গণহত্যা

শাসক কিংবা অত্যাচারী ব্যাক্তিরা যখন বর্বর বা বিকৃত মস্তিষ্কের হয়ে যায়, তখন নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় গণহত্যা করে। গণহত্যার ইতিহাস বহুপুরানো। মানুষ সভ্য হয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্র আইনি কাঠামোতে এসেছে। কিন্তু গণহত্যা নামক বর্বরতা রয়েগেছে। বাংলাদেশ গণহত্যার সাক্ষী। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী শাসকেরা বাংলাদেশে গণহত্যা করেছিল। সেই গণহত্যার চিহ্ন বাংলাদেশের বুকে এখনো ক্ষত আছে। এ ক্ষত মুছবার নয়। ভারতে অনেক গণহত্যা হয়েছে, পাকিস্তানে হয়েছে। সম্মিলিত ভাবে গণহত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে, মানবতার স্বার্থে , জীবনের স্বার্থে। গণহত্যায় প্রধানত ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষেরা। আমরা যখন একবিংশ শতাব্দীতে বাস করছি তখনই মায়ানমারে ভয়ঙ্কর রোহিঙ্গা গণহত্যা হলো। অসহায় রোহিঙ্গা মানুষগুলো বাঁচার জন্য চারদিকে ছুটাছুটি করলো। মানবিক বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিলো। জীবন বাঁচাতে আট লক্ষাধিক মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শরণার্থী আশ্রয় শিবির এখন বাংলাদেশে। গণহত্যার শিকার রোহিঙ্গারা তাদের দেশ মায়ানমারে নূন্যতম মৌলিক অধিকার , এমনকি মানবধিকার পায়নি। রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল রাখাইন এখন মানব শুন্য। সম্প্রতি মায়ানমারের বিরুদ্ধে ইউনাইটেড ন্যাশন এর সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অফ জাস্টিসে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের গণহত্যা নিয়ে মামলা করেছে গাম্বিয়া। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মৌলিক দায়িত্ব রোহিঙ্গাদের স্বার্থে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে গাম্বিয়াকে আইনি লড়াইয়ে সাহায্য করা। একটি গণহত্যার ন্যায্য বিচার হলে, ভবিষ্যতে গণহত্যাকারীরা সতর্ক হবে।

বর্তমান বিশ্বে চীন অন্যতম বাণিজ্যিক যোদ্ধা। তাঁদের অর্থনীতি গতি দুর্বার। তাঁদের আছে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতি। চীনের উইঘুর সংখ্যালুগু মুসলিমদের উপর নির্যাতন অমানবিক। তাঁদেরকে বন্দি শিবিরে আটকে রাখা, হত্যা , মুসলিম শিশুদের মা-বাবা থেকে আলাদা করে রাখা, নারীদের উপর শারীরিক ও যৌন নির্যাতন মানব অধিকার পরিপন্থী। চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে উইঘুর সংখ্যালুগু গণহত্যার। মানুষ হত্যার এ নির্মম খেলা থাকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।

ভারতের কাশ্মীর ভূস্বর্গ বলেই পরিচিত। কাশ্মীর এখন অশান্ত। কাশ্মীরের মাটিতে রক্তের চাপ , বাতাসে মানুষের আর্তনাদ। তাঁদের বন্দি জীবন , সীমাবদ্ধ যোগাযোগ ও যাতায়াত। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের বিশেষ অধকার তুলে নিয়েছে। তাঁদের উপর গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। আমরা কাগজে-কলমে সভ্য, কিন্তু আমাদের মনের ভিতরে পশুত্ব রয়ে গেছে। গণহত্যার বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে সম্মিলিত ভাবে দাঁড়াতে হবে। ধর্ম, বর্ণ , জাতি , লিঙ্গ নির্বিশেষে আমাদের কথা বলতে হবে গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে।

ফেসবুক মন্তব্য

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 74 = 81