বাঙালি হিন্দু ও মুসলিমদের ধর্মীয় হিংসায় মিল আছে ।

বাঙালি হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মীয় হিংসাকে ভালোবাসে। মুখে সম্প্রীতির কথা বল্লেও অন্তরে সাম্প্রদায়িকতা লালন-পালন করে। বাঙালি হিন্দুরা ঈশরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নাস্তিক আখ্যা দিয়েছিলেন। জীবদ্দশায় মহান বিদ্যাসাগর বাঙালি হিন্দুদের দেওয়া অনেক অপমান, লাঞ্ছনা , বঞ্চনা হাসি মুখে করেছিলেন বরণ। এই মানুষটি মানবতার ধর্মে বিশ্বাস করতেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি উন্নয়ন এবং সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কার সংস্কারে তার অবদান আমাদের আলোর পথ দেখিয়েছে। এখনো বাঙালি হিন্দুরা তার নাম নিন্দা রচনা করে। হিন্দু জাতীয়তাবাদী উগ্র রাজনীতির সর্মথকরা তার ভাস্কর্য ভেঙ্গে দিয়েছে। উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদী শক্তি একজন ধর্মনিরেপেক্ষ কবি শ্রীজাতকে আক্রমণ করে। কবি ধর্ষণের বিপক্ষে লিখেছিলেন –

‘আমাকে ধর্ষণ করবে যদ্দিন কবর থেকে তুলে— কন্ডোম পরানো থাকবে, তোমার ওই ধর্মের ত্রিশূলে!’

কলকাতায় নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন আশ্রয় নিয়েছিলে। তিঁনি একজন ধর্মনিরেপেক্ষ ও নাস্তিক জনপ্রিয় লেখিকা। কলকাতার বাঙালি মুসলিমরা তাকে আপন করে নেয়নি বরং তাকে বিভিন্ন ভাবে অপমান করেছে।

ধার্মিকরা কেন কবি, কবিতা ও লেখকদের ভয়পায়। কবিরা, লেখকরা মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করে না, আঘাত করে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কারে। বাংলাদেশে মুসলিম বাঙালিরা সৃজনশীল, ধর্মনিরেপেক্ষ, ও সাম্যবাদী কবি ও লেখকদের ধর্মের শত্রু ভাবে। যারা গজল লিখে তাদের আপন ভাবে। সামাজিক ও ধর্মীয় কুসংস্কারের সংস্কারের দায়িত্ব যারা কাঁধে তুলে নেয় তাঁদের মৌলবাদী গুষ্ঠী হত্যা করে। বাঙালি মুসলিম সমাজে হাজার বছরের একটি ধর্মীয় অন্ধ বিশ্বাস আছে , ধর্মান্ধরা মনে করে ধর্মনিরেপক্ষ কিংবা নাস্তিক কিংবা ব্লগারদের হত্যা করলে স্বর্গে যাওয়া যায়। কারণ তারা ইসলামের শত্রু , তাঁদের লেখা ইসলামী মূল্যবোধে আঘাত করে। এশিয়ার ইতিহাসে সবচেবেশি মুক্তমনা লেখক, ব্লগার , নাস্তিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে বাংলাদেশে।

শুধু কি এখানেই শেষ ? মাওলানারা জীবিত ও মৃত গুণী ব্যাক্তিদের নিয়ে নিন্দা রটাচ্ছেন হচ্ছে সন্ধ্যাকালীন ওয়াজ মাহফিলে। ডঃ কামাল, বাংলাদেশের সংবিধানের জনক, তাকে নিয়ে ওয়াজমাহফিলে বিকৃত কথা বলা হয়। বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী আয়ূব বাচ্চু , গীতিকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের নামে বিকৃত মন্তব্য করা হয়। বিশিষ্ট লেখক জাফর ইকবাল , হুমায়ুন আজাদের নিয়ে বিকৃত মন্তব্য করা হয়। মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস- অবিশ্বাস নিয়ে নিয়ে আঘাত করা হয়। রাষ্টের দায়িত্ব এবিষয়গুলি দেখা ও আইনি বেবস্থা গ্রহণ করা। যে সমাজে গুণীদের অবমূল্যায়ন করা হয় , সে সমাজে গুণীরা জন্ম নেয় না। বাংলাদেশ মেধা শুন্য হলে ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার বাড়বে , অস্থিরতা বাড়বে। আমাদের আগামী প্রজন্ম আলোর পথ ছেড়ে অন্ধকারে হাঁটবে।

2
Leave a Reply

avatar
2 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
2 Comment authors
MahbubYusuf Sheikh Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Mahbub
পথচারী
Mahbub

I do agree with you. We have to believe on humanity for a better human life. I never support killing for religion.