যিনি ব্যবহার না করে আমি ব্যবহার করা হতো । এটা একটা সাধারণ ব্যাকরণের ভুল নাকি আল্লাহ বা নবী মোহাম্মদ ব্যাকরণ জানতেন না ।আয়াতের এ অংশে আমি ব্যবহার করলে তো কোরান পাঠক বিভ্রান্ত হতো না ।

সূরা তওবা, আয়াত-৪৩।
”আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, আপনি কেন তাদের অব্যাহতি দিলেন, যে পর্যন্ত না আপনার কাছে পরিষ্কার হয়ে যেত সত্যবাদীরা এবং জেনে নিতেন মিথ্যাবাদীদের।”

সূরা তওবার এই আয়াতের তাফসীর সম্বন্ধে আমরা নিশ্চয়ই অবগত আছি । অনেকে বিনা কারণে নিজ থেকে জিহাদ থেকে বিরত ছিল । আর তাদের উদ্দেশ্য করে এই আয়াত বর্ণনা করা হয়েছে । কিন্তু এখানে বুঝা যায় যে জিবরাইল মোহাম্মদকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন । আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয়ই নবী মোহম্মদ বা তৃতীয় কোন ব্যক্তি বলেছেন । এটা কি জিবরাইল নয় ?

সূরা তোহা আয়াত ৫৩।
”তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে শয্যা করেছেন এবং তাতে চলার পথ করেছেন, আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করেছেন এবং তা দ্বারা আমি বিভিন্ন প্রকার উদ্ভিদ উৎপন্ন করেছি।”

এই আয়াত তো সম্পূর্ণ বিভ্রান্তি করার মতো । এখানে তিনি বলতে যদি আল্লাহ বুঝা যায় তাহলে আমি কে? নিশ্চয়ই তিনি আর আমি একই ব্যক্তি নয় । বুঝলাম আল্লাহ পৃথিবী শয্যা করেছেন , তবে উদ্ভিদ উৎপন্ন কারী এই আমি কে ?

সূরা ফুরসিলাত/হা মীম সেজদাহ, আয়াত ১২।
”অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে দু’দিনে সপ্ত আকাশ করে দিলেন এবং প্রত্যেক আকাশে তার আদেশ প্রেরণ করলেন। আমি নিকটবর্তী আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষিত করেছি। এটা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর ব্যবস্থাপনা।”

সহজেই বুঝালাম আল্লাহ দুই দিনে সপ্ত আকাশ তৈরি করলেন । কিন্তু নিকটবর্তী আকাশের প্রদীপমালা দ্বারা সুশোভিত ও সংরক্ষণ করলো কে ? নবী মুহম্মদের তো তখন জন্মই হয়নি । তাহলে কি এটা জিবরাইল করেছেন ? নাকি কোন ব্যাকরণগত সমস্যা। এমন লেখাটি আল্লাহর উচিত হয়নি । আল্লাহ মনে হয় জানতেন না কোরানের অনুবাদ কোনদিন হবে । মোমিনদের আল্লাহর এমন অজ্ঞতা দেখে আমার করুণা হয় ।

সূরা যারিয়াত , আয়াত-৫০।
”অতএব, আল্লাহর দিকে ধাবিত হও। আমি তাঁর তরফ থেকে তোমাদের জন্যে সুস্পষ্ট সতর্ককারী।”

নিশ্চয়ই নবী মোহাম্মদ এখানে মোমিনদের বলেছেন যে, আল্লাহর দিকে ধাবিত হতে । নবী মোহাম্মদ যদি এমন বলে থাকে তা হলে কোরআন আল্লাহর বানী হয় কেমনে? সবই যেন কেমন কেমন লাগছে । আমি আবারও পাঠকদের মনে করিয়ে দিচ্ছি,এই আয়াতের অনুবাদ কিন্তু বিশিষ্ট ইসলামিক ব্যক্তিত্ব দিয়ে করা হয়েছে । তারা কিন্তু আরবি এবং বাংলায় সমান সমান পারদর্শী । তাহলে বিভ্রান্ত কে কাকে করছে ? বিষয়টি নিয়ে একটু ভাববেন ।

সূরা যারিয়াত, আয়াত-৫১।
”তোমরা আল্লাহর সাথে কোন উপাস্য সাব্যস্ত করো না। আমি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্ককারী।”

অবশ্যই আমার সাথে একমত হবেন। প্রথমাংশ নিশ্চয়ই আল্লাহ বলেন নাই । হয় জিবরাইল অথবা নবী মোহম্মদ বলেছে । দ্বিতীয় অংশ অবশ্যই নবী মোহাম্মদ । তাহলে আল্লাহর বানী কি নবী মোহম্মদ কিংবা কাল্পনিক জিবরাইলের তৈরি । আবারও আমি বিভ্রান্তি হলাম ।

সূরা মুমতাহিনাহ , আয়াত -৬০।
”যারা তোমাদের শত্রু আল্লাহ তাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সম্ভবত: বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সবই করতে পারেন এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।”

এখানে আমার বিভ্রান্তি সম্ভবত নিয়ে । আল্লাহ সবই জানেন । তাহলে আল্লাহ কেন সম্ভবত বললেন । তাহলে এটা অবশ্যই আল্লাহর কথা হইত না । আল্লাহর যেহেতু বানী এটা হতে পারে না।তা হলে এটা অবশ্যই নবী মোহম্মদ বলেছেন । আর নবী মোহম্মদ সম্ভবত বলে বুঝিয়েছেন যে,নবী মোহাম্মদেরও আল্লাহর প্রতি ইমান কিংবা আস্থা নেই । তাই নবী এখানে সম্ভবত শব্দটি ডাউন লোড করেছেন ।

সূরা আল মূনাফিকুন আয়াত -১।
”মুনাফিকরা আপনার কাছে এসে বলে: আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূল। আল্লাহ জানেন যে, আপনি অবশ্যই আল্লাহর রসূল এবং আল্লাহ সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, মুনাফিকরা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।”

মুনাফিকদের খবর দিতে গিয়ে আল্লাহ আয়াত নিয়ে আসেন ।এমন ঘুরিয়ে প্যাঁচিয়ে দুর্বল বাক্য গঠনে আমি বিভ্রান্ত । মুহাম্মদ নিজেকে আল্লাহর রসুল পরমান করার জন্য এমনটা বলেছে কি ? আর আল্লাহকে সাক্ষ্য দিতে হবে কেন ? কোরান তো আল্লাহরই বানী । সবই যেন জগাখিচুড়ি জটলা ।

সূরা আত তাহরীম , আয়াত -৫।
”যদি নবী তোমাদের সকলকে পরিত্যাগ করেন, তবে সম্ভবত: তাঁর পালনকর্তা তাঁকে পরিবর্তে দিবেন তোমাদের চাইতে উত্তম স্ত্রী, যারা হবে আজ্ঞাবহ, ইমানদার, নামাযী তওবাকারিণী, এবাদতকারিণী, রোযাদার, অ কুমারী ও কুমারী।”

আবারও সম্ভবত: । আল্লাহ কি সম্ভবত বলার কথা ? তিনি তো দো জাহানের মালিক । তিনি সব কিছু জানেন । তার হুকুম ছাড়া কখনই কোন কিছু হয় না । তাহলে সন্দেহ কার নবী মোহাম্মদের? এসব আমাকে বিভ্রান্তি করে ।

সূরা আত তাহরীম , আয়াত-৮।
”মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ তা’আলার কাছে তওবা কর-আন্তরিক তওবা। আশা করা যায়, তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের মন্দ কর্মসমূহ মোচন করে দেবেন এবং তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। সেদিন আল্লাহ নবী এবং তাঁর বিশ্বাসী সহচরদেরকে অপদস্থ করবেন না। তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানদিকে ছুটাছুটি করবে। তারা বলবে: হে আমাদের পালনকর্তা, আমাদের নূরকে পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর উপর সর্ব শক্তিমান।”

তওবা করতে কে বললেন ? নিশ্চয়ই নবী মোহাম্মদ ।আবার নবীর অবস্থান যখন বলা হল তখন মনে হচ্ছে আল্লাহ বলছেন । এটাকে কি পাঠক বিভ্রান্তি বলবেন ? নাকি ব্যাকরণগত ভুল বলে স্বীকার করবেন । কোরান কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ । এখানে কোন ভুল নাই।

এখন আসল কথায় আসি, কোরআন যে আল্লার বাণী নয় একথা উপরে উল্লেখিত কোরআনের ব্যাকরণগত ভুল দিয়েই প্রতীয়মান হয় । এখন এটা কি জিবরাইলের কথা , সেটা হওয়ার সম্ভাবনা নিতান্তই কম,কেননা জিবরাইলের উপস্থিতির ব্যাপারে নবী মোহম্মদ ছাড়া আর কেউ প্রমাণ দিতে পারে নাই । আর আল্লাহর প্রমাণ আজ পর্যন্ত আস্তিকরাও দিতে পারে নাই । তবে ইসলাম ধর্ম আমার মতে বিশ্বাসের উপর টিকে আছে , এটা সহজে বোঝা যায় ।কোরআন যে আল্লার মুখের কথা নয়, এটা যে হযরত মুহম্মদের চিন্তা চেতনার ফসল ।এরকম কথা বলা হলেই মোমিনরা কল্লা কাটার জন্য দৌড়ঝাঁপ করে। এতে অবশ্য তাদের কোন দোষ নেই। কারণ, হযরত মুহম্মদ তো নিজেই তাদের এ শিক্ষা দিয়ে গেছেন। নবী জীবিত থাকা কালীন সময়ে কোরানের বাণী চ্যালেঞ্জ কারী ও সন্দেহ বাদীদের যাকে যেভাবে পেয়েছেন সেভাবেই হত্যা করিয়েছেন।এখনো এ রীতির রেওয়াজ আছে ।আমার এখন কোরআনে বিভিন্ন বাক্যের ব্যবহার কৃত যিনি , তিনি , আমি , আমরা , সম্ভবত ইত্যাদি সংশয়ের কিংবা বিভ্রান্তির মূলে। কেননা এসব ব্যাকরণগত ভুলের জন্য কখনো দ্বিতীয় আবার কখনো তৃতীয় একজনের উপস্থিতি পাওয়া যায় এবং আমার কাছে এ বিভ্রান্তির করন হিসেবে এক ব্যক্তিকেই মনে হয় ,তা হল নবী মুহম্মদ।

জ্যাক পিটার।

2
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
1 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
2 Comment authors
জ্যাক পিটারনুর নবী দুলাল Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
নুর নবী দুলাল
পথচারী

এক কথায় বলতে গেলে অসাধারণ যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করেছেন। আল্লার এত ব্যকরণগত ভুল মেনে নেওয়া যায় না।