ফিরে দেখা 16’ই ডিসেম্বর 2014-বিজয় দিবসের গলা কাটা লাশ

16’ই ডিসেম্বর 2014 -বিজয় দিবসের গলা কাটা লাশ।

সবেমাত্র জেএসসি পরীক্ষা শেষ হয়েছিলো উমাচিং মারমা ছবির। দিনটা ছিলো 2014 সালের 16’ই ডিসেম্বর অর্থাৎ মহান বিজয় দিবস। সেদিনের মহান বিজয় দিবসে রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া আদিবাসীদের জন্য বিজয়ের মহান উপহার ছিলো রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার চিৎমরম(চিংম্রং) এলাকার সদ্য জেএসসি পরীক্ষা দেওয়া মারমা কিশোরী উমাচিং মারমা’র(ছবি মারমা) গলা কাটা লাশ। এবং ঐ একই দিনে সেটেলার বাঙালীরা নানিয়ারচর বগাছড়ির চৌদ্দ মাইলে আদিবাসীদের অন্তত ৬০টি দোকান ও ঘরবাড়ি পুড়িয়ে পাহাড় সমান ছাঁইয়ের স্তুপে পরিণত করে দেয়। আঃহাঃ, বিজয়ের কি মধুর স্বাদ!!!

দুপুরে খাওয়ার পরে উমাচিং বেড়িয়ে পড়েছিলো জুমের দিকে। তার পিছু নিয়েছিলো কাপ্তাইয়ের একদল সেটেলার বাঙালী নরপশু। জুমের নিবির জনশূণ্যতায় সুযোগ পেয়ে নরপশু সেটেলার বাঙালীরা ধর্ষকের থাবা বসায় উমাচিং মারমার উপর। অতপর উমাচিং মারমাকে ধর্ষণ করা হলো এবং ধর্ষণের পর ঠান্ডা মাথায় মহান বিজয় দিবসের গলা কাটা লাশ বানিয়ে ফেলা হলো। দুপুর থেবে সন্ধ্যা, সন্ধ্যা থেকে রাত কিন্তু উমাচিং আর ফিরে আসতে পারেনি তার মায়ের বুকে। নরপশু ধর্ষকরা তাকে তার মায়ের বুবে ফিরে আসতে দেয়নি। সেদিন স্বার্থপর বাংলাদেশ উমাচিং মারমাকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর গলা কাটা লাশ এবং বগাছড়ির চৌদ্দ মাইলে আদিবাসীদের দোকান-ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়ে পাহাড় সমান ছাঁইয়ের স্তুপের উপর দাড়িয়ে মহান বিজয় দিবসের উল্লাস করেছিলো

স্বাধীনতা যুদ্ধের 30 লক্ষ বাপ-ভাইয়ের বুকের তাঁজা রক্ত ও 2 লক্ষ মা-বোনের লুন্ঠিত ইজ্জতের বলিদান অনর্থক। তার কারণ বাংলার স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দেওয়া সকল বীরদের সম্মান রক্ষার্থে রাষ্ট্র পুরোপুরি ব্যার্থ। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে আইনের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতনের প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা ছিলো আজকে সেই আত্মত্যাগীদের বুকে দাড়িয়ে বাংলাদেশ কায়েম করে চলেছে আইনের অপ-শাসন ও দানবিয় বর্বরতা। যেমন হওয়ার কথা ছিলো তেমনটা হয়নি, হয়েছে ঠিক তার উল্টো। বছরের একটি দিনও অপচয় করা হয়না। অপ-শাসনের প্রভাবে পাহাড় এবং সমতলে প্রতিনিয়ত নির্যাতন নিপীড়নের স্বীকার হচ্ছে নিরীহ নিরপরাধ মানুষগুলো।

বছরের 365 দিনের মধ্য মাত্র এই একটি দিনে অর্থাৎ 16’ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসে শহীদদের স্মরণ করা হয় আর বাকী 364 দিন পুতকি মারা হয় শহীদদের চৌদ্দগুষ্টি!!! এইটাই বাংলাদেশে। যে আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাকি হায়েনাদের পতন করা হয়েছিলো সেই আত্মত্যাগের বিনিময়ে উত্তান করা হয়েছে বাংলার হায়েনার। আমাদের বীর শহীদেরা এমন একটি বর্বর বাংলাদেশের জন্ম হবে বলে তাদের জীবন উৎসর্গ করেননি। একটি শান্তি সমসম্প্রীতি ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্যেই শহীদরা তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, যেখানে প্রতিষ্ঠিত হবে আইনের সুশাসন, যেখানে সকল সম্প্রদায় ও সকল পেশার মানুষের নিয়ন্ত্রিত থাকবে গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক অধিকারের সাথে মৌলিক অধিকার ও রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক অধিকার।আমরা অপ-শাসন ও দেশের সাধারণ মানুষের অনিয়ন্ত্রিত মৌলিক অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার স্বাধীনতা চাই না।

দেশের স্বাধীনতার জন্য কেবল বাঙালী নয়, সকল শ্রেণীর, সকল পেশার, সকল সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘ 9 মাস ব্যাপী যুদ্ধে অংশগ্রহন করে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। যার মধ্য আদিবাসীদের ভূমিকাও ছিলো ব্যাপক। যে স্বাধীনতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌমত্বের অধিকার লাভ করেছিলো সেই স্বাধীন সার্বভৌম দেশের মাটিতে আজ আদিবাসী সংখ্যালঘুরা পরাধীনতার গোলক বৃত্তে আবদ্ধ। স্বাধীন দেশের মাটিতে আদিবাসীদের উপর রাষ্ট্র কতৃক যে নির্যাতন নিপীড়ন চালানো হচ্ছে তা পাকি হায়েনাদের বর্বরতা থেকেও হাজারগুনে জঘন্য। এমনকি বিজয় দিবসের দিনেও আদিবাসীদের উপর বর্বরতার চিত্র আঁখতে দ্ধিধাবোধ করেনা সেনাবাহিনী ও সেটেলার বাঙালীরা। আদিবাসীরা এই রাষ্ট্রীয় বর্বরতার উত্তোরন চাই।

পরিশেষে, দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হওয়া সকল জাতের, সকল শ্রেণীর, সকল সম্প্রদায় ও সকল পেশার শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। ভালো থাকুক বাংলাদেশ, ভালো থাকুক পাহাড় ও ভালো থাকুক পাহাড় এবং সমতলের আদিবাসী ও সকল শ্রেণীর মেহনতী মানুষ।

সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of