১৮৯: মক্কা বিজয়-৩: কুরাইশদের রক্ষার সর্বপ্রথম প্রচেষ্টা!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ও তাঁর একান্ত প্রিয় অনুসারীদের সঙ্গে কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান ইবনে হারবের “শান্তিরক্ষার প্রচেষ্টা”সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হওয়ার পর আবু সুফিয়ান মক্কায় প্রত্যাবর্তন করেন ও উৎকণ্ঠিত কুরাইশদের তা অবহিত করান। অন্যদিকে, মদিনায় মুহাম্মদ তাঁর অনুসারীদের এই নির্দেশ জারী করেন যে তারা যেন সাবধানে হামলার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। প্রথমাবস্থায় তিনি তাঁর নিজ পত্নী ও একান্ত প্রিয় অনুসারীদের কাছেও তাঁর হামলার লক্ষ্যস্থল গোপন রাখেন। অতঃপর তিনি তাঁদের জানান যে তিনি মক্কা গমন করবেন। কিন্তু তিনি কোথায় ও কাকে আক্রমণ করবেন, তা গোপন রাখেন। উদ্দেশ্য, অতর্কিত আক্রমণে শত্রুদের পরাস্ত করা! তাঁর অনুসারীদের ধারণা ছিল এই যে: নবী মুহাম্মদের এবারের আক্রমণের লক্ষ্যস্থল হলো মক্কার কুরাইশ, কিংবা হাওয়াযিন, অথবা থাকিফ (Thaqif) গোত্রের লোকেরা। তিনি তাঁর অনুসারীদের সতর্ক করে দেন যে, মক্কাবাসীরা যেন তাঁর এই হামলার খবর কোনভাবেই জানতে না পারে। তাঁর প্রিয় অনুসারীদের অনেকেই অনুধাবন করতে পারেন যে মুহাম্মদের এবারের লক্ষ্যস্থল হলো মক্কাবাসী কুরাইশ; অন্য কেউ নয়। ইসলামের ইতিহাসের এমনই এক প্রেক্ষাপটে, মুহাম্মদের প্রিয় অনুসারীদেরই একজন “সর্বপ্রথম” কুরাইশদের রক্ষার প্রচেষ্টায় তাঁর জীবন বাজী রেখেছিলেন। কে ছিলেন সেই ব্যক্তি? কেন তিনি তা করেছিলেন ও কোন পন্থায়?

মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (ও আল-তাবারীর) বর্ণনার পুনরারম্ভ – কবিতা পঙক্তি পরিহার:
(আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর বর্ণনারই অনুরূপ) [1] [2] [3]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১৮৮) পর:

‘আল্লাহর নবী হামলার প্রস্তুতির হুকুম জারী করেন। আবু বকর তার কন্যা আয়েশার সাথে দেখা করতে আসে, সে সময় আয়েশা আল্লাহর নবীর কিছু সাজ-সরঞ্জাম সরিয়ে নিচ্ছিল। সে আয়েশার কাছে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায় যে আল্লাহর নবী তাকে সরঞ্জামাদি প্রস্তুত করতে বলেছেন কিনা। জবাবে আয়েশা বলে যে, তা তিনি করেছেন ও তার পিতার ও প্রস্তুতি গ্রহণ করাই শ্রেয়। সে [আয়েশা] তকে বলে যে, সেনাদলের গন্তব্য স্থানের খবর সে জানে না।

পরবর্তীতে আল্লাহর নবী তাঁর লোকদের জানান যে, তিনি মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। তিনি তাদের সাবধানে প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “হে আল্লাহ, তুমি কুরাইশদের চোখ ও কান বন্ধ রেখো (অর্থাৎ, কোন পথিক-পর্যটক বা অন্য কারও মাধ্যমে মুসলমানদের সমবেত হতে দেখার খবর যেন তারা না জানতে পারে), যাতে তাদের ওখানে গিয়ে আমরা তাদের অতর্কিত আক্রমণে পরাস্ত করতে পারি।” —

মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আল-যুবায়ের হইতে <উরওয়া বিন আল-যুবায়ের ও আমাদের মুহাদ্দিসদের একজন হইতে বর্ণিত:

যখন আল্লাহর নবী মক্কা গমন মনস্থ করেন, তখন হাতিব বিন আবু বালতা কুরাইশদের কাছে চিঠি লিখে জানায় যে, আল্লাহর নবী তাদের ওখানে যাওয়া মনস্থ করেছেন। অতঃপর সে তার চিঠিটি এক মহিলার কাছে দেয়। মুহাম্মদ বিন জাফরের ভাষ্য মতে, মহিলাটি ছিল মুযায়েনা গোত্রের; পক্ষান্তরে অন্য সংবাদদাতারা আমাকে বলেছেন যে সে ছিল ‘সারা’, বানু আবদুল মুত্তালিব গোত্রের কাছ থেকে মুক্তি-প্রাপ্ত এক ক্রীতদাসী। সে [হাতিব] কুরাইশদের কাছে তার চিঠিটি পৌঁছে দেয়ার জন্য কিছু টাকাকড়ির বিনিময়ে এই মহিলাটি-কে নিয়োগ করে। মহিলাটি তার মাথার ওপর চিঠিটি রাখে ও তা তার চুলের বিনুনির ভাঁজের ভিতরে লুকিয়ে রাখে ও অতঃপর যাত্রা শুরু করে।

আল্লাহর নবী হাতিবের এই কর্ম-কাণ্ডের খবরটি স্বর্গলোক থেকে জানতে পারেন ও মহিলাটি-কে অনুসরণ করার জন্য তিনি আলী ও আল-যুবায়ের বিন আল আওয়াম-কে নির্দেশ দেন। তারা তাকে বানু আবু আহমদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত ‘আল-খুলাইয়েকা (আল তাবারী: ‘আল-হুলাইয়েফা [Hulayfah])’ নামক স্থানে এসে ধরে ফেলে। তারা তাকে তার বাহন-জন্তু থেকে নেমে আসতে বাধ্য করে ও তার মালপত্র খুঁজতে থাকে; কিন্তু কিছুই খুঁজে পায় না। আলী শপথ করে বলে যে, আল্লাহর নবী কোন ভুল করতে পারেন না, আর তারাও তাই। সুতরাং সে যদি চিঠিটি বাহির না করে দেয়, তবে তারা তাকে বিবস্ত্র করবে। যখন মহিলাটি বুঝতে পারে যে সে স্থিরসংকল্প, সে তাকে পাশ ফিরে দাঁড়াতে বলে, অতঃপর সে তার চুলের বেণীর ভাঁজ খুলে চিঠিটি বের করে নিয়ে এসে তাকে দেয়। অতঃপর সে তা আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসে। [4]

আল্লাহর নবী হাতিব-কে ডেকে পাঠান ও তাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে চান যে কী কারণে সে এই কাজটি করেছে। জবাবে সে বলে যে, তার বিশ্বাস আল্লাহ ও তার নবীর প্রতি, তা থেকে সে কখনোই বিচ্যুত হয় নাই। আর কুরাইশদের মধ্যে উচ্চ-মর্যাদার অধিকারী এমন কোন ব্যক্তিও সে নয়। কিন্তু সেখানে আছে তার পরিবার ও একটি পুত্র সন্তান। আর সে কারণেই তাদের স্বার্থে এই বিচক্ষণতার কাজটি তাকে করতে হয়েছে।

তাকে ভণ্ড আখ্যায়িত করে উমর তার গর্দানটি কেটে ফেলতে চায়, কিন্তু আল্লাহর নবী তাকে বলেন, “তুমি কী ভাবে তা জানো, উমর?’ সম্ভবত: আল্লাহ বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী লোকদের প্রতি সদয় হবেন; অতঃপর তিনি বলেন, ‘তোমার যা ইচ্ছা হয় তাই করো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।'” অতঃপর হাতিবের বিষয়ে আল্লাহ ওহী নাজিল করে (কুরআন: ৬০: ১-৪)। :

[৬০:১] – মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও-—,” এখান থেকে

[৬০:৪] – “তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। কিন্তু ইব্রাহীমের উক্তি তাঁর পিতার উদ্দেশে এই আদর্শের ব্যতিক্রম। তিনি বলেছিলেনঃ আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব। তোমার উপকারের জন্যে আল্লাহর কাছে আমার আর কিছু করার নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন”; পর্যন্ত।

আল-ওয়াকিদির অতিরিক্ত প্রাসঙ্গিক বর্ণনা:

‘মুসা বিন মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম তাঁর পিতা হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: হাতিব তিন জনের কাছে চিঠি লেখে। সে সাফওয়ান বিন উমাইয়া, সুহায়েল বিন আমর ও ইকরিমা বিন আবু জেহেলের কাছে তিনি চিঠি লেখে, এই বলে:

“সত্যিই আল্লাহর নবী তাঁর লোকদের আক্রমণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আমি তোমাদের ছাড়া অন্য কাউকে তাঁকে কামনা করতে দেখি নাই। আমি আশা করি যে আমার এই চিঠিটি তোমাদের সাহায্য করবে।”

সে তার লেখা চিঠিটি আরজ নামক স্থানে অবস্থিত মুযায়েনা গোত্রের এক মহিলাকে দেয়, যার নাম ছিল ‘কানুদ।’ সে তাকে প্রস্তাব দেয় এই বলে যে, সে যদি চিঠিটি পৌঁছে দিতে পারে, তবে সে তাকে এক দিনার দেবে। সে তাকে বলে, “যেখানে পারো সেখানে এটি লুকিয়ে রাখো; আর সড়কের পথ নেবে না, কারণ তা নিশ্চয়ই পাহারা দেওয়া হচ্ছে।” সে [মহিলাটি] গিরিপথের রাস্তাটি না নিয়ে, মাহাজজার বাম দিকের ফাটলের পাশ দিয়ে আল-আকিকের রাস্তায় এসে পৌঁছে।

উতবা বিন জাবিরা <আল-হুসায়েন বিন আবদ রহমান বিন আমর বিন সা’দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে বলেছেন, তিনি বলেছেন: তার নাম ছিল ‘সারা’; সে মহিলাটিকে দশ দিনার দিয়েছিল।‘

ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা: [5]
(সহি বুখারী: ভলুম ৪, বই ৫২, হাদিস নম্বর ২৫১)

‘উবাইদুল্লাহ বিন আবি রাফি হইতে বর্ণিত:
আমি আলী-কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহর নবী (সাঃ) আল যুবায়ের, আল মিকদাদ ও আমাকে একস্থানে পাঠিয়েছিলেন, এই বলে, ‘রাওদাত খাক (Rawdat Khakh) পর্যন্ত যাও। সেখানে এক মহিলাকে দেখবে, যার কাছে আছে এক চিঠি। তার কাছ থেকে চিঠিটি নিয়ে এসো।'” তাই আমরা রওনা হই ও ঘোড়াগুলোকে পূর্ণ বেগে চালিত করি, যতক্ষণে না আমরা আর-রাওদা (Ar-Rawda) নামক স্থানে এসে পৌঁছি। সেখানে আমরা মহিলাটি-কে দেখতে পাই ও (তাকে) বলি, “চিঠিটি বের করো।” সে জবাবে বলে, “আমার কাছে কোন চিঠি নাই।” আমরা বলি, “হয় তুমি চিঠিটি বের করে দেবে, নতুবা আমরা তোমাকে বিবস্ত্র করবো।” তাই সে তার চুলের বিনুনি থেকে তা বের করে আনে। আমরা চিঠিটি আল্লাহর নবীর (সাঃ) কাছে নিয়ে আসি। সেই চিঠিতে হাতিব বিন আল বালতার এক বিবৃতি ছিল, যাতে সে আল্লাহর নবীর (সাঃ) উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু খবর মক্কার কিছু পৌত্তলিকদের অবহিত করিয়েছিল।

অতঃপর আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেন, “হে হাবিব! এটা কী?”
হাতিব জবাবে বলে, “হে আল্লাহর নবী (সাঃ)! তাড়াহুড়া করে আপনি আমার সম্পর্কে রায় দেবেন না। আমি কুরাইশদের সাথে নিবিড়ভাবে যুক্ত ছিলাম, কিন্তু আমি এই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত কোন লোক নই। অন্যদিকে, আপনার অন্যান্য মুহাজিরদের আত্মীয়-স্বজনরা যারা মক্কায় অবস্থান করছে, তারা তাদের ওপর নির্ভরশীল লোকজনদের জীবন ও সম্পদ হয়তো রক্ষা করতে পারবে। তাদের সাথে আমার রক্তের সম্পর্ক না থাকার কারণে আমি তাদের প্রতি এই অনুগ্রহ করেছি, যাতে তারা তার প্রতিদান স্বরূপ আমার প্রতি নির্ভরশীল লোকদের রক্ষা করতে পারে। আমি আমার কোন অবিশ্বাস, ধর্মত্যাগ, কিংবা কুফরিকে (অবিশ্বাস) ইসলামের চেয়ে বেশী পছন্দ করার কারণে এটি করি নাই।”

আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেন, “হাতিব তোমাদের সত্য বলেছে।”
উমর বলে, “হে আল্লাহর নবী, আমাকে এই ভণ্ডের কল্লা কেটে ফেলার অনুমতি দিন।” আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেন, “হাতিব বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে, আর কে জানে, আল্লাহ হয়তো ইতিমধ্যেই বদর যোদ্ধাদের দিকে দৃষ্টিপাত করেছে; অতঃপর বলেন, ‘তোমার যা পছন্দ হয় তাই করো, কারণ আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।'”

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

>>> আদি উৎসে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক, আল-ওয়াকিদি, আল তাবারী ও ইমাম বুখারীর ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যা অত্যন্ত স্পষ্ট তা হলো, হাতিব বিন আবু বালতা নামের মুহাম্মদের এই অনুসারী তাঁর জীবন বাজী রেখে মক্কার কুরাইশদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। আর কেন তিনি তা করেছিলেন তাও আদি উৎসের বর্ণনায় সুস্পষ্ট।

কে এই হাতিব বিন আবু বালতা?

হাতিব বিন আবু বালতা (৫৮৬-৬৫০ খ্রিস্টাব্দ) ছিলেন মুহাম্মদের সেই বিশেষ অনুসারী, যিনি বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন ও এই যুদ্ধে তিনি বানু আসাদ বিন আবদ উজ্জা গোত্রের আল হারিথ বিন আইধ বিন আসাদ-কে বন্দী করেন। মক্কায় তিনি ছিলেন সা’দ নামের এক কুরাইশের তত্ত্বাবধানে (mawla) থাকা এক ব্যক্তি। [6]

হাতিব বিন আবু বালতা ছিলেন মুহাম্মদের সেই বিশেষ অনুসারী, যাকে মুহাম্মদ হিজরি ৭ সালে তাঁর এক চিঠি মারফত আলেকজান্দ্রিয়ার শাসনকর্তা আল-মুকাওকিসের কাছে প্রেরণ করেছিলেন (পর্ব: ১৬১)। হাতিব তার কাছে মুহাম্মদের চিঠিটি হস্তান্তর করেন; আর আল-মুকাওকিস মুহাম্মদ-কে প্রদান করেন মারিয়া আল-কিবতিয়া ও তার ভগ্নি শিরিন নামের দুই ক্রীতদাসী, মাবুর নামের এক দাস, দুলদুল নামের এক মাদী খচ্চর, ইয়াফুর নামের এক গাধা ও কয়েক সেট পরিধান সামগ্রী (পর্ব-১০৮)। অসামান্য সুন্দরী মারিয়া আল-কিবতিয়া কে মুহাম্মদ যৌন-দাসী রূপে তাঁর নিজের জন্য রাখেন, আর শিরিন-কে তিনি দান করেন তাঁর প্রিয় অনুসারী হাসান বিন থাবিত-কে (পর্ব-১০৭)।

>>> মক্কাবাসী কুরাইশদের প্রায় সকলেই ছিলেন “মুহাম্মদের প্ররোচনায়” মদিনায় হিজরতকারী (তাঁদেরকে কেউ তাড়িয়ে দেয় নাই) আদি মক্কাবাসী মুহাম্মদ অনুসারীদের (‘মুহাজির’) কারও না কারো একান্ত নিকট-আত্মীয়, পরিবার-পরিজন, পাড়া-প্রতিবেশী, কিংবা বন্ধু-বান্ধব। মুহাম্মদের এবারের আক্রমণ তাঁর ও তাঁর অনুসারীদের এইসব নিকট জনদের বিরুদ্ধে। “বদর যুদ্ধের” মতই মুহাম্মদের নির্দেশে এবারো তাঁদের হত্যা করতে হবে তাঁদের এই একান্ত নিকট-আত্মীয়, প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদের! মুহাম্মদ তাঁর শত প্রলোভন, হুমকি-শাসানী ও ভীতি প্রদর্শনের পরেও যে তাঁর সকল অনুসারীকে “অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে” মানুষ রূপী দানবে রূপান্তরিত করতে পারেন নাই, ইসলামের ইতিহাসের হাতিব বিন আবু বালতার উপাখ্যান তারই এক উদাহরণ।

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-ওয়াকিদির বর্ণনার অতিরিক্ত বিশেষ অংশটির মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি।

The Narratives of Muhammad Ibn Ishaq:

‘The apostle ordered preparations to be made for a foray and Abu Bakr came in to see his
daughter ‘A’isha as she was moving some of the apostle’s equipment. He asked if the apostle had ordered her to get things ready, and she said that he had, and that her father had better get ready also. She told him that she did not know where the troops were going. Later the apostle informed the men that he was going to Mecca and ordered them to make careful preparations. He said ‘O God, take eyes and ears (i.e. reports from travellers and others who have seen the Muslims assembling.) from Quraysh so that we may take them by surprise in their land,’ and the men got themselves ready. —

Muhammad b. Ja’far b.al-Zubayr from ‘Urwa b.al-Zubayr and another of our traditionists said that when the apostle decided to go to Mecca Hatib b. Abu Balta’a wrote a letter to Quraysh telling them that the apostle intended to come at them. He gave it to a woman whom Muhammad b. Ja’far alleged was from Muzayana while my other informant said she was Sara, a freed woman of one of the B.’Abdu’l-Muttalib. He paid her some money to carry it to Quraysh. She put the letter on her head and then plaited her locks over it and went off. The apostle received news from heaven of Hatib’s action and sent ‘Ali and al-Zubayr b. al-‘Awwam with instructions to go after her. They overtook her in al-Khulayqa of B. Abu Ahmad. They made her dismount and searched her baggage but found nothing. ‘Ali swore that the apostle could not be mistaken nor could they, and that if she did not produce the letter they would strip her. When she saw that he was in earnest she told him to turn aside, and then she let down her locks and drew out the letter and gave it to him and he took it to the apostle.

The apostle summoned Hatib and asked him what induced him to act thus. He replied that he believed in God and His apostle and had never ceased to do so, but that he was not a man of standing among Quraysh and he had a son and a family there and that he had to deal prudently with them for their sakes.’Umar wanted to cut off his head as a hypocrite but the apostle said, ‘How do you know,’ ‘Umar; perhaps God looked favourably on those who were at Badr and said, “Do as you please, for I have forgiven you.” Then God sent down concerning Hatib: ‘O you who believe, choose not My enemies and yours as friends so as to show them kindness’ as far as the words’ You have a good example in Abraham and those with him when they said to their people: We are quit of you and what you worship beside God; we renounce you and between us and you enmity and hatred will ever endure until you belive in God alone.’ (Sura 60 1-4)

Al-Waqidi added:

‘Mūsā b. Muḥammad b. Ibrāhīm related to me from his father, who said: Ḥāṭib wrote to three people. Ṣafwān b. Umayya, Suhayl b. ‛Amr, and ‛Ikrima b. Abī Jahl, saying,
“Indeed the Messenger of God has called the people to attack. I do not see him desire other than you. I wish that this letter of mine will be of help to you.”
He gave the document to a woman named Kanūd, from Muzayna of the people of ‛Arj. He offered her a dinar provided the document reached. He said, “Hide whatever you can, and do not take the road for indeed it is being watched.” She did not take the pass, but travelled left of Maḥajja in the cracks until she came to the road in al-‛Aqīq. ‛Utba b. Jabīra related to me from al-Ḥuṣayn b. ‛Abd al-Raḥmān b. ‛Amr b. Sa‛d, who said: Her name was Sāra; he gave her ten dinars.’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:
[1] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল): পৃষ্ঠা ৫৪৪-৫৪৫
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[2] আল-তাবারী (৮৩৯-৯২৩ সাল): ভলুউম ৮; পৃষ্ঠা ১৬৫-১৬৮
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21292&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[3] আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ সাল): পৃষ্ঠা ৭৯৬-৭৯৯; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৩৯২-৩৯৩
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-

[4] Ibid আল তাবারী; নোট নম্বর ৬৯৪:
“যদি ‘আল-হুলাইয়েফা’ পাঠটি সঠিক হয় (আর এটি যদি হয় সেই স্থান, যা ‘ধু আল-হুলাইয়েফা’ নামে সুপরিচিত), তবে মহিলাটি-কে পাকড়াও করা হয়েছিল মদিনা থেকে প্রায় ছয় মাইল দূরবর্তী এক স্থানে। ইবনে হিশামের পাঠ্য মতে স্থানটি ছিল ‘আল-খুলাইয়েকা’, যা মদিনা থেকে ১২ মাইল দূরবর্তী একটি জায়গা। স্থানটির সনাক্তকরণ করা হয়েছে “বানু আবু আহমদ গোত্রের অন্তর্ভুক্ত” এলাকা হিসাবে, যা উভয় স্থানটির অবস্থানকেই সন্দিহান করে।”

[5] অনুরূপ বর্ণনা – সহি বুখারী: ভলুম নম্বর ৪, বই নম্বর ৫২, হাদিস নম্বর ২৫১:
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-4/Book-52/Hadith-251/

[6] Ibid আল-ওয়াকিদি: প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৪০ ও ১৫৪; ইংরেজি অনুবাদ পৃষ্ঠা ৭১ ও ৭৮।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of