অপরাধীকে শাস্তি দেয়াটাই কি সমাজের মুখ্য উদ্দেশ্য

নাহ পারিনি, সমাজের চিত্রটা সেই অনন্তকাল থেকেই একই রকম আছে, একজন অপরাধীর শাস্তি হবে, কলুষিত সমাজের মাঝে একজন অপরাধীকে শাস্তি দেয়াটাই যদি সমাজের মুখ্য উদ্দেশ্য, কারাগারের যাওয়া মানেই যদি মৃত্যুর দিন গোনা তবে এই সমাজের মানুষগুলো কোনদিনই একটি মানবিক সমাজ তৈরি করতে পারছে না।
অপরাধ বোধকে বুঝতে পেরে অনুশোচনার সুযোগ ও তা সংশোধনে শাসন ব্যবস্থায় কারাগারগুলোকে যদি শুদ্ধ মানুষ তৈরি করার মত প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারি তবে বলতে হয় আমাদের সমাজ সভ্যতার অন্ধকার জগত থেকে আলোর দিকেই ছুটে যাচ্ছে।

দীর্ঘ দিন কারাবাসের পর একজন অপরাধীর ভেতরে মাঝে অনুশোচনার বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই বরং নিজের অপরাধকে একটি ভালো কাজ হিশেবে তুলে ধরতে যে অপরাধী তার আচরণে বেশ ভূষায় জনসম্মুখে শুধু মাত্র একটি টুপি পরিহিত অবস্থায় অপরাধীর জিঘাংসা ফুটিয়ে তুলে তবে বলতে দ্বিধা নেই যে আমাদের সমাজ, শাসন ব্যবস্থা ও মানুষকে শুদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। একজন অল্প বয়সী অপরাধীর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কিন্তু কিন্তু মৃত্যুর আগে মাথায় একটি টুপি শুধু মাত্র একটি টুপির কারণে সমাজের মাঝে যে সহিংস বার্তা দিয়ে গেল তা যে ভবিষ্যতের জন্যে কতটা ভয়ংকর তা আমাদের বিচার ব্যবস্থা অনুধাবন করেছেন কি? বিজ্ঞ আদালত তার রায় দিয়েই যদি সব দায় দায়িত্ব শেষ করতে চান তবে সমাজ পরিবর্তনের আসার আলো কে দেখাবে, দেশের প্রতিটি কারাগারে অপরাধীদের নীতি নৈতিকতার উন্নয়ন ঘটাতে, অপরাধীদের অপরাধ-বোধকে জাগিয়ে তুলতে, অপরাধীদের মাঝে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি করতে আমাদের শাসন ব্যবস্থা কোনই ভূমিকা রাখতে পারছে কি? সত্যি দুঃখজনক।

৩ থেকে ৪ বছর রাষ্ট্রীয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাঝে থেকেও একজন অপরাধী মাঝে তার চিন্তা চেতনার কোন পরিবর্তন সাধন হয়নি যা কিনা শুধুই সমাজ ব্যবস্থার ব্যর্থতা। একটি কারাগার যদি একটি শোধনাগার হিসাবে ভূমিকা রাখতে পারতো তবে সহজ সরল বাঙালি শিশুদের মনে জিহাদ করে কাফের মেরে বেহেস্তের স্বপ্নের বীজ বপন করার মত সিম্বোলিক টুপি আমাদের সমাজকে ধ্বংস করে তেড়ে তাতে কোনই সন্দেহ নেই। কারাগারে কিভাবে গেলো আইএসের টুপি ঢুকে যায়, সেটা অনুসন্ধান না করে আসুন এই কারাগার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাই আর এই কলুষিত প্রশাসনকেও চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেই আমরাও পারি।
আকারে ইঙ্গিতে একটি জঙ্গি গোষ্ঠীর সিম্বোলিক টুপি পরে একজন অপরাধীকে সুযোগ তৈরি করে দেবার ব্যর্থতা শুধুই আমাদের, সমাজের, রাষ্ট্র ব্যবস্থার, বিচার ব্যবস্থার।

— মাহবুব আরিফ কিন্তু।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of