সম্প্রীতি নাকি ভণ্ডামি?

যারা মনে করেন ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম মানবতার ধর্ম, প্রকৃত মুসলিম কখনো জঙ্গি হয় না। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলতেছি, ইসলাম পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর একটি ধর্মের নাম। প্রকৃত মুসলিম মানেই জঙ্গি, আর যারা জঙ্গিবাদ সমর্থন করেনা তারা কখনো প্রকৃত মুসলিম হতে পারে না। এটা কোরানেই বলা হয়েছে! যারা জিহাদ অস্বীকার করে তারা কখনো প্রকৃত মুসলিম না।

ইসলাম যে কতটা অমানবিক, কতটা ভয়ংকর ধর্ম, বাংলাদেশ সহ ভারত উপমহাদেশের মুসলমানরা গত কয়েক দশকে তার প্রমাণ দিয়ে দিয়েছে। ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুক মেসেঞ্জারে সামান্য কিছু চ্যাটিংয়ের কারনে মুসলমানরা যতটা তাণ্ডব চালিয়েছে, তাতেই প্রমান হয়ে যায় ইসলাম কতটা ভয়ঙ্কর ধর্ম। যে ঘটনাটা ছিল পুরোপুরি মৃত্যু এবং বানানো।

এক ছেলেকে দেখলাম ফেসবুক লাইভে এসে ইংরেজিতে বলতেছে, কিল মি – ‘কিল হিম’ যাইহোক ছেলেটা হয়তো ইংরেজিতে এতটা দক্ষ না। তাই ভুল করে ‘কিল হিম’ বলে ফেলেছে। ছেলেটা বলেছে বাংলাদেশ নাকি ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ, তাই এদেশে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের কথা বলা চলবে না। এই দেশ মুসলমানের দেশ, এই দেশ মোহাম্মদের দেশ, এই দেশের অধিকার একমাত্র মুসলমানের, অন্য কেউ এইদেশে অধিকার খাটাতে পারবে না। কথাটা ভয়ঙ্কর, দুঃখজনক, এবং হতাশাজনক।

বর্তমানে এই পৃথিবীতে ৭৫০ কোটি মানুষের বসবাস। তার মধ্যে ২০ ভাগ মুসলিম, বাকি ৮০ ভাগ নাস্তিক-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান এবং অন্যান্য ধর্মালম্বী। এই উগ্র ছেলেটার মত পৃথিবীর সব মানুষ যদি একই যুক্তিতে বলে এই পৃথিবীর ৮০ ভাগ মানুষ ভিন্নধর্মাবলম্বী তাই এখানে মুসলিমদের মাথা তুলে বাঁচার কোন অধিকার নেই। তখন এই উগ্র ভাইটির মত অন্যান্য মুসলমানদের অবস্থানটা কোথায় যাবে? পৃথিবী না হয় বাদই দিলাম, শুধুমাত্র ভারতের জনগণ যদি বলে, ৭৫ ভাগ হিন্দুধর্মাবলম্বীদের দেশে মুসলমানদের বসবাস করার কোন অধিকার নেই, তখন ভারতের মুসলমানদের অবস্থানটা কি হবে?

ভোলার ঘটনায় চারজন মারা গেছে, সেই সূত্র ধরে হিন্দুদের দমন করতে সারা বাংলাদেশে আন্দোলন হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতেও। একটা ছবিতে দেখলাম চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটা মন্দিরের সামনে অনেকগুলো মাদ্রাসার ছাত্র দাঁড়িয়ে মন্দিরটাকে রক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, বিষয়টা হাস্যকর!

কারণ হামলটাও তারাই করবে, আর রক্ষা করার কাজটাও তারা নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। এগুলো লোক দেখানো। এই মাদ্রাসা পড়ুয়া উগ্র ধর্মান্ধদের হাত থেকে নিজ মতাদর্শের বাইরের মানুষরাও রক্ষা পায় না। সেখানে ভিন্নধর্মাবলম্বীদের মন্দির তো অনেক দূরের কথা। মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছোট ছোট বাচ্চাদের, গ্রামের সহজ সরল মানুষদের, বাংলার ধর্মান্ধ তৌহিদী জনতাদের, এভাবেই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে যাচ্ছে বাংলার মোল্লাতন্ত্রের ভন্ড মোল্লারা। বাংলার মোল্লাতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে, জামাত ইসলাম, হেফাজত ইসলাম, চরমোনাই, এদের হাত ধরেই নষ্ট হয়েছে বাংলাদেশ।

এদের আদর্শ বাস্তবায়িত করতে যারা সমাজে ধর্মান্ধতার বিষফোঁড়া ছড়াচ্ছে, তারা হলো মাদ্রাসার শিক্ষক, মাহফিলের হুজুর, মসজিদের ইমাম, এবং মসজিদ কমিটি সহ বিভিন্ন এলাকার রাজনীতিবিদরা। এরাই বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ধর্মের নামে দিনের পর দিন এইসব উগ্রতা ছড়াচ্ছে। আর এদের অর্থের যোগান দিচ্ছে এলাকার প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক নেতারা।

গত একশো বছরে, বাংলাদেশ থেকে মুসলমানদের ভয়ে কোটি কোটি ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। আর সেই মুসলিম ধর্মান্ধরা একটা মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে সেটাকে রক্ষা করার ছবি ভাইরাল করে মানুষকে সম্প্রীতি শিখাচ্ছে। কিন্তু আসল সত্য হলো দিনশেষে তারাই মন্দিরে হামলা চালাবে, তারাই হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দিবে, তারাই হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণ করবে, তারাই ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে হিন্দুদের থাকার অধিকার নেই বলে লাফালাফি করবে। তারই চাপাতি দিয়ে নাস্তিকদের মাথা আলাদা করার ঘোষনা দিবে।

নাস্তিক সহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা বাংলার জমিনে কতটা ভয়ে ভয়ে এবং হীনমন্যতায় বসবাস করে, আপনি যদি নাস্তিক অথবা ভিন্নধর্মাবলম্বী না হোন তাহলে সেটা কখনোই বুঝতে পারবেন না। এইদেশে মুসলিমদের সামনে ভিন্নধর্মাবলম্বী এবং নাস্তিকদের কথা বলার কোন সুযোগ নেই। কথা বললেই বিপদ হয়তো চাপাতির কোপ, না হলে এলাকা থেকে উচ্ছেদ। মুসলিমদের জন্য সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য, তারা জ্ঞানের আলোকে ভয় দেখিয়ে অন্ধকারে রেখে দেওয়ার চেষ্টা করে।

আবারও বলে রাখি!
সব ধার্মিক জঙ্গি হয়না – তবে সব জঙ্গিই ধার্মিক!

ফেসবুক মন্তব্য

১ thought on “সম্প্রীতি নাকি ভণ্ডামি?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

40 − 35 =