রোজাভা বিপ্লবঃ গণক্ষমতাতান্ত্রিক বিশ্ব-ব্যবস্থা গঠনের এক অনুসরণীয় মডেল

বহুজাতিগোষ্ঠী অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম অভাগা এক জাতির নাম হচ্ছে কুর্দি জাতি। এই জাতিভুক্ত মানুষদের রয়েছে নিজস্ব ভাষা, বর্ণাঢ্য সংস্কৃতি ও বেদনাদায়ক ইতিহাস। প্রায় সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যা নিয়ে এটি মধ্যপ্রাচ্যের চতুর্থ বৃহত্তম জাতি যারা ছড়িয়ে আছে তুরষ্ক, সিরিয়া, ইরাক, ইরান এবং আর্মেনিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে। এই পরিমাণ বিশাল জনসংখ্যা ও বর্ণিল অস্তিত্ব নিয়েও কুর্দি জাতি কখনোই নিজেদের জন্য একটা রাষ্ট্র গঠন করতে পারে নি। বছরের পর বছর স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য লড়াই করে একাধিক গণহত্যার শিকার এবং প্রচুর জানমালের ক্ষয় ক্ষতি হওয়ার পরেও কাঙ্ক্ষিত স্বাধীণতা তারা পায় নি। এ লড়াই তারা যে যে দেশে বসবাস করছে সেইসব দেশেই কম বেশি চালিয়ে আসছে।

এমনি এক প্রেক্ষাপটে সিরিয়ায় বসবাসরত কুর্দিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয় ২০১১ সালে শুরু হওয়া আরব বসন্ত। যে বসন্তের হাওয়ায় সিরিয়াতে শুরু হয় বাশার আল আসাদ বিরোধী গৃহযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে একদিকে থাকে বাশার আল আসাদের সরকারি বাহিনী আর অপর দিকে থাকে ফ্রি সিরিয়ান আর্মি, সালাফি-জিহাদি গ্রুপ আল নূসরা ফ্রন্ট, সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্স এবং কুখ্যাত আইএসআইএল। এছাড়াও আরও কিছু ছোট ছোট গ্রুপ লড়াইয়ে জড়িয়ে ছিল। এই গৃহযুদ্ধেই সিরিয়ায় অবস্থিত কুর্দি জাতির মানুষদের নিয়ে গঠিত বিভিন্ন গ্রুপ কুর্দিদের অধিকার নিয়ে একই সাথে সরকার বিরোধী ও আইএস বিরোধী লড়াইয়ে শামিল ছিল। কুর্দি গ্রুপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী গ্রুপ হল ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন পার্টি (PYD)। এই PYD পার্টির হাত ধরেই সিরিয়াতে এক দারুন সমাজ বিপ্লবের সূচনা হয় যাকে সবাই রোজাভা বিপ্লব নামে চেনে।

রোজাভা একটি কুর্দি শব্দ, যার অর্থ হচ্ছে পশ্চিম। মূলত রোজাভা বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে যে অঞ্চলে সেটি হচ্ছে, সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশ। কিন্তু কুর্দি স্বাধীণতাকামীরা ইরাক, ইরান, সিরিয়া, তুরস্ক মিলিয়ে যে কুর্দিস্তানের স্বপ্ন দেখেন সেখানে এই অংশটা স্বাধীন কুর্দিস্তানের পশ্চিমে পড়ে। সেই থেকে এই বিপ্লবের নাম হয়েছে রোজাভা বিপ্লব।

কি হচ্ছে রোজাভায়?

রোজাভা বিপ্লব সিরিয়ার যে অংশে সংগঠিত হচ্ছে, তার এখনকার অফিসিয়াল নাম হচ্ছে, Autonomous Administration of North and East Syria(AES)। এখানে কুর্দি যোদ্ধারা একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করেছে। তার আগে অবশ্য ভয়ঙ্কর এক রক্তক্ষয়ী লড়াই করতে হয়েছে। এই অঞ্চলটি মূলত আইএস জঙ্গিদের দখলে ছিল। আইএসের সদর দপ্তর ছিল এই এলাকায় অবস্থিত রাক্কা শহরে। এই আইএসদেরকে PYD পার্টির সশস্ত্র সংগঠন YPG ও YPJ ‘র নেতৃত্বে তুমুল লড়াই চালিয়ে পরাজিত করে তাদের দখলীকৃত ভূমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এরপর সেখানে প্রতিষ্ঠা করে এক অবিশ্বাস্য শাসন ব্যবস্থা। সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে যখন রাজতন্ত্র কিংবা একনায়কতন্ত্রই প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা, সেখানে একটি ছোট্ট অংশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে গণতান্ত্রিক সমাজ। এ শুধু ভোটাভুটির গণতন্ত্র নয়, আব্রাহাম লিঙ্কনের সংজ্ঞা অনুযায়ী অফ দ্যা পিপল, ফর দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপলের গণতন্ত্র। এখানে সরকার গঠন করে জনতা, সরকারকে পরিচালনাও করে জনতা। সমস্ত জনগণ মিলেই পরিচালনা করে এখানকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রতিরক্ষা কিংবা অন্যান্য কার্যক্রম।

এই বিষয়টা আরও গভীরে বুঝতে হলে জানতে হবে তাদের শাসন পদ্ধতি সম্পর্কে। তারা যে পদ্ধতিতে তাদের নতুন শাসন কায়েম করছে তার পোষাকি নাম হচ্ছে “Democratic Confederalism” বা বাংলায় “গণতান্ত্রিক সংঘবদ্ধতা”। নামটা শুনতে যতটা খটোমটো মনে হচ্ছে বাস্তবে বিষয়টা অত্যন্ত সহজবোধ্য ও সুন্দর।

গণতান্ত্রিক সংঘবদ্ধতা কি?

গণতান্ত্রিক সংঘবদ্ধতা হচ্ছে, একাধিক স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের একটা ঐক্যপ্রক্রিয়া,যেখানে প্রতিটা অঞ্চল পারষ্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নিজ নিজ স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রেখে একাধিক কর্মসূচিতে ঐক্যবদ্ধ হবে। এখানে কোন অঞ্চল কোন অঞ্চলের উপর খবরদারি করবে না, কেউ কাউকে শোষণ বা নিপীড়ন করার চেষ্টা করবে না।তবে এই সঙ্ঘে যুক্ত হতে হলে প্রতিটি অঞ্চলকে কিছু ন্যুনতম শর্ত মানতে হবে।

শর্তগুলো হচ্ছে,

১। সবাইকে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র (Direct Democracy)’র নীতি অনুসরণ করতে হবে।

২। নারীদেরকে সর্বোচ্চ স্বাধীণতা দিতে হবে। প্রতিটি কাজে পুরুষের পাশাপাশি
সমানসংখ্যক নারীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।

৩। এমন কোন পরিকল্পনা বা কর্মকান্ড করা যাবে না যা প্রাণ ও প্রকৃতির জন্য
ক্ষতিকর বলে প্রতীয়মান হয়।

৪। অর্থনীতিকে অবশ্যই সর্বোচ্চ মুনাফা গড়ার পরিবর্তে সর্বোচ্চ প্রয়োজন মেটানোর
উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। সমবায় পদ্ধতিতে উৎপাদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে
হবে।

উপরের চারটা শর্তের মধ্যে তিনটি শর্তের অর্থ খুব সহজেই বুঝা যাচ্ছে তবে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র বা Direct Democracy বিষয়টা আরেকটু খোলাসা করা দরকার। সাধারণত বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে যে ধরণের গণতন্ত্রের চর্চা দেখা যায় তা হচ্ছে প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র। এই পদ্ধতিতে একটা নির্দিষ্ট এলাকার লোকজন মিলে ভোট দিয়ে একজন প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। এভাবে সারা দেশ থেকে প্রতিনিধিগণ আইন সভায় মিলিত হন এবং সবাই মিলে দেশ পরিচালনার জন্য আইন প্রণয়ন করেন। এখানে আইন প্রণয়ন, পরিবর্তন বা সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ থাকে না, শুধুমাত্র নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই এই কাজগুলো করতে পারেন। কিন্তু প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রে এক একটা এলাকার জনগণ ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ হয়ে স্থানীয় কিংবা জাতীয় পর্যায়ের যেকোন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন, নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেন। সারা দেশ থেকে এই গ্রুপগুলোর মতামত সংগ্রহ করে পরে সেটাকে আইনে পরিণত করা হয়। আর স্থানীয় ইস্যু হলে সেটাকে স্থানীয় ভাবেই বাস্তবায়ন করা হয়। এই পদ্ধতিতে জনগণের ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। আইন প্রণয়ন কিংবা বাস্তবায়ন যেকোন ছোট বড় কাজে জনতার অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়। পৃথিবীতে খুব বেশি দেশে প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের চর্চা নেই। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র সুইজারল্যান্ডে এই পদ্ধতির চর্চা রয়েছে। আর আছে মেক্সিকোর জাপাতিস্তা বিদ্রোহীদের আওতাধীন
অঞ্চলে, আমেরিকার কিছু কিছু শহরে আর অধুনা সিরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশে যেখানটাকে রোজাভা নামে অভিহিত করা হচ্ছে।

গণতান্ত্রিক সংঘবদ্ধতার ধারণায় নির্দিষ্ট কোন দেশের সীমারেখা নেই। এখানকার নাগরিকগণ কমিউন, সিটি কাউন্সিল, জেলা কাউন্সিল, পিপল’স কাউন্সিল ইত্যাদি ভাগে নিচ থেকে উপর পর্যন্ত সজ্জিত থাকে। সর্বনিম্ন ইউনিট হচ্ছে কমিউন, কতকগুলি কমিউন নিয়ে সিটি কাউন্সিল, একাধিক সিটি কাউন্সিল নিয়ে জেলা কাউন্সিল এবং একাধিক জেলা নিয়ে পিপল’স কাউন্সিল গঠিত হয়। আবার পিপল’স কাউন্সিলগুলিও নিজেদের মধ্যে যুথবদ্ধতা তৈরি করে নিতে পারে। এভাবে এই পদ্ধতিতে পুরো পৃথিবীটাই একটি মাত্র দেশে পরিণত হতে পারে। এখানে রাষ্ট্রের চেয়ে সমাজ গুরুত্বপূর্ণ। যেকোন কাজ সামাজিক উদ্যোগে, সমাজের নির্দেশনায় সম্পাদন করা যেতে পারে। তা হোক চিকিৎসা কিংবা শিক্ষা কিংবা প্রতিরক্ষা কিংবা কৃষি/ শিল্প ক্ষেত্র কিংবা অন্য কিছু, যাই হোক না কেন সবকিছুই পরিচালনা করা সম্ভব এই সকল কমিউন কিংবা পিপল’স কাউন্সিলের মাধ্যমে। এই কাউন্সিলগুলিতে বয়স, জাতিস্বত্তা, লিঙ্গভেদে সকল রকমের মানুষের আনুপাতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়। যেমন, কোন কমিটিতে ন্যুনতম ৪০% নারী কিংবা পুরুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হয়, এর কম থাকলে ঐ কমিটি অনুমোদন পায় না। এই ধারণাটি যার উদ্যোগে রোজাভায় প্রয়োগ হচ্ছে, তিনি হলেন কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির(PKK) নেতা আব্দুল্লাহ অচালান। তবে এটি তার নিজস্ব কোন ধারণা নয়, তিনি এটি পেয়েছেন আমেরিকার রাজনীতিবিদ এবং দার্শনিক মুরে বুকচিনের কাছ থেকে। মুরে বুকচিনের চিন্তাভাবনার সাথে আব্দুল্লাহ অচালান নিজের আরও কিছু চিন্তা যুক্ত করে Democratic Confederalism বা গণতান্ত্রিক সংঘবদ্ধতার তত্ত্ব নির্মান করেন। তিনি গত দুই দশক ধরে তুরষ্কের জেলে বন্দী আছেন, কিন্তু তার চিন্তা মুক্ত করছে সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষকে।

এইভাবে রোজাভার মানুষ নিজেদেরকে প্রস্তুত করছেন সবচেয়ে গণতান্ত্রিক ও মানবিক সমাজ নির্মাণে নেতৃত্ব দিতে। এবার আমাদের ভেবে দেখতে হবে, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে রোজাভা মডেল কতটুকু কার্যকর হতে পারে।

রোজাভা এবং বাংলাদেশ

সিরিয়ার সাথে আপাত দৃষ্টিতে বাংলাদেশের ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা ইতিহাসের কোন সাদৃশ্য নেই। ভৌগলিক দিক থেকেও অনেকটা দূরবর্তী এই দুই ভুখন্ডের মধ্যে বাহ্যত অনেকটা অমিল থাকলেও মিল রয়েছে বেশ কিছু জায়গায়। সিরিয়ায় যেমন বাশার আল আসাদের নেতৃত্বে আছে পরিবারতন্ত্র, বাংলাদেশেও তেমনি দুটি পরিবারের পরিবারতন্ত্র চলছে তিন দশক ধরে। সিরিয়ায় পুরুষতন্ত্র যেমন বেশ স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত, বাংলাদেশেও পুরুষতন্ত্র দিনকে দিন জাঁকিয়ে বসছে। সেখানে নারী স্বাধীণতা
বলতে তেমন কিছু নেই বাংলাদেশের অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভালো হলেও দিন দিন ধর্ষণ, শারীরিক নিপীড়ন, মৌলবাদী আগ্রাসন ইত্যাদি বৃদ্ধির মাধ্যমে নারীদের জীবন ক্রমশঃ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। সিরিয়ায় ধর্মান্ধ মানুষের সংখ্যা যেমন তুলনামূলক বেশি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও দিন দিন ধর্মান্ধতা/ সাম্প্রদায়িকতা বিপজ্জনক হারে বেড়েউঠছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের আরও যা কিছু সমস্যা তার মধ্যে প্রধাণতম হল এদেশের রাজনৈতিক দলগুলিতে গণতন্ত্রের চর্চার ঘাটতি। ডানপন্থী, বামপন্থী কিংবা মধ্যপন্থী যে ধরণের রাজনৈতিক দলই হোক না কেন প্রায় সকল দলেই তৃণমূলের মতামত বাজেভাবে উপেক্ষিত হয়, কিংবা ক্ষেত্র বিশেষে মত নেয়ারও প্রয়োজন মনে করা হয় না। রাজনীতিতে আমজনতার অংশগ্রহণও অকার্যকর। সাধারণ মানুষদের বৃহত্তম অংশ রাজনীতিতে যোগ দেয়ার প্রয়োজন মনে করে না, আর যেটুকু করে তাও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ, লাভ-লোভ, ক্লিক-কোটারি ইত্যাদি চর্চার অংশ হিসেবে করে। নীতি, আদর্শ, রাজনৈতিক কর্ম কৌশল এখানকার জনগণকে খুব একটা আলোড়িত করে না। সচেতন, সক্রিয়, সংঘবদ্ধ জনগণই যেখানে একটা উন্নত সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত সেখানে উন্নত চেতনায় আলোকিত জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার প্রয়াসে কোন রাজনৈতিক দলই কাজ করে না। লুটপাট, অবাধ দুর্নীতি, অর্থ পাচার,সাধারণ মানুষের খাদ্য-বস্ত্র-চিকিৎসার সংকট তথা সীমাহীন দুঃখ-কষ্ট, নিরাপত্তাহীনতা, একদলীয় শাসন এই দেশের জনগণের বুকের উপর পাথর হয়ে চেপে বসেছে। জনতা প্রতিষ্ঠিত শাসক শ্রেণীকে মেনে নিতেও পারছে না আবার এর পরিবর্তে কাকে ক্ষমতাসীন করবে সেই বিকল্পও খুঁজে পাচ্ছে না।
এমনই একপ্রেক্ষাপটে আম জনতাকে সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণ করা ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ এখন আর খোলা নেই। একমাত্র জনগণের ক্ষমতায়নই পারে এই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে চিরস্থায়ীভাবে দেশকে মুক্ত করতে। তবে ক্ষমতা সবসময়ই দায়িত্ববোধের সাথে জড়িত। দায়িত্বহীন মানুষের হাতে ক্ষমতা গেলে এর চেয়ে ভয়ঙ্কর

ব্যাপার আর কিছু হতে পারে না। আর জনগণকে একইসাথে দায়িত্বশীল ও ক্ষমতাবান করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে রোজাভার কার্যপদ্ধতি তথা গণতান্ত্রিক সংঘবদ্ধতা(Democratic Confederalism) এদেশের মানুষের কাছে হতে পারে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত। ফলে বাংলাদেশের আজকের এই দম বন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ পেতে রোজাভা বিপ্লবের প্রতিটি অধ্যায় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পাঠ করা আজ সময়েরদাবী।

বিঃদ্রঃ এই লেখাটি যেদিন শেষ করা হয় সেইদিনই তুরষ্কের প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সে দেশের সেনাবাহিনী রোজাভা এলাকায় হামলা চালায়। হামলা এখনো চলছে।তুরষ্কের উদ্দেশ্য পরিষ্কার, তারা যেকোন উপায়ে কুর্দিদের এই গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা ভেঙ্গে চুরমার করে দেবে। হয়তো প্রাথমিকভাবে তারা সফলও হবে, কিন্তু লাখো জনতার স্বপ্ন ভাঙতে পারবে না। রোজাভার জনগণ যে স্বাধীণতা ও সক্ষমতার স্পর্শ পেয়েছে সেই স্পর্শ থেকেই রোজাভার বিপ্লব আবার জেগে উঠবে, উঠবেই।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of