সৌদি আরবে বাংলাদেশী নারী ধর্ষন কি ইসলাম বিরুদ্ধ ?

ইদানিং মিডিয়া ও ফেসবুকের সর্বত্র সৌদি আরবে গমনকারী বাংলাদেশী গৃহ কর্মি নারীদেরকে ধর্ষন একটা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিনত হয়েছে। সৌদিরা  তাদেরকে যথেচ্ছ ধর্ষন করে। কখনও বা বাপ বেটায় মিলে। এ ছাড়া তারা নির্যাতনও করে। ফলে কিছু নারী তাতে মারাও যায়। দেশের সাধারন মানুষ এ নিয়ে সোচ্চার হলেও , দেশের হুজুর শ্রেনীর মানুষ কিন্তু এ বিষয়ে একটা কথাও বলে না। কারনটা কি ?

একবার এক হুজুরকে প্রশ্ন করলাম- এই যে বাংলাদেশের নারীদেরকে সৌদিরা ধর্ষন করে , আপনার কি অভিমত ? তো হুজুর বলল- এসব অতি রঞ্জিত ঘটনা। তাছাড়া নারীরা কেন সৌদিতে কাজ করতে যায় ? এসবই  মিডিয়ার কারসাজি। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে- সৌদি আরব ও তার লোকজন সম্পর্কে হুজুরদের ধারনা মোটেই খারাপ নয়। অন্য ভাবে হয়ত তারা এসব ধর্ষনকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করে। এখন প্রশ্ন হলো – এই ধর্ষন কি ইসলামে বৈধ ? এটা কি ইসলামে অপরাধ হিসাবে গণ্য ?

প্রথমত; সৌদিতে ১০০% শরিয়া বহাল। তাই সেখানকার ফৌজদারী বিধি বিধানও ইসলামের শরিয়া ভিত্তিক। চুরির শাস্তি হাত কেটে দেয়া , ইসলাম ত্যাগ বা ইসলামের সমালোচনার শাস্তি কল্লা কাটা ইত্যাদি। কিন্তু দাসীদেরকে ধর্ষনের কোন শাস্তি এই বিধানে নেই। তার অর্থ শরিয়া দাসীদের সাথে যৌন কাজ বা তাদেরকে ধর্ষনকে অপরাধ মনে করে না। তাহলে প্রশ্ন দাড়ায় – বাংলাদেশ থেকে যাওয়া গৃহকর্মী নারীরা কি সেখানে দাসী ? আমরা যত কথাই বলি না কেন , সৌদিরা কিন্তু তাদেরকে দাসী হিসাবেই গণ্য করে। আর করবেই বা না কেন ? যে নারী সেখানে যায় , তারা দুই বা তিন বছরের চুক্তিতে যায়। চুক্তি পত্রে এটা খুব পরিস্কার ভাবেই লেখা থাকে যে , সেখানে এসব নারীরা তাদের মালিকের বিনা অনুমতিতে কিছুই করতে পারবে না এই দুই বা তিন বছর পর্যন্ত। বাংলাদেশে বাসা বাড়িতে যেসব নারীরা কাজ করে , তারা কিন্তু মালিকের সাথে এই ধরনের চুক্তি সম্পাদন করে কাজ করে না। তাই তারা  স্বাধীন ভাবেই কাজ করে। পছন্দ না হলে কাজ ছেড়ে দেয়। তাই বাংলাদেশের বাসা বাড়ির কাজের নারীর সাথে সৌদিতে যাওয়া গৃহ কর্মীর তুলনা করা যাবে না কোন ভাবেই। সৌদিতে যাওয়া নারীর এখানে সামান্যতম কোন স্বাধিনতা নেই। তার অর্থ – তারা প্রকৃতপক্ষে দাসত্বের চুক্তি করেই সৌদিতে গমন করে। সৌদি পুরুষগুলোও সেটা ভালো মতো জানে। সেই কারনেই তারা ইসলামি বিধান মতে এসব গৃহকর্মী নারীদের সাথে যৌন কাজ করে , বা ধর্ষন করে।কোারান ও হাদিসে দাসীদের সাথে যৌন কাজ বৈধ যেমন –

সুরা আল মুমিনুন-২৩:৫-৬: এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে।তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না।

সৌদি আরবে যেহেতু ইসলামী আইন বা শরিয়া প্রতিষ্ঠিত, তাই  এসব ধর্ষনের কোন বিচার নেই , কারন দাসীদেরকে ধর্ষনকে সৌদি আইন অনুযায়ী অপরাধ বলে বিবেচনা করা হয় না। সেই কারনেই , এসব ধর্ষন নিয়ে আমরা যতই চিল্লা চিল্লি করি না কেন , সৌদি আরবে এর কোন প্রভাব নেই ,তারা এসব পাত্তাও দেয় না। আমাদের সরকারও তাদেরকে কিছু বলার ক্ষমতা রাখে না। ঠিক সেই কারনেই , আমাদের দেশের আলেম ওলামারাও এর বিরুদ্ধে কোন কথা বলে না। কারন তারা জানে , এটা ইসলাম সিদ্ধ। এর বিরুদ্ধে কথা বলাটা ইসলামের বিরুদ্ধাচার করে , যার ফল হলো – সোজা দোজখে গিয়ে আগুনে পোড়া।

 

 

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

27 − = 18