ভীরু নারীরাই অনন্য শ্রদ্ধার মানুষ !!!

আমার বাসায় তেলাপোকা দেখলে, আমার বউ ও মেয়েরা কার্টুনের মতো তিড়িং বিড়িং করে লাফাতে থাকে।তাদের এই ভীরুতা আমার কাছে সবসময়ই বিনোদন ও হাসির খোরাক ।তবে নিজের এই ভীতু বউটা সন্তানের মায়ায়, মেয়েদের জন্মের সময় অপারেশন থিয়েটারে কতোটা না সাহসিকতা দেখিয়েছিল।সৌভাগ্যক্রমে আমি ওটিতে ছিলাম।আমার যমজ মেয়ে দুটির জন্মের প্রত্যক্ষদর্শী ছিলাম আমি । এমনটি বিলেতে হয় নাকি শুনেছি । বাংলাদেশে মেয়েদের সন্তান জন্মের সময় স্বামীর অপারেশন থিয়াটারে থাকা কোন বাধ্যবাধকতা নেই ।স্বামীরা সধারনত অপারেশনের থিয়েটারের বাইরে থাকে , পায়চারি করে কিংবা বিড়ি ফুঁকতে থাকে এটাই স্বাভাবিক চিত্র। ওটির মধ্যে আমি তাজা রক্তের বন্যা দেখেছিলাম।শুধু মাত্র সন্তানের টানে মায়ের এমন ত্যাগ আমাকে নারীর প্রতি আরও শ্রদ্ধা বারিয়ে দিয়েছে ।মেয়েদের সন্তানের প্রতি এই ভালবাসা /মায়ার টানের সাহসিকতার কাছে আমার  মাথা নত করাটাই যুক্তিসঙ্গত।একদিন আমার এই মেয়েরাও তাদের মায়ের মত সাহসিকতা দেখাবে।তখন কেউ আর ওদের ভীতু বলবে না।

 

জন্মের পর ছোট্ট তুলতুলে একটা কলিজার টুকরাকে যখন কোলে তুলে নেয়  তখন বাবা মায়ের চোখে, মুখে এবং বুকে আনন্দের চেয়ে শঙ্কা বেশী থাকে । কারণ নিশ্চয়ই আপনি আমি জানি। অনেক প্রতিকূলতার মাঝে আমাদের এই শিশুদের বড় করতে হয়। আর তা যদি হয় নারী তা হলে তো  তা অনেক ভয়ানক ব্যাপার।  শুধুমাত্র আপনার আমার  বানানো সমাজের ছকগুলো জন্যই এমন পরিণতি । এটি এমন একটি  ছক যা নারীকে গভীর ভাবে অবহেলা করে। শুধুমাত্র সামাজিক ভাবে না  ধর্ম দিয়েও এদের অবহেলা করা হয়েছে। এমন অনেক উদাহরণ মুক্তমনারা অসংখ্যবার তুলে ধরেছে ।আমাদের দেশের  ইসলাম  ধর্মের সম্মানিত আল্লামা শাহ আহমেদ শফী হুজুর এবং মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ কিন্তু বলেই দিয়েছেন মুসলিম নারীরা কি কি করতে পারবে এবং কতদূর করতে পারবে। আর এখন পর্যন্ত কোন ইসলামিক স্কলার কিংবা আলেম সমাজের একজন ব্যক্তিকে ওটা নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে কোন বক্তব্য পেশ করতে আমি শুনিনি। কেউ শুনলে আমাকে দয়া করে জানাবেন। আর কারো কাছে উনাদের মতের বিপক্ষে কোন ইসলামিক ব্যাখ্যা থাকলে আমাকে একটু দিবেন। ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সন্মান। মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেস্ত। এমন গাল গল্প আমাকে দিতে আসবেন না । আমি ভাল বিষয়ের কথা জানতে চাই না। অমানবিক বিষয়গুলার ব্যাখ্যা জানতে চাই।

আমি আমার বউ কিংবা মেয়েদের আপনাদের বাঁধা ধরা নিয়মে শৃঙ্খলিত করতে চাই না ।নারীকে মানুষ হিসাবে আমি মর্যাদা দেই।আমি পুরুষ হয়ে যা করি নারীকে আমি সবসময় তা করতে দেই । আসলে আমি অধিকার দেবার কেউ না । এটা মানুষ হিসাবে নারীর নিজের অধিকার। তার যা ভাল লাগবে তা তিনি করবেন ।আমার কোন অধিকার নেই এই নারীকে সমাজ কিংবা ধর্ম দিয়ে  শৃঙ্খলিত করা । আমাদের জন্ম থেকে নারী আমাদের যে ভালবাসা দেয় তার ঋণ কোনভাবে শোধ করা যায় না।মনে রাখবেন নারীর শারীরিক অবয় নারীর ভীরুতা নয়। নারী অবশ্যই মহান এবং পুরুষের মত সমান ভাবে জ্ঞান মেধায় শক্তিশালী।

পরিশেষে বলতে চাই নারীর ভালবাসা,মায়া কিংবা বন্ধনের কাছে সকল নারীর ভীরুতার পরাজয় নিশ্চিত। প্রতিটি নারী সত্যিই একজন দেবতা কিংবা ঈশ্বর।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of