পথের কাঁটা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

”মুক্তিযুদ্ধ” আমার কাছে শ্রদ্ধার একটি শব্দ, আমার পূর্বপুরুষদের গর্বের ইতিহাস, মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন; বিপরীতে ”মু্ক্তিযু্দ্ধ মঞ্চ” নামের যে সন্ত্রাসী সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধ শব্দটিকে ব্যবহার করে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ডাকসু ভবনে যে অসভ্য-বর্বর হামলা তারা চালিয়েছে, তা বাঙালি জাতির রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় অন্যতম একটি কুৎসিত-বর্বর ঘটনা হয়ে থাকবে। এই হামলা কাকে করা হয়েছে, কী কারণে হামলা করা হয়েছে, তা এখানে বিবেচনায় রাখার প্রয়োজন মনে করছি না, মূল বিষয়টি হচ্ছে, এরা যে উপায়ে হামলা করেছে, কক্ষের বাতি নিভিয়ে তারা যেভাবে শিক্ষার্থী পিটিয়েছে, তা সভ্য-ভদ্র প্রতিটি সুনাগরিককে আহত করেছে, আহত করবে। এ ধরণের হামলার পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং বাংলাদেশের পুলিশ প্রশাসন যে নির্লজ্জ নির্লিপ্ত ভূমিকা রেখেছে, তা চরমভাবে হতাশার, এমনকি তাদের নির্লজ্জ পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা বাঙলাদেশের সংবিধানের পরিপন্থী; এরাই এই বাঙলাদেশের বিশ্বাসঘাতক।

বাঙলাদেশের মুক্তি যারা আটকে দিয়েছে, বাঙলাদেশের মানুষের গনতান্ত্রিক অধিকারকে যারা পায়ের নিচে পিষে মুমূর্ষ করে রেখেছে, তাদের স্বার্থেই কাজ করে যাচ্ছে ”মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ” নামের সংগঠনটি। ১৪ মাস আগে যে উদ্দেশ্যে সংগঠনটি তৈরি হয়েছিল তার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবার পরও কেন দরকার পড়ল এই সংগঠনটির কার্যক্রম? মুক্তিযুদ্ধ শব্দটিকে কলঙ্কিত করে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সংগঠনটির কিছু অংশকে সাথে নিয়ে যে অবিশ্বাস্য ভয়ংকর কুৎসিত সন্ত্রাসী হামলা তারা করেছে ডাকসু ভবনে, তা অবশ্যই ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। অথচ দুদিন পার হয়ে যাবার পরও যখন কোন মামলা হয় নি, ডাকসু ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ যখন গায়েব হয়ে যায়, পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক অপরাধী ধরার জন্যে যখন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীকে নির্দেশ দিতে হয়, তখন বাঙলাদেশ নামের আদরের রাষ্ট্রটি আজ মুমূর্ষু হয়ে পড়েছে।

কিছু সময় আগে টেলিভিশনের খবরে শুনতে পেলাম, অবশেষে মামলা হয়েছে; সাধুবাদ জানাই যারা এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ করছে এই দেশ। তবে সন্ত্রাসীরা ডাকসু ভবনে যে উপায়ে, বাতি নিভিয়ে, নির্বিঘ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে, বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন যেভাবে নির্লিপ্ত থেকেছে, তাতে এতটুকু পরিষ্কার যে, বর্তমান সরকার তাদের অসভ্য অশ্লীল ক্ষমতায়নের পথচলার শেষ কাঁটাটি হিসেবে মনে করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে।

১১ই মার্চ, ২০১৯; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষমতাসীনদের গুন্ডাদেরকে প্রত্যাখ্যান করেছিল ডাকসুর নির্বাচনে ব্যালট পেপারে সিলের মধ্য দিয়ে। আগুনের সে স্ফুলিঙ্গ কিন্তু চাপা পড়ে আছে ঐসব ব্যালটের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে। একবার যদি জ্বলে উঠে সে আগুন, লেলিহান শিখা হয়ে ছড়িয়ে পড়বে নগরের পথে-প্রান্তরে, অলিতে-গলিতে। পুড়ে ছাই হয়ে যাবে অসভ্য-অশ্লীল ক্ষমতায়নের গদি, ঠিক যেভাবে বাঙলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গদি পুড়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আগুনের লেলিহান শিখা থেকে।

গভীর রাতের কারসাজির হাত ধরে জবরদস্তি করে কতদিন এই সরকার টিকে থাকবে ক্ষমতায় তা সময়ই বলে দিবে, কিন্তু হাসিনা সরকারের চাটুকার মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের মনে রাখা উচিত, যত বেশি আঘাত তারা করবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে, তত বেশি করে সম্ভাবনা বাড়বে আবর্জনা হিসেবে ইতিহাসের ডাস্টবিনে জায়গা করে নেয়ার।

Leave a Reply

avatar
  Subscribe  
Notify of