ফ্যাসিস্ট হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ যখন ভারতের ঢাল!

এদিকে যখন সালমান খানের প্রসংশায় আমাদের ষাটোর্ধ্ব শেখ হাসিনা লজ্জায় ব্লাশ করে, পঞ্চ-অঙ্গুলী দিয়ে চোখ ঢাকেন।
ওদিকে তখন লোকসভায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সংবিধানের পোষ্টমর্টেম করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ্। এই হলো আমাদের সমতার নমুনা।
ক
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে গিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়া “অমুসলিম”দের নাগরিকত্ব প্রদান বিল উত্থাপন করতে গিয়ে অমিত শাহ্‌ বলেন “বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন না-থামাটাই নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পেশ করার বড় কারণ”। তিনি আরো বলেন “মাননীয় স্পিকার, সে দেশে কিন্তু নরসংহার থামেনি – একাত্তরের পরও বেছে বেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেই চলেছে”। ভারতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আরো বলেন “এই তিনটি দেশে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম বলেই সেখানে মুসলিমদের নির্যাতিত হওয়ার প্রশ্ন ওঠে না – কিন্তু অন্য ধর্মের মানুষরা অত্যাচারের শিকার হতে পারেন”।
অমিত শাহ পার্লামেন্টে বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২(ক)-তেও বলা আছে, ওই প্রজাতন্ত্রের ধর্ম হবে ইসলাম।” তবে কট্টোর হিন্দুবাদী নেতা পার্লামেন্টে যা বললেননি তা হলো বাংলাদেশের সংবিধানের ২(ক)-তে আরো বলা আছে ” প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন”
ক.
একটি অসাম্প্রদায়িক দেশের সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকবে এটা আমি অবশ্যই সমর্থন করি না। কিন্তু ভারত সরকার যেভাবে উল্লেখ করলেন যেন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ছিলো। ১৯৭১ এ বাংলাদেশ স্বাধীন হবার ১৭ বছর, অর্থাৎ পর ১৯৮৮ সালে যখন সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী পাশ হয়। যেই সংশোধনী নিয়ে এখনো বির্তক আছে, এবং এই সংশোধনী করা হয়ে সামরিক শাষক ও স্বৈরাচারী এরশাদের শাষনামলে। কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক শক্তি এই সংশোধনীর সাথে সম্পৃক্ত ছিলো না।
বাংলাদেশের সংবিধানের যে অনুচ্ছেদটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ভারত তাদের দেশে এই অমুসলিম নাগরিকত্ব বিল উত্থাপন করছে। সেই অনুচ্ছেদটি নিয়ে বাংলাদেশেই বিতর্ক রয়েছে, রীট হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যৎ-এ এই অনুচ্ছেদটি ধোপে টিকবে না। এমন একটি অনুচ্ছেদ কোনো রাজনৈতিক সরকারও সংযুক্ত করেনি সংবিধানে। তবে বলতে পারেন কেউ তো বাদ ও দেয়নি। হ্যা দেয়নি বাদ, ক্ষমতার রাজনৈতির কারনে। কিন্তু কোনো রাজনৈতিক সরকার ভারতের বর্তমান সরকারের মতো এমন নগ্ন ধর্মব্যবসা করার কথা ভাবতে পারেনি বাংলাদেশে। বিএনপি-জামাতের শাষনামলেও চক্ষুলজ্জায় অনেক কিছু করতে পারেনি তারা, যা এখন ভারতের বিজেপি সরকার করছে।
খ.
বাংলাদেশে কোনো মুসলমান নির্যাতিত হয়না, কেবল অমুসিলিমরা নির্যাতিত হয়, এমন বালখিল্য যুক্তি ওই অমিত-মোদি গং-ই দিতে পারে, যারা গো মুত্রে সোনা খুঁজে পায়। ভারত হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র করবে তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই, তবে আমার দেশের পরিস্থিতি নিয়ে যা ইচ্ছা তা, তাদের সংসদে তারা বলতে পারে না। এটা কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন। কোনো আইন, নীতি নৈতিকতা আমার দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে না গলানোর অধিকার ভারতকে দেয় না। এই ভারতই ২০১৬ সালে যখন পিলপিল করে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকছিলো, তখন বলেছিলো মিয়ানমারের আভ্যন্তরীন বিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারি না।
আমাদের সরকারের কোনো মেরুদন্ডই নেই আর্ন্তজাতিক পরিমন্ডলে। কেবল দেশের মানুষের উপরই অত্যাচার-নীপিড়ন,গুম-খুন, হামলা-মামলা করতে পারে। যদি ভারতের প্রতি বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি না থাকে তবে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আশা করি, ভারত সরকারে এহেন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানাবেন।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of