গল্প: তিনদিনের প্যাকেজ-ট্যুর

গল্প: তিনদিনের প্যাকেজ-ট্যুর
সাইয়িদ রফিকুল হক

খুব চিন্তিতভাবে অফিসে কাজ করছে শোয়েব।
নিজের খাসকামরায় পিয়ন সিরাজকে ঢুকতে দেখে—সে একটু নড়েচড়ে বসলো। এবার তার মুখে একটু অতিরিক্ত হাসিভাবও ফুটে উঠলো।
সিরাজ সালাম দিয়ে রুমে ঢুকে শোয়েবের পাশে দাঁড়ালো। তারপর খুব আপনজনের মতো তার কাছঘেঁষে বলতে লাগলো, “স্যার, নাবিলা-ম্যাডামকে এখনও রাজী করাতে পারি নাই।”
শোয়েব কাজের মধ্যে ডুবে থাকার ভান করে। আর ফাইলের দিকে তাকিয়ে—কিন্তু সম্পূর্ণ মনোযোগ সিরাজের কথার দিকে ধাবিত করে বলতে থাকে, “এসব কোনো কাজের কথা নয়। যেকোনোভাবে মেয়েটাকে রাজী করাও। আর তাকে বুঝিয়ে বলো—প্রথম নাইটে সে পাবে একলক্ষ—তারপরের নাইটে পঞ্চাশ হাজার—তারপরের নাইটে পাবে ত্রিশ হাজার টাকা। সঙ্গে বিশ হাজার টাকার টিপস। সর্বমোট তিনদিনের প্যাকেজে সে পাবে—নগদ দুই লক্ষ টাকা। তাকে বলে দাও—সে একেবারে ভার্জিন বলে তার এতো ডিমান্ড। তাকে আরও বলে দিয়ো—এই তিনদিনের হোটেলভাড়া, খাওয়াদাওয়া, বিমানে যাতায়াতসহ যাবতীয় খরচ আমি বহন করবো। সে শুধু তিনদিন আমার সঙ্গে স্ত্রীর মতো থাকবে। রাণীর সুখে থাকবে।”
সিরাজ তবুও মাথাচুলকে জোর করে মুখে হাসি এনে বলে, “স্যার, রাজী হতে চাচ্ছে না।”
শোয়েব এবার সিরাজের দিকে তাকিয়ে হেসে বললো, “এবার তো টাকার অঙ্ক বাড়িয়ে দিলাম। মানে, ডাবল করে দিলাম। আর তোমার জন্য থাকবে স্পেশাল ২০ হাজার টাকা। আর কী চাই?”
একটু থেমে শোয়েব হেসে আবার বলতে লাগলো, “মেয়েটাকে রাজী করাও তো। সামনে আমাদের অফিসে পর-পর তিনদিনের ছুটি রয়েছে। এর সঙ্গে আমরা আর-একদিনের ছুটি নিয়ে ভারতে কিংবা কক্সবাজার চলে যাবো।”

সিরাজ টাকার অঙ্ক ডাবল হতে দেখে ভিতরে-ভিতরে খুব উৎফুল্ল হয়ে উঠলো। সে খুশিমনে শোয়েবকে সালাম দিয়ে সটকে পড়ে।

নাবিলা এই কর্পোরেট অফিসটাতে পাবলিক-রিলেশন-অফিসার হিসাবে চাকরিতে যোগদান করেছে গতমাসে। এরই মধ্যে সে শোয়েবের নজরে পড়েছে। মেয়েটা এখনও একেবারে ইনটেক। সে অনেকটা জিরো-ফিগারের অধিকারী। তার ভাইটাল স্ট্যাট্যাটিক্স ছত্রিশ-চব্বিশ-ছত্রিশ। আর সে লম্বায় পাঁচফুট চার ইঞ্চি—যা সহজেই কামার্ত-পুরুষদের নজর কাড়ে।
শোয়েব তাকে এই অফিসে প্রথমদিন দেখেই ভীষণভাবে মদনশরাঘাতে জর্জরিত। মেয়েটি লম্বায়, ফিগারে, গায়ের রঙে, সৌন্দর্যে—একেবারে অতুলনীয়। আর তার বয়সটাও কম। মাত্র তেইশ!

শোয়েব এই জীবনে বহু মেয়েকে ভোগ করেছে। কিন্তু এইরকম ইনটেক জিনিস সে যেন এর আগে হাতের কাছে পায়নি। অফিসের মেয়ে বলে তাকে সরাসরি কিংবা কায়দাকানুন করে প্রস্তাবটা তাকে দিতে পারছে না শোয়েব। আর নিজে এসব বলতে গেলে তার চাকরিটা হারাতে হবে। তাই, সে এই লাইনে খুব অভিজ্ঞ সিরাজকে কাজে লাগিয়েছে। প্রয়োজনে সিরাজ মেয়েটার বাসায় গিয়ে প্রস্তাব দিবে কিংবা অন্য কোনোখানে। সে কথা বলার ভালো কায়দা জানে—তার মারপ্যাঁচও ভালো। এব্যাপারে শোয়েব নিশ্চিন্ত হয়ে বসে রয়েছে। আর তার বিশ্বাস—সিরাজ লেগে থাকলে মেয়েটাকে তার সঙ্গে বিছানায় যেতেই হবে। এ-পর্যন্ত সিরাজ কোনো অ্যাসাইনমেন্টেই ফেল করেনি।

শোয়েব এ-কয়েকদিন নানাকাজের ছুতায় নাবিলাকে তার কক্ষে নিয়মিত দেখতে যেত। কিংবা প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে কৌশলে সে তাকে তার রুমে ডেকে পাঠায়। তার সান্নিধ্যে সে একেবারে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। শোয়েবের এখন ঘুম কেড়ে নিয়েছে নাবিলা।

শোয়েব কাজে মনবসাতে পারে না। সে চেয়ারে হেলান দিয়ে একটু বিশ্রাম নিতে থাকে। তার চোখের সামনে অমনি ভেসে ওঠে—নাবিলার অনিন্দ্য-সুন্দর ফিগার—পরিপুষ্ট স্তনযুগল, ভারী-সুগঠিত নিতম্ব, ডাগরচোখের মোহনীয় হাসি, ফর্সা-সুন্দর চিতল-মাছের মতো মেদহীন তলপেট!
শোয়েবের মাথা ঘুরে যায়। কারও পায়ের শব্দে সে চোখ মেলে তাকায়। দেখে, সিরাজ তার সামনে দাঁড়িয়ে হাসছে।
শোয়েব ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলে, “কী?”
সিরাজ হেসে বলে, “স্যার, আজ সরাসরি মাছের মুখের সামনে বড়শিটা ফেলেছি। দোয়া করবেন, স্যার।”
কথাটা বলে সিরাজ আর দাঁড়ায় না।
শোয়েব মন থেকে সিরাজকে শ্রদ্ধা জানায়।

সিরাজের কথা শুনে শোয়েব কাজে একটু মনবসাতে চেষ্টা করছে। সে দুপুরের লাঞ্চের জন্য দরজার দিকে পিছনফিরে নীরসবদনে টিফিন-ক্যারিয়ার খুলতে শুরু করবে—এমন সময় সালাম দিয়ে তার রুমে ঢুকলো নাবিলা।
সে শোয়েবের দিকে তাকিয়ে খুব সুন্দরভাবে হেসে বললো, “স্যার, আজ আপনার সঙ্গে লাঞ্চ করবো।”
কথাটা শুনে শোয়েব খুশিতে চেয়ারে বসে হা-করে তাকিয়ে থাকে।
নাবিলা দুজনের দুপুরের লাঞ্চ সাজাতে-সাজাতে বলে, “স্যার, সিরাজ আমাকে সব বলেছে। তিনদিনের প্যাকেজ-ট্যুরে আমি রাজী।”

শোয়েব একলাফে নিজের রুমের দরজাটা বন্ধ করে নাবিলাকে জড়িয়ে ধরে অক্টোপাসের মতো।

নাবিলার মনে হলো—প্যাকেজ-ট্যুর শুরু হচ্ছে!

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
২০/১১/২০১৯

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

21 − 20 =