আমি কেন মানুষ ।

হ্যাঁ আমার শিশ্নের অগ্রভাগ কাটা বলে আমি মুসলমান ছিলাম । একেবারে ছোট বেলাতে করা হয়েছে বলে ,আমার মতামত দেবের অধিকার থেকে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে।এটা নিশ্চয়ই অমানবিক ছিল ।

আসাধরন কণ্ঠে আমার বাবা কোরান পাঠ করতো । আমি প্রথমে মুগ্ধ হয়ে কোরান পাঠ শুনতাম । একদিন একটা সূরার অর্থ জানতে চাইলাম । বাবা কি যেন গোঁজামিল উওর দিতে গিয়ে বলল , এর অর্থ নাকি মোল্লার বলতে পারবে ,ভুল অর্থ বললে নাকি গুনাহ হবে । গরম তেলে নাকি ফ্রাই করা হবে । আমি একটা বদ । আমার প্রশ্ন,যেটার অর্থ আমি জানি না , সেটা পড়ে আমার লাভ কি? আর আমাকে ফ্রাই করার যুক্তিটা আমার কাছে মোটেও গ্রহণীয় হয়নি ।

বাবা হয়তবা দ্রুত নেকি লাভ করাইতে চেয়েছিলেন । আমারে হুজুরের কাছে পড়ার দ্রুত ব্যবস্থা করলো । বাহ হুজুর প্রথম দিন বাসায় আসলো । আমাকে আলিফ ,বে ,তে, সে পড়ানো শুরু করলো । খুব ভাল লাগছিল । নতুন একটি ভাষা শিখবো । সৌদিয়ানদের সাথে অনর্গল আরবিতে কথা বলবো । হুজুর আমাকে হতাশ করলো আবার যখন কোরান পড়লাম আমাকে বলা হল অর্থ জানার প্রয়োজন নাই ,ইসলামের অর্থ জানলে আমি প্রশ্ন করবো । ইসলামে প্রশ্ন করা যাবে না । আমাকে বলা হলো কোরান পাঠ করলেই আমার নেকি অর্জন হবে । আবার খটকা ,এই যুক্তি মানতে পারলাম না ।আমি আর কোরান পড়লাম না ।

বাসায় মোকসেদুল মোমিন আর কোরান ছারা কোন কিছু পাইলাম না । কোরান পড়ি না । একটু বয়স বাড়ার সাথে মোকসিদুল মোমিন পড়া হইলো এক বন্ধুর পরামর্শে , হ্যাঁ আপনারা ঠিক বুজতে পেরেছেন রগ রাগে চ্যাপ্টার পড়ে ছিলাম । তখন অনেক নেকি লাভের প্রথা ,তাবিজ ও সুরা পড়ে আরোগ্য লাভের টনিক দেখেছিলাম । কালিজিরা ও মধু সকল রোগের পথ্য । হাস্যকর লেগেছিল ।অনেক হাস্যকর যুক্তি লেগেছিল । বাবাকে প্রশ্ন করেছিলাম ? আমার এ্যাপিনডিক্স অপারেশন না করে কালিজিরা কিংবা মধু খাওয়ালে আমারতো অপারেশনের প্রয়োজন পরতো না । আহারে ,উত্তর না পেয়ে কিছু উওম মাধ্যম খেয়েছিলাম । আমাকে বলা হল আল্লাহ সকল প্রশ্নের ঊর্ধ্বে ।

যুক্তি ও বোধের মাধ্যমে আমি কখনো কিছুর প্রমাণ পাই নাই । মাধ্যমিক পড়ার সময় একজন ধর্মীয় শিক্ষক বলতেন ,ধর্ম হল বিশ্বাস । এই প্রথম কেউ বলল জীবনে বেঁচে থাকার জন্য ধর্ম প্রয়োজন ।আর ধর্ম হল অথৈই সাগরে ভেসে থাকার খড়কুটা , যা বিশ্বাসের মাধ্যমে ধরে রাখতে হবে । সুতরাং ধর্ম হল বেঁচে থাকার স্পৃহা । হ্যাঁ , মাধ্যমিকের চূড়ান্ত পরীক্ষায় লেটার মার্ক পেলাম । ঐ শিক্ষক যদি আমাকে না বুঝাতো, ধর্ম মানে বিশ্বাস ।তা না হলে হয়তো আমি ধর্মীয় শিক্ষার বইটি পড়তাম না ।তখন থেকে মনে হচ্ছিল জানতে হবে । খুঁজতাম কিন্তু কিছুই পেতাম না । আর উৎসাহও পেতাম না ।

একটা বয়সে হাতে এলো ইন্টারনেট । অনেক তথ্য , অনেক ওয়েব সাইট যেখানে দেখলাম ইসলাম অমানবিক , হিংসা আর বিদ্বেষে ভরপুর । আমার কাছে কোরআনের অর্থ, প্রেক্ষাপট , তাফসির , সব কিছুই ইসলাম ধর্ম নিয়ে সমালোচনা করার জন্য উৎসাহ দিলো ।বিজ্ঞান ও সমাজ বিজ্ঞানের সাধারণ জ্ঞান আমাকে সহজে বুজিয়ে দিল যে , মুহাম্মদের সৃষ্টি ধর্মই হল ইসলাম ।আমার মাধ্যমিকের জ্ঞান শতভাগ ভাবে ভুয়া প্রমাণিত হল । আমার বিশ্বাস হারিয়ে গেল । কোরান হাদিস পড়ে বুঝলাম ইসলাম কখনো শান্তির ধর্ম না । মুহাম্মদ কখনো শ্রেষ্ঠ মহামানব হতে পারে না । আমার সকল যুক্তি ও প্রমাণের ভিত্তিতে আমি বুঝলাম ধর্মই পৃথিবীতে সকল অশান্তির মূল ।একজন ধার্মিক কখনই মানবিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে না ।

আমি এখন গর্বিত যে, আমি ধার্মিক না । আমি মানবিক মানুষ । আমি প্রশান্তি পাই যখন দেখি আমার কাজে আর একজন মানুষের মুখে হাসি ফুটে । আমি সকল ধর্মকে আঘাত করে যাবো , যত দিন না তোমরা মানবিক না হবে । আপনি ধার্মিক হতে পারেন আমার আপত্তি নেই বিন্দু পরিমাণ । কিন্তু আপনি ধর্মীয় কুসংস্কার নিয়ে যখন দৌড়ঝাঁপ করবেন তখন আমিই এগিয়ে যাবো আপনাকে ল্যাং মেরে থামাতে ।

( অনেক আগের একটি লেখা । ফেইসবুকের বন্ধুরা অবশ্যই পড়েছে। ইস্টিশনের বন্ধুদের জন্য শেয়ার করলাম।)

2
Leave a Reply

avatar
1 Comment threads
1 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
2 Comment authors
জ্যাক পিটারসাইয়িদ রফিকুল হক Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
সাইয়িদ রফিকুল হক
পথচারী

একটুকরো স্মৃতিচারণ। ‘ইস্টিশন’ বানানটি ঠিক করে লিখুন। ধন্যবাদ।