তুরিন আফরোজ সমাচার।

আদালতের আপীল বিভাগের সাবেক ৩ জন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের তদন্তে প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ নির্দোষ ! ওয়াও, এতদিনে অরিন্দম কহিল বিষাদে, এত যদি নেকা কান্না তবে এতদিন পর এই রিপোর্ট প্রকাশ করা কেন, রিপোর্টটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের পদ থেকে তুরিন আফরোজকে অপসারণ পরেই কেন প্রকাশ করা হলো? আসলে আমাদের মত আম জনতা শুধুই প্রশ্ন করে বেড়ায় উত্তর কোনদিনই পায় না, এই হচ্ছে দেশের হালচাল।

প্রশ্ন হচ্ছে সরকার পক্ষ তুরিন আফরোজের বিরুধ্যে আনিত অভিযোগের সাদা কালো কোন প্রমাণ কি জনগণের সামনে হাজির করতে পেরেছেন? নাহ, সেটা এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে ধূম্র জালের মতই মনে হচ্ছে, তদন্ত করতে গেলে নানা রকম কৌশল অবলম্বন করতে হয়, ১৯৭৩ সালের আমাদের যে ট্রাইব্যুনালের আইন সে আইন অনুযায়ী একজন প্রসিকিউটরের আসামীর সংগে দেখা করবার অধিকার রয়েছে। এটি আইনে সুস্পষ্ট ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং এই দুটি বিষয়ে তদন্ত কমিটি তুরিন আফরোজ কে নির্দোষ পেয়েছেন। যে কোন নাগরিকের বিরুধ্যে আনিত অভিযোগের স্বচ্ছতা যাচাই বাছাই করা আর সেটা জনসাধারণে সমানে তুলে ধরায় হচ্ছে জবাবদিহিতা তাই যদি হবে তবে তুরিনের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা লেনদেনের যে অভিযোগ করা হয় সেটার বিষয়ে আমাদের জানার অধিকার আছে কি? এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ বিষয়ে সরকার কতটুকু আন্তরিক।

গত ১০ই মে ২০১৮ ইং, আমাদের সময়ের সাথে এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অপর একজন প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম এ প্রতিবেদকের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন যে, “তুরিন আফরোজ গোপন বৈঠকের যে অভিযোগ উঠেছে, তা প্রমাণ হলে ট্রাইব্যুনাল থেকে নিয়োগ বাতিল করা হবে। ওই কাজের মাধ্যমে তুরিন পেশাগত নৈতিকতার স্খলন করেছেন উল্লেখ করে জেয়াদ আল মালুম বলেন, তিনি (তুরিন আফরোজ) কোনোভাবেই আসামির কাছে মামলার নথিপত্রের কপি হস্তান্তর করতে পারেন না। এটা পেশাগত নৈতিকতার স্খলন। এ অপরাধে বার কাউন্সিল থেকে সনদ বাতিল হতে পারে। এছাড়া আইন মন্ত্রণালয় যদি মনে করবঅপরাধ খুবই গুরুতর এবং ভারী, সেক্ষেত্রে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। সবকিছু নির্ভর করছে আইন মন্ত্রণালয়ের উপর।এক্ষেত্রে আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসে যায় যে প্রসিকিউটর জনাব জেয়াদ আল মালুম কি আইন জেনেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন নাকি কোন সিন্ডিকেটের জালে আটকা পড়েছেন?

তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে জনাব শাহরিয়ার কবির বলেন: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সেটা নিয়ে আমরা গত বছরই একটি তদন্ত কমিশন গঠন করেছি। যার সদস্য হচ্ছেন উচ্চ আদালতের আপীল বিভাগের ৩ জন সাবেক বিচারপতি। তারা হলেন: বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বিচারপতি শামসুল হুদা, বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম। তদন্ত কমিশনের কাজ ছিল একটি রিপোর্ট তৈরি করা। তাহলে আরও একটি প্রশ্ন আমাদের সামনে চলে আসে যে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের অপেক্ষা না করেই কি ভাবে গত ১১ নভেম্বর ‘শৃঙ্খলা ও পেশাগত আচরণ ভঙ্গ এবং গুরুতর অসদাচরণের’ দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটরের পদ থেকে তুরিন আফরোজকে অপসারণ করে সরকার? সরকারী তদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট বা এর স্বচ্ছতা প্রকাশ করাই তো সরকারের জবাবদিহিতা, পরিশেষে এটাই বলতে চাই একজন কর্মঠ ও কর্মের মাধ্যমে সফলতা অর্জনকারী সাবেক প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজের বিরুদ্ধে অতীত সকল অভিযোগের সত্যটা আমাদের সামনে প্রকাশ করা হউক। আরও একটি প্রশ্ন, দুর্নীতির এই মহাসাগরে ২৫ কোটি টাকার লেনদেনটা আসলে কোথায় ঘটেছে বা কোন সিন্ডিকেটের হাতে গিয়ে পড়েছে সেটাও স্বচ্ছতার সাথে প্রকাশ করা হোক।

মাহবুব আরিফ কিন্তু।

2
Leave a Reply

avatar
2 Comment threads
0 Thread replies
0 Followers
 
Most reacted comment
Hottest comment thread
2 Comment authors
দ্বিতীয়নামUjjol Recent comment authors
  Subscribe  
newest oldest most voted
Notify of
Ujjol
পথচারী
Ujjol
দ্বিতীয়নাম
Member
দ্বিতীয়নাম

যেভাবে প্রধানবিচারপতিরে ফেলাইয়া দেয়া হইছিল, তুরিন আফরোজও একই ভাবে ধরা খাইল। যে গর্তের পক্ষে সে সাফাই গাইত, সেই একই গর্তে তার পতন।