১৯০: মক্কা বিজয়-৪: আল আব্বাস ও আবু সুফিয়ানের বীরত্ব!

“যে মুহাম্মদ (সাঃ) কে জানে সে ইসলাম জানে, যে তাঁকে জানে না সে ইসলাম জানে না।”

“হে কুরাইশগণ! আল্লাহর দোহাই, মুহাম্মদ ও তার সহচরদের সাথে যুদ্ধ করা অর্থহীন। যদি তোমরা তাদেরকে আক্রমণ করো, তোমরা সর্বদায় বিতৃষ্ণ চোখে প্রত্যেকেই প্রত্যেক সহচরদের দিকে তাকিয়ে দেখবে যে তোমারই এক সহচর খুন করেছে তোমারই কোন চাচাতো ভাইকে, কিংবা মামাতো ভাইকে বা আত্মীয়-স্বজনকে। সুতরাং ফিরে চলো এবং মুহাম্মদকে বাঁকি আরবদের হাতে ছেড়ে দাও!” ইসলামের ইতিহাসের সর্বপ্রথম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ (বদর যুদ্ধ) শুরু হওয়ার পূর্বে যুদ্ধের ময়দানে উপস্থিত সকল কুরাইশদের উদ্দেশ্যে এই আহ্বানটি ছিল আবু সুফিয়ান পত্নী হিন্দ বিনতে ওতবার পিতা, বিশিষ্ট কুরাইশ নেতা ওতবা বিন রাবিয়ার (৫৬৭ সাল-৬২৪ সাল)। এই যুদ্ধে আবুল হাকাম (আবু জেহেল) ব্যতীত প্রায় সকল নেতৃস্থানীয় কুরাইশ নেতৃবর্গ কী কারণে অনিচ্ছুক ছিলেন, তা ওতবা বিন রাবিয়ার এই উক্তিটি-তে অত্যন্ত সুস্পষ্ট। বদর যুদ্ধে (মার্চ, ৬২৪ সাল) এই কুরাইশ নেতা, তাঁর ভাই সেইবা বিন রাবিয়া ও ছেলে আল-ওয়ালিদ বিন ওতবা-কে মুহাম্মদ অনুসারীরা কী অমানুষিক নৃশংসতায় হত্যা করেছিলেন, তার বিশদ আলোচনা ইতিমধ্যেই করা হয়েছে (পর্ব: ৩১-৩২)। [1]

অমানুষিক নৃশংসতায় নিজেদেরই একান্ত প্রিয়জনদের সেই বীভৎস হত্যাকাণ্ডের ছয়-বছর পর, স্বঘোষিত আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) তাঁর বিশাল সংখ্যক অনুসারীদের সঙ্গে নিয়ে আবারও এসেছেন তাঁর ও তাঁর আদি মক্কাবাসী অনুসারীদের একান্ত নিজস্ব অবিশ্বাসী পরিবার-পরিজন, নিকটা-আত্মীয়, পাড়া-প্রতিবেশী ও বন্ধু-বান্ধবদের হত্যা করতে। মিথ্যা অজুহাতে, আগ্রাসন ও শক্তি প্রয়োগে নিজ মতবাদ প্রতিষ্ঠা ও প্রসারের প্রয়োজনে (পর্ব: ১৮৭)!

ইসলামের ইতিহাসের এমনই এক প্রেক্ষাপটে, কুরাইশদের রক্ষার প্রচেষ্টায় হাতিব বিন আবু বালতা নামের মুহাম্মদের এক আদি মক্কা-বাসী অনুসারী মর্মবেদনায় কীভাবে তাঁর জীবন বাজী রেখে কুরাইশদের কাছে চিঠি লিখেছিলেন ও তার সেই প্রচেষ্টা কীরূপে বিফল হয়েছিল, তার আলোচনা গত পর্বে করা হয়েছে। এমত পরিস্থিতিতে, মুহাম্মদের আর এক আদি মক্কাবাসী মুহাম্মদ অনুসারী ও একান্ত নিকটাত্মীয়, একই মর্মবেদনায় কুরাইশদের নিরাপত্তার কথা ভেবে, মুহাম্মদের নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে তাঁদের সাহায্যের প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন।

মুহাম্মদ ইবনে ইশাকের (ও আল-তাবারীর) বর্ণনার পুনরারম্ভ – কবিতা পঙক্তি পরিহার:
(আল-ওয়াকিদির বর্ণনা, ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর বর্ণনারই অনুরূপ) [2][3][4]

পূর্ব প্রকাশিতের (পর্ব: ১৮৯) পর:

‘মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন শিহাব আল-যুহরী <উবায়েদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা বিন মাসুদ হইতে <আবদুল্লাহ বিন আব্বাস হইতে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আমাকে বলেছেন:

অতঃপর আল্লাহর নবী আবু রুহম কুলতুম বিন হুসায়েন বিন উতবা বিন খালাফ বিন গিফারি-কে মদিনার দায়িত্বে রেখে তাঁর যাত্রা শুরু করেন। তিনি যাত্রা শুরু করেন রমজান মাসের ১০ তারিখে (আল ওয়াকিদি: ‘বুধবার, আছর নামাজের পর)। তিনি ও তাঁর সেনাদলের লোকেরা রোজা পালন করেন এবং উসফান ও আমাজের মধ্যবর্তী আল-কুদায়েদ নামক স্থানে এসে রোজা ভঙ্গ করেন। তিনি মার আল-যাহরান নামক স্থানটিতে পৌঁছার পূর্ব পর্যন্ত যাত্রা অব্যাহত রাখেন, তাঁর সঙ্গে ছিল ১০,০০০ জন মুসলমান। সুলায়েম গোত্রের লোকদের সংখ্যা ছিল ৭০০জন, কিছু লোক বলে যে তাদের সংখ্যা ছিল ১০০০; মুযায়েনা গোত্রের লোকদের সংখ্যা ছিল ১০০০ জন মুসলমান। তাঁর সঙ্গে ছিল প্রত্যেক গোত্রের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক ও মুসলমান। [5]

মুহাজির ও আনসাররা এক-জোট হয়ে যাত্রা শুরু করে; কেউই পিছনে পড়ে থাকে না। (আল ওয়াকিদি: ‘মুহাজিরদের সংখ্যা ছিল সাত শত ও তাদের সঙ্গে অশ্বারোহী বাহিনীর ঘোড়ার সংখ্যা ছিল তিন শত; আর আনসারদের সংখ্যা ছিল চার হাজার ও তাদের সাথে অশ্বারোহী বাহিনীর ঘোড়ার সংখ্যা ছিল পাঁচ শত’)। আল্লাহর নবী মার আল-যাহরান নামক স্থানে এসে পৌঁছেন কিন্তু কুরাইশরা তাঁর এই বিষয়টি সম্পর্কে ছিলেন সম্পূর্ণ অজ্ঞ, তারা তাঁর কার্যকলাপ সম্পর্কে কিছুই জানতো না। ঐ রাত্রিতে আবু সুফিয়ান বিন হারব, হাকিম বিন হিযাম ও বুদায়েল বিন ওয়ারাকা চাক্ষুষ দেখা ও শোনার মাধ্যমে খবর অনুসন্ধানের জন্য বের হয়েছিল; আর পথিমধ্যে আল্লাহর নবীর সাথে সাক্ষাত করেছিল আল আব্বাস। যখন আল্লাহর নাবী ‘মার আল-যাহরান’ নামক স্থানে শিবির স্থাপন করেন, আব্বাস বলে: [6]

“হায়রে, কুরাইশ! তারা আল্লাহর নবীর কাছে এসে তাদের নিরাপত্তা ভিক্ষা করার আগেই যদি তিনি জোরপূর্বক মক্কায় প্রবেশ করেন, তবে কুরাইশরা চিরকালের জন্য নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”

আমি আল্লাহর নবীর সাদা খচ্চরের ওপর (আল ওয়াকিদি: ‘যার নাম ছিল দুলদুল’) উঠে বসি ও তাতে চড়ে বাহিরে বের হয়ে ‘আরাক-বৃক্ষরাজি (Arak-tree valley)’ স্থানটিতে এসে পৌঁছই, এই চিন্তায় যে আমি হয়তো সেখানে কোন কাঠুরিয়া, কিংবা দুধ-বিক্রেতা-গোয়ালা, কিংবা এমন কাউকে খুঁজে পেতে পারি, যে মক্কায় গিয়ে আল্লাহর নবীর অবস্থান সম্বন্ধে তাদের খবর দিতে পারে; যাতে আল্লাহর নবী তাদের শহরে হামলার মাধ্যমে প্রবেশ করার আগেই তারা বাহিরে বের হয়ে এসে তাঁর কাছে তাদের নিরাপত্তার আর্জি করতে পারে। আমি যখন এই উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলাম, হঠাৎ আমি আবু সুফিয়ান (তাবারী: ‘ও হাকিম বিন হিযাম’) ও বুদায়েলের কথোপকথনের শব্দ শুনতে পাই। [7]

আবু সুফিয়ান বলছিল, “আমি এর আগে এমন জ্বালানো আগুন ও এরকম শিবির কখনও দেখি নাই।“ বুদায়েল বলছিল, “আল্লাহর কসম, এগুলো হলো খোজা গোত্রের লোকদের জ্বালানো আগুন, যা তারা যুদ্ধের উত্তেজনায় জ্বালিয়েছে।“ আবু সুফিয়ান বলছিল, “খোজারা এতোই দরিদ্র যে তাদের অল্প সংখ্যকেরই এমন আগুন জ্বালানো ও শিবির স্থাপনের সামর্থ্য আছে।“ আমি তার কণ্ঠ চিনতে পারি ও তাকে ডাকি, আর সেও আমার কণ্ঠ চিনতে পারে। আমি তাকে বলি যে আল্লাহর নবী তাঁর সেনাদলের সঙ্গে এখানে অবস্থান করছেন। আমি তার ও কুরাইশদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করি:

“যদি তিনি তোমাকে ধরে ফেলেন, তবে তিনি তোমার শিরশ্ছেদ করবেন। সুতরাং এই খচ্চরের পেছনে চড়ে বসো, যাতে আমি তোমাকে তাঁর কাছে নিয়ে যেতে পারি ও তাঁর কাছে তোমাদের সুরক্ষার আবেদন করতে পারি।”

তাই সে আমার পিছনে আরোহণ করে ও তার দুই সঙ্গী প্রত্যাবর্তন করে। যখনই আমরা কোন মুসলমানদের জ্বালানো আগুনের স্থানটি অতিক্রম করতাম, তখনই আমাদের চ্যালেঞ্জ জানানো হতো। আর যখনই তারা আমাকে আল্লাহর নবীর খচ্চরটির ওপর সওয়ার হওয়া অবস্থায় দেখত, তখনই তারা বলতো যে এ হলো আল্লাহর নবীর চাচা যে তাঁর খচ্চরের ওপর সওয়ার হয়েছে, যতক্ষণে না আমি উমরের জ্বালানো আগুনের স্থানটি অতিক্রম করি। সে আমাকে চ্যালেঞ্জ করে, উঠে দাঁড়ায় ও আমার কাছে আসে।

অতঃপর যখন সে আবু সুফিয়ান-কে জন্তুটির পিছনে সওয়ার হওয়া অবস্থায় দেখে, তখন সে চিৎকার করে বলে, “আবু সুফিয়ান, আল্লাহর শত্রু! আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, কারণ সে তোমাকে কোনরূপ চুক্তি কিংবা ঘোষণা ছাড়াই প্রদান করছে।” তারপর, সে দৌড়ে আল্লাহর নবীর কাছে রওনা হয়, আর আমিও খচ্চরটিকে দ্রুত গতিতে ছোটানো শুরু করি। একটি ধীর জন্তু ধীর মানুষকে ছাড়িয়ে যাওয়ার দূরত্বের ব্যবধানে খচ্চরটি জিতে যায়। আমি (আল তাবারী: ‘লাফ দিয়ে’) নেমে আসি ও আল্লাহর নবীর কাছে যাই। আর উমরও একই বাক্যগুলো চিৎকার করে বলতে বলতে সেখানে আসে; সঙ্গে যোগ করে, “আমাকে তার কল্লা কাটার অনুমতি দিন।”

আমি আল্লাহর নবী-কে বলি যে, আমি তাকে নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। অতঃপর আমি তাঁর পাশে বসে পড়ি ও তাঁর মাথাটি আঁকড়ে ধরে বলি, “আল্লাহর কসম, এই রাতে আমার বিনা উপস্থিতিতে তাঁর সাথে কেউ গোপনে কথা বলবে না।” আর উমর যখন তার তর্ক-বিতর্ক চালিয়ে যেতে থাকে, আমি বলি, “ধীরে। উমর! যদি সে বানু আদি বিন কা’ব গোত্রের [উমরের গোত্র] কেউ একজন হতো, তবে তুমি হয়তো এ কথা বলতে পারতে না; কিন্তু তুমি জানো যে সে বানু আবদে মানাফ গোত্রের [মুহাম্মদ ও আল আব্বাসের গোত্র] এক লোক।”

সে জবাবে বলে, “শান্ত হও, আব্বাস! আল্লাহর কসম, যেদিন থেকে তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছো, সেদিন থেকে আমার কাছে তোমার ইসলাম আল খাত্তাবের [আল তাবারী: ‘পিতার’] ইসলামের চেয়েও বেশী প্রিয়, যদি সে তা গ্রহণ করতো। যে বিষয়টি আমি নিশ্চিতরূপে জানি তা হলো, আল্লাহর নবীর কাছে তোমার ইসলাম গ্রহণ আমার পিতার ইসলাম গ্রহণের চেয়েও বেশী প্রিয় হতো, যদি সে তা গ্রহণ করতো।”

আল্লাহর নবী আমাকে বলেন যে আমি যেন তাকে আমার তাঁবুতে নিয়ে যাই ও পরদিন সকালে তাকে নিয়ে আসি। সে আমার সাথে রাত্রি যাপন করে ও আমি অতি প্রত্যুষে তাকে আল্লাহর নবীর কাছে নিয়ে আসি। যখন তিনি তাকে দেখেন, বলেন:

“এখনই কি সময় নয় যে তুমি স্বীকার করে নেবে যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নাই?” সে জবাবে বলে, “তুমি আমার কাছে পিতা-মাতার চেয়েও অধিক প্রিয়। তোমার সহানুভূতি, সম্মান ও করুণা অতি মহান! আল্লাহর কসম, আমি ভেবেছিলেম যে যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন উপাস্য থাকতো, তবে সে হয়তো আমাকে সাহায্য করা অব্যাহত রাখতো।”

তিনি বলেন, “আফসোস, আবু সুফিয়ান! এখনই কি সময় নয় যে তুমি স্বীকার করে নেবে যে আমি আল্লাহর রাসুল?”

সে জবাবে বলে, “সেই বিষয়টিতে এখনও আমার কিছুটা সন্দেহ আছে।”

আমি তাকে বলি,

“তোমার গর্দান হারানোর আগে তাঁর বশ্যতা স্বীকার করো, আর সাক্ষ্য দাও যে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নাই ও মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল।“ সুতরাং, সে তাই করে।

আমি আল্লাহর নবীকে নির্দিষ্ট করে বলি যে আবু সুফিয়ান হলো এমনই এক লোক যে পছন্দ করে এমন কিছু পেতে, যা তাকে গৌরবান্বিত করে। অতঃপর, আমি তাঁকে তার জন্য কিছু একটা করার অনুরোধ করি। তিনি ঘোষণা করেন, “ঐ ব্যক্তিরা নিরাপদ যারা:

[১] আবু সুফিয়ানের বাড়ীর ভিতরে আশ্রয় নেবে,
[২] যারা তাদের নিজেদের ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখবে, আর
[৩] যারা আশ্রয় নেবে কাবা ঘরের ভিতরে।”

তার ফিরে যাওয়ার প্রাক্কালে আল্লাহর নবী আমাকে বলেন যে, আমি যেন পাহাড়টির বাইরের দিকে বের হয়ে থাকা উপত্যকার সংকীর্ণ অংশটিতে তাকে আটক করে রাখি; যাতে সে আল্লাহর সৈন্যবাহিনী অতিক্রম করার দৃশ্যটি দেখতে পায়। তাই আমি প্রস্থান করি ও আল্লাহর নবী তাকে যেখানে আটকে রাখার আদেশ করেছিলেন তা পালন করি। বিভিন্ন গোত্রের সশস্ত্র সৈন্যরা তাদের পতাকাগুলো হাতে নিয়ে তাকে অতিক্রম করে, আর সে জিজ্ঞাসা করে জানতে চায় যে তারা কারা। যখন আমি তাকে বলি যে তারা সুলায়েম গোত্রের লোক; তখন সে বলে, “সুলায়েমের সাথে আমার কী সম্পর্ক?” একইভাবে মুযায়েনা ও অন্যান্য সকল গোত্রের লোকেরা তাকে অতিক্রম করে, সে একই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করে ও আমার জবাবে একইরূপ মন্তব্য করে। পরিশেষে অতিক্রম করে আল্লাহর নবীর সবুজাভ-কালো বর্ণের [বর্ম পরিহিত] সশস্ত্র সৈন্যরা, যাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল মুহাজির ও আনসাররা; বর্মের কারণে শুধু তাদের চোখগুলো দেখা যাচ্ছিল। সে বলে, “আব্বাস, এরা কারা?” যখন আমি তাকে তাদের পরিচয় জানাই, সে বলে, কেউই তাদের প্রতিহত করতে পারবে না। “হে আবু ফাদল [আল আব্বাস], আল্লাহর কসম, তোমার ভাইয়ের ছেলের ক্ষমতা অত্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।” আমি তাকে বলি, এটা এই কারণে যে সে একজন নবী। সে বলে যে সেই ক্ষেত্রে এর বিপক্ষে তার কিছুই বলার নাই। [8]

আমি তাকে অতি দ্রুত তার লোকদের কাছে যেতে বলি। সে তাদের কাছে ফিরে এসে তার গলার সবটুকু শক্তি দয়ে চিৎকার করে বলে:

“হে কুরাইশরা, মুহাম্মদ তোমাদের কাছে এমন এক বিশাল বাহিনী নিয়ে এসেছে, যাকে প্রতিহত করার ক্ষমতা তোমাদের নেই। যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের গৃহের ভিতরে আশ্রয় নেবে, সে নিরাপদ।”

হিন্দ বিনতে উতবা [আবু সুফিয়ানের স্ত্রী] তার কাছে যায় ও তার গোঁফ পাকড়ে ধরে চিৎকার করে বলে, “এই মোটা চর্বিযুক্ত অকর্মা লোকটিকে হত্যা করো! জনগণের কি পচা রক্ষকই না সে!”

সে [আবু সুফিয়ান] বলে, “ধিক তোমাকে! এই মহিলার কথায় বিভ্রান্ত হইয়ো না; কারণ যা তোমাদের ওপর এসেছে, তা তোমরা প্রতিহত করতে পারবে না। যে ব্যক্তি আবু সুফিয়ানের গৃহে আশ্রয় নেবে, সে নিরাপদ।” তারা বলে, “আল্লাহ তোমার সর্বনাশ করুক! তোমার বাড়ি আমাদের কি কাজে আসবে?” (অর্থাৎ, সেখানে সকলের জায়গা হবে না।) সে যোগ করে: “যারা তাদের নিজেদের ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখবে ও যারা কাবা ঘরের ভিতর আশ্রয় নেবে, তারা নিরাপদ।”

অতঃপর, লোকেরা চতুর্দিকে তাদের বাড়িঘর ও কাবা ঘরের উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে পড়ে।‘

আল ওয়াকিদির উদ্ধৃতি সাপেক্ষে আল তাবারীর অতিরিক্ত বর্ণনা: [9]

‘আল ওয়াকিদির বর্ণনা মতে: যখন আল্লাহর নবী মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, কিছু লোক বলে যে তাঁর গন্তব্য-স্থল হলো কুরাইশ গোত্র, কিছু লোক বলে যে তাঁর গন্তব্য হলো হাওয়াযিন গোত্র ও কিছু লোক বলে যে তাঁর গন্তব্য-স্থল হলো থাকিফ গোত্র। তিনি বিভিন্ন গোত্রের লোকদের কাছে তাঁর লোকদের প্রেরণ করেন, কিন্তু তারা তাঁর সাথে যোগদানে ইতস্তত করে। তিনি তাদের কাউকেই নেতৃত্বে দান করেন না ও ব্যানারও প্রদর্শন করেন না। অতঃপর, যখন তিনি কুদায়েদ নামক স্থানে এসে পৌঁছেন, বানু সুলায়েম গোত্রের লোকেরা তাদের ঘোড়া ও সকল যুদ্ধোপকরণ সহ তাঁর সাথে যোগদান করে। ইউয়েনা (বিন হিসন) তার একদল সঙ্গীসহ আল-আরয নামক স্থানে এসে আল্লাহর নবীর সাথে যোগদান করেন। আল-আকরা বিন হাবিছ তাঁর সাথে যোগদান করে আল-সুকিয়া (al-Suqya) নামক স্থানে। [10]

ইউয়েনা বলে, “হে আল্লাহর নবী, আল্লাহর কসম, আমি না দেখছি যুদ্ধ-যাত্রার কোনও সরঞ্জাম কিংবা পবিত্র-তীর্থযাত্রার কোন প্রস্তুতি। হে আল্লাহর নবী, আপনি কোথায় যাচ্ছেন?” আল্লাহর নবী বলেন, “সেখানেই যেখানে আল্লাহর ইচ্ছা।” আল্লাহর নবী হুকুম জারী করেন যে খবরাখবর-গুলো যেন অস্পষ্ট রাখা হয়। তিনি মার আল-যাহরান নামক স্থানে এসে শিবির স্থাপন করেন। আল আব্বাস সুকিয়া নামক স্থানে তাঁর সঙ্গে মিলিত হয়, আর মাখরামা বিন নওফল এসে তাঁর সাথে মিলিত হয় নিক আল-উকাব নামক স্থানে। মার আল-যাহরানে শিবির স্থাপন অবস্থায় হাকিম বিন হিযামের সাথে আবু সুফিয়ান বিন হারব তাঁর কাছে আসে।’

– অনুবাদ, টাইটেল, ও [**] যোগ – লেখক।

আল ওয়াকিদির অতিরিক্ত বর্ণনা: [11]
অন্য এক উৎসের উদ্ধৃতি সাপেক্ষে আল-ওয়াকিদির আর এক বর্ণনার সংক্ষিপ্তসার:

আল আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব যখন মুহাম্মদের ‘মার আল-যাহরান’ শিবির থেকে বের হয়ে ‘আল-আরাক নামক’ স্থানে এসে আবু সুফিয়ান বিন হারব, হাকিম বিন হিযাম ও বুদায়েল বিন ওয়ারাকার সন্ধান পান, তিনি তাদের-কে মুহাম্মদের আগমনের সংবাদ ও সেই মুহূর্তে মুহাম্মদের মতবাদে দীক্ষিত না হওয়ার “ভয়াবহ পরিণতির” কথা স্মরণ করিয়ে দেন। অতঃপর তিনি “তাঁদের তিন জনকেই” সঙ্গে নিয়ে মুহাম্মদের শিবিরে ফিরে আসেন। সেখানে পৌছার পর মুহাম্মদ এই তিন জনকেই “এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও তাঁকে আল্লাহর নবী হিসাবে স্বীকার করে নেওয়ার আহ্বান জানান (‘শাহাদা’)।” হাকিম বিন হিযাম ও বুদায়েল বিন ওয়ারাকা তা স্বীকার করে নিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। আর আবু সুফিয়ান: “এক আল্লাহ-কে স্বীকার করে নেন, কিন্তু তিনি মুহাম্মদ-কে নবী হিসাবে স্বীকার করতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করেন।”

অতঃপর মুহাম্মদ তাদের-কে আব্বাসের শিবিরে রাত্রি যাপনের অনুমতি দেন। আল আব্বাস তাদের-কে নিয়ে তার শিবিরে ফিরে আসেন। পরদিন সকালে সমস্ত শিবির ব্যাপী যখন একযোগে ফজরের নামাজের “আজানের শব্দ” ধ্বনিত হয়, সেই শব্দে আবু সুফিয়ান ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তিনি আব্বাসের কাছে এই শব্দের কারণ জানতে চান। অতঃপর, আল আব্বাসের কাছে ‘নামাজের খবর’ জানার পর আবু সুফিয়ান “মুহাম্মদ-কে আল্লাহর নবী হিসাবে স্বীকার করে নিয়ে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হোন!”

ইমাম বুখারীর (৮১০-৮৭০ সাল) বর্ণনা: [12]

এই প্রসঙ্গে ইমাম বুখারীর বর্ণনা অত্যন্ত যৎসামান্য। তিনি তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন: আবু সুফিয়ান, হাকিম বিন হিযাম ও বুদায়েল বিন ওয়ারাকা-কে মুহাম্মদের কাছে ধরে নিয়ে এসেছিলেন “মুহাম্মদের পাহারাদার সৈন্যরা।” আর তাঁদের-কে ধরার প্রাক্কালে ও মুহাম্মদের কাছে ধরে নিয়ে আসার পর কী ঘটনাটি ঘটেছিল ও কী কারণে তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সে ব্যাপারে কোন উল্লেখই তিনি করেন নাই। এ বিষয়ে তাঁর বর্ণনা মাত্র দেড়-দুই লাইন; আর তা হলো: “আল্লাহর নবীর কিছু পাহারাদার সৈন্যরা তাদের-কে দেখে ফেলে ও তাদের-কে ধরে নিয়ে আল্লাহর নবীর কাছে আসে। আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করে।”–

সহি বুখারী: ভলুম ৫, বই ৫৯, হাদিস নম্বর ৫৭৭:

‘হিশামের পিতা হইতে বর্ণিত: যখন আল্লাহর নবী (মক্কা) বিজয়ের বছরটিতে (মক্কার উদ্দেশ্যে) যাত্রা শুরু করেন, আর এই খবরটি (কুরাইশ কাফেররা) জানতে পারে, আবু সুফিয়ান, হাকিম বিন হিযাম ও বুদায়েল বিন ওয়ারাকা আল্লাহর নবীর বিষয়ে খবর সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বাহিরে বের হয়ে আসে। তারা (মক্কার নিকটবর্তী) মার আল-যাহরান নামক স্থানে আসার পূর্ব পর্যন্ত তারা তাদের যাত্রা অব্যাহত রাখে। দেখ, দেখ! সেখানে তারা বহু জ্বালানো আগুন দেখতে পায়, যেন তা ছিল আরাফাতের আগুন। আবু সুফিয়ান বলে, “এটি কী? এটি দেখতে আরাফাতে জ্বালানো আগুন সাদৃশ্য।” বুদায়েল বিন ওয়ারাকা বলে, “বানু আমর গোত্রের লোক সংখ্যা এর চেয়ে অল্প।” আল্লাহর নবীর কিছু পাহারাদার তাদের-কে দেখে ফেলে ও তাদের-কে ধরে নিয়ে আল্লাহর নবীর কাছে আসে। আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করে।

যখন আল্লাহর নবী পুনরায় যাত্রা শুরু করেন, তিনি আল-আব্বাস-কে বলেন, “আবু সুফিয়ান-কে পাহাড়ের চুড়ার ওপর দণ্ডায়মান রেখো, যাতে সে মুসলমানদের দেখতে পায়। তাই আল-আব্বাস তাকে (সেই স্থানে) দণ্ডায়মান অবস্থায় রাখে, আর আল্লাহর নবীর সঙ্গে যোগদানকারী বিভিন্ন গোত্রের সেনাদল সারিবদ্ধভাবে আবু সুফিয়ানের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা শুরু করে। যখন একটি দল অতিক্রম করে, আবু সুফিয়ান বলে, “এই আব্বাস, এরা কারা?” আব্বাস বলে, “তারা (বানু) গিফার গোত্রে।” আবু সুফিয়ান বলে, “গিফারদের সাথে আমার কোনই কারবার নেই।” অতঃপর জুহায়েনা (গোত্রের একদল) অতিক্রম করে, আর সে পূর্বের মতই একইরূপ প্রশ্ন করে। অতঃপর সাদ বিন হুযায়েম (গোত্রের একদল) অতিক্রম করে, আর সে পূর্বের মতই একইরূপ প্রশ্ন করে। অতঃপর (বানু) সুলায়েম (গোত্রের একদল) অতিক্রম করে, আর সে পূর্বের মতই একইরূপ প্রশ্ন করে। অতঃপর এমন একটি দল আসে, যে দলের মত অন্য কোন দল আবু সুফিয়ান পূর্বে দেখে নাই। সে বলে, “এরা কারা?” আব্বাস বলে, “এরা হলো আনসাররা, যাদের সম্মুখে পতাকা হাতে আছে তাদের নেতা সাদ বিন উবাদা।”

সাদ বিন উবাদা বলে, “হে আবু সুফিয়ান! আজ মহান যুদ্ধের দিন ও আজ কাবা হবে আমাদের আওতাধীন (যা ছিল নিষিদ্ধ)।” আবু সুফিয়ান বলে, “হে আব্বাস! ধ্বংসের এই দিনটি কতই না চমৎকার!”

অতঃপর (যোদ্ধাদের) আর একটি দল আসে, যারা ছিল অন্যান্য দলের চেয়ে সবচেয়ে ছোট, আর তাতে ছিল আল্লাহর নবী ও তার সঙ্গীরা; আর আল্লাহর নবীর পতাকাটি বহন করছিল আল-যুবায়ের বিন আল-আওয়াম। যখন আল্লাহর নবী আবু সুফিয়ান-কে অতিক্রম করে, পরের জন (আল্লাহর নবীকে) বলে, “তুমি কী জানো, সাদ বিন উবাদা কী বলেছে?” আল্লাহর নবী বলেন, “সে কী বলেছে?” আবু সুফিয়ান বলে, “সে বলেছে এই-সেই।” আল্লাহর নবী বলেন, “সাদ মিথ্যা বলেছে। তবে আজ আল্লাহ কা’বা-কে শ্রেষ্ঠত্ব দান করবেন ও তা (কাপড়ের) আবরণে আচ্ছাদিত হবে।”— (অনুবাদ: লেখক।)

>>> মার আল যাহরান নামক স্থানে অবস্থানকালে মুহাম্মদের চাচা আল আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব তাঁর বিবেকের তাড়নায় মুহাম্মদের শিবির থেকে বের হয়ে এসে আবু সুফিয়ান বিন হারব ও হাকিম বিন হিযাম ও বুদায়েল বিন ওয়ারাকার সাক্ষাৎ করার পর তাঁদের-কে সেখানের বাস্তব পরিস্থিতি ও ইসলামে দীক্ষিত না হওয়ার “ভয়াবহ পরিণতির” কথা স্মরণ করিয়ে দেবার পর শুধু আবু সুফিয়ানকেই মুহাম্মদের কাছে ধরে নিয়ে আসুন, কিংবা তাঁদের তিনজনকেই; অতঃপর “আবু সুফিয়ানের ইসলাম গ্রহণ” তাঁর নিজের কল্লা বাঁচানোর জন্যই হোক (ইবনে ইশাক, আল তাবারী ও আল ওয়াকিদির বর্ণনা), কিংবা তা হোক ‘আজানের শব্দ ও নামাজের মহাত্ব’ শোনার পর মুগ্ধ হয়ে (আল ওয়াকিদির অতিরিক্ত বর্ণন), কিংবা হোক না তা কোন কারণ ছাড়াই (ইমাম বুখারীর বর্ণনা); ইসলামের ইতিহাসের সবচেয়ে আদি উৎসের মুসলিম ঐতিহাসিকদের ওপরে বর্ণিত বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট তা হলো:

“আবু সুফিয়ান ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন মুহাম্মদের সেনা শিবিরে! তাঁকে ধরে নিয়ে আসার পর সেখানে অবস্থানকালে; তরবারির মুখে, অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও ভীতিকর পরিস্থিতিতে!”

আদি উৎসের এই সকল বর্ণনায় যে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্ট তা হলো, আল আব্বাস কুরাইশদের আশু ভয়াবহ পরিণতির কথা চিন্তা করে, হাতিব বিন আবু বালতার মতই মুহাম্মদের নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করে, কুরাইশদের রক্ষার প্রচেষ্টায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। আর আল আব্বাসের পরামর্শে আবু সুফিয়ান তাঁর নিজের জীবন বাজী রেখে স্ব-ইচ্ছায় মুহাম্মদের শিবিরে গমন করেছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই:

“মুহাম্মদের করাল গ্রাস থেকে কুরাইশদের রক্ষা করা! অন্য কিছুই নয়!”

ইসলামী ইতিহাসের ঊষালগ্ন থেকে আজ অবধি প্রায় প্রতিটি ইসলাম বিশ্বাসী প্রকৃত ইতিহাস জেনে বা না জেনে ইতিহাসের এ সকল অমানবিক অধ্যায়গুলো যাবতীয় চতুরতার মাধ্যমে বৈধতা দিয়ে এসেছেন। বিষয়গুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিধায় বাংলা অনুবাদের সাথে মুহাম্মদ ইবনে ইশাক ও আল-তাবারীর বর্ণনার অতিরিক্ত বিশেষ অংশটির মূল ইংরেজি অনুবাদ সংযুক্ত করছি।

The Narratives of Muhammad Ibn Ishaq:

Muhammad b. Muslim b. Shihab al-Zuhri from ‘Ubaydullah b.’Abdullah b.’Utba b. Mas’ud from ‘Abdullah b.’Abbas told me: Then the apostle went on his journey and put over Medina Abu Ruhm Kulthum b. Husayn b. ‘Utba b. Khalaf al-Ghifari. He went out on the10th of Ramadan and he and the army fasted until when he reached al-Kudayd between ‘Usfan and Amaj he broke his fast. He went on until he came to Mar al-Zahran with 10,000 Muslims; Sulaym numbered 700 and some say 1,000; and Muzayna 1,000 Muslims; and in every tribe there was a considerable number and Islam. The Muhajirs and Helpers went as one man; not one stayed behind. When the apostle had reached Marr al-Zahran Quraysh were completely ignorant of the fact and did not even know what he was doing. On those nights Abu Sufyan b. Harb and Hakim b Hizam and Budayl b. Warqa’ went out searching for news by eye or ear when al-‘Abbas had met the apostle in the way.

—When the apostle camped at Marr al-Zahran Abbas said, ‘Alas, Quraysh. if the apostle enters Mecca by force before they come and ask for protection that will be the end of Quarysh for ever.’ I sat upon the apostle’s white mule and went out on it until came to the arak trees, thinking that I might find some woodcutters or milkers or someone who could go to Mecca and tell them where the apostle was so that they could come out and ask for safety before he entered the town by assault. As I was going along with this intent suddenly I heard the sound of Abu Sufyan (T. and Hakim b. Hazam) and Budayl talking together. Abu Sufyan was saying, I have never seen such fires and such a camp before.’ Budayl was saying, ‘These, by God, are (the fires of) Khuza ‘a which war has kindled.’ Abu Sufyan was saying, ‘Khuza’a are to poor and few to have fires and camps like these.’ I recognized his voice and called to him and he recognized my voice. I told him that the apostle was here with his army and expressed concern for him and for Quaraysh: ‘If he takes you he will behead you, so ride on the back of this mule so that I can take you to him and ask for you his protection.’ So he rode behind me and his two companions returned.

Whenever we passed a Muslim fire we were challenged, and when they saw the apostle’s mule with me riding it they said it was the prophet’s uncle riding his mule until I passed by ‘Umar’s fire. He challenged me and got up and came to me, and when he saw Abu Sufyan on the back of the beast he cried:’ Abu Sufyan.the enemy of God! Thanks be to God who has delivered you up without agreement or word.’ then he ran towards the apostle and I made the mule gallop, and the mule won by the distance a slow beast will outrun a slow man. I dismounted and went in to the apostle and Umar came in saying the same words and adding, ‘Let me take off his head.’ I told the apostle that I had promised him my protection; then I sat by him and took hold of his head and said, ‘By God, none shall talk confidentially to him this night without my being present’; and when ‘Umar continued to remonstrate I said, ‘Gently. ‘Umar! If he had been one of the B.’Adiy b. Ka’b you would not have said this; but you know that he is one of the B. ‘Abdu Manaf.’ He replied, ‘Gently, ‘Abbas! for by God your Islam the day you accepted it was dearer to me than the Islam of al-Khattab would have been had he become a Muslim. One thing I surely know is that your Islam was dearer to the apostle than my father’s would have been.’ The apostle told me to take him away to my quarters and bring him back in the morning.

He stayed the night with me and I took him in to see the apostle early in the morning and when he saw him he said, ‘Isn’t it time that you should recognize that there is no God but Allah?’ He answered, ‘You are dearer to me than father and mother. How great is your clemency, honour, and kindness! By God, I thought that had there been another God with God he would have continued to help me.’ He said: ‘Woe to you, Abu Sufyan, isn’t it time that you recognize that I am God’s apostle?’ He answered, ‘As to that I still have some doubt. I said to him, ‘Submit and testify that there is no God but Allah and that Muhammad is the apostle of God before you lose your head ,’ so he did so. I pointed out to the apostle that Abu Sufyan was a man who liked to have some cause for pride and asked him to do something for him. He said, ‘He who enters Abu Sufyan’s house is safe, and he who locks his door is safe, and he who enters the mosque is safe.”

When he went off to go back the apostle told me to detain him in the narrow part of the wadi where the mountain projected (Lit’at the nose of the mountain) so that God’s armies would pass by and he would see them; so I went and detained him where the prophet had ordered. The squadrons passed him with their standards, and he asked who they were. When I said Sulaym he would say, `What have I to do with Sulaym?” and so with Muzayana until all had passed, he asking the same question and making the same response to the reply. Finally, the apostle passed with his greenish-black squadron (799) in which were Muhajirs and Ansar whose eyes alone were visible because of their armour. He said, `Good heavens, `Abbas, who are these?’ and when I told him he said that none could withstand them. `By God, O Abu FadI, the authority of your brother`s son has become great.’ I told him that it was due to his prophetic office, and he said that in that case he had nothing to say against it.

I told him to hurry to his people. When he came to them, he cried at the top of his voice: `O Quraysh, this is Muhammad who has come to you with a force you cannot resist. He who enters Abu Sufyan’s house is safe.’ Hind d. `Utba went up to him, and seizing his moustaches cried, `Kill this fat greasy bladdar of lard! What a rotten protector of the people!’ He said, `Woe to you, don’t let this woman deceive you, for you cannot resist what has come. He who enters Abu Sufyan`s house will be safe.’ `God slay you,’ they said, `what good will your house to be us?’ (i.e. it could not provide cover for them all.) He added, `And he who shuts his door upon himself will be safe and he who enters the mosque will be safe.’ Thereupon the people dispersed to their houses and the mosque.’

Al-Tabari added:

‘According to al-Waqidi: When the Messenger of God set out for Mecca, some said his destination was Quraysh, some said it was Hawazin, and some said it was Thaqif. He sent to the tribes, but they hung back from him, and he appointed no one to military commands and displayed no banners. Then, when he reached Qudayd, the Banu Sulaym met him with horses and full armament. ‘Uyaynah [b. Hisn] joined the Messenger of God at al-`Arj with a group of his companions. Al-Aqra’ b. Habis joined him at al-Suqya. ‘Uyaynah said: “Messenger of God, by God I see neither the implements of war nor preparation to enter a state of consecration. Where then are you heading, Messenger of God?” The Messenger of God said, “Where God wills.” The Messenger of God ordered that the information be kept ambiguous, and he encamped at Marr al-Zahran. Al-‘Abbas met him at al-Suqya, and Makhramah b. Nawfal met him at Niq al-‘Uqab. When he encamped at Marr al-Zahran, Abu Sufyan b. Harb came out with Hakim b. Hizam.’

(চলবে)

তথ্যসূত্র ও পাদটীকা:

[1] বদর যুদ্ধ (পর্ব ৩১-৩২):
https://drive.google.com/file/d/0BwbIXqxRzoBOX01sZ0Q1cGJsSzg/view

[2] মুহাম্মদ ইবনে ইশাক (৭০৪-৭৬৮ সাল): পৃষ্ঠা ৫৪৫-৫৪৮
http://www.justislam.co.uk/images/Ibn%20Ishaq%20-%20Sirat%20Rasul%20Allah.pdf

[3] আল-তাবারী (৮৩৯-৯২৩ সাল): ভলুউম ৮; পৃষ্ঠা ১৬৮-১৭৪
https://onedrive.live.com/?authkey=%21AJVawKo7BvZDSm0&cid=E641880779F3274B&id=E641880779F3274B%21292&parId=E641880779F3274B%21274&o=OneUp

[4] আল-ওয়াকিদি (৭৪৮-৮২২ সাল): পৃষ্ঠা ৮১৬-৮২৩; ইংরেজি অনুবাদ পৃষ্ঠা ৪০২-৪০৫
https://books.google.com/books?id=gZknAAAAQBAJ&printsec=frontcover&dq=kitab+al+Magazi-

[5] Ibid আল তাবারী; নোট নম্বর ৬৯৮: “হিজরি ৮ সালের ১০ই রমজান ছিল ৬৩০ খ্রিস্টাব্দের ১লা জানুয়ারি।”
[6] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক – ইবনে হিশামের নোট নম্বর ৭৯৭, পৃষ্ঠা ৭৭৩:
“সে তার পরিবারের সাথে হিজরত করার প্রাক্কালে আল-জুহফা (al-Juhfa) নামক স্থানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করে; এর আগে সে মক্কায় অবস্থান করছিল ও আল্লাহর নবীর সম্মতিতে পানি সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতো – যা আল-যুহরী আমাকে জানিয়েছেন।”
[7] Ibid আল তাবারী, নোট নম্বর ৭১৩: “ওয়াদি আল-আরাক (আরাক বৃক্ষরাজি উপত্যকা) হলো মক্কার নিকটবর্তী একটি উপত্যকা।”
[8] Ibid মুহাম্মদ ইবনে ইশাক – ইবনে হিশাম নোট ৭৯৯, পৃষ্ঠা ৭৭৩: “এতে অত্যধিক পরিমাণ ইস্পাত (Steel) থাকার কারণে এটিকে বলা হতো ‘সবুজাভ-কালো বর্ণ’।”
[9] Ibid আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৮০০-৮০৪; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৩৯৪-৩৯৬
[10] Ibid আল তাবারী, নোট নম্বর ৭১০: “বলা হয়, আল-আকরা বিন হাবিছ ছিলেন তামিম গোত্রের সর্বপ্রথম মুসলমান।”
[11] Ibid আল-ওয়াকিদি: পৃষ্ঠা ৮১৪-৮১৬; ইংরেজি অনুবাদ: পৃষ্ঠা ৪০১-৪০২।
[12] সহি বুখারী: ভলুম ৫, বই ৫৯, হাদিস নম্বর ৫৭৭
https://quranx.com/hadith/Bukhari/USC-MSA/Volume-5/Book-59/Hadith-577/

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of