আমাদের পারিজাত দিনরাত্রি পর্ব : ২

গাড়িতে আসা যাওয়া করতে করতে অনেকটা সহজ হই রেবেকার সাথে। পড়াশোনার আলাপ ছাড়া আর কোন আলাপ হয়না আমাদের তেমন। দুজনে চুপ করে গাড়িতে বসে থাকি কেমন আরষ্ট হয়ে। একদিন রেবেকা জানতে চায়

– ছুটির দিনে কি করো?

– জামা প্যান্ট ধুই। তারপর ঘরে টিভি দেখি, বোন ভাবীর সাথে লুডু খেলি!

– ঘুরতে যাওনা কোথাও। নিসঙ্কোচে বলি

– না তেমন যাইনা। ছমাস হলো ক্লাস করছি, এর মধ্যে একদিন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে আর বেশ কবার সিনেমা দেখেছি “আলমাস” সিনেমায়!

– সিনেমা খুব পছন্দ তোমার?

– হ্যাঁ, সমুদ্র সৈকতও পছন্দ। তবে মাত্র একবার গিয়েছি।

পরদিন ৩-টায় ক্লাসশেষে রেবেকার গাড়িতে ফিরছি আগ্রাবাদ কিন্তু রেবেকা বললো

– চলো এখন পতেঙ্গা সৈকতে যাই!

– কিন্তু এখনতো দুপুর! তা ছাড়া খাইনি কিছু!

– তাতে কি ! চলো পথে কিছু খাবো তারপর পতেঙ্গা সৈকত দেখে ফিরবো!

– কিন্তু বাসাতে তো চিন্তা করবে!

– কে চিন্তা করবে? বউ?

লজ্জা পেয়ে বললাম

– ধুর কি যে কও! মা আছেনা? ভাবী!

:

তারপরো রেবেকার সাথে পতেঙ্গা যেতে ইচ্ছে করে আমার। গাড়ি থামিয়ে একটা অভিজাত হোটেলে দুপুরের লাঞ্চ করি আমরা। সূর্য ডোবার আগে পতেঙ্গা সৈকতে ফুসকা খেতে চায় রেবেকা। অনেকদিন বাস ভাড়া দিতে হয়নি আমার। তাই বারো চৌদ্দ টাকা পকেটে। সুতরাং ফুসকা খাওয়াতে কোন সমস্যা হয়না আমার। আরেক বিকেলে বাটালি পাহাড়ে ওঠে রেবেকা আমার হাত ধরে। হাসি মুখে বলে

– হাতটা জোরসে ধরো রে দোস্ত, না হলে পরে তো মারা যাবো এ পাহাড় থেকে। তুমি বড়ই কিপটা! হাত পর্যন্ত ধরতে চাওনা!

প্রায় দিনেই ক্লাসের পর এদিক ওদিক যাই আমরা। একদিন সিনেমার কথা বললে আলমাস সিনেমায় টিকেট করে রেবেকা। প্রায় ৩-ঘন্টা পাশাপাশি বসে সিনেমা দেখি আমরা। কিন্তু কেউ কারো দিকে তাকাই না। নতুন সিনেমা মুক্তি পেলেই আমি রেবেকা পাশাপাশি বসি অন্ধকার সিনেমা হলে! ৮-জন করে টিউটরিয়াল ক্লাসের বন্টন হলে রেবেকা পড়ে ৩ নং গ্রুপে আর আমি ৮ নম্বরে। শেষে রেবেকা স্যারকে ধরে ৮-নম্বর গ্রুপে ট্রান্সফার হয়। সম্ভবত আমার জন্যেই !

:

একদিন আমাদের কলোনাির “ই” টাইপের সরকারি বাসার সামনে এসে থামে রেবেকার গাড়ি। হঠাৎ কলেজ থেকে ফেরার পথে আমাদের বাসাতে যাওয়ার কথা বলে সে। আমি লজ্জাতে না করতে পারিনি। তাই কাউকে না বলে কোন খবর না দিয়ে আকস্মিক দরজায় নক করি আমি আর রেবেকা। সরকারি ৩ রুমের ছোট সেকেলে বাসা। তার একরুমে ভাই ভাবী, অন্যরুমে মা বোন। আমি সেজোভাই আর ভাগ্নে থাকি ড্রয়িং রুমে। সোফার পেছনে আমাদের বিছনা গোটানো থাকে। ঘুমানোর আগে তা বিছিয়ে নেই তিন জনে। ঠিক এমন অগোছালো মানুষে ঠাসা বাসাতে ঢুকে পড়ে আমার অভিজাত ক্লাসমেট রেবেকা আফসারি! আকস্মিক ঘরের সামনে গাড়ি থামা, তা থেকে সুন্দরী দীর্ঘাঙ্গী নারী নেমে সরাসরি ঘরে প্রবেশ বেশ অবাক করে আমার পরিবারকে। তারপরো মা ভাবী বোন এসে সামনে দাঁড়ায় অনাহূত অতিথির। রেবেকা খিলখিলিয়ে ভরিয়ে দেয় ঘর। দুপুরে সাধারণ ডাল-ভাত খায় আমাদের সাথে। মায়ের প্রশ্নের জবাবে বলে ফেলে তাদের বাড়ি দেওয়ানহাট চৌমুহনী এলাকায়। মা নেই তার। বাবা ব্যবসায়ী নাম আফসার উদ্দিন!

:

পরদিন রেবেকাকে বলি

– তুমি বললে না তোমার বাসা আগ্রাবাদ। মাকে বললে দেওয়ানহাট চৌমুহনী। কোনটা সত্যি?

– আগ্রাবাদ না বললে তুমি নাও আসতে পারো। তাই তোমাকে ওঠাতে আগ্রাবাদ বলেছি। তুমি দেখোনা তোমাকে নামানোর পর গাড়ি কোন দিকে যায়?

নিজের বোকামিতে বেশ লজ্জিত হই আমি!

পরদিন বোন ভাবী চেপে ধরে ঠাট্টা করে বলে

– কিরে সম্পর্ক কতদিনের? এতো সুন্দরী বড়লোকের মেয়ে ফাঁসালি কিভাবে?

নিজে লজ্জায় মরে যাই আমি! বলি

– কি ফাঁসালাম আবার? সে-ই তার গাড়িতে আনে নেয় আমাকে। তো আমি কি করবো!

সব শুনে ভাবী, বোন, মা ধরে নেয় রেবেকার সাথে গভীর প্রেম চলছে আমার। এভাবে চলতে থাকে আমাদের প্রায় বছর খানেক। আমি যেখানে বলি রেবেকা সেখানে যায়। আমি যা বলি সে তাতেই হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ে। চট্টগ্রাম আর তার আশপাশের ধূলিকণা বাকি থাকেনা রেবেকা আর আমার পদভারে!

[বাকিটা আগামীকাল]

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

− 1 = 2