ভূয়া স্বাক্ষর ও বানোয়াত দলিলে জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে কুচক্রী মহলের প্রোপাগান্ডা সৃষ্টি

ঐতিহাসিক “পার্বত্য চুক্তি”র ২২ বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে ভূয়া স্বাক্ষর সংবলিত একটি মিথ্যা ও বানোয়াত দলিলের মাধ্যমে জনসংহতি সমিতির সভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের মাননীয় চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার(সন্তু লারমা) পক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক “মঙ্গল কুমার চাকমা”র বিরুদ্ধে  যে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ কতিপয় অনলাইন গণমাধ্যম “পার্বত্য নিউজ ডট কম, আলোকিত রাঙ্গামাটি, বাংলা ট্রিবিউন”-এর প্রকাশিত সংবাদে উঠে এসেছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক হীনউদ্দেশ্য প্রণোদিত।

উক্ত সংবাদ মাধ্যমের অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো সার্বক্ষণিক ভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর প্রতিকূলে অবস্থান করে ভূয়া ও বস্তুনিষ্ঠহীন তথ্য মিশ্রিত সংবাদ প্রচার করে থাকে। ঐ অনলাইন নিউজ পোর্টাল গুলোর ভূয়া ও বস্তুনিষ্ঠহীন সংবাদ প্রকাশে যতটা উস্কানিমূলক প্রভাব থাকে ততটাই থাকে পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্তি সৃষ্টির ব্যাপক আসংখ্যা।

জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে যে চাঁদা আদায়ের দলিল প্রকাশ করে বস্তুনিষ্ঠহীন অসত্য খবর প্রকাশ করা হয়েছিলো সেটি ছিলো উক্ত গণমাধ্যমগুলোর মিথ্যা বানোয়াট ও রাজনৈতিক হীনউদ্দেশ্য প্রণোদিত। তার কারণ জনসংহতি সমিতি হলো আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর একমাত্র প্রাণপ্রিয় লড়াকু সংগঠন, যে সংগঠন সর্বাপেক্ষা আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সামগ্রীক জীবন প্রণালীর চিন্তা করে। আদিবাসীদের আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকারের চিন্তা করে। জনসংহতি সমিতি আদিবাসীদের পক্ষে যে গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে সেই প্রগতিশীল সংগঠনটির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে আদিবাসীদের অস্তিত্ব আমূলভাবে উৎখাত করাই হচ্ছে উক্ত গণমাধ্যমগুলোর প্রধান একং অদ্ধিতীয় দায়িত্ব কর্তব্য।

উস্কানিমূলক সংবাদ প্রকাশের প্রভাবে পাহাড়ে যদি কোন ধরণের অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয় তার জন্য দায়ি থাকতে হবে প্রতিক্রিয়াশীল অনলাইন গণমাধ্যমগুলোকে। যারা কিনা সদা সর্বদা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের নিয়ে অনলাইন গণমাধ্যমে অপপ্রচার চালায়। বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষন করে বলবো “Parbattyanews.com” অনলাউন নিউজ পোর্টালকে। কারণ এই অনলাইন নিউজ পোর্টালটিই সর্বাপেক্ষা পার্বত্য চট্টগ্রাম তথা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে ব্যাপক অপপ্রচার চালায়।

প্রত্যকটা গণমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশে নিরপেক্ষতা থাকা দরকার এবং একই সাথে সাংবাদিক ভাই-ব্রাদারদেরও নিরপেক্ষ আদর্শ ধারণ করা দরকার। আপনার/আপনাদের একটি মাত্র মিথ্যা বানোয়াত অসত্য ও বস্তুনিষ্ঠহীন সংবাদের কারণে অরাজকতা সৃষ্টি হতে পারে পুরো দেশের সামগ্রীক প্রেক্ষাপথে।

কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালের কিছু হাইব্রিড মস্তিস্ক সম্পন্ন সাংবাদিকদের প্রকাশিত বস্তিনিষ্ঠহীন ও প্রতিক্রিয়াশীল লেখনীর দ্ধারা সমালোচিত হচ্ছে দেশের গোটা অনলাইন নিউজ পোর্টাল। অবশ্যই দেশের যেসব সরকারী বেসরকারী গনমাধ্যম রয়েছে সেসব গণমাধ্যমগুলোর ক্ষেত্রেও এটি একটি বিরাট লজ্জা জনক ব্যাপার। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের চরম প্রতিকূলে অবস্থান করা ও ভূয়া ও বস্তুনিষ্ঠহীন সংবাদ প্রকাশে সুদক্ষ নিউজ পোর্টাল  “পার্বত্য নিউজ ডট কম” দেশের সমস্ত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সবসময় সচেষ্ট গণমাধ্যমগুলোর জন্য অভিশাপ ও সমালোচনার ভান্ডার হয়ে দাড়িয়ে আছে। দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল ও বস্তুনিষ্ঠহীন সংবাদ প্রকাশে সুদক্ষ নিউজ পোর্টাল “পার্বত্য নিউজ ডট কম”-এর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করে নিষিদ্ধ ঘোষনা করার জোর দাবি জানাচ্ছি বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের সমীপে। এবং একই সাথে উক্ত প্রতিক্রিয়াশীল অনলাইন গণমাধ্যমগুলোকে বয়কত করার জন্য সবার প্রতি জোর আহবান রইলো।

প্রসঙ্গে পার্বত্য চুক্তিঃ

“পার্বত্য চুক্তি” পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩ ভাষাভাষি ১৪টি আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর একমাত্র প্রাণের দাবি। দীর্ঘ দুই যুগের অধিক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের বিনিময়ে অর্জিত “পার্বত্য চুক্তি” পার্বত্য চট্টগ্রামের ইতিহাসে আদিবাসীদের স্বাধীনতা কায়েমের একটি বিকল্প। “পার্বত্য চুক্তি”র মৌলিক ধারাগুলো পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হলে আদিবাসীদের স্বাধীনতা সহ আত্মনিয়ন্ত্রনাধিকার রপ্ত হবে। সামনের ২’রা ডিসেম্বর ২০১৯ ইং তারিখে পার্বত্য চুক্তির ২২ বছর ফুর্তি। পার্বত্য চুক্তির বয়স দীর্ঘ ২২ বছর হলেও এখনো পার্বত্য চুক্তির মৌলিক ধারাগুলো আওয়ামীলীগ সরকার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করা হয়নি। যা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জন্য খুবই হতাশাব্যাঞ্জক।

“পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি” একটি প্রগতিশীল সংগঠন। “পার্বত্য চুক্তিকে” পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সামগ্রীক স্বার্থে “পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি” দীর্ঘকাল ধরে রাজনৈতিক ধারায় গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে চলেছে। জনসংহতি সমিতির প্রগতিশীল আদর্শ সম্পন্ন গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলকে বাধাগ্রস্ত এবং পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতেই জনসংহতি সমিতি সহ নেতা কর্মিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াত খবর তৈরি করে অনলাইনে প্রকাশ করার মধ্য দিয়ে প্রোপাগান্ডা সৃষ্টি করছে কিছু কতিপয় অনলাইন গনমাধ্যম। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার দপ্তর থেকে একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি লিখে প্রতিবাদ জানানোও হয়েছে।

(পার্বত্য নিউজ ডট কমে প্রকাশিত ভূয়া সংবাদের ফার্মা লিংক :  https://www.parbattanews.com/%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%a8%e0%a6%be/   )

ফেসবুক মন্তব্য

২ thoughts on “ভূয়া স্বাক্ষর ও বানোয়াত দলিলে জনসংহতি সমিতির বিরুদ্ধে কুচক্রী মহলের প্রোপাগান্ডা সৃষ্টি

  1. জনসংহতি সমিতির প্রেস বিজ্ঞপ্তি
    তারিখ: ২৭ নভেম্বর ২০১৯

    অতি সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২২ বছর পূর্তি উপলক্ষে চাঁদা আদায়ের জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমার পক্ষে সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমার নামে ও ভূয়া স্বাক্ষর সম্বলিত একটি ভূয়া, সাজানো ও ভিত্তিহীন নির্দেশনা/চিঠি কে বা কারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়েছে এবং সেই ভূয়া দলিলের উপর ভিত্তি করে কতিপয় অনলাইন পত্রিকা যেমন- পার্বত্যনিউজ.কম, আলোকিত রাঙ্গামাটি, বাংলা টিবিউন ইত্যাদি নিউজপোর্টালে সংবাদ প্রচার করা হয়েছে।

    বস্তুত জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে এধরনের কোন নির্দেশনা জারি করা হয়নি কিংবা জারি করার প্রশ্নই উঠে না। এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও ভূয়া। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি ও জনসংহতি সমিতির বিরোধী কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কর্তৃক ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ও রাজনৈতিক হীনউদ্দেশ্যে এ ধরনের ভূয়া ও সাজানো নির্দেশনা বা চিঠি প্রচার করা হয়েছে বলে জনসংহতি সমিতি মনে করে। এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক, উদ্দেশ্য-প্রণোদিত ও ভূয়া নির্দেশনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা এবং কোনরূপ সত্যাসত্য যাচাই না করে সেই ভূয়া চিটির উপর ভিত্তি করে সংবাদ প্রকাশ করায় জনসংহতি সমিতি তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছে।

    সজীব চাকমা
    সহ তথ্য ও প্রচার সম্পাদক
    পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 88 = 90