গল্প: ঘ্রাণ

গল্প: ঘ্রাণ
সাইয়িদ রফিকুল হক

আজ খুব সকালে ঘুম ভাঙলো মুম্মিতা মিম্মার। বাসায় থাকলে কখনো তার এমনটি হয় না। সেখানে তার ঘুম ভাঙে আরও অনেক দেরিতে। অবশ্য যেদিন তার ভার্সিটিতে ক্লাস থাকে—সেদিন তার ঘুম ভাঙে তাড়াতাড়ি। আর যেদিন কোনো ক্লাস থাকে না—বা দেরিতে থাকে—সেদিন তার ঘুম ভাঙতে খুব দেরি হয়।

সে ভার্সিটির হোস্টেলে থাকে। গতকালও ছিল হোস্টেলে। আজ একেবারে হোটেল সোনারগাঁওয়ে। অবশ্য নিজের কোনো কাজে আসেনি সে। এসেছে তার এক পরিচিত ক্লায়েন্টের সঙ্গে।
গতকাল সন্ধ্যায় সে লোকটার সঙ্গে এই ফাইভ-স্টার হোটেলে এসে উঠেছিল। তারপর গল্পগুজব—আর একটু রাতে মেতে উঠেছিল শরীরখেলায়।
গতরাতে লোকটা তার দেহ ইচ্ছেমতো ভোগ করেছে। আর এব্যাপারে সে কোনো কার্পণ্য করেনি।
লোকটা এখন অঘোরে ঘুমাচ্ছে। গতরাতে দেরিতে ঘুমানোর কারণে তার ঘুম সহজে ভাঙছে না। কিন্তু মুম্মিতার ঘুম ভেঙেছে অনেক আগে। সে হোটেলের জানালা দিয়ে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার হাতির ঝিলটা তাকিয়ে দেখতে থাকে।
টাকার বিনিময়ে কাউকে দেহদান করতে মুম্মিতা এখন কোনো ভয়, লজ্জা কিংবা সংকোচবোধ করে না। ইতঃপূর্বে সে পার্টির সিনিয়র ছাত্রনেতাদের সঙ্গে দৈহিক-সম্পর্কস্থাপন করে এব্যাপারে বেশ অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছে। বয়স তার তেইশ-চব্বিশ। শরীরটা এখনও ভয়ানক টাইট। বিশেষ করে তার পীনোন্নত-স্তনযুগলের কারণে ক্ষুধার্ত পুরুষদের নিকট তার দাম এখনও অনেক বেশি।
তার বেশ কয়েকটা নামকরা কাস্টমার রয়েছে। এদের সঙ্গে তার নিয়মিত দৈহিক-সম্পর্ক হয়—শুধু টাকার বিনিময়ে। এজন্য প্রতি-নাইটে তাকে দিতে হয় পনেরো হাজার টাকা। আর হোটেলভাড়া, খাওয়াখরচ, যাতায়াত ইত্যাদি-সবকিছুই ক্লায়েন্টকে বহন করতে হয়। সে কোনো অভাবীলোকদের দেহদান করে না। তার এই ব্যবসায় কোনো মধ্যস্বত্বভোগী কিংবা দালাল নাই। তার ফেসবুক-পেইজে সে নিজেই ব্যবসাটা সুন্দরভাবে চালাচ্ছে!

সবাই জানে—সে শুধু ছাত্রী। আর সে জানে—সে এখন ধনী হয়ে উঠছে—লোকের ভালোবাসায়।

মুম্মিতা একেবারে নগ্ন হয়েই বাথরুমে গেল। গতরাতে লোকটা তাকে নিজের হাতে সম্পূর্ণ উলঙ্গ করেছে। আর সে এখনও সেই অবস্থায় রয়েছে। ক্লায়েন্টকে খুশি রাখার জন্য সে ক্লায়েন্টের অনুমতি ছাড়া নাইট-গেমের পর শরীরের কাপড়চোপড় পরে না—কিংবা শাওয়ারও নেয় না।
বাথরুম থেকে এসে মুম্মিতা দেখলো—জিসান আহমেদ উঠে পড়েছে। আর সেও একেবারে নগ্নঅবস্থায় বিছানায় শুয়ে টানটান হয়ে আড়মোড়া ভাঙছে। মুম্মিতাকে দেখে সে দারুণ একটা হাসি উপহার দিয়ে তাকে কাছে ডাকলো। মুম্মিতা প্রায় দৌড়ের বেগে তার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়লো।
জিসান তাকে কিছুক্ষণ এলোপাতাড়ি চুম্বন করতে লাগলো। গতরাতে এই শরীরটা তাকে পাগল করে দিয়েছিল—এতোদিন সে এই শরীরটা পাওয়ার জন্য সিরিয়ালে ছিল। গতরাতে তার সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। মুম্মিতার সঙ্গে এটি তার প্রথম মধুমিলনরজনী।
মুম্মিতা এই সাতসকালে আবার বিছানায় যেতে চায় না। আজ তার একটা কাজও আছে। তাড়াতাড়ি ভার্সিটিতে যেতে হবে। তাই, সে জিসানকে জড়িয়ে ধরে কয়েকটি চুমু দিয়ে হেসে বলে, “ডিয়ার, আজ এখানেই থাক।”
জিসান আর-কিছু বলে না। তবে ছাড়তে একটু দেরি করে বলে, “তোমার গায়ের এই ঘ্রাণ সত্যি অপূর্ব! এর কোনো তুলনা নাই।”
মুম্মিতাও তাকে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলে, “আমারও ভালো ঘ্রাণ—তোমার ঘ্রাণ!” আসলে কি মুম্মিতার ভালো লাগে জিসানের শরীরের ঘ্রাণ?

জিসান আরেকটু পরে মুম্মিতাকে ছেড়ে দিয়ে পাশফিরে শোয়।
মিনিটখানেক পরে ওয়াশরুমে গেল মুম্মিতা। আর সে ফিরেও এলো দ্রুত। এরপর ওয়াশরুমে গেল জিসান।

মুম্মিতা এখন নিজের পোশাকগুলো পরতে থাকে। সে ধীরে ধীরে পেটিকোট পরলো, তারপর ব্রা পরার জন্য হাত-বাড়ায়। সেটি আর খুঁজে পেল না। সে বিছানার চারপাশে সেটা খুঁজতে থাকে। কিন্তু কোথাও খুঁজে পেল না।
ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে জিসান তাকে কিছু খুঁজতে দেখে বললো, “কী খুঁজছো ডার্লিং?”
মুম্মিতা হাসিমুখে বলে, “আমার ব্রা-টা যেন…।”
জিসান একটু হেসে নিজের প্যান্টের পকেট থেকে ওটা বের করে বলে, “এটা তুমি আর পাবে না। এটায় তোমার মধুঘ্রাণ লেগে আছে। আমি অবসরে এর ঘ্রাণ নিবো।”
প্রয়োজনে তোমাকে অনেক ব্রা কিনে দিবো। আর এজন্য তোমাকে আমি আরও একহাজার টাকা বখশিস দিবো। চলবে তো?”
মুম্মিতা আর-কিছু বলে না। সে হেসে ফেলে। ওর কাছে টাকার ঘ্রাণ অনেক মধুর। তাই, সে ব্রা না পরেই ব্লাউজ পরলো। তারপর শাড়ি পরে বিদায় জানায় জিসানকে।
জিসান হেসে বলে, “আবার কবে…?”

মুম্মিতা হেসে গলে পড়তে-পড়তে—আর যেতে-যেতে বলে, “কথা হবে ইনবক্সে!”

সাইয়িদ রফিকুল হক
মিরপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ।
১৯/১১/২০১৯

ফেসবুক মন্তব্য
শেয়ার করুনঃ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

+ 26 = 33