বিশ্বে ধর্ষণের শীর্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলো

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ সম্প্রতি ২০১৯ সালের ধর্ষণের ঘটনাগুলোকে আমলে নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেখা গেছে, আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোতে ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতি এক লাখের মধ্যে ১৩২ জনেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এ বছর। দেশটির মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের জরিপ অনুসারে, প্রতি চারজনের মধ্যে একজন ধর্ষণ করে সেই কথা স্বীকারও করেন। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার সংসদ ২০০৭ সালে ফৌজদারি বিধি সংশোধন করে যৌন সহিংসতার সাথে সম্পর্কিত সমস্ত আইন সংশোধন ও জোরদার করার চেষ্টা করেছে, তবু ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন এবং গৃহকর্মীদের সঙ্গে সহিংসতার হার সেখানে ক্রমাগত ক্রমাগত বাড়ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ বোতসোয়ানায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতি এক লাখ নারীরর মধ্যে ৯৩ জন ধর্ষণের শিকার হন। দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক দেশ লেসোথোয় ২০১৯ সালে তৃতীয় সর্বোচ্চ ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সেখানকার এক লাখ নারীর মধ্যে ৮৩ জন ধর্ষণের শিকার হন। দেশটির মোট জনসংখ্যা ২১ লাখ ২৫ হাজার ২৬৮ জন। সোয়াজিল্যান্ডে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ৭৮ জন ধর্ষণের শিকার হন। দক্ষিণ আফ্রিকার এই দেশটির জনসংখ্যা ১১ লাখ ৪৮ হাজার ১৩০ জন। সেই হিসেবে ২০১৯ সালে এ দেশে ৮৯৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ শীর্ষ চারটি দেশই দক্ষিণ আফ্রিকার।

বারমুডা আছে পঞ্চম অবস্থানে। দেশটির প্রতি এক লাখের মধ্যে ৬৭ জনেরও বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হন। ইউরোপের উন্নত দেশ সুইডেনে প্রতি এক লাখের মধ্যে ৬৩ জনেরও বেশি নারী ধর্ষিত হয়েছেন এ বছর। শীর্ষ ধর্ষণের দেশের তালিকায় দেশটি আছে ছয় নম্বরে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ সুরিনামের প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ৪৫ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। দেশটিতে পাঁচ লাখ ৮১ হাজার ২৭২ জন মানুষ বসবাস করে। গত বছর দেশটিতে ২৬২ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। মধ্য অ্যামেরিকার দেশ কোস্টারিকার প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ৩৭ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

মধ্য অ্যামেরিকার দেশ নিকারাগুয়ার প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ৩২ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। দেশটির মোট জনসংখ্যা ৬৫ লাখ ৪৫ হাজার ৫০২ জন। দশ নম্বরে থাকা ক্যারিবীয় দেশ গ্রানাডার প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ৩১ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এ বছর। দেশটির মোট জনসংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার তিনজন।

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ জানায়, বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩৫ শতাংশ নারীই তাদের জীবদ্দশায় যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। মধ্যপ্রচ্যের কিছু দেশ ধর্ষণের তথ্য প্রকাশ করে না। যেসব দেশে প্রকাশ করে আক্রান্ত নারীদের ৪০ শতাংশেরও কম কোন ধরনের সাহায্য চায়। আর ১০ শতাংশেরও কম নারী আইন প্রয়োগকারীদের সহায়তা নিয়ে থাকেন।

সংস্থাটি আরো জানায়, যদিও বিশ্বজুড়ে নারীদের ধর্ষিত হওয়ার ব্যাপারটি আলোচিত, তবে পুরুষরাও ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পূর্ণবয়স্ক নারীরা যে পরিমাণ ধর্ষিত হন, ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী নারীরা ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার হন তার চেয়ে চার গুণ বেশি এবং ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিজ্ঞতা পূর্ণবয়স্ক নারীদের তুলনায় তিনগুণ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে, ৭০ শতাংশ নারী ধর্ষণের শিকার হন পরিচিত ব্যক্তিদের দ্বারা।

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষণের হার এ বছর ছিল প্রতি লাখে ২৭ জনেরও বেশি। বিশ্বের শীর্ষ ধর্ষণের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ১৪তম। যুক্তরাষ্ট্রে ধর্ষিতাদের মধ্যে কেবল ৯ শতাংশই মামলা দায়ের করেছে এবং ধর্ষকদের কেবল ৩ শতাংশ শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে।

১১৮টি দেশের মধ্যে চালানো এই জরিপে ৪০তম অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে প্রায় ১০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আর ৪২তম অবস্থানে থাকা জার্মানিতে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ৯ জনেরও বেশি ধর্ষিত হন। ভারতের প্রতি লাখ নারীর মধ্যে এক দশমিক ৮ জন ধর্ষণের শিকার হন। শতাংশের হারে কম হলেও জনসংখ্যার বিচারে ভারতে ধর্ষণের চিত্র ভয়াবহ।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of