তোরা মুসলমান হচ্ছিস কেন? আগে মানুষ হ!

বাংলাদেশে এখন শুয়োরের বাচ্চারাও মুসলমান হচ্ছে। আর এখানেই যাবতীয় সমস্যার উদ্ভব ও বিস্তার। এইসব নিম্নশ্রেণীর মুসলমান অত্যন্ত ভয়ংকর, আগ্রাসী, সাম্প্রদায়িক ও মানবতাবিরোধী। এদের না-আছে শিক্ষা, না-আছে চরিত্র, না-আছে জন্মপরিচয়, না-আছে সততা, না-আছে মনুষ্যত্ব, আর না-আছে ন্যূনতম মানবতাবোধ। বাংলাদেশের মুসলমানদের একটা বিরাট অংশ এই শুয়োরের বাচ্চা। আবারও বলছি: এদের মধ্যে না-আছে মনুষ্যত্ব আর না-আছে সামান্য মানবতাবোধ। অথচ, এই শুয়োরের বাচ্চারা রাতারাতি মুসলমান হয়ে বাংলাদেশের হোমরাচোমরা বা হর্তাকর্তা পর্যন্ত বনে যাচ্ছে! এই শুয়োরের বংশধররা সবসময় সংখ্যালঘুসম্প্রদায়বিরোধী, বাংলাদেশবিরোধী, হিন্দুবিরোধী ও সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতিবিরোধী বিরাট এক অপশক্তি। এদের চোখে হিন্দুসহ যেকোনো সংখ্যালঘুই (বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, শিখ ইত্যাদি) সবসময় অপরাধী। এদের ক্ষতি করাই যেন এদের একমাত্র ধর্ম।

অতিসম্প্রতি ভোলার বোরহানউদ্দিন-থানায় ‘বিপ্লব চন্দ্র শুভ’ নামে এক হিন্দুযুবকের কথিত ফেসবুক-স্ট্যাটাসের কারণে বাংলাদেশের চিহ্নিত মুসলমান নামক মোল্লা-শুয়োরগুলো আবার মাঠে নেমেছে। বিপ্লব চন্দ্র নাম-পরিচয়ে সে একজন হিন্দু। এখানেই যত গণ্ডগোল। আর সে নাকি মহানবী সা.-কে নিয়ে খুব আজেবাজে কমেন্টস করেছে!

আসলে কি তাই?

ঘটনা অন্যখানে। বাংলাদেশের মুসলমানদের একটা বিরাট অংশ জন্মজন্মান্তরে হিন্দুবিদ্বেষী। এরা হিন্দুদের গালিগালাজ করতে না পারলে নিজেদের মুসলমানই ভাবতে পারে না। এদের স্বভাব পাগলা-কুকুরের মতো। মানুষজনকে দেখলেই এদের কামড়াতে মনে চায়। এরা কখনো-কোনোদিন কোনো হিন্দুকে সহ্য করতে পারে না। তাই, হিন্দুসম্প্রদায়কে নাজেহাল, ক্ষতিগ্রস্ত ও এদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে হিন্দুদের আইডি হ্যাক করে নিজেরা মহানবীকে গালিগালাজ করে দেশের ভিতরে একটা হিন্দুবিদ্বেষী মানসিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এরকম করে থাকে। ইতঃপূর্বে এই বাংলাদেশে আমরা তা দেখেছি। মাত্র কিছুকাল আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ‘রসরাজ’ নামের এক হিন্দুযুবকের আইডি হ্যাক করে মুসলমানদের পবিত্র স্থান কাবাঘরের ওপর কুকুরের ছবি স্থাপন করেছিল বাংলার চিহ্নিত ও আদি-আসল জারজসন্তান, একাত্তরের পরাজিত যুদ্ধাপরাধীদল জামায়াত-শিবির। নিজেদের শয়তানী পরিকল্পনা-অনুযায়ী সেদিনও এরা নাসিরনগরে হিন্দুবিরোধী-তাণ্ডবলীলা চালিয়েছিল। রসরাজকে ফাঁসাতে ও হিন্দুদের বিরুদ্ধে আক্রোশ মেটাতে তখন জামায়াত-শিবির-হেফাজতসহ সর্বস্তরের বাংলাদেশবিরোধী বরাহ-শাবকেরা সেদিন হিন্দুদের মন্দিরে ও ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছিল, বাড়িতে-বাড়িতে লুটপাট করেছিল, খুন-ধর্ষণের মহাপরিকল্পনা করেছিল। ভোলার বোরহানউদ্দিনেও তা-ই করেছে। এখানে, বিপ্লব চন্দ্র নামের এক যুবকের আইডি হ্যাক করেছে বাংলার জারজসন্তান জামায়াত-শিবির। মানে, তাদের বাঁশের কেল্লার বেজন্মা সদস্যরা। এরা নিজেদের নবীজীকে গালিগালাজ করে তা বিপ্লবের নামে চালাতে চেয়েছে। সেদিন, ‘রসরাজে’র নামেও এরা থানায় মামলা-দায়ের করেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রসরাজকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু বছরখানেক পরে সমস্ত তদন্ত ও আদালতের রায়ে রসরাজ নিদোর্ষ প্রমাণিত হলেন। পরে আরও প্রমাণিত হলো: এই সমস্ত ঘটনার মূলে ছিল স্থানীয় আওয়ামীলীগ-নামধারী এক নেতা-নামক বরাহ-শাবক। আর এই বরাহ-শাবকের নাম জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু হিন্দুসম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে যে এত মিথ্যা-অভিযোগ, তাদের ওপর হামলা-মামলা, মন্দিরে ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ—তার বিচার? না, কোনো বিচার হয়নি (আর নামকাওয়াস্তে যে বিচার হয়েছে তা প্রহসনের নামান্তর)।

আসুন দেখি, বিপ্লব চন্দ্র শুভ আসলে এই অপকর্ম করেছে কিনা:

১. বিপ্লবের আইডি থেকে মহানবীর নামে আজেবাজে কথাবার্তা ও অশ্লীল গালিগালাজ প্রকাশিত হওয়ার পর বিপ্লব নিজে থেকে নিকটস্থ থানায় হাজির হয়েছে। থানার লোকেরা তাকে আটক করেছে, জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, আর যাচাইবাছাই করে দেখেছে, তার বক্তব্য সঠিক কিনা। সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে পুলিশের দল সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, বিপ্লব নির্দোষ। আসলেই তার আইডি ‘হ্যাক’ করা হয়েছে। একথা স্থানীয় পুলিশ সুপারও বলেছেন।

২. বিপ্লব যখন থানায় একরকম বন্দি তখন তার ফেসবুক-আইডি থেকে কারও সঙ্গে চ্যাটিং চলছিল (বিভিন্ন মেসেজ আসছিল)। কারা এই চ্যাটিং করেছে? কারা বিপ্লবের আইডিতে মেসেজ চালাচালি করেছে? বিপ্লব তো তখন থানায় বন্দি ছিল!

৩. ধর্মান্ধ শুয়োরগুলো বলেছে, বিপ্লবের আইডি থেকে চালানো চ্যাটিং (বিভিন্ন মেসেজ চালাচালি) নাকি ফটোশপের মাধ্যমে করা হয়েছে! তাহলে, বিপ্লবের আইডিতে কারও দ্বারা আজেবাজে কথা পোস্ট করা কেন সম্ভব নয়? আর তা কেন ফটোশপের মাধ্যমেও হতে পারে না? আসলে, এখানে কোনোপ্রকার ফটোশপের ব্যাপারই হয়নি, ফটোশপের ব্যবহারই হয়নি। যা হয়েছে তা সরাসরি। আর তা বিপ্লবের আইডি ‘হ্যাক’ করেই করা হয়েছে। বিপ্লবের আইডি ‘হ্যাক’ করেছে মুসলমান নামক ধর্মান্ধ নরপশুগোষ্ঠী। আর আমাদের আঙ্গুলের ইশারা হলো জামায়াত-শিবিরের ‘বাঁশের কেল্লা’র দিকে। এই শুয়োরগুলো এইসব অপকর্মে খুব বেশি পারদর্শী।

৪. বিপ্লব নিরপরাধ বলেই স্বেচ্ছায় থানায় গিয়ে হাজির হয়ে বলেছে, তার ফেসবুক-আইডি ‘হ্যাক করা’ হয়েছে। এটা একজন আধুনিক মানুষ ও সুনাগরিকের বৈশিষ্ট্য।

৫. বিপ্লব চন্দ্রের আইডি হ্যাক করেছে মো. শরীফ ও মো. ইমন। আর এই দুই শুয়োরের বাচ্চা কি অন্যধর্মের? নাকি হিন্দু? নাকি মুসলমান?

ঘটনা নাসিরনগরের ‘রসরাজে’র বিরুদ্ধে আক্রোশ মেটানোর মতোই। এখানেও হিন্দুসম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে বাংলার একশ্রেণীর মুসলমানের সীমাহীন আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তার কারণ বলছি:

১. ঘটনা ঘটেছে বোরহানউদ্দিনে—তাও নিজেদের সাজানো ঘটনা একজন হিন্দুযুবকের ওপর চাপানোর ষড়যন্ত্র। এটাকে পুঁজি করে বাংলার একশ্রেণীর মুসলমান নামক শুয়োর পিরোজপুরে হিন্দুদের মন্দিরে হামলা করেছে। সেখানে, মন্দিরের দেবমূর্তি বা বিগ্রহ ভাঙতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছে মো. কামরুল ইসলাম নামের এক দাড়ি-জোব্বাওয়ালা হুজুর।

২. ভোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালে হিন্দুদের ওপর হামলা করেছে এই সাম্প্রদায়িক নরপশুগোষ্ঠী।

৩. অনেক জোব্বাধারী-শুয়োর এই ঘটনাকে পুঁজি করে ফেসবুকের লাইভ-ভিডিওয়ের মাধ্যমে দেশের ভিতরে জিহাদের ডাক দিচ্ছে!

এই একশ্রেণীর শুয়োরের বাচ্চা বারবার সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি বিনষ্ট করছে। আমরা ইতঃপূর্বে রামুতে, নাসিরনগরে এরকম হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটতে দেখেছি। আর সবখানে একশ্রেণীর শুয়োরের বাচ্চার উত্থান ঘটেছে। এই শুয়োরের বাচ্চারা নাকি মুসলমান! একজন মানুষ হিসাবে মদীয় বক্তব্য: শুয়োরের বাচ্চারা মুসলমান হচ্ছিস কেন? আগে তোরা মানুষ হ। একবার মানুষ হ। আগে মানুষ হয়ে পরে ধর্মপালন করিস।

ভগবান গণেশ
২০/১০/২০১৯

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

8 + 2 =